Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

হিমালয়ে ধস, হড়পা বানের আতঙ্ক! পুজোয় পাহাড়ে ঘুরতে চান? রইল হিমালয়ের বিকল্প শৈলশহরের হদিস

হিমালয়ে ধস, হড়পা বানের ভয়াবহতায় আতঙ্কিত? পুজোয় পাহাড়ে বেড়ানোর ইচ্ছা থাকলেও ভয় পাচ্ছেন? হিমালয় ছেড়ে ঘুরে আসুন দেশের এই সুন্দর শৈলশহরগুলিতে!

হিমালয়ে ধস, হড়পা বানের আতঙ্ক! পুজোয় পাহাড়ে বেড়াতে চান? ঘুরে আসুন দেশের এই ৫ সুন্দর শৈলশহরে

পুজো মানেই বাঙালির কাছে আনন্দ, উৎসব আর ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা। কেউ পুজোর ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে পাহাড়ে যেতে চান, কেউ আবার বন্ধুদের নিয়ে কয়েক দিনের জন্য শহরের কোলাহল থেকে দূরে নিরিবিলিতে সময় কাটানোর পরিকল্পনা করেন। আর পাহাড়ে বেড়ানোর কথা উঠলেই অনেকের প্রথম পছন্দ দার্জিলিং, সিকিম, উত্তরাখণ্ড কিংবা হিমাচল প্রদেশ। কিন্তু সাম্প্রতিক ধস, অতিবৃষ্টি ও হড়পা বানের খবর দেখে অনেকেই এ বার হিমালয় সফরের পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে ভাবছেন।

নেপাল, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ছবি পর্যটকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কোথাও ধসে রাস্তা বন্ধ, কোথাও বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত জনজীবন। পাহাড়ি এলাকায় আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে পুজোর ছুটিতে পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়ার আগে গন্তব্য বেছে নেওয়া নিয়ে দ্বিধায় পড়েছেন অনেকে।

তবে পাহাড়ে বেড়ানোর জন্য যে হিমালয়েই যেতে হবে, এমন কোনও কথা নেই। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে একাধিক মনোরম শৈলশহর। কোথাও পশ্চিমঘাটের সবুজ পাহাড়, কোথাও পূর্বঘাটের নির্জন উপত্যকা, আবার কোথাও অরাবলী পর্বতমালার কোলে ছবির মতো সাজানো জনপদ। এই সব জায়গায় রয়েছে পাহাড়, ঝরনা, হ্রদ, চা ও কফির বাগান এবং মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ।

পুজোর ছুটিতে ভিড় এড়িয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি কয়েকটি দিন কাটাতে চাইলে এই গন্তব্যগুলি বিবেচনা করতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, হিমালয়ের বাইরে হলেও কোনও পাহাড়ি জায়গাই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকিমুক্ত নয়। ভ্রমণের আগে স্থানীয় আবহাওয়া, রাস্তার অবস্থা ও প্রশাসনের নির্দেশিকা জেনে নেওয়া জরুরি।

চলুন, জেনে নেওয়া যাক দেশের এমন পাঁচটি শৈলশহরের কথা, যেখানে পুজোর ছুটিতে বেড়ানোর পরিকল্পনা করতে পারেন।

১. কুর্গ: কফির সুবাসে মেঘে ঢাকা পাহাড়ের দেশে

কর্নাটকের কুর্গের সবুজ পাহাড় ও কফি বাগান

 

পাহাড়ের গায়ে মেঘের আনাগোনা, চারদিকে সবুজের সমারোহ আর কফি বাগানের সুবাস— এমন পরিবেশে কয়েকটা দিন কাটাতে চাইলে পুজোর ছুটিতে যেতে পারেন কর্নাটকের কুর্গে। সরকারি নাম কোডগু হলেও পর্যটকদের কাছে জায়গাটি কুর্গ নামেই বেশি পরিচিত। পশ্চিমঘাট পর্বতমালার কোলে অবস্থিত এই শৈলশহর প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়। হিমালয়ের তুষারাবৃত শৃঙ্গের বদলে এখানে রয়েছে ঢেউখেলানো সবুজ পাহাড়, ঘন বন, নদী, ঝরনা এবং বিস্তীর্ণ কফি বাগান।

