Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে পাকা কলা দিনের কোন সময়ে কলা খাওয়া সবচেয়ে উপকারী?

কোষ্ঠকাঠিন্য কমানো থেকে হৃদ্‌যন্ত্রের যত্ন—কলা খাওয়ার রয়েছে নানা উপকারিতা। কিন্তু দিনের কোন সময়ে এবং খালি পেটে কলা খাওয়া কতটা উপকারী? জানুন সঠিক নিয়ম।

কলা শুধু সুস্বাদু একটি ফল নয়, এটি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানেরও উৎস। এতে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬-সহ বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদান। সহজে পাওয়া যায়, সহজে খাওয়া যায় এবং দ্রুত শক্তি জোগাতে পারে—এই কারণেই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় কলার জায়গা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, কলা খাওয়ার সঠিক সময় কখন? সকালে খাওয়া ভাল, নাকি দুপুরে? শারীরচর্চার আগে বা পরে কলা খেলে কী উপকার? আবার রাতে বা ঘুমোনোর আগে কলা খাওয়া কি ঠিক?

পুষ্টিবিদদের মতে, কলা খাওয়ার জন্য সবার ক্ষেত্রে একই ‘সেরা সময়’ নির্ধারণ করা যায় না। একজন সুস্থ মানুষের জন্য দিনের বিভিন্ন সময়ে কলা খাওয়া যেতে পারে। তবে ব্যক্তির বয়স, দৈনন্দিন শারীরিক পরিশ্রম, খাবারের ধরন এবং ডায়াবিটিস বা কিডনির মতো কোনও স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

কলায় কী কী পুষ্টি রয়েছে?

কলা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি ফল। এতে থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। কলায় ফাইবারও রয়েছে, যা হজমশক্তি ও অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতায় সহায়ক হতে পারে। এছাড়াও কলায় পটাশিয়াম ও ভিটামিন বি৬-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।

আমেরিকার National Institutes of Health-এর তথ্য অনুযায়ী, একটি মাঝারি আকারের কলায় প্রায় ৪২২ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম এবং প্রায় ০.৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি৬ থাকতে পারে। পটাশিয়াম শরীরের তরল ও ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য, পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যকারিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে ভিটামিন বি৬ শরীরের বিভিন্ন বিপাকীয় প্রক্রিয়া এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতার সঙ্গে যুক্ত।

কলায় থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। তবে শুধু কলা খেলেই কোনও রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসা করা যায়—এমন দাবি করা ঠিক নয়। সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে প্রয়োজন বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাদ্যাভ্যাস।

হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য কলা কেন উপকারী হতে পারে?

কলা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয় এর পটাশিয়াম ও ফাইবারের কারণে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পর্যাপ্ত পটাশিয়াম গ্রহণ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ হৃদ্‌রোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ। তাই পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।

কলায় থাকা ফাইবারও গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যে পর্যাপ্ত ফাইবার থাকা সামগ্রিক হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে কলা একাই হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়—এমন সরাসরি দাবি করা উচিত নয়। হৃদ্‌যন্ত্র ভালো রাখতে প্রয়োজন নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, ধূমপান এড়ানো, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সামগ্রিকভাবে সুষম খাদ্য গ্রহণ।

সকালে জলখাবারে কলা খাওয়া যায়?

সকালের জলখাবারে কলা রাখা যেতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা দিনের শুরুতেই কিছুটা দ্রুত শক্তি পেতে চান, তাঁদের জন্য কলা একটি সহজ খাবার। এতে থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরকে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।

তবে শুধু একটি কলা খেয়ে দীর্ঘ সময় থাকা সবসময় যথেষ্ট নাও হতে পারে। কারণ একটি সুষম জলখাবারে কার্বোহাইড্রেটের পাশাপাশি প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকলে তা তুলনামূলকভাবে বেশি পরিতৃপ্তি দিতে পারে।

তাই সকালে কলা খেলে ওটস, দই, বাদাম, বীজ বা ডিমের মতো খাবারের সঙ্গে খাওয়া যেতে পারে। যেমন—ওটসের সঙ্গে কলা, দইয়ের সঙ্গে কলা বা বাদামের সঙ্গে কলা। এতে জলখাবারটি আরও পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে।

খালি পেটে কলা খাওয়া কি ঠিক?

