নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ়ে ৩-১ এগিয়ে থাকা ভারত শেষ টি-টোয়েন্টিতে জিতে বিশ্বকাপের আগে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে চায় সূর্যকুমারদের দল।
নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ের শেষ ম্যাচ শনিবার। ইতিমধ্যেই সিরিজ়ে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ভারত। ফলে ম্যাচের ফলাফলের দিক থেকে এই ম্যাচ খুব একটা চাপের নয়। কিন্তু গুরুত্ব অন্য জায়গায়—এই ম্যাচটাই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ভারতের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ফলে টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে এটি হয়ে উঠেছে চূড়ান্ত প্রস্তুতির মঞ্চ। কে কোথায় দাঁড়িয়ে, কোন কম্বিনেশন কার্যকর, কার ফর্ম নিয়ে চিন্তা বাড়ছে—সব কিছুর উত্তর খোঁজার শেষ সুযোগ শনিবারের ম্যাচ।
এই ম্যাচটি হচ্ছে সঞ্জু স্যামসনের ঘরের মাঠ তিরুবনন্তপুরমে। স্বাভাবিক ভাবেই স্থানীয় দর্শকদের চোখ থাকবে তাঁদের ঘরের ছেলে সঞ্জুর দিকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে সিরিজ়ের আগের ম্যাচগুলিতে প্রত্যাশামতো পারফরম্যান্স করতে পারেননি তিনি। আগের ম্যাচেও ভাল শুরু করেও মাত্র ২৪ রানে আউট হয়ে যান। ওপেনিংয়ে নেমে ধারাবাহিকতা না থাকায় ভারতের ওপেনিং জুটি নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্নচিহ্ন। তবু ভারতীয় শিবির স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ঘরের মাঠে সঞ্জুকে বসানোর কোনও পরিকল্পনা নেই।
বিশ্বকাপের আগে শেষ পরীক্ষা
ভারতের জন্য এই ম্যাচটির গুরুত্ব আলাদা। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হতে চলেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তার আগে আর কোনও আন্তর্জাতিক ম্যাচ নেই। ফলে এই ম্যাচে প্রতিটি সিদ্ধান্ত—দল নির্বাচন থেকে ব্যাটিং অর্ডার—সবই বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অঙ্গ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সিরিজ় ইতিমধ্যেই জেতা হয়ে যাওয়ায় ভারতীয় শিবির চাপমুক্ত পরিবেশে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারবে। কোচ গৌতম গম্ভীরের হাতেও থাকবে একাধিক বিকল্প।
শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলনে দলের ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সঞ্জুকে ঘিরে যে জল্পনা চলছে, তার মধ্যে কোনও বাস্তবতা নেই। তিনি বলেছেন,
“সঞ্জু সঞ্জুই। সকলে যেমন আশা করে, তেমন হয়তো খেলতে পারেনি। তবে এটা খেলারই অঙ্গ। আপনি কখনও পাঁচ ইনিংসে প্রচুর করবেন, কখনও ব্যর্থ হবেন। মানসিকভাবে শক্ত থাকার ব্যাপারটা সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ের উপর নির্ভর করে। সঞ্জুকে মানসিক ভাবে চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করছি আমরা। সেটাই আমাদের কাজ। প্রতি দিন কঠোর অনুশীলন করছে সঞ্জু। আমরা জানি ও কী করতে পারে।”
এই বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার, ফর্ম নিয়ে চিন্তা থাকলেও সঞ্জুর উপর ভরসা রাখতে চাইছে টিম ম্যানেজমেন্ট। বিশ্বকাপের আগে আত্মবিশ্বাস হারানো কোনও ক্রিকেটারকে আরও চাপে ফেলতে রাজি নয় ভারতীয় শিবির।