কুর্গের সৌন্দর্যের অন্যতম আকর্ষণ হল এখানকার পাহাড়ি পরিবেশ। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে আসা রাস্তার দু'পাশে চোখে পড়বে কফি ও মশলার বাগান। কোথাও ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে বয়ে গিয়েছে ছোট নদী, কোথাও আবার পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে এসেছে জলপ্রপাত। ভোরের দিকে অনেক সময় পাহাড়ের উপরে কুয়াশার চাদর দেখা যায়। সূর্যের আলো ফুটতেই ধীরে ধীরে সেই কুয়াশা সরে গিয়ে দৃশ্যমান হয় সবুজ উপত্যকা। প্রকৃতির এই রূপ উপভোগ করতে চাইলে কুর্গ হতে পারে পুজোর ছুটির অন্যতম গন্তব্য।

কুর্গে কোথায় কোথায় ঘুরবেন?

কুর্গ ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে প্রথমেই রাখতে পারেন মাদিকেরীকে। কোডগু জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর এটি। এখান থেকে আশপাশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে যাওয়া যায়। মাদিকেরীর রাজাস সিট একটি জনপ্রিয় ভিউ পয়েন্ট। পাহাড়ের উপর অবস্থিত এই জায়গা থেকে চারপাশের উপত্যকার অপূর্ব দৃশ্য দেখা যায়। বিশেষ করে পরিষ্কার আবহাওয়ায় দূরের পাহাড় ও সবুজ উপত্যকার সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

এ ছাড়াও ঘুরে দেখতে পারেন অ্যাবি জলপ্রপাত। ঘন সবুজ গাছপালার মধ্যে দিয়ে নেমে আসা এই জলপ্রপাতের সৌন্দর্য বর্ষার পরেও আকর্ষণীয় থাকে। তবে অতিবৃষ্টি হলে জলপ্রপাতের আশপাশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। জলপ্রপাতের কাছে যাওয়ার আগে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে চলাই ভাল।

কুর্গে গেলে দুবারে এলিফ্যান্ট ক্যাম্পও ঘুরে দেখতে পারেন। এখানে হাতিদের জীবনযাপন সম্পর্কে জানার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রাণীদের বিরক্ত না করে এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে এই এলাকা ঘোরা উচিত। পাশাপাশি রয়েছে ভাগমণ্ডল ও তলাকাবেরী। ধর্মীয় ও প্রাকৃতিক গুরুত্বের জন্য এই দুই জায়গাই পর্যটকদের কাছে পরিচিত। কুর্গের কাছাকাছি নমড্রোলিং মনাস্ট্রিও ঘুরে দেখতে পারেন। সোনালি বুদ্ধমূর্তি ও তিব্বতি স্থাপত্যের জন্য এই বৌদ্ধ মঠ বিশেষভাবে পরিচিত।

কুর্গে গেলে কী করবেন?

কুর্গে বেড়াতে গেলে শুধু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখলেই হবে না। স্থানীয় কফি বাগানের পরিবেশ উপভোগ করাও এই সফরের অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে। সুযোগ থাকলে কোনও অনুমোদিত কফি বাগান পরিদর্শন করতে পারেন। কফি কী ভাবে চাষ করা হয়, কী ভাবে ফল সংগ্রহ করা হয়, তা কাছ থেকে দেখার সুযোগ মিলতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় খাবার ও কফির স্বাদও চেখে দেখতে পারেন।

যাঁরা নিরিবিলিতে সময় কাটাতে ভালবাসেন, তাঁরা মাদিকেরের আশপাশে কোনও প্রকৃতিবেষ্টিত হোমস্টেতে থাকতে পারেন। তবে থাকার জায়গা বেছে নেওয়ার আগে রাস্তার অবস্থা, যাতায়াতের সুবিধা ও নিরাপত্তার বিষয়গুলি যাচাই করে নেওয়া জরুরি।

কী ভাবে যাবেন?

