Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ফাইনালে ফের পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জ্বলে উঠলেন তিলক হাফসেঞ্চুরি অভিষেকের জবাবে চাপে ফারহানরা

ফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ফের ব্যাট হাতে উজ্জ্বল তিলক অভিষেকের হাফসেঞ্চুরিও ভারতের ইনিংসকে শক্ত ভিত দেয় রান তাড়া করতে নেমে চাপে পড়েছেন ফারহানরা জমে উঠেছে ভারত পাকিস্তানের শিরোপার লড়াই

এশিয়ান গেমসের পুরুষদের ক্রিকেট ফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে উজ্জ্বল অভিষেক শর্মা ও তিলক ভার্মা। অভিষেকের আক্রমণাত্মক শুরু এবং শেষ দিকে তিলকের অপরাজিত হাফসেঞ্চুরির সুবাদে ভারত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২১১ রান করেছে। সোনার পদক জিততে পাকিস্তানের প্রয়োজন ২১২ রান। ভারতের বড় সংগ্রহ সাহেবজাদা ফারহানদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারতকে দ্রুত রান তোলার ভিত তৈরি করে দেন অভিষেক। মাত্র ২০ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২৮ বলে ৬১ রান করে তাঁর ইনিংস শেষ হয়। সাতটি ছক্কা এবং তিনটি চার ছিল এই ইনিংসে। পাকিস্তানের বোলারদের বিরুদ্ধে তাঁর বড় শট খেলার ক্ষমতা ভারতের শুরুর রানরেট বাড়িয়ে দেয়। ভারতের ইনিংসে অভিষেকের অবদান শুধু ব্যক্তিগত অর্ধশতরানে সীমাবদ্ধ ছিল না। দ্রুত রান ওঠায় পরবর্তী ব্যাটারদের সামনে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা তৈরি হয়। ফাইনালের মতো ম্যাচে শুরুতেই এমন গতি পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তবে দ্রুত শুরু করার পরেও পুরো ইনিংস একই ছন্দে এগোয়নি। মাঝের ওভারগুলিতে পাকিস্তান কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনে।  ইশান কিশান ২০ এবং অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার ২১ রান করেন। তাঁদের আউট হওয়ার পরে ভারতের রান তোলার গতি ধরে রাখার দায়িত্ব এসে পড়ে পরবর্তী ব্যাটারদের উপর। পাকিস্তানের বোলাররা এই সময়ে ভারতের বড় শট খেলার সুযোগ কমানোর চেষ্টা করেন। ফলে শেষ কয়েক ওভারে ভারত কতটা রান তুলতে পারবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে শেষের আক্রমণ ভারতের সংগ্রহকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। শুরুতে পাওয়া সুবিধা কাজে লাগিয়ে ইনিংস শেষ করার প্রয়োজন ছিল। তিলক ভার্মা ও শিবম দুবে সেই দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের জুটি পাকিস্তানের বোলিংয়ের উপর আবার চাপ তৈরি করে এবং ভারতের স্কোরকে ২০০ রানের সীমা পেরিয়ে নিয়ে যায়। তিলক ২২ বলে অপরাজিত ৫১ রান করেন। অন্যদিকে, দুবে ১৫ বলে ২৭ রান যোগ করেন। ষষ্ঠ উইকেটে দু’জনে পাঁচ ওভারে ৬২ রান তোলেন। এই জুটিই ভারতের ইনিংসের শেষ পর্যায়ে বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। মাঝের ওভারের তুলনামূলক ধীর গতির পরে তাঁদের আক্রমণ ভারতকে শক্তিশালী সংগ্রহে পৌঁছে দেয়। অভিষেক এবং তিলকের অর্ধশতরান এসেছে ইনিংসের দুই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে। অভিষেক শুরুতে গতি এনে দিয়েছেন, আর তিলক শেষ পর্যন্ত থেকে রান বাড়িয়েছেন। সেই কারণেই তাঁদের অবদান পরস্পরের পরিপূরক। একজনের দ্রুত শুরু এবং অন্যজনের শেষের আক্রমণ মিলিয়েই পাকিস্তানের সামনে বড় লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে।

