শনিবার আল নাসেরের হয়ে গোল করে কেরিয়ারের মোট গোলসংখ্যা ৯৮০-এ পৌঁছে গিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্দো। নিজেকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার বলে দাবি করে ফের আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দিলেন পর্তুগিজ মহাতারকা।
নিজের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে কোনও রাখঢাক রাখলেন না ক্রিস্তিয়ানো রোনাল্দো। পর্তুগালের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, তিনিই সর্বকালের সেরা ফুটবলার। শনিবার আল নাসেরের হয়ে গোল করে কেরিয়ারে তাঁর মোট গোলসংখ্যা পৌঁছেছে ৯৮০-এ। এবার ফুটবলবিশ্বের নজর তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য—১০০০ গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলকের দিকে।
ফুটবলের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা কে, এই প্রশ্ন নিয়ে সমর্থক, বিশেষজ্ঞ ও প্রাক্তন ফুটবলারদের মধ্যে বিতর্কের শেষ নেই। কারও চোখে লিয়োনেল মেসি, কারও মতে পেলে বা দিয়েগো মারাদোনা। আবার অনেকের কাছেই ক্রিস্তিয়ানো রোনাল্দোই সর্বকালের সেরা। কিন্তু এই বিতর্কে নিজের অবস্থান জানাতে কখনও দ্বিধা করেননি পর্তুগিজ মহাতারকা। এবারও ব্যতিক্রম হল না। নিজের কৃতিত্ব ও পরিসংখ্যানের উপর ভরসা রেখেই সোজাসাপটা জানিয়ে দিলেন, সর্বকালের সেরা ফুটবলার তিনি নিজেই।
পর্তুগালের সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোনাল্দোর বক্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে ফুটবলমহলে। নিজের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি যে আত্মবিশ্বাসী উত্তর দেবেন, তা অনেকের কাছেই প্রত্যাশিত। কিন্তু তাঁর মন্তব্যের তাৎপর্য শুধু আত্মবিশ্বাসে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘ কেরিয়ারে ধারাবাহিক সাফল্য, গোল করার ক্ষমতা এবং নিজেকে বারবার নতুন করে প্রমাণ করার ইতিহাসকেই নিজের দাবির ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।
রোনাল্দোর কথায়, “আমিই সর্বকালের সেরা। আমার পরিসংখ্যানই আমার হয়ে কথা বলে।” এই বক্তব্যে স্পষ্ট, নিজের কেরিয়ারের অর্জনকে তিনি শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম মাপকাঠি বলে মনে করেন। দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলে খেলা, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় গোল করা এবং বয়স বাড়ার পরেও পারফরম্যান্স ধরে রাখার বিষয়গুলি তাঁর আত্মবিশ্বাসের বড় কারণ।
অবশ্য সর্বকালের সেরা ফুটবলার নির্ধারণের কোনও একক মাপকাঠি নেই। কারও কাছে ব্যক্তিগত গোলসংখ্যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কেউ বিচার করেন দলের হয়ে জেতা ট্রফি দিয়ে, আবার কেউ ফুটবল খেলার ধরন, নেতৃত্ব, প্রতিপক্ষের উপর প্রভাব কিংবা বড় ম্যাচে পারফরম্যান্সকে বেশি গুরুত্ব দেন। সেই কারণেই রোনাল্দোর এই দাবি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
শনিবার আল নাসেরের হয়ে গোল করার পর রোনাল্দোর কেরিয়ারের মোট গোলসংখ্যা পৌঁছেছে ৯৮০-এ—এমনটাই দাবি করা হয়েছে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে। সেই হিসাব অনুযায়ী, ১০০০ গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলক ছুঁতে তাঁর প্রয়োজন আরও ২০টি গোল। ফলে তাঁর পরবর্তী ম্যাচগুলির দিকে বিশেষ নজর থাকবে সমর্থকদের।