সঞ্জু স্যামসন: প্রতিভা বনাম ধারাবাহিকতা
সঞ্জু স্যামসন ভারতীয় ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরেই এক চেনা নাম। আইপিএলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, আক্রমণাত্মক ব্যাটিং স্টাইল এবং দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা তাঁকে বিশেষ জায়গায় এনে দিয়েছে। কিন্তু জাতীয় দলে নিয়মিত সুযোগ পেয়েও সেই ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি, যা তাঁকে বিশ্বকাপ দলে নিশ্চিত জায়গা দিতে পারে।
এই সিরিজ়েও চিত্রটা আলাদা নয়। কয়েকটি ম্যাচে তিনি ভাল শুরু করেছিলেন, কিন্তু সেটাকে বড় ইনিংসে রূপ দিতে পারেননি। ওপেনিংয়ে নেমে পাওয়ারপ্লে কাজে লাগানোর সুযোগ থাকলেও সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে ওপেনিং জুটি নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্নচিহ্ন।
তবু কোচিং স্টাফ মনে করছে, সঞ্জুর মতো প্রতিভাবান ক্রিকেটারকে ঘরের মাঠে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। তিরুবনন্তপুরমের উইকেট তাঁর পরিচিত। দর্শকদের সমর্থনও থাকবে তাঁর পাশে। বিশ্বকাপের আগে এই ম্যাচে বড় ইনিংস খেলতে পারলে তা সঞ্জুর আত্মবিশ্বাস যেমন বাড়াবে, তেমনই দলের টপ অর্ডার নিয়ে তৈরি হওয়া সংশয় অনেকটাই দূর হবে।
ওপেনিং জুটি নিয়ে প্রশ্ন
এই সিরিজ়ে ভারতের ওপেনিং জুটি প্রত্যাশামতো শুরু দিতে পারেনি। পাওয়ারপ্লেতে দ্রুত রান তুলতে না পারায় মাঝের ওভারগুলোতে চাপ বেড়েছে ব্যাটিং লাইনের উপর। যদিও সূর্যকুমার যাদব, হার্দিক পাণ্ড্য কিংবা রিঙ্কু সিংয়ের মতো ব্যাটাররা বহু ম্যাচে পরিস্থিতি সামলে দিয়েছেন, কিন্তু বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে শুধুমাত্র মিডল অর্ডারের উপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ।
এই ম্যাচে ওপেনিং জুটি হিসেবে ফের দেখা যেতে পারে সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মাকে। অভিষেক ইতিমধ্যেই নিজের আক্রমণাত্মক স্টাইল দিয়ে নজর কেড়েছেন। পাওয়ারপ্লেতে বড় শট খেলতে তাঁর কোনও দ্বিধা নেই। সঞ্জুর সঙ্গে তাঁর জুটি কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার।
ঈশান কিশনের প্রত্যাবর্তন
খবরে জানা যাচ্ছে, এই ম্যাচে তিন নম্বরে ফিরতে পারেন ঈশান কিশন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি জাতীয় দলে জায়গা ধরে রেখেছেন। উইকেটরক্ষক হিসেবে তাঁর দক্ষতা এবং বাঁহাতি ব্যাটার হিসেবে ম্যাচের গতি বদলে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। তবে সাম্প্রতিক ম্যাচগুলিতে তাঁর জায়গা কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল।
এই ম্যাচে তিন নম্বরে ঈশানের প্রত্যাবর্তন টিম কম্বিনেশনকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। সঞ্জু ও অভিষেকের পর ঈশান নামলে টপ অর্ডারে থাকবে তিনজন আক্রমণাত্মক ব্যাটার, যা পাওয়ারপ্লে ও তার পরের ওভারগুলোতে দলের রান রেট বাড়াতে সাহায্য করবে।
অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের ভূমিকা