২১২ রান তাড়া করতে হলে পাকিস্তানকে শুরু থেকেই প্রয়োজনীয় রানরেটের দিকে নজর রাখতে হবে। পূর্ণ ২০ ওভারে লক্ষ্য ছুঁতে গড়ে প্রতি ওভারে ১০.৬ রান প্রয়োজন। ডট বলের সংখ্যা বেড়ে গেলে বা নিয়মিত উইকেট পড়লে সেই চাপ আরও বাড়তে পারে। বড় লক্ষ্য তাড়া করার ক্ষেত্রে বাউন্ডারির পাশাপাশি এক ও দুই রান নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফারহানদের জন্য কার্যকর জুটি তৈরি করা প্রয়োজন। শুধু কয়েকটি বড় শট যথেষ্ট নাও হতে পারে; ইনিংসের বিভিন্ন পর্যায়ে রান তোলার ধারাবাহিকতা রাখতে হবে। তবে বড় লক্ষ্য মানেই ম্যাচের ফল নিশ্চিত হয়ে যাওয়া নয়। পাকিস্তানের ব্যাটাররা কেমন শুরু করেন এবং ভারতের বোলাররা কতটা নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন, তার উপর পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে। ভারতের জন্যও কাজ শেষ হয়নি। ব্যাটারদের তৈরি করা সুবিধাকে কাজে লাগাতে বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে শৃঙ্খলা প্রয়োজন। অতিরিক্ত রান কম দেওয়া, সুযোগ পেলে উইকেট নেওয়া এবং ক্যাচ ধরে রাখা লক্ষ্য রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পাকিস্তান দ্রুত রান তুলতে শুরু করলে ভারতকে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনা বদলাতে হবে। এই প্রতিবেদন ভারতের ইনিংস শেষে প্রকাশিত স্কোরের ভিত্তিতে লেখা। পাকিস্তানের রান তাড়ার নির্দিষ্ট স্কোর বা চূড়ান্ত ফল এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অভিষেকের ৬১ এবং তিলকের অপরাজিত ৫১ ভারতকে শক্ত অবস্থানে রেখেছে। এখন সেই সংগ্রহ রক্ষা করে সোনার পদকের লড়াইয়ে শেষ সাফল্য পাওয়া যাবে কি না তা নির্ধারিত হবে দ্বিতীয় ইনিংসে। পাকিস্তানের সামনে ২১২ রানের লক্ষ্য রেখে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট ফাইনালে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে ভারত। অভিষেক শর্মার ৬১ এবং তিলক ভার্মার অপরাজিত ৫১ রানের অবদানে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ২১১। তবে বড় রান করার পরেও ভারতের কাজ শেষ হয়ে যায়নি। সোনার পদকের লড়াইয়ে সেই সংগ্রহ রক্ষা করতে দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে ধারাবাহিকতা দেখাতে হবে। এই বিবরণ ভারতের ইনিংস শেষে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে লেখা; পাকিস্তানের চলতি স্কোর বা ম্যাচের চূড়ান্ত ফল এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পূর্ণ ২০ ওভারে ২১২ রান তুলতে পাকিস্তানের শুরুতে প্রয়োজনীয় রানরেট প্রতি ওভারে ১০.৬। অর্থাৎ নিয়মিত দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি উইকেটও হাতে রাখতে হবে। কয়েকটি ওভারে রান কম উঠলে পরবর্তী সময়ে সেই ঘাটতি পূরণ করার চাপ বাড়বে। আবার দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় একাধিক উইকেট পড়ে গেলে নতুন ব্যাটারদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাই আক্রমণ এবং ইনিংস ধরে রাখার মধ্যে ভারসাম্য প্রয়োজন। রান তাড়ার প্রথম ছয় ওভার গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পাওয়ারপ্লেতে ফিল্ডিংয়ের সীমাবদ্ধতা কাজে লাগিয়ে পাকিস্তান দ্রুত রান তুলতে পারলে পরবর্তী পর্যায়ের চাপ কিছুটা কমবে। অন্যদিকে ভারত শুরুতেই উইকেট নিতে পারলে প্রতিপক্ষের পরিকল্পনায় বাধা তৈরি করতে পারবে। তবে প্রথম কয়েক ওভারের অবস্থান থেকেই পুরো ম্যাচের ফল নির্ধারণ করা যায় না। একটি কার্যকর জুটি কিংবা পরপর কয়েকটি বাউন্ডারি পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে।