খালি পেটে কলা খাওয়া নিয়ে নানা ধরনের প্রচলিত ধারণা রয়েছে। কিন্তু সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে খালি পেটে কলা খাওয়া সবার জন্য নিষিদ্ধ—এমন কোনও সাধারণ নিয়ম নেই।

তবে কারও যদি খালি পেটে কলা খেলে অস্বস্তি, গ্যাস, পেট ফাঁপা বা অন্য কোনও সমস্যা হয়, তাহলে খালি পেটে না খেয়ে অন্য খাবারের সঙ্গে খাওয়া যেতে পারে।

কলা পাকা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর কার্বোহাইড্রেটের ধরন ও মিষ্টতা পরিবর্তিত হয়। খুব বেশি পাকা কলায় প্রাকৃতিক শর্করার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি উপলব্ধ হতে পারে। তাই যাঁদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন, তাঁদের কলার পরিমাণ এবং পাকার মাত্রার দিকে নজর দেওয়া উচিত।

শারীরচর্চার আগে কলা খাওয়া কেন জনপ্রিয়?

ব্যায়াম বা শারীরচর্চার আগে কলা খাওয়ার অন্যতম কারণ হল এতে সহজে ব্যবহারযোগ্য কার্বোহাইড্রেট রয়েছে। শরীরচর্চার সময় শরীরের শক্তির প্রয়োজন হয় এবং কার্বোহাইড্রেট সেই শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

অনেকেই শারীরচর্চার প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট আগে একটি কলা খান। তবে সবার হজমক্ষমতা ও শারীরিক চাহিদা এক নয়। কারও ক্ষেত্রে ৩০ মিনিট আগে কলা খেলে ভালো লাগতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে আরও আগে খাওয়া সুবিধাজনক হতে পারে।

কলায় থাকা পটাশিয়াম পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যকারিতায় ভূমিকা রাখে। তবে শুধু কলা খেলেই ব্যায়ামের সময় পেশিতে টান হবে না—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। পর্যাপ্ত জল পান, ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য, ব্যায়ামের ধরন এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যায়ামের পরে কলা খাওয়া যায়?

শারীরচর্চার পরেও কলা খাওয়া যেতে পারে। ব্যায়ামের পরে শরীরের শক্তির চাহিদা থাকে এবং কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ শরীরের শক্তির মজুত পুনরুদ্ধারে সাহায্য করতে পারে।

তবে শুধু কলা খাওয়ার পরিবর্তে প্রোটিনের কোনও উৎসের সঙ্গে কলা খেলে পোস্ট-ওয়ার্কআউট খাবারটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে। যেমন দই ও কলা, দুধ ও কলা অথবা অন্য কোনও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে কলা খাওয়া যেতে পারে।

বিকেলের স্ন্যাকস হিসেবে কলা

বিকেলে কাজের ফাঁকে ক্ষুধা লাগলে ভাজাভুজি বা অতিরিক্ত মিষ্টি খাবারের পরিবর্তে একটি কলা সহজ স্ন্যাকস হতে পারে। এটি বহন করা সহজ এবং রান্নার প্রয়োজন হয় না।

অফিস, স্কুল, কলেজ বা বাইরে কাজের সময় কলা দ্রুত খাওয়া যায়। তবে ব্যক্তির মোট দৈনিক ক্যালোরি ও খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী পরিমাণ ঠিক করা উচিত।

কলা ও কিছু বাদাম, দই বা অন্য কোনও স্বাস্থ্যকর খাবার একসঙ্গে খেলে বিকেলের স্ন্যাকস আরও ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে।

রাতে বা ঘুমোনোর আগে কলা খাওয়া যায়?