এই সিরিজ়ে অধিনায়ক হিসেবে নজর কেড়েছেন সূর্যকুমার যাদব। মাঠে তাঁর নেতৃত্ব, ফিল্ড সেটিং, বোলারদের ব্যবহারে পরিপক্বতা স্পষ্ট। ব্যাট হাতেও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন তিনি। তবে এই ম্যাচে তাঁকে দেখা যেতে পারে চার নম্বরে ব্যাট করতে। তিন নম্বরে ঈশান ফিরলে স্বাভাবিক ভাবেই সূর্যকুমার নামবেন এক ধাপ নীচে।
চার নম্বরে সূর্যকুমারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টপ অর্ডার দ্রুত আউট হয়ে গেলে ইনিংস গুছিয়ে তোলা কিংবা ভালো শুরু পেলে সেটাকে আরও দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব তাঁর কাঁধেই থাকবে। বিশ্বকাপের আগে এই পজিশনে তাঁর কার্যকারিতা যাচাই করাও এই ম্যাচের অন্যতম উদ্দেশ্য।
হার্দিক পাণ্ড্য ও মিডল অর্ডারের ভারসাম্য
পাঁচ নম্বরে দেখা যেতে পারে হার্দিক পাণ্ড্যকে। অলরাউন্ডার হিসেবে তাঁর ভূমিকা দলের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাট হাতে দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি বোলিংয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ওভার দেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা দেয়।
এই সিরিজ়ে হার্দিক বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের হাল ধরেছেন। বিশ্বকাপের আগে তাঁকে কোন ব্যাটিং পজিশনে সবচেয়ে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, তা নির্ধারণ করাও টিম ম্যানেজমেন্টের অন্যতম লক্ষ্য। পাঁচ নম্বরে ব্যাট করলে তাঁকে ইনিংসের শেষভাগে ফিনিশারের ভূমিকা পালন করতে দেখা যাবে।
শিবম দুবে ও রিঙ্কু সিং: ফিনিশারদের লড়াই
ছয় নম্বরে থাকবেন শিবম দুবে এবং সাত নম্বরে ফিনিশারের ভূমিকায় দেখা যেতে পারে রিঙ্কু সিংকে। এই দুই ব্যাটারই সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলে নিজেদের আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন।
শিবম দুবে বড় শট খেলার জন্য পরিচিত। স্পিন বোলিংয়ের বিরুদ্ধে তাঁর শক্তিশালী ব্যাটিং দলের জন্য বাড়তি সুবিধা এনে দেয়। অন্যদিকে রিঙ্কু সিং গত কয়েক বছরে ভারতের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ফিনিশার হিসেবে উঠে এসেছেন। চাপের মুহূর্তে ম্যাচ বের করে আনার ক্ষমতা তাঁকে বিশেষ করে তুলেছে।
বিশ্বকাপের আগে এই দুই ব্যাটারকে কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা ঠিক করার ক্ষেত্রেও এই ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
অক্ষর পটেলের প্রত্যাবর্তন
ব্যাটিং অর্ডারের আট নম্বরে ফিরতে পারেন সহ-অধিনায়ক অক্ষর পটেল। অলরাউন্ডার হিসেবে তাঁর অবদান দলের ভারসাম্য আরও মজবুত করে। বাঁহাতি স্পিন বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাট হাতে তিনি প্রয়োজনীয় রান তুলতে পারেন। বিশেষ করে লোয়ার অর্ডারে নেমে গুরুত্বপূর্ণ ক্যামিও ইনিংস খেলার ক্ষমতা রয়েছে তাঁর।
বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে অক্ষরের মতো অলরাউন্ডারের গুরুত্ব অপরিসীম। এই ম্যাচে তাঁকে আরও বেশি সময় মাঠে দেখে তাঁর প্রস্তুতির স্তর যাচাই করতে চাইবে টিম ম্যানেজমেন্ট।
বোলিং বিভাগে সম্ভাব্য পরিবর্তন
খবরে জানা যাচ্ছে, এই ম্যাচে জসপ্রীত বুমরাহকে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে। সিরিজ় ইতিমধ্যেই জেতা হয়ে যাওয়ায় তাঁকে ঝুঁকি না নিয়ে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্বাভাবিক বলেই মনে করছে ক্রিকেট মহল। তাঁর জায়গায় খেলতে পারেন হর্ষিত রানা। ন’নম্বরে তাঁকেই দেখা যেতে পারে।