তবে গোলের এই হিসাব করতে গেলে একটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। বিভিন্ন পরিসংখ্যানভিত্তিক সংস্থা কখনও কখনও কেরিয়ারের গোল গণনার ক্ষেত্রে আলাদা পদ্ধতি অনুসরণ করে। ক্লাব, জাতীয় দল, প্রীতি ম্যাচ এবং অন্যান্য স্বীকৃত প্রতিযোগিতার গোল কীভাবে গণনা করা হচ্ছে, তার উপর মোট সংখ্যা বদলাতে পারে। তাই ৯৮০ গোলের পরিসংখ্যানটি প্রকাশের আগে নির্ভরযোগ্য উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
তা সত্ত্বেও ১০০০ গোলের সম্ভাবনা ফুটবলবিশ্বে যে বড় আলোচনার বিষয়, তা বলাই যায়। আধুনিক ফুটবলে দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলে এত বিপুল গোলসংখ্যার কাছে পৌঁছনো অত্যন্ত কঠিন। এর জন্য শুধু গোল করার সহজাত দক্ষতা থাকলেই হয় না; প্রয়োজন ধারাবাহিকতা, শারীরিক সক্ষমতা, নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ এবং দীর্ঘদিন চোটমুক্ত থাকার সৌভাগ্যও।
রোনাল্দোর কেরিয়ার দেখলে বোঝা যায়, গোল করার ক্ষুধা তাঁর খেলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কেরিয়ারের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি নিজের ভূমিকা ও খেলার ধরন বদলেছেন। কখনও উইং থেকে গতি ও ড্রিবলিংয়ের সাহায্যে আক্রমণ তৈরি করেছেন, কখনও বক্সের মধ্যে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেছেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজের শক্তি ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে গোল করার নতুন উপায় খুঁজে নেওয়াও তাঁর দীর্ঘ কেরিয়ারের উল্লেখযোগ্য দিক।
১০০০ গোলের মাইলফলক নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে যতই উত্তেজনা থাকুক, রোনাল্দো নিজে আপাতত ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত ভাবতে রাজি নন। তাঁর বক্তব্যে যেমন আত্মবিশ্বাস রয়েছে, তেমনই রয়েছে বর্তমানকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা।
রোনাল্দোর কথায়, “লোকে আমার ফিটনেস লেভেল বা গোলসংখ্যাকে মূল্য দেয় না। আমি যদি ১০০০ গোলে পৌঁছতে পারি, তা হলে তা অবিশ্বাস্য। কিন্তু আমি বেশি দূর পর্যন্ত ভাবছি না। আমি জানি না আগামিকাল কী হবে। হয়তো ঘুম থেকে উঠে মনে হলো, আর ভালো লাগছে না, খেলব না।”
এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাস্তববাদী মনোভাবের কথাই তুলে ধরেছেন তিনি। হাজার গোলের মাইলফলক অবশ্যই আকর্ষণীয়, কিন্তু সেটিকে কেরিয়ারের একমাত্র লক্ষ্য করে ফেলতে চান না পর্তুগিজ তারকা। বরং প্রতিদিনের প্রস্তুতি, নিজের শারীরিক অবস্থা এবং খেলার প্রতি আগ্রহকে গুরুত্ব দিতে চান বলেই তাঁর কথায় ইঙ্গিত মিলেছে।
একজন পেশাদার ফুটবলারের কেরিয়ার শুধু পরিসংখ্যানের উপর নির্ভর করে না। প্রতিদিন অনুশীলন করা, শরীরকে ম্যাচের জন্য প্রস্তুত রাখা, দলের কৌশলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং প্রতিযোগিতার চাপ সামলানো—সবই গুরুত্বপূর্ণ। রোনাল্দোর মতো দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ফুটবলারের ক্ষেত্রেও এই বিষয়গুলির গুরুত্ব কম নয়।
