Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

গলসির অরিত্র রাজ্যের নবম লক্ষ্য ইঞ্জিনিয়ার হওয়া উচ্চ মাধ্যমিকে নজরকাড়া সাফল্য

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৪৮৮ নম্বর পেয়ে রাজ্যের নবম স্থান অধিকার করেছে পূর্ব বর্ধমানের গলসির ছাত্র অরিত্র দুয়ারী  পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র অরিত্র ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হয়ে দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করতে চায়  তার এই সাফল্যে খুশির হাওয়া পরিবার থেকে গোটা এলাকাজুড়ে।

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর গোটা রাজ্যজুড়ে যখন কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সাফল্যের গল্প সামনে আসছে, ঠিক সেই সময় পূর্ব বর্ধমান জেলার গলসি থেকেও উঠে এল এক অনুপ্রেরণার কাহিনি। গলসি-২ ব্লকের ভুঁড়ি অঞ্চলের রাঘবপুর গ্রামের ছাত্র অরিত্র দুয়ারী এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৪৮৮ নম্বর পেয়ে রাজ্যের নবম স্থান অধিকার করেছে। তার এই সাফল্যে শুধু পরিবার নয়, গর্বিত গোটা গলসি তথা পূর্ব বর্ধমান জেলা।

গ্রামের সাধারণ পরিবেশ থেকে উঠে এসে রাজ্যের মেধাতালিকায় জায়গা করে নেওয়া অরিত্রর এই সাফল্য আজ বহু ছাত্রছাত্রীর কাছে বড় অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তার আলাদা আগ্রহ ছিল। পরিবারের সদস্যরা জানান, খুব ছোটবেলা থেকেই অরিত্র অত্যন্ত নিয়মিত ও পরিশ্রমী ছাত্র ছিল। খেলাধুলোর পাশাপাশি পড়াশোনার প্রতিও সমান মনোযোগ দিত সে। আর সেই ধারাবাহিক পরিশ্রমই আজ তাকে এনে দিয়েছে রাজ্যের সেরাদের মধ্যে জায়গা।

অরিত্রর শিক্ষাজীবনের শুরু হয় গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। গ্রামের সাধারণ স্কুল থেকেই তার পড়াশোনার ভিত্তি তৈরি হয়। এরপর নবগ্রামের জ্ঞানভারতীতে দু’বছর পড়াশোনা করার পর পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হয় পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠে। সেখানকার আবাসিক পরিবেশ, কঠোর নিয়মানুবর্তিতা এবং শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা তার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

রামকৃষ্ণ মিশনের শিক্ষা ব্যবস্থা শুধু বইয়ের পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সেখানে ছাত্রদের মানসিক ও নৈতিক বিকাশের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। অরিত্রও সেই পরিবেশে ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তোলে। নিয়মিত পড়াশোনা, সময় মেনে চলা এবং আত্মবিশ্বাস— এই তিনটি বিষয় তার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হয়ে ওঠে।

এর আগেও মাধ্যমিক পরীক্ষায় অসাধারণ ফল করেছিল অরিত্র। মাধ্যমিকে ৬৫৭ নম্বর পেয়ে সে নজর কেড়েছিল শিক্ষামহলের। তখন থেকেই অনেকেই বুঝতে পেরেছিলেন, ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অপেক্ষা করছে তার জন্য। আর এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যের নবম স্থান অর্জন করে সেই সম্ভাবনাকেই বাস্তবে পরিণত করল অরিত্র।

উচ্চ মাধ্যমিকে তার প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৮। এই ফল প্রকাশের পর থেকেই রাঘবপুর গ্রামে যেন উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশী থেকে আত্মীয়স্বজন— সকলেই শুভেচ্ছা জানাতে ভিড় করছেন অরিত্রদের বাড়িতে। স্থানীয় মানুষদের বক্তব্য, গ্রামের ছেলে রাজ্যের মেধাতালিকায় জায়গা করে নেওয়ায় গোটা এলাকার সম্মান আরও বেড়ে গেল।

অরিত্র নিজের সাফল্যের কৃতিত্ব দিয়েছে তার শিক্ষক-শিক্ষিকা, বাবা-মা এবং রামকৃষ্ণ মিশনের পরিবেশকে। সে জানিয়েছে, নিয়মিত পড়াশোনা এবং আত্মবিশ্বাসই তাকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি মানসিক শান্তি বজায় রাখাও খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে সে।