কুর্গে সরাসরি কোনও রেলস্টেশন বা বিমানবন্দর নেই। নিকটবর্তী গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনগুলির মধ্যে রয়েছে মাইসুরু। সেখান থেকে সড়কপথে মাদিকেরী পৌঁছতে প্রায় ১২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। মাইসুরু থেকে বাস বা ভাড়া করা গাড়িতে কুর্গে যাওয়া যায়। এ ছাড়া মেঙ্গালুরু বিমানবন্দর থেকেও সড়কপথে কুর্গ পৌঁছনো সম্ভব। কলকাতা থেকে বিমানে বেঙ্গালুরু বা মাইসুরু পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে কুর্গ যাওয়ার পরিকল্পনা করতে পারেন।

কত দিন থাকবেন: ৩-৪ দিন।

কাদের জন্য: প্রকৃতিপ্রেমী, পরিবার, দম্পতি ও বন্ধুদের দল।

বিশেষ আকর্ষণ: কফি বাগান, জলপ্রপাত, সবুজ পাহাড় ও পাহাড়ি উপত্যকা।

২. কোডাইকানাল: পাহাড়ের রাজকন্যার হাতছানি

তামিলনাড়ুর কোডাইকানালের পাহাড় ও হ্রদ

 

পশ্চিমঘাট পর্বতমালার আর এক জনপ্রিয় শৈলশহর কোডাইকানাল। তামিলনাড়ুর দিন্দিগুল জেলায় অবস্থিত এই পাহাড়ি শহরকে বলা হয় 'পাহাড়ের রাজকন্যা'। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২১৩০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত কোডাইকানাল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পর্যটকদের কাছে বিশেষ পরিচিত। পাহাড়ঘেরা হ্রদ, পাইন বন, সবুজ উপত্যকা ও আঁকাবাঁকা রাস্তা মিলিয়ে এখানকার পরিবেশ বেশ মনোরম।

পুজোর ছুটিতে হিমালয়ের বদলে দক্ষিণ ভারতের পাহাড়ে বেড়াতে যেতে চাইলে কোডাইকানালকে ভ্রমণ তালিকায় রাখতে পারেন। এখানে তুষারপাত না হলেও রয়েছে মেঘে ঢাকা পাহাড়ের সৌন্দর্য। পাহাড়ের গায়ে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট গ্রাম, ঘন সবুজ বন এবং নীল আকাশের মেলবন্ধন পর্যটকদের মুগ্ধ করে। শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে কয়েক দিন কাটানোর জন্যও এই জায়গা উপযুক্ত।

কোডাইকানালের ইতিহাসও বেশ আকর্ষণীয়। ঊনবিংশ শতকে ব্রিটিশ প্রশাসক ও খ্রিস্টান মিশনারিরা এই অঞ্চলে বসতি গড়ে তোলেন। গ্রীষ্মকালে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা আবহাওয়ায় থাকার জন্য তাঁরা এখানে আসতেন। ধীরে ধীরে এই পাহাড়ি জনপদ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা এখানে বেড়াতে আসেন।

কোডাইকানালের দর্শনীয় স্থান

কোডাইকানাল ভ্রমণে প্রথমেই যেতে পারেন কোডাই লেক বা কোডাইকানাল হ্রদে। শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই হ্রদটি পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। হ্রদের চারপাশে রয়েছে রাস্তা, যেখানে হাঁটাহাঁটি করা যায়। চাইলে সাইকেল ভাড়া করে হ্রদের চারপাশ ঘুরে দেখতে পারেন। নৌবিহারের ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে ছুটির সময়ে পর্যটকদের ভিড় বেশি থাকায় আগে থেকে সময় হাতে রাখা ভাল।

এর পরে যেতে পারেন কোকার্স ওয়াকে। পাহাড়ের ধার ঘেঁষে তৈরি এই হাঁটার পথ থেকে চারপাশের উপত্যকা ও পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য দেখা যায়। আকাশ পরিষ্কার থাকলে দূরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলও চোখে পড়ে। ভোর কিংবা বিকালের দিকে এই পথে হাঁটলে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

কোডাইকানালের অন্যতম পরিচিত দর্শনীয় স্থান হল পিলার রকস। পাশাপাশি রয়েছে পাইন বন, ব্রায়ান্ট পার্ক ও সিলভার কাসকেড জলপ্রপাত। পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা সিলভার কাসকেডের দৃশ্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে। তবে বৃষ্টির সময়ে জলপ্রপাতের কাছে যাওয়ার ক্ষেত্রে সাবধান থাকা প্রয়োজন।

প্রকৃতির পাশাপাশি রহস্যময় পরিবেশ পছন্দ করলে গুণা কেভসের আশপাশ ঘুরে দেখতে পারেন। ঘন গাছপালা ও পাথুরে পরিবেশের জন্য জায়গাটি পরিচিত। তবে নিরাপত্তার কারণে নির্দিষ্ট দর্শনীয় এলাকা ছেড়ে অন্যত্র যাওয়া উচিত নয়।

কোডাইকানালে কী কী অভিজ্ঞতা হবে?

