Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

অধিনায়কত্ব ছাড়লেন হরমনপ্রীত কৌর সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্ট

অধিনায়কত্ব ছাড়ার কথা ঘোষণা করলেন হরমনপ্রীত কৌর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি তাঁর নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা ঘিরে আলোচনায় উঠে এসেছে সেই পোস্ট কী জানিয়েছেন হরমনপ্রীত কেন নিলেন এই সিদ্ধান্ত তা নিয়েই কৌতূহল

ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন হরমনপ্রীত কৌর। মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর ২০২৬ ইনস্টাগ্রামে একটি দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে তিনি জানান, সব ফরম্যাটে জাতীয় দলের নেতৃত্ব ছাড়ছেন। তাঁর সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হচ্ছে বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অধিনায়কত্ব ছাড়লেও ভারতের হয়ে সব ফরম্যাটে খেলতে উপলব্ধ থাকবেন তিনি। নিজের পোস্টে হরমনপ্রীত জানিয়েছেন নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না। এই দায়িত্বের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু বছরের স্মৃতি, আবেগ, ত্যাগ এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। দলের জন্য নিজের সর্বস্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দলকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে কখনও নিজের ব্যক্তিগত লক্ষ্য ও খেলাকেও পিছনে রাখতে হয়েছে। নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রসঙ্গও এনেছেন হরমনপ্রীত। তাঁর কথায় অধিনায়ক হিসেবে নেওয়া সব সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না সব সিদ্ধান্ত সকলের কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্যও হয়নি। কিন্তু তাঁর উদ্দেশ্য ছিল দলকে আরও ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়া এবং সতীর্থদের নিজেদের সামর্থ্য বিকাশের সুযোগ দেওয়া। পরাজয়, সমালোচনা ও সংশয়ের পাশাপাশি জয় এবং দেশের প্রতিনিধিত্বের গর্ব দুই ধরনের অভিজ্ঞতাই তাঁর যাত্রার অংশ।

বিদায়ের ঘোষণায় আবেগের পাশাপাশি দলের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আস্থাও প্রকাশ করেছেন হরমনপ্রীত। তিনি মনে করছেন, ভারতীয় দল ভালো অবস্থানে রয়েছে। দলের প্রতিভা, আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তা নিয়ে আশাবাদী তিনি। নেতৃত্বের দায়িত্ব ছাড়ার পরেও দলের পরবর্তী যাত্রার অংশ হতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন বলে মনে হচ্ছে এবং এখন নতুন অধ্যায়ে এগোনোর সময় এসেছে। ২০১৬ সাল থেকে ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্বে ছিলেন হরমনপ্রীত। মিতালি রাজের অবসরের পরে ২০২২ সালে জাতীয় দলের পূর্ণকালীন অধিনায়কের দায়িত্ব নেন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তথ্য অনুযায়ী, তিনি পাঁচটি টেস্ট, ৫১টি এক দিনের আন্তর্জাতিক এবং ১৫৫টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভারতের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর অধিনায়কত্বে ২০২৫ সালে প্রথম মহিলা এক দিনের বিশ্বকাপ জেতে ভারত। গত মাসে এশিয়ান গেমসেও তাঁর নেতৃত্বে টানা দ্বিতীয় সোনা অর্জন করে দল। হরমনপ্রীতের ঘোষণায় স্পষ্ট নেতৃত্বের দায়িত্ব শেষ হলেও তাঁর ক্রিকেটযাত্রা চলছে। সতীর্থ, কোচ, সহায়ক কর্মী, ব্যবস্থাপনা, বিসিসিআই, পরিবার এবং সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। ভালো ও কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য সকলকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। এখন খেলাটির প্রতি ভালোবাসা নিয়ে আবার মাঠে নামতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। ফলে তাঁর সিদ্ধান্ত ভারতীয় মহিলা দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনছে, আর খেলোয়াড় হিসেবে দলের সঙ্গে থাকার ইচ্ছা বজায় রয়েছে।

ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণায় আবেগের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন হরমনপ্রীত কৌর। দীর্ঘ সময় নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করার পরে নতুন অধ্যায়ে এগোতে চান তিনি। তবে তাঁর ঘোষণায় স্পষ্ট, অধিনায়কত্বের দায়িত্ব শেষ হলেও জাতীয় দলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা বজায় থাকছে। খেলোয়াড় হিসেবে ভারতের হয়ে মাঠে নামতে প্রস্তুত তিনি। দলের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে হরমনপ্রীতের বক্তব্যে আস্থার সুর রয়েছে। তাঁর মনে হচ্ছে, ভারতীয় দল এখন ভালো অবস্থানে রয়েছে। দলের প্রতিভা, আত্মবিশ্বাস এবং মানসিক দৃঢ়তা তাঁকে আশাবাদী করছে। নেতৃত্বের দায়িত্ব ছাড়ার সময় তাই শুধু নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেননি তিনি সতীর্থদের সামর্থ্য এবং দলের পরবর্তী যাত্রার প্রতিও বিশ্বাস জানিয়েছেন। একজন দীর্ঘদিনের অধিনায়কের কাছে দায়িত্ব ছাড়ার মুহূর্ত স্বাভাবিকভাবেই আবেগের। দলের সঙ্গে কাটানো সময়, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ জয় ও কঠিন পরিস্থিতির স্মৃতি সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। হরমনপ্রীতের ঘোষণাতেও সেই আবেগ ফুটে উঠেছে। পাশাপাশি নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন বলে মনে হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, নেতৃত্বের অধ্যায় শেষ করে এবার খেলোয়াড় হিসেবে নতুনভাবে এগোনোর দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। হরমনপ্রীতের বিদায়ী বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দলের প্রতি তাঁর আস্থা। ভারতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি ইতিবাচক। তাঁর মূল্যায়নে, এই দলে প্রতিভার পাশাপাশি রয়েছে বিশ্বাস ও মানসিক শক্তি। দলের সামনে যে সম্ভাবনা রয়েছে, তার পরবর্তী বিকাশ দেখার এবং সেই যাত্রার অংশ থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। নেতৃত্বের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পরেও দলের অংশ থাকতে চাওয়ার এই বক্তব্য তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিকটি স্পষ্ট করে। অধিনায়ক হিসেবে তাঁকে দলের সামগ্রিক দায়িত্ব সামলাতে হয়েছে। এবার জাতীয় দলের একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসেবে অবদান রাখতে চান তিনি। তাঁর ঘোষণায় ক্রিকেট থেকে সরে যাওয়ার কথা নেই; বরং খেলার প্রতি ভালোবাসা নিয়ে মাঠে থাকার ইচ্ছাই গুরুত্ব পেয়েছে। এখানে নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং খেলোয়াড়ের উপস্থিতি দুটি বিষয় পাশাপাশি রয়েছে। অধিনায়কত্ব অন্য কারও হাতে গেলেও হরমনপ্রীতের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা দলের কাজে লাগতে পারে। নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর ভূমিকা কীভাবে গড়ে উঠবে, তা ভবিষ্যতের বিষয়। তবে দলের পরবর্তী অধ্যায়ে যুক্ত থাকার আগ্রহ তিনি প্রকাশ করেছেন।