সাফল্যের পর অরিত্র জানিয়েছে, ভবিষ্যতে সে একজন ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। শুধু নিজের ক্যারিয়ার গড়াই নয়, দেশ ও সমাজের জন্যও কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তার। প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞানের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার স্বপ্ন দেখে অরিত্র। তার এই চিন্তাভাবনা ইতিমধ্যেই অনেকের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

অরিত্রর বাবা ছেলের সাফল্যে অত্যন্ত খুশি। তিনি বলেন, “ছেলে যা হতে চাইবে, আমরা সবসময় তার পাশে থাকব। ওর স্বপ্ন পূরণের জন্য আমরা সবরকম সহযোগিতা করব।” পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও অরিত্রর এই সাফল্যে গর্বিত। তাঁদের মতে, কঠোর পরিশ্রম এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনই আজ অরিত্রকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।

অন্যদিকে শিক্ষক তথা সমাজসেবক ফিরোজ আলি কাঞ্জন অরিত্রকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “অরিত্রর এই সাফল্য শুধু ওর পরিবারের নয়, গোটা গলসির গর্ব। ওকে দেখে আগামী দিনে বহু ছাত্রছাত্রী অনুপ্রেরণা পাবে। গ্রামের ছেলেমেয়েরাও বুঝতে পারবে যে, ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম থাকলে বড় সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।”

বর্তমান সময়ে যখন অনেক ছাত্রছাত্রী সামান্য ব্যর্থতায় হতাশ হয়ে পড়ে, তখন অরিত্রর এই সাফল্য নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও কীভাবে কঠোর পরিশ্রম এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো যায়, তার জীবন্ত উদাহরণ অরিত্র দুয়ারী।

গলসির মতো গ্রামীণ এলাকা থেকে উঠে এসে রাজ্যের মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া নিঃসন্দেহে বড় বিষয়। এই ঘটনা প্রমাণ করে দেয় যে প্রতিভা কখনও শহর-গ্রাম দেখে জন্মায় না। সঠিক দিকনির্দেশনা, পরিবারের সমর্থন এবং নিজের পরিশ্রম থাকলে যেকোনও ছাত্রছাত্রী বড় সাফল্য অর্জন করতে পারে।  

news image
আরও খবর

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যের নবম স্থান অধিকার করে পূর্ব বর্ধমান জেলার গলসির ছাত্র অরিত্র দুয়ারী আজ রাজ্যজুড়ে প্রশংসার কেন্দ্রবিন্দুতে। ভুঁড়ি অঞ্চলের রাঘবপুর গ্রামের এই মেধাবী ছাত্র ৪৮৮ নম্বর পেয়ে নিজের অসাধারণ মেধার পরিচয় দিয়েছে। তার এই সাফল্যে খুশির হাওয়া শুধু পরিবারে নয়, গোটা গলসি এবং পূর্ব বর্ধমান জেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ গ্রামের ছেলে হয়েও রাজ্যের মেধাতালিকায় জায়গা করে নেওয়া অরিত্র আজ বহু ছাত্রছাত্রীর কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা।

অরিত্রর পড়াশোনার শুরু গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। ছোটবেলা থেকেই সে অত্যন্ত মনোযোগী ও পরিশ্রমী ছাত্র ছিল বলে জানিয়েছেন তার পরিবার এবং শিক্ষকরা। গ্রামের স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ করার পর নবগ্রামের জ্ঞানভারতীতে কিছুদিন পড়াশোনা করে সে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হয় পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠে। এরপর থেকেই আবাসিক পরিবেশে তার শিক্ষাজীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। রামকৃষ্ণ মিশনের নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন, শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং কঠোর অধ্যবসায় ধীরে ধীরে তাকে সাফল্যের পথে এগিয়ে দেয়।

অরিত্রর এই সাফল্য হঠাৎ করে আসেনি। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং নিরলস প্রচেষ্টা। মাধ্যমিক পরীক্ষাতেও সে ৬৫৭ নম্বর পেয়ে নজর কেড়েছিল। তখন থেকেই শিক্ষকরা বুঝতে পেরেছিলেন যে অরিত্র ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে। আর এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যের নবম স্থান অর্জন করে সে সেই প্রত্যাশাকেই বাস্তবে পরিণত করেছে।