কোডাইকানালে বেড়াতে গেলে পাহাড়ি পথে হাঁটা, হ্রদের ধারে সময় কাটানো এবং স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা— সবই করতে পারেন। এখানকার চকোলেটও পর্যটকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। স্থানীয় দোকানে নানা ধরনের ঘরে তৈরি চকোলেট পাওয়া যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন ফল ও স্থানীয় খাবারের স্বাদ নিতে পারেন।

যাঁরা ছবি তুলতে ভালবাসেন, তাঁদের জন্য কোডাইকানালে রয়েছে অসংখ্য মনোরম জায়গা। তবে কুয়াশা বা বৃষ্টির কারণে অনেক সময় দূরের পাহাড় স্পষ্ট দেখা যায় না। তাই ভ্রমণের সময় আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে পরিকল্পনা করা ভাল।

কী ভাবে যাবেন?

কোডাইকানালের নিকটবর্তী গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন হল কোডাইকানাল রোড। সেখান থেকে সড়কপথে পাহাড়ি শহরে পৌঁছতে হয়। মাদুরাই বিমানবন্দর থেকেও কোডাইকানালে যাওয়া যায়। মাদুরাই থেকে সড়কপথে দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার। এ ছাড়া কোয়ম্বত্তূর বিমানবন্দর থেকেও গাড়িতে যাওয়া সম্ভব। কলকাতা থেকে বিমানে মাদুরাই বা কোয়ম্বত্তূর পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে কোডাইকানাল যাওয়ার পরিকল্পনা করতে পারেন।

কত দিন থাকবেন: ৩-৪ দিন।

কাদের জন্য: পরিবার, দম্পতি, প্রকৃতিপ্রেমী ও ছবি তুলতে ভালবাসেন যাঁরা।

বিশেষ আকর্ষণ: কোডাই লেক, পাইন বন, পিলার রকস ও পাহাড়ি উপত্যকা।

৩. মুন্নার: চায়ের বাগানে ঘেরা সবুজের রাজ্য

কেরলের মুন্নারের সবুজ চা বাগান ও পাহাড়

 

কেরলকে বলা হয় 'ঈশ্বরের আপন দেশ'। আর সেই কেরলের অন্যতম জনপ্রিয় পাহাড়ি গন্তব্য হল মুন্নার। পশ্চিমঘাট পর্বতমালার কোলে অবস্থিত এই শৈলশহর চা বাগান, পাহাড়ি উপত্যকা, ঝরনা ও সবুজের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। হিমালয়ের বিকল্প হিসেবে পুজোর ছুটিতে দক্ষিণ ভারতের কোনও পাহাড়ি শহরে বেড়ানোর পরিকল্পনা করলে মুন্নার হতে পারে অন্যতম গন্তব্য।

মুন্নারের বিশেষত্ব হল এখানকার বিস্তীর্ণ চা বাগান। পাহাড়ের ঢাল জুড়ে সারি সারি চা গাছের সবুজ গালিচা দেখতে পাওয়া যায়। কোথাও পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে এসেছে ছোট ঝরনা, কোথাও আবার রয়েছে জলাধার। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা ধরে এগোতে এগোতে হঠাৎই সামনে এসে পড়ে সবুজে মোড়া উপত্যকা। এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য অনেকেই মুন্নারে কয়েক দিন কাটাতে পছন্দ করেন।

মুন্নার নামের উৎপত্তি মালয়ালম ভাষার 'মুনু' ও 'আরু' শব্দ থেকে। এর অর্থ তিনটি নদী। মুথিরাপ্পুঝা, নাল্লাথান্নি ও কুণ্ডলা নদীর মিলনস্থলকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলের নামকরণ হয়েছে বলে প্রচলিত রয়েছে।

মুন্নারের কোথায় কোথায় ঘুরবেন?