রাতে কলা খাওয়া নিয়ে অনেকের মধ্যে দ্বিধা রয়েছে। সাধারণভাবে সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে রাতে কলা খাওয়া নিষিদ্ধ নয়। দিনের অন্য সময়ের মতো রাতেও কলা খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।

news image
আরও খবর

কলায় ভিটামিন বি৬ ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো পুষ্টি উপাদান রয়েছে। তবে কলা খেলেই ঘুম ভালো হবে—এমন নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়। ঘুমের মানের ক্ষেত্রে নিয়মিত ঘুমের সময়, ক্যাফেইন গ্রহণ, মানসিক চাপ, স্ক্রিন ব্যবহারের মতো আরও অনেক বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।

যাঁদের রাতে কলা খেলে পেট ভার, অম্বল বা অন্য কোনও অস্বস্তি হয়, তাঁদের ঘুমোনোর ঠিক আগে না খাওয়াই ভালো। ব্যক্তিগত সহনশীলতার ওপরও বিষয়টি নির্ভর করে।

ডায়াবিটিস থাকলে কলা খাওয়া যাবে?

ডায়াবিটিস থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে কলা খাদ্যতালিকায় রাখা যায়। তবে পরিমাণ ও পাকার মাত্রার দিকে নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

অতিরিক্ত পাকা কলায় প্রাকৃতিক শর্করা তুলনামূলকভাবে বেশি উপলব্ধ হতে পারে। তাই ডায়াবিটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা চিকিৎসক বা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত পরিমাণে কলা খেতে পারেন।

কলা একা না খেয়ে ফাইবার, প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর ফ্যাটযুক্ত খাবারের সঙ্গে খেলে খাবারের সামগ্রিক ভারসাম্য ভালো হতে পারে। তবে ডায়াবিটিসের ক্ষেত্রে ব্যক্তিভেদে খাদ্য পরিকল্পনা আলাদা হতে পারে।

কিডনির সমস্যা থাকলে কেন সতর্ক হতে হবে?

কলা পটাশিয়ামের একটি ভালো উৎস। সুস্থ কিডনি সাধারণত শরীরের অতিরিক্ত পটাশিয়াম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু গুরুতর কিডনি রোগে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরে পটাশিয়াম জমে যেতে পারে।

রক্তে অতিরিক্ত পটাশিয়াম বা হাইপারক্যালেমিয়া গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই কিডনির রোগীদের ক্ষেত্রে কলা বা অন্য পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার নিজের ইচ্ছায় বেশি পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়। চিকিৎসক বা রেজিস্টার্ড ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা ঠিক করা গুরুত্বপূর্ণ।

কলা খাওয়ার পরিমাণ কত হওয়া উচিত?

কলা কতটা খাওয়া উচিত, তার কোনও একক নিয়ম নেই। ব্যক্তির বয়স, দৈহিক পরিশ্রম, মোট খাদ্যগ্রহণ, স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এবং দৈনিক পুষ্টির প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।

একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের খাদ্যতালিকায় একটি কলা সাধারণত সহজেই জায়গা করে নিতে পারে। তবে একই সঙ্গে দিনের অন্যান্য ফল ও সবজিও খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।

শুধু কলা খেয়ে প্রয়োজনীয় সব ভিটামিন, মিনারেল বা অন্যান্য পুষ্টি পাওয়া সম্ভব নয়। তাই বিভিন্ন রঙের ফল, শাকসবজি, ডাল, শস্য, ডিম, মাছ, মাংস বা অন্যান্য উপযুক্ত প্রোটিনের উৎস মিলিয়ে সুষম খাদ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন।

পাকা কলা না একটু শক্ত কলা?