news image
আরও খবর

সাহেবজাদা ফারহানদের জন্য জুটি তৈরি করা বিশেষভাবে প্রয়োজন। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে একজন ব্যাটারের আক্রমণাত্মক ইনিংস সাহায্য করতে পারে, কিন্তু অন্য প্রান্ত থেকেও যথেষ্ট সমর্থন দরকার। দুই ব্যাটার নিয়মিত রান নিতে পারলে বোলারদের একই পরিকল্পনায় আটকে রাখা কঠিন হতে পারে। বিপরীতে এক প্রান্তে বেশি ডট বল হলে অন্য ব্যাটারের উপর বড় শট খেলার দায়িত্ব বেড়ে যায়। বাউন্ডারির পাশাপাশি এক ও দুই রান নেওয়াও এই রান তাড়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিটি বলেই চার বা ছক্কা মারা সম্ভব নয়। ভালো বল থেকে সামান্য রান নেওয়া এবং সুযোগের বলকে বাউন্ডারিতে পাঠানো দুই ধরনের দক্ষতাই প্রয়োজন। স্ট্রাইক বদলাতে পারলে একজন বোলার কোনও নির্দিষ্ট ব্যাটারকে দীর্ঘ সময় ধরে একইভাবে চাপে রাখার সুযোগ কম পান। তবে রান নেওয়ার সময়ে ভুল বোঝাবুঝি হলে রান আউটের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। ডট বলের প্রভাব বড় লক্ষ্যের ম্যাচে দ্রুত বোঝা যায়। রান না ওঠা প্রতিটি বলের পরে বাকি বল থেকে প্রয়োজনীয় রান তোলার হার বদলায়। তাই পাকিস্তানের ব্যাটারদের শুধু মোট লক্ষ্য নয় হাতে থাকা বল এবং উইকেটের সংখ্যাও বিবেচনা করতে হবে। কোনও একটি ওভারে কম রান উঠলে পরের ওভারেই অতিরিক্ত ঝুঁকি নেওয়ার বদলে পরিস্থিতি বুঝে সুযোগ খোঁজা কার্যকর হতে পারে। মাঝের ওভারগুলিতে রান তোলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা পাকিস্তানের জন্য আরেকটি পরীক্ষা। পাওয়ারপ্লের পরে মাঠে ফিল্ডার ছড়িয়ে গেলে বাউন্ডারি খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে। সেই সময়ে ফাঁকা জায়গায় বল পাঠানো দ্রুত দৌড়ে রান নেওয়া এবং বোলারের ভুল কাজে লাগানো প্রয়োজন। শেষের ওভারে আক্রমণের জন্য উইকেট হাতে রাখাও সুবিধা দিতে পারে। তবে উইকেট বাঁচাতে গিয়ে রানরেট অনেকটা কমে গেলে শেষ পর্যায়ে কাজ আরও কঠিন হবে। ভারতের দিক থেকে প্রধান লক্ষ্য হতে পারে পাকিস্তানকে সহজে রান তুলতে না দেওয়া। শুধু উইকেট নেওয়ার চেষ্টা নয়, ব্যাটারদের পছন্দের জায়গায় বল না করা এবং ধারাবাহিকভাবে পরিকল্পনা অনুযায়ী বোলিং করাও প্রয়োজন। পাকিস্তান যদি দ্রুত শুরু করে, তাহলে ভারতের বোলারদের পরিস্থিতি বুঝে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে। একই ধরনের বল বারবার খেলতে সুবিধা হলে প্রতিপক্ষ আরও আত্মবিশ্বাস পেতে পারে। অতিরিক্ত রান নিয়ন্ত্রণ করাও লক্ষ্য রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াইড ও নো বল প্রতিপক্ষকে রান দেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত বল খেলার সুযোগ দেয়। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে থাকা দলের জন্য এমন সুবিধা মূল্যবান হতে পারে। তাই চাপের মধ্যেও বোলারদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা দরকার। পরিকল্পনা ভালো হলেও তা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে না পারলে বড় সংগ্রহের সুবিধা কমে যেতে পারে।

ফিল্ডিংয়েও ভারতকে সতর্ক থাকতে হবে। ক্যাচের সুযোগ কাজে লাগানো, অপ্রয়োজনীয় বাউন্ডারি আটকানো এবং সঠিক জায়গায় থ্রো দেওয়া পাকিস্তানের রান তাড়ায় চাপ তৈরি করতে পারে। একটি সুযোগ নষ্ট হলে সেট ব্যাটার ইনিংস আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পান। আবার ভালো ফিল্ডিংয়ের মাধ্যমে কয়েকটি রান বাঁচানোও শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী ভারতের পরিকল্পনায় পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। পাকিস্তানের কোনও জুটি দ্রুত রান তুললে বোলিং পরিবর্তন বা ফিল্ডিং সাজানোর সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। আবার নিয়মিত উইকেট পড়লে সেই সুবিধা ধরে রেখে চাপ বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে। অধিনায়ক বোলার এবং ফিল্ডারদের মধ্যে স্পষ্ট যোগাযোগ পরিকল্পনা কার্যকর করতে সাহায্য করতে পারে। ফাইনালে মানসিক স্থিরতাও দুই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের ব্যাটারদের বড় লক্ষ্য দেখে তাড়াহুড়ো করলে চলবে না। অন্যদিকে, ভারতকেও বড় সংগ্রহের কারণে আত্মতুষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই। কয়েকটি ভালো বা খারাপ ওভারের পরেও পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রতিটি পর্যায়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ম্যাচের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে। অভিষেকের দ্রুত রান এবং তিলকের শেষ পর্যন্ত থেকে ইনিংস এগিয়ে নেওয়া ভারতকে ভালো সংগ্রহ দিয়েছে। এখন সেই ব্যাটিং সাফল্যকে ফলাফলে রূপ দেওয়ার দায়িত্ব বোলার ও ফিল্ডারদের। পাকিস্তানের সামনে কঠিন লক্ষ্য থাকলেও রান তাড়া শেষ হওয়ার আগে জয় বা পরাজয় নিশ্চিত বলা যায় না। দ্বিতীয় ইনিংসে রান তোলার ধারাবাহিকতা, উইকেটের পতন এবং ভারতের নিয়ন্ত্রণ এই বিষয়গুলিই সোনার পদকের লড়াইয়ের পরিণতি নির্ধারণ করবে।

Preview image