মুন্নার ভ্রমণে প্রথমেই রাখতে পারেন মাট্টুপেট্টি বাঁধ ও জলাধার। পাহাড় ও সবুজের মধ্যে অবস্থিত এই জলাধার পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। এখানকার মনোরম পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে পারেন। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে নৌবিহারের সুযোগও মিলতে পারে।

এর পরে ঘুরে দেখতে পারেন এরাভিকুলাম জাতীয় উদ্যান। পশ্চিমঘাটের জীববৈচিত্র্যের জন্য এই জাতীয় উদ্যান বিশেষভাবে পরিচিত। এখানে নীলগিরি তাহর-সহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী দেখা যায়। পাহাড়ি ঘাসের বিস্তীর্ণ এলাকা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ এই জাতীয় উদ্যানকে অনন্য করে তুলেছে। তবে প্রবেশের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হয়। বন্যপ্রাণী দেখার জন্য কখনও তাদের বিরক্ত করা উচিত নয়।

মুন্নার থেকে কিছুটা দূরে রয়েছে টপ স্টেশন। এখান থেকে পশ্চিমঘাটের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি অঞ্চল দেখা যায়। আকাশ পরিষ্কার থাকলে দূরের উপত্যকার সৌন্দর্যও উপভোগ করা সম্ভব। এ ছাড়া চিন্নাকানাল জলপ্রপাত, ইকো পয়েন্ট ও কুণ্ডলা হ্রদ ঘুরে দেখতে পারেন।

চা বাগানের ইতিহাস জানতে চাইলে মুন্নারের চা জাদুঘরেও যেতে পারেন। সেখানে চা উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায় ও এই অঞ্চলের চা শিল্পের ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়। চা বাগানের মধ্যে দিয়ে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় চায়ের স্বাদ নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

মুন্নারে কী ভাবে কাটাবেন ছুটি?

মুন্নারে গেলে তাড়াহুড়ো না করে সময় নিয়ে ঘোরাই ভাল। সকালে চা বাগানের পাশ দিয়ে পাহাড়ি রাস্তা ধরে বেরিয়ে পড়তে পারেন। বিকালে কোনও ভিউ পয়েন্টে বসে পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে চাইলে শহরের বাইরে কোনও হোমস্টে বা রিসর্ট বেছে নিতে পারেন।

মুন্নারের স্থানীয় চকোলেট ও বিভিন্ন ধরনের চা পর্যটকদের মধ্যে জনপ্রিয়। এখানকার বাজার থেকে চা, মশলা ও স্থানীয় হস্তশিল্প কিনে আনতে পারেন। তবে কেনাকাটার পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশ ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্যও কিছুটা সময় রাখা উচিত।

কী ভাবে যাবেন?

মুন্নারের নিজস্ব কোনও বিমানবন্দর বা রেলস্টেশন নেই। নিকটবর্তী বিমানবন্দর হল কোচি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সেখান থেকে সড়কপথে মুন্নারের দূরত্ব প্রায় ১০০-১১০ কিলোমিটার। কোচি থেকে গাড়ি বা বাসে মুন্নার যাওয়া যায়। রেলপথে এলে এরনাকুলম স্টেশন থেকে সড়কপথে মুন্নার পৌঁছতে হবে। কলকাতা থেকে বিমানে কোচি পৌঁছে সেখান থেকে গাড়িতে মুন্নার যেতে পারেন।

কত দিন থাকবেন: ৩-৪ দিন।

কাদের জন্য: পরিবার, দম্পতি, প্রকৃতিপ্রেমী ও চা বাগান দেখতে ভালবাসেন যাঁরা।

বিশেষ আকর্ষণ: চা বাগান, মাট্টুপেট্টি জলাধার, জাতীয় উদ্যান ও পাহাড়ি উপত্যকা।

৪. দেওমালি: পূর্বঘাটের কোলে নির্জন পাহাড়ি ঠিকানা

ওড়িশার দেওমালির সবুজ পাহাড়

 

