হোপ ও রাদারফোর্ডের দুরন্ত পারফরম্যান্সে দাপুটে জয় পেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ় তাঁদের ব্যাটিংয়ের দাপটে ম্যাচে জয়ের পথ তৈরি করে ক্যারিবিয়ান দল এই জয়ের সুবাদে সিরিজ়ে সমতায় ফিরল তারা হোপ ও রাদারফোর্ডের যুগল নৈপুণ্যই হয়ে উঠল ম্যাচের মূল আকর্ষণ সিরিজ়ে সমতা ফেরায় পরবর্তী লড়াই ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়ল
রাঁচিতে রানের পাহাড় গড়েও জয় পেল না ভারত। শাই হোপের অপরাজিত শতরান এবং শেরফান রাদারফোর্ডের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে দুরন্ত জয় ছিনিয়ে নিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। শুক্রবার ৯ অক্টোবর ভারতের দেওয়া ২৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ১৮.৩ ওভারে চার উইকেটে ২৫২ রান তোলে ক্যারিবিয়ান দল। ছয় উইকেটের এই জয়ের নায়ক হোপ যিনি ৪৫ বলে ১০২ রান করে অপরাজিত থাকেন এবং ম্যাচের সেরার পুরস্কার পান। প্রথম ম্যাচে হারের পরে এই প্রত্যাবর্তন ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পাঁচ ম্যাচের সিরিজ়ে এখন ফল ১-১। ভারতের বড় সংগ্রহ এবং রান তাড়ার শুরুতে দ্রুত উইকেট হারানো দুই বাধা পেরিয়েই ম্যাচ নিজেদের দিকে টেনে নেয় সফরকারীরা। হোপ ও রাদারফোর্ডের চতুর্থ উইকেটের ১২০ রানের জুটি হয়ে ওঠে সেই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রধান ভিত্তি। স্যামসনের ব্যাটে ভারতের শক্ত ভিত টস জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। ব্যাটিংয়ের অনুকূল পরিস্থিতিতে ভারতীয় ব্যাটাররা দ্রুত রান সংগ্রহের পথে এগোন। সঞ্জু স্যামসন ৪১ বলে ৮২ রানের ইনিংস খেলেন। ইশান কিষানও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ২২ বলে ৪৩ রান যোগ করেন। তাঁদের ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহের ভিত পেয়ে যায় ভারত। স্যামসন ও কিষানের ৯৭ রানের জুটি ভারতকে এগিয়ে রাখলেও মাঝের ওভারগুলিতে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফেরান রস্টন চেজ। কিষান ও শিবম দুবেকে ফিরিয়ে ভারতের রানের গতি সাময়িকভাবে কমিয়ে দেন তিনি। তবে সেই সুযোগ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার এবং তিলক বর্মা শেষ দিকে পাল্টা আক্রমণে নামেন। শ্রেয়স ১৮ বলে ৪০ এবং তিলক ১৮ বলে অপরাজিত ৪৪ রান করেন। তাঁদের ৮৩ রানের জুটির সাহায্যে ভারত ২০ ওভারে পাঁচ উইকেটে ২৪৯ রানে পৌঁছয়।
শুরুর ধাক্কা সামলে পাল্টা আক্রমণ বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। প্রথম ওভারে পরপর দুই বলে কামিল পুরান এবং শিমরন হেটমায়ারকে ফেরান মায়াঙ্ক যাদব। পরে রভম্যান পাওয়েলও তাঁর শিকার হন। পাওয়েল ১৩ বলে ২৪ রান করলেও এক সময়ে ক্যারিবিয়ান দলের স্কোর দাঁড়ায় ৫৮ রানে তিন উইকেট। এই জায়গা থেকে ম্যাচের মোড় বদলান হোপ ও রাদারফোর্ড। দ্রুত উইকেট হারানোর পরেও তাঁদের জুটিতে রানের গতি কমেনি। মাত্র ৫৪ বলে ১২০ রান যোগ করেন তাঁরা। রাদারফোর্ড ৩৭ বলে ৮৪ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল সাতটি চার এবং সাতটি ছক্কা। অন্য প্রান্তে হোপও নিয়মিত বাউন্ডারি খুঁজে নিয়ে লক্ষ্য তাড়ার গতি ধরে রাখেন। ম্যাচের গতিপ্রকৃতি থেকে বোঝা যায়, এই জুটির সবচেয়ে বড় গুরুত্ব ছিল ভারতকে শুরুর সাফল্যের সুবিধা নিতে না দেওয়া। বড় লক্ষ্য তাড়ায় উইকেট বাঁচানোর পাশাপাশি দ্রুত রানও প্রয়োজন ছিল। হোপ ও রাদারফোর্ড সেই দুই প্রয়োজন একসঙ্গে মেটান। তাঁদের আক্রমণে ভারতীয় বোলারদের উপর চাপ বাড়ে এবং ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। শেফার্ডের সহায়তায় জয় নিশ্চিত করেন হোপ রাদারফোর্ডকে ফিরিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জুটি ভাঙেন কুলদীপ যাদব। কিন্তু তখনও ম্যাচ শেষ করার দায়িত্ব নিয়ে ক্রিজে ছিলেন হোপ। তাঁকে যোগ্য সহায়তা দেন রোমারিও শেফার্ড। মাত্র ১৩ বলে অপরাজিত ৩৪ রান করে শেষ পর্যায়ের রান তাড়ায় বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও তিনটি ছক্কা। হোপ শেষ পর্যন্ত ছয়টি চার ও নয়টি ছক্কার সাহায্যে অপরাজিত ১০২ রান করেন। দলের জয়ের জন্য যখন শেষ দুই ওভারে ১০ রান প্রয়োজন, তখন শতরানের জন্য তাঁরও দরকার ছিল ১০ রান। অক্ষর পটেলের ওভারে দুটি ছক্কা মেরে ব্যক্তিগত শতরান এবং দলের জয় নিশ্চিত করেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক। নয় বল বাকি থাকতেই শেষ হয় রান তাড়া। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের এই জয় দেখাল বড় সংগ্রহের পরেও টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কতটা জরুরি। ভারতের ব্যাটাররা লড়াইয়ের জন্য শক্ত ভিত তৈরি করেছিলেন, কিন্তু হোপ ও রাদারফোর্ডের জুটি ভাঙতে দেরি হওয়ায় সেই সুবিধা ধরে রাখা যায়নি। অন্য দিকে ক্যারিবিয়ান দলের প্রত্যাবর্তনের কেন্দ্রে ছিল চাপের মধ্যেও দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা এবং শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করা। সিরিজ়ে সমতা ফেরায় বাকি ম্যাচগুলিতে দুই দলের লড়াই আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠল।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই জোড়া ধাক্কা। তার পরে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যাওয়া। এমন পরিস্থিতি থেকেও যে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেওয়া সম্ভব, তা দেখিয়ে দিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। শাই হোপের অপরাজিত শতরান এবং শেরফান রাদারফোর্ডের বিস্ফোরক ইনিংস ভারতের বিরুদ্ধে ক্যারিবিয়ান দলের জয়ের ভিত তৈরি করল। শেষ দিকে রোমারিও শেফার্ডের দ্রুত রান সেই লড়াইকে সফল পরিণতি দিল। নয় বল বাকি থাকতে জয় নিশ্চিত করে সিরিজ়ে সমতায় ফিরল ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। ভারতের বড় সংগ্রহের জবাবে সফরকারীদের শুরুটা ছিল উদ্বেগজনক। লক্ষ্য তাড়ার প্রথম ওভারেই পরপর দুই বলে কামিল পুরান এবং শিমরন হেটমায়ারকে ফিরিয়ে দেন মায়াঙ্ক যাদব। বড় রান তাড়ার শুরুতে এমন সাফল্য ভারতকে এগিয়ে দেয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের সামনে তখন একসঙ্গে দুটি দায়িত্ব উইকেট পতন সামলানো এবং প্রয়োজনীয় রানের গতি বজায় রাখা। এই পরিস্থিতিতে রভম্যান পাওয়েলের ব্যাটিং কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়। তিনি ১৩ বলে ২৪ রান করে দলের স্কোর এগিয়ে নিয়ে যান। তবে তাঁর ইনিংস দীর্ঘ হয়নি। মায়াঙ্ক তাঁকেও ফিরিয়ে দেওয়ায় এক সময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের স্কোর দাঁড়ায় ৫৮ রানে তিন উইকেট। ভারতের কাছে তখন প্রতিপক্ষকে আরও চাপে ফেলার সুযোগ ছিল। অন্য দিকে, ক্যারিবিয়ান দলের প্রয়োজন ছিল এমন একটি জুটি যা উইকেট ধরে রাখার পাশাপাশি বড় লক্ষ্য তাড়ার পথও খোলা রাখবে। সেই দায়িত্ব নেন হোপ ও রাদারফোর্ড। তাঁদের জুটিই বদলে দেয় ম্যাচের গতিপথ। দ্রুত তিন উইকেট হারানোর পরেও তাঁরা রান সংগ্রহের গতি কমতে দেননি। মাত্র ৫৪ বলে ১২০ রান যোগ করে ভারতের প্রাথমিক সাফল্যের সুবিধা অনেকটাই মুছে দেন দুই ব্যাটার। যে ম্যাচে শুরুতে ভারত এগিয়ে ছিল, সেখানে ক্রমশ জয়ের সম্ভাবনা বাড়তে থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের।
রাদারফোর্ডের ব্যাটিং এই প্রত্যাবর্তনে বিশেষ ভূমিকা নেয়। মাত্র ৩৭ বলে ৮৪ রান করেন তিনি। সাতটি চার এবং সাতটি ছক্কায় সাজানো তাঁর ইনিংস ভারতীয় বোলারদের উপর চাপ বাড়ায়। বড় শটের মাধ্যমে দ্রুত রান যোগ হওয়ায় লক্ষ্য তাড়ার কঠিন সমীকরণও সফরকারীদের নাগালের মধ্যে আসতে থাকে। এই ইনিংসের গুরুত্ব বোঝার জন্য ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিন উইকেট হারানোর পরে শুধু ক্রিজে টিকে থাকলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের কাজ সহজ হত না। লক্ষ্য এত বড় ছিল যে নিয়মিত দ্রুত রান তোলাও জরুরি ছিল। রাদারফোর্ডের আক্রমণ সেই প্রয়োজন মেটায়। তাঁর ব্যাটিংয়ের ফলে ভারতকে একই সঙ্গে উইকেট নেওয়া এবং রান আটকানোর উপায় খুঁজতে হয়। অন্য প্রান্তে হোপ দলের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। তিনিও নিয়মিত বাউন্ডারি খুঁজে পান এবং রানের গতি ধরে রাখেন। রাদারফোর্ডের সঙ্গে তাঁর জুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে শুরুর বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। তাঁদের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় প্রভাব ছিল ম্যাচের চাপের অবস্থান বদলে দেওয়া। শুরুতে যে চাপ সফরকারীদের উপর ছিল, তা ধীরে ধীরে ভারতীয় বোলিংয়ের উপর এসে পড়ে। বড় লক্ষ্য তাড়ায় একটি কার্যকর জুটি শুধু স্কোর বাড়ায় না, পরের ব্যাটারদের জন্যও পরিস্থিতি তৈরি করে। হোপ ও রাদারফোর্ডের ১২০ রানের জুটি সেই কাজই করে। দ্রুত উইকেট পতনের পরে ইনিংস ভেঙে পড়ার আশঙ্কা কাটিয়ে তাঁরা দলকে এমন জায়গায় নিয়ে যান যেখান থেকে জয় পাওয়ার পথ স্পষ্ট হতে থাকে। তবে ভারতের লড়াই তখনও শেষ হয়নি। রাদারফোর্ডকে ফিরিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জুটি ভাঙেন কুলদীপ যাদব। ৮৪ রানের ইনিংস শেষ হওয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে আবার নতুন জুটি গড়তে হয়। বড় লক্ষ্য তাড়ায় এমন সময়ে একটি উইকেট ম্যাচের গতি বদলে দিতে পারে। তাই রাদারফোর্ডের বিদায়ের পরেও ক্যারিবিয়ান দলের সামনে কাজ বাকি ছিল। সেই দায়িত্ব সামলাতে ক্রিজে থেকে যান হোপ। তাঁকে সহায়তা করতে এসে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন রোমারিও শেফার্ড। মাত্র ১৩ বলে অপরাজিত ৩৪ রান করেন তিনি। তিনটি চার ও তিনটি ছক্কার সাহায্যে শেষ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় রান দ্রুত তুলে নিতে সাহায্য করেন শেফার্ড। তাঁর এই ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংস ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে শেষ মুহূর্তের চাপ এড়াতে সহায়তা করে।
হোপের সঙ্গে শেফার্ডের ব্যাটিংয়ের সমন্বয় জয়ের পথ আরও সহজ করে দেয়। রাদারফোর্ডের বিদায়ের পরে রানের গতি কমে গেলে ভারত আবার সুযোগ পেতে পারত। কিন্তু শেফার্ডের দ্রুত রান সেই সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। ফলে হোপও নিজের ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দলের জয় নিশ্চিত করার দিকে মন দিতে পারেন। শেষ দুই ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের প্রয়োজন ছিল ১০ রান। একই সময়ে শতরান পূর্ণ করতে হোপেরও দরকার ছিল ১০ রান। ব্যক্তিগত মাইলফলক এবং দলের জয়ের সমীকরণ তখন এক জায়গায় এসে দাঁড়ায়। অক্ষর পটেলের ওভারে দুটি ছক্কা মেরে দুটিই অর্জন করেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক। ৪৫ বলে অপরাজিত ১০২ রানের ইনিংস শেষ করেন হোপ। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ছয়টি চার এবং নয়টি ছক্কা। শুরুর বিপর্যয়ের মধ্যেও ক্রিজে থেকে যাওয়া, মাঝের পর্যায়ে কার্যকর জুটি গড়া এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জেতানো এই তিনটি দায়িত্বই পালন করেন তিনি। নয় বল হাতে রেখে লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের জয় আরও দাপুটে হয়ে ওঠে। ভারতের জন্য এই ম্যাচের বড় শিক্ষা হল, ব্যাটিংয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করলেও বোলিংয়ে সেই সুবিধা ধরে রাখা জরুরি। শুরুতে মায়াঙ্কের উইকেটগুলি ভারতকে সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু হোপ ও রাদারফোর্ডের জুটি দীর্ঘ হওয়ায় সেই সুযোগ কাজে লাগানো যায়নি। রাদারফোর্ডের বিদায়ের পরেও হোপ ও শেফার্ডকে দ্রুত থামাতে না পারায় ম্যাচ হাতছাড়া হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের সাফল্যের কেন্দ্রে ছিল প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও রান তাড়ার গতি ধরে রাখা। হোপের অপরাজিত শতরান রাদারফোর্ডের ৮৪ এবং শেফার্ডের দ্রুত ৩৪ রান একে অন্যের পরিপূরক হয়ে ওঠে। এই জয়ের মাধ্যমে ক্যারিবিয়ান দল সিরিজ়ে সমতা ফেরাল। একই সঙ্গে বাকি লড়াইয়ের আগে দেখিয়ে দিল, শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও তাদের ব্যাটিংকে শেষ পর্যন্ত সামলানো প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।