হর্ষিত রানা গত কিছু ম্যাচে নিজের গতি ও আগ্রাসী বোলিং দিয়ে নজর কেড়েছেন। তরুণ এই পেসারের জন্য এটি হতে পারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ।
১০ নম্বরে বরুণ চক্রবর্তী এবং ১১ নম্বরে কুলদীপ যাদব থাকবেন বলেই আশা করা হচ্ছে। এই দুই স্পিনারই ভারতের বোলিং আক্রমণে বৈচিত্র্য এনে দেন। বরুণের রহস্যময় স্পিন ও কুলদীপের উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা মিডল ওভারগুলোতে প্রতিপক্ষের রান রেট নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
এই ম্যাচে ভারতের সম্ভাব্য একাদশ হতে পারে:
সঞ্জু স্যামসন
অভিষেক শর্মা
ঈশান কিশন
সূর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক)
হার্দিক পাণ্ড্য
শিবম দুবে
রিঙ্কু সিং
অক্ষর পটেল
হর্ষিত রানা
বরুণ চক্রবর্তী
কুলদীপ যাদব
এই একাদশে ব্যাটিং গভীরতা যেমন রয়েছে, তেমনই বোলিং আক্রমণেও রয়েছে বৈচিত্র্য ও ভারসাম্য।
নিউ জ়িল্যান্ডের দৃষ্টিভঙ্গি
নিউ জ়িল্যান্ডের কাছে এই ম্যাচ সম্মান বাঁচানোর লড়াই। সিরিজ়ে ৩-১ পিছিয়ে থাকলেও শেষ ম্যাচ জিতে তারা আত্মসম্মান রক্ষা করতে চাইবে। পাশাপাশি তাদেরও সামনে রয়েছে আন্তর্জাতিক সূচির ব্যস্ততা। ফলে এই ম্যাচে তারাও নিজেদের বেঞ্চ শক্তি পরীক্ষা করতে পারে।
নিউ জ়িল্যান্ড দল বরাবরই লড়াকু মানসিকতার জন্য পরিচিত। সিরিজ় হারলেও শেষ ম্যাচে জয়ের জন্য তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। বিশেষ করে ভারতের তরুণ বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে নিজেদের ব্যাটিং শক্তি পরীক্ষা করতে চাইবে তারা।
তিরুবনন্তপুরমের উইকেট ও পরিবেশ
তিরুবনন্তপুরমের উইকেট সাধারণত ব্যাটিং-বান্ধব হিসেবে পরিচিত। শুরুতে পেসাররা কিছুটা সাহায্য পেতে পারেন, কিন্তু ম্যাচ যত এগোয়, ততই ব্যাটসম্যানদের জন্য রান তোলা সহজ হয়ে ওঠে। স্পিনাররাও মাঝের ওভারগুলোতে ভূমিকা রাখতে পারেন।
এই মাঠে সঞ্জু স্যামসনের ঘরোয়া ক্রিকেটের বহু স্মরণীয় ইনিংস রয়েছে। ফলে স্থানীয় দর্শকদের প্রত্যাশা থাকবে, তিনি এই ম্যাচে বড় ইনিংস খেলবেন। দর্শকদের সমর্থন তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
গৌতম গম্ভীরের কোচিং দর্শন
এই সিরিজ় থেকেই স্পষ্ট, নতুন কোচ গৌতম গম্ভীর দলের মধ্যে এক নতুন মানসিকতা তৈরি করতে চাইছেন। তিনি তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি সিনিয়রদের উপর আস্থা রাখার ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইছেন। চাপমুক্ত পরিবেশে ক্রিকেটারদের নিজেদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে উৎসাহ দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য।
এই ম্যাচেও সেই দর্শনের প্রতিফলন দেখা যেতে পারে। সিরিজ় ইতিমধ্যেই জেতা হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি না নিয়ে নতুন কম্বিনেশন পরীক্ষা করার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সঞ্জুর মতো ক্রিকেটারদের উপর আস্থা রেখে তাঁদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার চেষ্টাও চোখে পড়ছে।