হিমালয়ের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলির বাইরে একটু অন্য রকম পাহাড়ি অভিজ্ঞতা চাইলে যেতে পারেন ওড়িশার দেওমালিতে। পূর্বঘাট পর্বতমালার অন্তর্গত এই শৃঙ্গ ওড়িশার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হিসেবে পরিচিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬৭২ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত দেওমালি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়। পাহাড়ের বিস্তীর্ণ ঢাল, সবুজ উপত্যকা ও মেঘের আনাগোনা এখানকার পরিবেশকে অনন্য করে তুলেছে।

news image
আরও খবর

অন্যান্য জনপ্রিয় শৈলশহরের তুলনায় দেওমালির পর্যটন পরিকাঠামো সীমিত। ফলে যাঁরা নির্জন পাহাড়ি পরিবেশে সময় কাটাতে পছন্দ করেন, তাঁদের কাছে জায়গাটি আকর্ষণীয় হতে পারে। তবে পর্যটনের সুযোগ-সুবিধা কম থাকায় ভ্রমণের আগে যাতায়াত, থাকা ও খাবারের ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

দেওমালি রয়েছে ওড়িশার কোরাপুট জেলায়। এই অঞ্চলের পাহাড় ও উপত্যকায় প্রকৃতির বৈচিত্র্য চোখে পড়ার মতো। বর্ষার পর পাহাড়ের ঢাল সবুজে ভরে ওঠে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে পাহাড়ের উপর থেকে চারপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল দেখা যায়। তবে অতিবৃষ্টি বা কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যেতে পারে।

দেওমালিতে কোথায় কোথায় ঘুরবেন?

দেওমালির প্রধান আকর্ষণ অবশ্যই এর পাহাড়ি শৃঙ্গ। পাহাড়ের উপর থেকে পূর্বঘাটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। তবে পাহাড়ে ওঠার সময় স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে চলা জরুরি। আবহাওয়া খারাপ থাকলে পাহাড়ের উঁচু অংশে ওঠা এড়িয়ে চলাই ভাল।

দেওমালি থেকে ঘুরে দেখতে পারেন ডুডুমা জলপ্রপাত। মাচকুণ্ড নদীর উপর অবস্থিত এই জলপ্রপাতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে। পাহাড় ও জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত জলের দৃশ্য মনোরম। তবে বর্ষার সময়ে জলপ্রপাতের আশপাশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

এ ছাড়া কোলাব জলাধারও ভ্রমণ তালিকায় রাখতে পারেন। পাহাড়ের কোলে অবস্থিত এই জলাধারের চারপাশে রয়েছে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ। স্থানীয় জনজীবন ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে কোরাপুট শহর এবং আশপাশের জনপদও ঘুরে দেখতে পারেন।

কোরাপুট অঞ্চলে আদিবাসী সংস্কৃতির সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে। স্থানীয় হাট ও বাজারে বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্প এবং স্থানীয় খাবার পাওয়া যায়। তবে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি সম্মান রেখে ভ্রমণ করা জরুরি।

দেওমালিতে কী করবেন?

দেওমালি মূলত প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার জায়গা। পাহাড়ের উপর থেকে বিস্তীর্ণ উপত্যকার দৃশ্য দেখা, নিরিবিলিতে সময় কাটানো এবং স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এই ভ্রমণের প্রধান আকর্ষণ। যাঁরা ট্রেকিং পছন্দ করেন, তাঁরা স্থানীয়ভাবে অনুমোদিত পাহাড়ি পথে হাঁটার পরিকল্পনা করতে পারেন।

এখানে যাওয়ার আগে আবহাওয়া ও রাস্তার অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া বিশেষভাবে জরুরি। পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টির কারণে রাস্তা পিচ্ছিল হতে পারে। তাই অভিজ্ঞ চালক এবং স্থানীয় গাইডের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানীয় জল, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জরুরি সামগ্রী সঙ্গে রাখা উচিত।

কী ভাবে যাবেন?

দেওমালির নিকটবর্তী গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন হল কোরাপুট। হাওড়া থেকে কোরাপুটগামী ট্রেনে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কোরাপুট পৌঁছে সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে দেওমালি যেতে পারেন। ভুবনেশ্বর থেকেও সড়কপথে কোরাপুট ও দেওমালি যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে দীর্ঘ পথের জন্য পর্যাপ্ত সময় হাতে রাখা প্রয়োজন।

কত দিন থাকবেন: ২-৩ দিন।

কাদের জন্য: নির্জন পাহাড় পছন্দ করেন যাঁরা, প্রকৃতিপ্রেমী ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী।

বিশেষ আকর্ষণ: পূর্বঘাটের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ, পাহাড়ি উপত্যকা ও ডুডুমা জলপ্রপাত।