রোনাল্দোকে নিয়ে আলোচনার অন্যতম বড় বিষয় তাঁর শারীরিক সক্ষমতা। কেরিয়ারের দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ফিটনেস, অনুশীলন এবং শরীরের যত্নের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন বলে পরিচিত। তাঁর খেলার ধরনেও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন এসেছে। তরুণ বয়সে গতি, উইং দিয়ে দৌড় এবং একের পর এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ওঠা ছিল তাঁর খেলার আকর্ষণীয় দিক। পরবর্তী সময়ে পজিশনিং, বক্সের মধ্যে সঠিক জায়গায় পৌঁছনো এবং সুযোগকে গোলে পরিণত করার দক্ষতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোনও ফুটবলারের পক্ষে আগের মতো একই মাত্রার গতি ও শারীরিক তীব্রতা ধরে রাখা সহজ নয়। সেই পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞতা, ম্যাচ পড়ার ক্ষমতা এবং শক্তির সঠিক ব্যবহার বড় ভূমিকা নেয়। রোনাল্দোর কেরিয়ারও দেখিয়েছে, খেলোয়াড়দের দীর্ঘদিন শীর্ষ পর্যায়ে থাকতে হলে নিজেদের ভূমিকা বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে।
তবে তাঁর বর্তমান ফিটনেস সম্পর্কে নির্দিষ্ট দাবি করতে হলে সাম্প্রতিক প্রশিক্ষণ-তথ্য, শারীরিক পরীক্ষার ফল বা সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন প্রয়োজন। শুধু বাহ্যিক চেহারা কিংবা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য দিয়ে কোনও খেলোয়াড়ের সম্পূর্ণ শারীরিক অবস্থা বিচার করা যায় না।
রোনাল্দোর বক্তব্যে ফিটনেস ও গোলসংখ্যার প্রসঙ্গ উঠে আসায় সেই আলোচনাও আবার সামনে এসেছে। দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি যে ধারাবাহিকভাবে গোল করে চলেছেন, সেটাই তাঁর অন্যতম বড় কৃতিত্ব। তবে তাঁর নিজের কথাতেও স্পষ্ট, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত কোনও প্রতিশ্রুতি দিতে চান না।
আল নাসেরে যোগ দেওয়ার পর থেকেই সৌদি আরবের ফুটবলকে আন্তর্জাতিক আলোচনায় আরও বেশি করে নিয়ে এসেছেন রোনাল্দো। তাঁর উপস্থিতি ক্লাবটির ম্যাচের প্রতি সমর্থকদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে দলের হয়ে গোল করা এবং প্রতিযোগিতায় প্রভাব বিস্তার করার প্রত্যাশাও তাঁর উপর রয়েছে।
রোনাল্দোর মতো তারকার ক্ষেত্রে প্রতিটি গোলই আলাদা করে নজর কাড়ে। কারণ তাঁর কেরিয়ারের পরিসংখ্যান ইতিমধ্যেই তাঁকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম আলোচিত খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে। ৯৮০ গোলের হিসাব সঠিক হলে, পরবর্তী ২০টি গোল তাঁকে এমন একটি মাইলফলকের সামনে দাঁড় করাবে, যা ফুটবলের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।
তবে এই লক্ষ্য পূরণের পথে প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিপক্ষের শক্তি, দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স, খেলার সময়, চোট এবং বিশ্রামের মতো একাধিক বিষয় গোলের গতিকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে কবে তিনি ১০০০ গোলে পৌঁছবেন, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
সমর্থকদের প্রত্যাশা থাকলেও রোনাল্দোর নিজের বক্তব্যে তাড়াহুড়োর কোনও ইঙ্গিত নেই। তিনি জানেন, মাইলফলকের দিকে এগোনোর জন্য প্রতিটি ম্যাচে ভালো পারফরম্যান্স করা জরুরি। সেই কারণেই হয়তো হাজার গোলের সম্ভাবনাকে অবিশ্বাস্য বলে উল্লেখ করলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি দূর পর্যন্ত ভাবতে চাননি।
ফুটবলবিশ্বে লিয়োনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনাল্দোর তুলনা দীর্ঘদিনের। দুই ফুটবলারের সমর্থকদের মধ্যে কে সেরা, তা নিয়ে বিতর্ক চলতেই থাকে। তাঁদের খেলার ধরন, অর্জন, ব্যক্তিগত পুরস্কার এবং দলের হয়ে সাফল্যের মধ্যে যেমন পার্থক্য রয়েছে, তেমনই রয়েছে অসাধারণ কৃতিত্বের নানা দিক।