বিশ্বকাপের দৃষ্টিকোণ থেকে এই ম্যাচের গুরুত্ব
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে এই ম্যাচ ভারতের কাছে একটি “রিহার্সাল” ম্যাচের মতো। কোন ওপেনিং জুটি সবচেয়ে কার্যকর, মিডল অর্ডারে কারা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, ফিনিশিংয়ে কাকে ভরসা করা যায়, কোন বোলিং কম্বিনেশন সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ—এই সব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার শেষ সুযোগ এটি।
বিশেষ করে ওপেনিং জুটি ও মিডল অর্ডারের ফর্ম নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের নজর থাকবে। পাশাপাশি বোলিং বিভাগে বুমরাহ না থাকলে দল কীভাবে পারফর্ম করে, সেটাও যাচাই করা হবে।
সঞ্জু স্যামসনের জন্য বড় সুযোগ
এই ম্যাচটি সঞ্জু স্যামসনের জন্য ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের আগে শেষ ম্যাচ—এর চেয়ে বড় মঞ্চ তাঁর আত্মবিশ্বাস ফেরানোর জন্য আর হতে পারে না। একটি বড় ইনিংস শুধু এই ম্যাচের ফলাফলই বদলাতে পারে না, বরং বিশ্বকাপ দলে তাঁর অবস্থান আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।
সঞ্জুর প্রতিভা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। সমস্যা শুধুই ধারাবাহিকতা। যদি তিনি এই ম্যাচে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন, তবে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করা যেমন সম্ভব হবে, তেমনই টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থাও আরও দৃঢ় হবে।
সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে নতুন ভারতের রূপরেখা
এই সিরিজ়ে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে এক নতুন ভারতের ছবি দেখা যাচ্ছে—আক্রমণাত্মক, নির্ভীক এবং তরুণদের সুযোগ দিতে প্রস্তুত। এই ম্যাচেও সেই দর্শনের প্রতিফলন দেখা যেতে পারে। ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন, বোলিং কম্বিনেশনে পরীক্ষা—সব মিলিয়ে এটি হতে চলেছে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি ম্যাচ।
বিশ্বকাপের আগে দলের মধ্যে ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখা এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ানোই এই ম্যাচের অন্যতম লক্ষ্য।
ম্যাচের প্রত্যাশা ও সম্ভাব্য চিত্রনাট্য
ম্যাচটি ব্যাটিং-বান্ধব উইকেটে হওয়ায় হাই-স্কোরিং লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ভারত যদি প্রথমে ব্যাট করে, তবে ১৮০-১৯০ রানের স্কোর গড়তে চাইবে। ওপেনিং জুটি থেকে ভালো শুরু পেলে মিডল অর্ডার আরও আগ্রাসী খেলতে পারবে।
বোলিং বিভাগে স্পিনারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। বরুণ চক্রবর্তী ও কুলদীপ যাদব মাঝের ওভারগুলোতে উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের গতি ভারতের দিকে ঘোরাতে পারেন। পেস বিভাগে হর্ষিত রানা ও হার্দিক পাণ্ড্য নতুন বলে আক্রমণ চালাতে পারেন।
নিউ জ়িল্যান্ডের দিক থেকে তাদের টপ অর্ডারের ব্যাটারদের উপরই থাকবে সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব। ভারতের তরুণ বোলারদের বিরুদ্ধে যদি তারা ভালো শুরু করতে পারে, তবে ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বজায় থাকবে।