৫. মাউন্ট আবু: অরাবলী পাহাড়ের কোলে অন্য রকম ছুটি

রাজস্থানের মাউন্ট আবুর নাক্কি লেক ও পাহাড়

 

রাজস্থান মানেই কি শুধু মরুভূমি, দুর্গ আর প্রাসাদ? একেবারেই নয়। এই রাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে অরাবলী পর্বতমালার কোলে রয়েছে মনোরম শৈলশহর মাউন্ট আবু। রাজস্থানের একমাত্র উল্লেখযোগ্য শৈলশহর হিসেবে পরিচিত এই জায়গাটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২২০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। পাহাড়, হ্রদ, প্রাচীন মন্দির ও সবুজের মেলবন্ধনে মাউন্ট আবু পুজোর ছুটিতে বেড়ানোর জন্য একটি ভিন্ন স্বাদের গন্তব্য হতে পারে।

হিমালয়ের মতো বরফে ঢাকা পাহাড় এখানে দেখা যাবে না। তবে অরাবলী পর্বতমালার পাথুরে পাহাড়, উপত্যকা ও হ্রদের সৌন্দর্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে। রাজস্থানের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এখানকার আবহাওয়া সাধারণত অপেক্ষাকৃত শীতল। অক্টোবর মাসে দিনের বেলায় আবহাওয়া মনোরম থাকতে পারে। সন্ধ্যার পরে হালকা ঠান্ডাও অনুভূত হতে পারে। তবে সফরের আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে নেওয়া উচিত।

মাউন্ট আবুর দর্শনীয় স্থান

মাউন্ট আবুতে গেলে প্রথমেই ঘুরে দেখতে পারেন নাক্কি লেক। পাহাড়ে ঘেরা এই হ্রদটি শহরের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। হ্রদের চারপাশে হাঁটাহাঁটি করা যায়। চাইলে নৌবিহারের সুযোগও নিতে পারেন। সন্ধ্যার দিকে হ্রদের আশপাশে সময় কাটালে পাহাড়ি শহরের অন্য রকম সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।

এর পরে যেতে পারেন দিলওয়াড়া জৈন মন্দিরে। সাদা মার্বেলের অসাধারণ কারুকাজের জন্য এই মন্দিরগুলি বিশেষভাবে পরিচিত। মন্দিরের স্তম্ভ, ছাদ ও দেওয়ালে সূক্ষ্ম পাথরের কাজ পর্যটকদের মুগ্ধ করে। স্থাপত্য ও ইতিহাসে আগ্রহ থাকলে এই জায়গাটি অবশ্যই ভ্রমণ তালিকায় রাখুন। তবে মন্দিরে প্রবেশের সময় পোশাক ও অন্যান্য নিয়ম মেনে চলা জরুরি।

মাউন্ট আবুর আর একটি আকর্ষণ হল গুরু শিখর। অরাবলী পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এটি। এখান থেকে চারপাশের পাহাড়ি এলাকার মনোরম দৃশ্য দেখা যায়। এ ছাড়া অচলগড় দুর্গ, অর্বুদা দেবী মন্দির এবং সানসেট পয়েন্ট ঘুরে দেখতে পারেন। পাহাড়ের উপর থেকে সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই বিশেষ আকর্ষণীয়।

মাউন্ট আবুতে কী করবেন?

মাউন্ট আবুতে বেড়াতে গেলে হ্রদের ধারে সময় কাটানো, পাহাড়ি পথে হাঁটা এবং প্রাচীন স্থাপত্য ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে। প্রকৃতির পাশাপাশি ইতিহাস ও ধর্মীয় স্থাপত্যের প্রতি আগ্রহ থাকলে এই শৈলশহর আপনার ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করতে পারে।

এখানকার স্থানীয় বাজারেও ঘুরে দেখতে পারেন। রাজস্থানের বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্প, পোশাক ও স্মারকসামগ্রী পাওয়া যায়। তবে কেনাকাটার জন্য দরদাম করে নেওয়া ভাল।

কী ভাবে যাবেন?