মেসির সমর্থকেরা সাধারণত তাঁর অসামান্য বল নিয়ন্ত্রণ, পাস দেওয়ার দক্ষতা, আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষমতা এবং ব্যক্তিগত ও দলগত সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। অন্যদিকে রোনাল্দোর সমর্থকেরা তাঁর গোল করার ক্ষমতা, বিভিন্ন লিগে পারফরম্যান্স, শারীরিক সক্ষমতা, আকাশে লাফিয়ে হেড করার দক্ষতা এবং দীর্ঘদিন ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার ধারাবাহিকতাকে গুরুত্ব দেন।
এই দুই তারকার তুলনা করতে গিয়ে শুধু গোলসংখ্যার উপর নির্ভর করলে ছবির সব দিক ধরা পড়ে না। ফুটবলে একজন খেলোয়াড়ের প্রভাব নির্ধারণ করতে গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্ট, সুযোগ তৈরি, দলের কৌশলে ভূমিকা, প্রতিযোগিতার মান এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পারফরম্যান্সও বিবেচনা করা যায়।
রোনাল্দোর ‘আমিই সর্বকালের সেরা’ মন্তব্য তাই তাঁর ব্যক্তিগত আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ হলেও, এটি ফুটবলবিশ্বে চলা বৃহত্তর বিতর্কেরও অংশ। কোনও একক বক্তব্য দিয়ে এই বিতর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বরং সমর্থকেরা নিজেদের যুক্তি ও পছন্দের ভিত্তিতে দুই তারকার কৃতিত্ব বিচার করতে থাকবেন।
রোনাল্দোর বক্তব্যের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল, তিনি নিজের কৃতিত্বের কথা বলতে গিয়ে কোনও দ্বিধা প্রকাশ করেননি। সর্বকালের সেরা হওয়ার দাবি নিঃসন্দেহে বড় দাবি। কিন্তু তাঁর দীর্ঘ কেরিয়ার, গোলের রেকর্ড এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে পরিচিতি তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত খেলোয়াড়দের মধ্যে রেখেছে।
একজন খেলোয়াড় নিজের সম্পর্কে কতটা আত্মবিশ্বাসী, তা তাঁর বক্তব্যে প্রকাশ পেতেই পারে। তবে মাঠের পারফরম্যান্স এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অর্জনই শেষ পর্যন্ত তাঁর মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। রোনাল্দোর ক্ষেত্রেও বিষয়টি আলাদা নয়। তাঁর দাবি সমর্থন করবেন কি না, তা প্রত্যেক সমর্থকের নিজস্ব বিচার।
এদিকে ১০০০ গোলের সম্ভাবনা ঘিরে আগ্রহ ক্রমশ বাড়তে পারে। ৯৮০ গোলের হিসাব অনুযায়ী, আর ২০টি গোল তাঁকে সেই ঐতিহাসিক সীমার কাছে পৌঁছে দেবে। কিন্তু রোনাল্দোর নিজের বক্তব্য মনে করিয়ে দেয়, দীর্ঘ কেরিয়ারে পরবর্তী দিন কী নিয়ে আসবে, তা আগে থেকে নিশ্চিত করে বলা যায় না।
ক্রিস্তিয়ানো রোনাল্দোর কেরিয়ারের পরবর্তী অধ্যায় যে এখনও আলোচনার কেন্দ্রে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। নিজের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে তাঁর আত্মবিশ্বাস, আল নাসেরের হয়ে গোল করে যাওয়ার ধারাবাহিকতা এবং ১০০০ গোলের সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে তাঁকে ঘিরে আগ্রহ আরও বাড়ছে।
তবে আপাতত তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল মাঠে থাকা এবং নিজের খেলায় মন দেওয়া। হাজার গোলের মাইলফলক ছুঁতে পারলে তা নিঃসন্দেহে তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হবে। আর সেই লক্ষ্যে পৌঁছনোর আগে প্রতিটি গোলই হয়ে উঠবে গুরুত্বপূর্ণ।
শেষ পর্যন্ত রোনাল্দো সর্বকালের সেরা কি না, সেই বিতর্ক হয়তো চলতেই থাকবে। কিন্তু নিজের কৃতিত্ব নিয়ে তাঁর দৃঢ় অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে বাস্তববাদী মন্তব্য—দুটিই তাঁর ব্যক্তিত্বের পরিচিত দিককে সামনে এনেছে। এখন দেখার, আল নাসেরের হয়ে আগামী ম্যাচগুলিতে তিনি কত দ্রুত ১০০০ গোলের মাইলফলকের আরও কাছে পৌঁছতে পারেন।