news image
আরও খবর

ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক হিসেবে হরমনপ্রীতের দায়িত্ব শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালে। এর পরে মিতালি রাজের অবসরের সময়, ২০২২ সালে জাতীয় দলের পূর্ণকালীন নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। এই দীর্ঘ সময়ে বিভিন্ন ফরম্যাটে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন হরমনপ্রীত। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি টেস্ট, ৫১টি এক দিনের আন্তর্জাতিক এবং ১৫৫টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভারতের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। এই পরিসংখ্যান তাঁর নেতৃত্বের দীর্ঘ সময়কাল এবং বিভিন্ন ধরনের ক্রিকেটে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে। টেস্ট, এক দিনের ক্রিকেট এবং টি-টোয়েন্টিতে দলের প্রয়োজন আলাদা। ম্যাচের পরিস্থিতি, পরিকল্পনা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরনেও পার্থক্য থাকে। তিন ফরম্যাটে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাই একজন অধিনায়কের যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হরমনপ্রীতের নেতৃত্বের মূল্যায়নে ম্যাচের সংখ্যার পাশাপাশি দলের অর্জনগুলিও বিশেষ জায়গা পায়। হরমনপ্রীতের অধিনায়কত্বের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের মহিলা এক দিনের বিশ্বকাপ জয়। তাঁর নেতৃত্বে প্রথমবার এই প্রতিযোগিতার শিরোপা অর্জন করে ভারত। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের ইতিহাসে এই অর্জন তাঁর নেতৃত্বের অধ্যায়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। বিশ্বকাপের মতো বড় প্রতিযোগিতায় জয় একটি দলের সম্মিলিত সাফল্য। ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি কোচ, সহায়ক কর্মী এবং ব্যবস্থাপনার অবদানও তার সঙ্গে যুক্ত থাকে। অধিনায়ক হিসেবে হরমনপ্রীত সেই সফল দলের নেতৃত্বে ছিলেন। ফলে তাঁর দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই এই অর্জনের স্মৃতিও উঠে আসছে। গত মাসে এশিয়ান গেমসেও তাঁর নেতৃত্বে টানা দ্বিতীয় সোনা জেতে ভারতীয় দল। বিশ্বকাপ এবং এশিয়ান গেমসের এই সাফল্য তাঁর অধিনায়কত্বের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। নেতৃত্বের অধ্যায় শেষ করার সময় দলের বর্তমান অবস্থান নিয়ে তাঁর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এই অর্জনগুলির প্রেক্ষাপটও যুক্ত রয়েছে।

নিজের ঘোষণায় সতীর্থ কোচ সহায়ক কর্মী ব্যবস্থাপনা এবং বিসিসিআইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন হরমনপ্রীত। পরিবার ও সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ভালো সময়ের পাশাপাশি কঠিন পরিস্থিতিতে পাশে থাকা মানুষদের কথা মনে রেখেছেন তিনি। এই ধন্যবাদবার্তায় তাঁর দীর্ঘ ক্রিকেটযাত্রার সম্মিলিত দিকটি ফুটে ওঠে। একজন অধিনায়ক সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিলেও সেই যাত্রায় বহু মানুষের অবদান থাকে। মাঠে সতীর্থদের সহযোগিতা প্রস্তুতিতে কোচ ও সহায়ক কর্মীদের ভূমিকা এবং ব্যক্তিগত জীবনে পরিবারের সমর্থন সব মিলিয়েই একজন ক্রিকেটারের পথ গড়ে ওঠে। হরমনপ্রীতের বক্তব্যে সেই সহযাত্রীদের স্বীকৃতি রয়েছে। সাফল্যের মুহূর্তের পাশাপাশি কঠিন সময়েও যাঁরা তাঁর পাশে ছিলেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা তাই তাঁর কাছে শুধু দায়িত্ব পরিবর্তনের বার্তা নয়; দীর্ঘ যাত্রায় পাওয়া সহযোগিতাকে স্মরণ করার মুহূর্তও। হরমনপ্রীত জানিয়েছেন খেলাটির প্রতি ভালোবাসা নিয়ে আবার মাঠে নামতে প্রস্তুত তিনি। এই বক্তব্য তাঁর ঘোষণার সবচেয়ে স্পষ্ট ভবিষ্যৎ বার্তা। জাতীয় দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসছে কিন্তু অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসেবে দলের সঙ্গে থাকার ইচ্ছা বজায় রয়েছে। দলের পরবর্তী যাত্রায় তাঁর ভূমিকা নির্ধারিত হবে ভবিষ্যতের নির্বাচন ও পরিকল্পনার মাধ্যমে। তবে নিজের অবস্থান সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট অধিনায়কত্বের দায়িত্ব শেষ হলেও ক্রিকেটের প্রতি টান অটুট। দলের সামর্থ্যে আস্থা এবং খেলোয়াড় হিসেবে অবদান রাখার আগ্রহ নিয়েই নতুন অধ্যায়ের দিকে এগোচ্ছেন হরমনপ্রীত কৌর।

 

Preview image