মাউন্ট আবুর নিকটবর্তী রেলস্টেশন হল আবু রোড। সেখান থেকে সড়কপথে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দূরে মাউন্ট আবু। আবু রোড স্টেশন থেকে বাস, ট্যাক্সি বা ভাড়া করা গাড়িতে পাহাড়ি শহরে পৌঁছনো যায়। বিমানপথে যেতে চাইলে উদয়পুর বা আমদাবাদ বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারেন। সেখান থেকে সড়কপথে মাউন্ট আবু পৌঁছতে হবে। কলকাতা থেকে ট্রেনে আবু রোড যাওয়ার সুযোগও রয়েছে।

কত দিন থাকবেন: ২-৩ দিন।

কাদের জন্য: পরিবার, দম্পতি, ইতিহাস ও স্থাপত্যপ্রেমী।

বিশেষ আকর্ষণ: নাক্কি লেক, দিলওয়াড়া জৈন মন্দির, গুরু শিখর ও অরাবলী পর্বতমালা।

পুজোর ছুটিতে কোন শৈলশহর বেছে নেবেন?

পাঁচটি শৈলশহরের প্রত্যেকটিরই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তাই কোথায় যাবেন, তা নির্ভর করবে আপনার পছন্দ, বাজেট, হাতে থাকা ছুটির দিন এবং যাতায়াতের সুবিধার উপর।

শৈলশহর

প্রধান আকর্ষণ

প্রস্তাবিত ভ্রমণের সময়

কুর্গ

কফি বাগান, জলপ্রপাত, সবুজ পাহাড়

৩-৪ দিন

কোডাইকানাল

হ্রদ, পাইন বন, পাহাড়ি উপত্যকা

৩-৪ দিন

মুন্নার

চা বাগান, জলাধার, জাতীয় উদ্যান

৩-৪ দিন

দেওমালি

পূর্বঘাটের পাহাড়, নির্জন উপত্যকা

২-৩ দিন

মাউন্ট আবু

হ্রদ, মন্দির, অরাবলী পাহাড়

২-৩ দিন

পুজোয় পাহাড়ে যাওয়ার আগে যে বিষয়গুলি মাথায় রাখবেন

হিমালয়ের বাইরে অন্য কোনও পাহাড়ি গন্তব্য বেছে নিলেই যে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা পুরোপুরি দূর হয়ে যাবে, তা নয়। পশ্চিমঘাট, পূর্বঘাট কিংবা অরাবলী পর্বতমালার বিভিন্ন এলাকাতেও ভারী বৃষ্টি, ভূমিধস বা আকস্মিক আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে। তাই পুজোর সফরের পরিকল্পনা করার সময় কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন।

  • আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখুন: যাত্রা শুরুর আগে এবং সফর চলাকালীন নিয়মিত আবহাওয়ার খবর রাখুন। ভারী বৃষ্টির সতর্কতা থাকলে পাহাড়ি পথে যাতায়াত এড়িয়ে চলুন।

  • রাস্তার অবস্থা জেনে নিন: পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টির কারণে রাস্তা বন্ধ হতে পারে। তাই যাত্রার আগে স্থানীয় প্রশাসন বা হোটেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাস্তার অবস্থা জেনে নিন।

  • আগে থেকে হোটেল বুক করুন: পুজোর সময়ে পর্যটকদের ভিড় বাড়তে পারে। তাই যাতায়াতের সুবিধা ও নিরাপত্তা বিবেচনা করে আগে থেকেই থাকার ব্যবস্থা করে রাখা ভাল।

  • জরুরি সামগ্রী সঙ্গে রাখুন: প্রয়োজনীয় ওষুধ, পানীয় জল, চার্জার, পাওয়ার ব্যাঙ্ক, রেইনকোট ও পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন।

  • অপরিচিত পাহাড়ি পথে সাবধান থাকুন: স্থানীয় গাইড ছাড়া দুর্গম পাহাড়ি পথে যাওয়ার পরিকল্পনা করবেন না। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকলে কোনও ভাবেই সেই পথে যাবেন না।

পুজোর ছুটিতে পাহাড়ে বেড়ানোর আনন্দ উপভোগ করতে চাইলে গন্তব্য নির্বাচনের পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। হিমালয়ের বাইরে কুর্গ, কোডাইকানাল, মুন্নার, দেওমালি কিংবা মাউন্ট আবুতে বেড়ানোর পরিকল্পনা করতে পারেন। তবে শেষ মুহূর্তে আবহাওয়া ও যাতায়াতের পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সফরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

Preview image