কলা যত পাকে, তার গঠন ও মিষ্টতা পরিবর্তিত হয়। খুব পাকা কলা তুলনামূলকভাবে বেশি মিষ্টি লাগে এবং সহজে খাওয়া যায়। অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত কম পাকা কলায় রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চের পরিমাণ বেশি থাকতে পারে।

তবে কোন ধরনের কলা কার জন্য উপযুক্ত, তা ব্যক্তির স্বাস্থ্য ও খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভর করে। বিশেষ করে ডায়াবিটিস বা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন থাকলে চিকিৎসক বা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ অনুযায়ী ফলের পরিমাণ ও ধরন নির্বাচন করা ভালো।

কলা নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা

কলা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অনেক ধরনের দাবি দেখা যায়। যেমন—রাতে কলা খেলেই সর্দি হয়, খালি পেটে কলা খেললেই ক্ষতি হয়, অথবা কলা খেললেই ওজন বেড়ে যায়। এসব দাবি সব মানুষের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়।

কলা একটি পুষ্টিকর ফল হলেও এতে ক্যালোরি ও কার্বোহাইড্রেট রয়েছে। তাই অতিরিক্ত খেলে মোট দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে। আবার সঠিক পরিমাণে এবং সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে খেলে কলা স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়।

তাহলে কলা খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় কখন?

সুস্থ মানুষের জন্য কলা খাওয়ার একটি নির্দিষ্ট ‘সেরা সময়’ নেই। সকালের জলখাবার, ব্যায়ামের আগে বা পরে, অথবা বিকেলের স্ন্যাকস—সব সময়েই প্রয়োজন অনুযায়ী কলা খাওয়া যেতে পারে।

সকালে খেলে ওটস, দই, ডিম বা বাদামের সঙ্গে খাওয়া যেতে পারে। ব্যায়ামের আগে দ্রুত শক্তির জন্য কলা উপকারী হতে পারে। ব্যায়ামের পরে এটি কার্বোহাইড্রেটের উৎস হিসেবে কাজে লাগতে পারে। বিকেলে এটি সহজ ও স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস হতে পারে।

রাতে খাওয়ার ক্ষেত্রেও সুস্থ মানুষের জন্য সাধারণ নিষেধ নেই। তবে অম্বল, হজমের সমস্যা বা ব্যক্তিগত অস্বস্তি থাকলে ঘুমের ঠিক আগে কলা না খাওয়াই ভালো।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—কলা কখন খাচ্ছেন তার পাশাপাশি সারাদিনে কী খাচ্ছেন, কতটা খাচ্ছেন এবং আপনার শরীরের প্রয়োজন কী, সেটিও বিবেচনা করা।

শেষ কথা

কলা পুষ্টিকর, সহজলভ্য এবং দ্রুত শক্তি জোগাতে পারে এমন একটি ফল। এতে পটাশিয়াম, ফাইবার, ভিটামিন বি৬ এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে। সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে কলা হৃদ্‌স্বাস্থ্য, পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যকারিতা এবং সামগ্রিক পুষ্টির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে কলাকে কোনও রোগের চিকিৎসা বা নিশ্চিত প্রতিরোধের উপায় হিসেবে দেখা উচিত নয়। ডায়াবিটিস, গুরুতর কিডনি রোগ বা অন্য কোনও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে ব্যক্তিগত খাদ্যতালিকা চিকিৎসক বা রেজিস্টার্ড ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা উচিত।

অর্থাৎ, কলা খাওয়ার ‘সঠিক সময়’ আসলে আপনার প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে। সকালে জলখাবারে, ব্যায়ামের আগে বা পরে কিংবা বিকেলের স্ন্যাকস হিসেবে কলা খাওয়া যেতে পারে। রাতে খাওয়াও সুস্থ মানুষের জন্য সাধারণত নিষিদ্ধ নয়। নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া, দৈনিক খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন বুঝে পরিমাণ ঠিক করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Preview image