পরিবারের সদস্যদের মতে, অরিত্র কখনও শুধুমাত্র নম্বরের জন্য পড়াশোনা করেনি। সে সবসময় বিষয়গুলি গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করত। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় মেনে পড়াশোনা করা, নিয়মিত রিভিশন এবং আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা— এই কয়েকটি বিষয়ই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। পড়াশোনার পাশাপাশি মানসিকভাবে নিজেকে শক্ত রাখার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিত সে।

উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর থেকেই অরিত্রদের বাড়িতে শুভেচ্ছার বন্যা বইছে। প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষক থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা সকলেই তার সাফল্যে গর্বিত। গ্রামের মানুষদের বক্তব্য, অরিত্র প্রমাণ করে দিয়েছে যে গ্রামের ছাত্রছাত্রীরাও সুযোগ পেলে বড় সাফল্য অর্জন করতে পারে। তার এই কৃতিত্ব গোটা এলাকার কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয়।

অরিত্র নিজের সাফল্যের কৃতিত্ব দিয়েছে তার বাবা-মা, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং রামকৃষ্ণ মিশনের পরিবেশকে। সে জানিয়েছে, শিক্ষকদের পরামর্শ এবং পরিবারের সহযোগিতা ছাড়া এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হতো না। পাশাপাশি সে আরও জানায়, নিয়মিত পড়াশোনা এবং নিজের লক্ষ্য স্থির রাখাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এখন অরিত্রর লক্ষ্য ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া। বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির প্রতি তার আগ্রহ অনেকদিনের। ভবিষ্যতে একজন দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার হয়ে দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করতে চায় সে। প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার স্বপ্ন দেখে অরিত্র। তার এই লক্ষ্যকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে তার পরিবারও। অরিত্রর বাবা বলেন, “ছেলে যা হতে চাইবে, আমরা সবসময় ওর পাশে থাকব। ওর স্বপ্ন পূরণের জন্য সবরকম সহযোগিতা করব।”

শিক্ষকরাও অরিত্রর ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। তাঁদের মতে, অরিত্রর মধ্যে যে একাগ্রতা, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাস রয়েছে, তা ভবিষ্যতে তাকে আরও বড় সাফল্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। শিক্ষক তথা সমাজসেবক ফিরোজ আলি কাঞ্জন বলেন, “অরিত্রর এই সাফল্য গলসির গর্ব। ওর মতো ছাত্রদের দেখে আগামী দিনে আরও অনেক পড়ুয়া অনুপ্রাণিত হবে।”

বর্তমান সময়ে যখন অনেক ছাত্রছাত্রী ছোটখাটো ব্যর্থতায় হতাশ হয়ে পড়ে, তখন অরিত্রর এই সাফল্য নতুন প্রজন্মের কাছে এক বড় বার্তা বহন করছে। কঠোর পরিশ্রম, নিয়মানুবর্তিতা এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে যেকোনও বাধা অতিক্রম করে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব— সেটাই প্রমাণ করেছে অরিত্র।

গ্রামের সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে রাজ্যের নবম স্থান অর্জন করা নিঃসন্দেহে বড় বিষয়। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে প্রতিভা কখনও শহর বা গ্রামের সীমার মধ্যে আটকে থাকে না। সুযোগ, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং নিজের পরিশ্রম থাকলে যেকোনও জায়গা থেকেই বড় সাফল্য অর্জন করা যায়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, অরিত্র দুয়ারীর এই সাফল্য শুধুমাত্র একটি পরীক্ষার ফল নয়, এটি এক সংগ্রাম, অধ্যবসায় এবং স্বপ্নপূরণের গল্প। তার এই অর্জন আগামী দিনে অসংখ্য ছাত্রছাত্রীকে অনুপ্রাণিত করবে। আজ গলসির গর্ব অরিত্র, আর আগামী দিনে হয়তো সে হয়ে উঠবে দেশের অন্যতম সফল ইঞ্জিনিয়ার এবং দেশের গর্ব।

Preview image