Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ইসরোর ঐতিহাসিক ঘোষণা ২০২৮ এই মহাকাশে পাড়ি দেবে ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন এর প্রথম মডিউল, বিশ্বমঞ্চে ভারতের নতুন শক্তি

মহাকাশ গবেষণায় ভারতের মুকুটে যুক্ত হতে চলেছে সবচেয়ে দামী রত্নটি। ইসরো প্রধান এস সোমনাথ আজ ঘোষণা করেছেন যে, ভারতের নিজস্ব স্পেস স্টেশন ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন BAS এর কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে এবং ২০২৮ সালের শেষ দিকেই এর প্রথম মডিউলটি এলভিএম ৩ রকেটের মাধ্যমে কক্ষপথে পাঠানো হবে। এর মাধ্যমে আমেরিকা, রাশিয়া এবং চিনের পর ভারত হবে চতুর্থ দেশ যার নিজস্ব স্পেস স্টেশন থাকবে।

মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে ভারত আজ পর্যন্ত অনেক অসাধ্য সাধন করেছে। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে প্রথম পা রাখা থেকে শুরু করে সূর্যের দিকে আদিত্য এল১ পাঠানো ইসরোর সাফল্যের ঝুলি এখন পূর্ণ। কিন্তু আজ ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইসরো যে ঘোষণাটি করল তা আগের সব সাফল্যকে ছাপিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে। ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা বা ইসরো আজ আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিল মহাকাশে ভারতের নিজস্ব বাড়ি বা ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন তৈরির স্বপ্ন আর খুব বেশি দূরে নয়। সব ঠিক থাকলে ২০২৮ সালের শেষ দিকেই এই স্বপ্নের প্রথম ধাপটি বাস্তবায়িত হতে চলেছে।

আজ বেঙ্গালুরুতে ইসরো সদর দপ্তরে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে ইসরো প্রধান এস সোমনাথ জানান আমরা অত্যন্ত গর্বের সাথে জানাচ্ছি যে ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশনের ডিজাইন এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ফেজ সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে এই স্টেশনের প্রথম মডিউল অর্থাৎ বেস মডিউলটি মহাকাশে স্থাপন করা। এলভিএম ৩ রকেট যা আমাদের বাহুবলী নামে পরিচিত এই গুরুদায়িত্ব পালন করবে।

স্বপ্ন যখন বাস্তব ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন

এতদিন মহাকাশে মানুষের একমাত্র ঠিকানা ছিল আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন বা আইএসএস এবং সম্প্রতি তৈরি হওয়া চিনের তিয়াংগং স্পেস স্টেশন। কিন্তু ২০৩০ থেকে ৩১ সালের মধ্যে নাসা এবং তার সহযোগীরা আইএসএস কে অবসর দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ঠিক সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেই উঠে আসছে ভারত।

ইসরোর পরিকল্পনা অনুযায়ী ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন বা বিএএস হবে একটি মডিউলার স্পেস স্টেশন। অর্থাৎ এটি একবারে পুরোটা পাঠানো হবে না। টুকরো টুকরো অংশ বা মডিউল রকেটে করে পাঠিয়ে মহাকাশেই জোড়া লাগানো হবে। ২০২৮ সালে যে প্রথম মডিউলটি পাঠানো হবে তার ওজন হবে প্রায় ৮ টন। এটি হবে স্টেশনের মূল কাঠামো যেখানে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নেভিগেশন এবং লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমের প্রাথমিক অংশগুলো থাকবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে আরও মডিউল পাঠিয়ে ২০৩৫ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ স্পেস স্টেশন তৈরি করা হবে।

এলভিএম ৩ রকেটের ভূমিকা

এই বিশাল কর্মযজ্ঞে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে ইসরোর সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট লঞ্চ ভেহিকল মার্ক ৩ বা এলভিএম ৩। চন্দ্রযান ৩ এবং গগনযান মিশনের সাফল্যের পর এই রকেটের ওপর বিজ্ঞানীদের আস্থা ১০০ শতাংশ। তবে স্পেস স্টেশনের মডিউল বহন করার জন্য রকেটটিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর পেলোড ক্যাপাসিটি বা ভারবহন ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।

ইসরো প্রধান বলেন ২০২৮ এ আমরা রোবোটিক বা আনম্যানড বা মানুষবিহীন পদ্ধতিতে প্রথম মডিউলটি স্থাপন করব। এটি সফলভাবে কক্ষপথে স্থাপিত হওয়ার পর আমরা গগনযান মিশনের মাধ্যমে মহাকাশচারীদের সেখানে পাঠাব ডকিং বা সংযোগ স্থাপনের কাজ করার জন্য।

কেন নিজস্ব স্পেস স্টেশন

অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে নিজস্ব স্পেস স্টেশন তৈরির দরকার কী। এর উত্তর কেবল বিজ্ঞানে নয় লুকিয়ে আছে ভূ রাজনীতি এবং অর্থনীতিতেও।

প্রথমত মাইক্রোগ্র্যাভিটি গবেষণা। মহাকাশের ওজনহীন অবস্থায় বা মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে এমন অনেক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করা সম্ভব যা পৃথিবীতে অসম্ভব। নতুন ওষুধ তৈরি ক্যান্সার গবেষণা উন্নত মানের সংকর ধাতু এবং ফাইবার অপটিক্স তৈরির জন্য স্পেস স্টেশন একটি ভাসমান ল্যাবরেটরি হিসেবে কাজ করবে। ভারত চায় এই গবেষণায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে। পৃথিবীতে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে অনেক রাসায়নিক বিক্রিয়া বা কেলাস তৈরির প্রক্রিয়া ঠিকমতো পর্যবেক্ষণ করা যায় না। কিন্তু মহাকাশে সেই বাধা নেই। ভবিষ্যতে মানুষের জন্য কৃত্রিম অঙ্গ প্রত্যঙ্গ তৈরির গবেষণাও এখানে করা হবে।

দ্বিতীয়ত কৌশলগত অবস্থান। মহাকাশ এখন আর কেবল গবেষণার জায়গা নয় এটি সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। চিনের নিজস্ব স্পেস স্টেশন থাকায় তারা মহাকাশ পর্যবেক্ষণে অনেক এগিয়ে গেছে। ভারত চায় এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে। নিজস্ব স্টেশন থাকলে ভারতের স্যাটেলাইটগুলো এবং মহাকাশ সম্পদগুলো সুরক্ষিত রাখা সহজ হবে। মহাকাশ থেকে নজরদারি চালানো এবং আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করা অনেক বেশি নিখুঁত হবে।

তৃতীয়ত মহাকাশ অর্থনীতি। ২০৪০ সালের মধ্যে ভারত মহাকাশ অর্থনীতিতে নিজেদের শেয়ার বা অংশীদারিত্ব ৫ গুণ বাড়াতে চায়। স্পেস স্টেশন তৈরি হলে সেখানে বেসরকারি কোম্পানিগুলোও গবেষণা করার সুযোগ পাবে। আজ ইসরো জানিয়েছে তারা ভবিষ্যতে স্পেস টুরিজম বা মহাকাশ পর্যটনের জন্যও এই স্টেশনের দরজা খুলে দিতে পারে।

২০২৮ থেকে ২০৪০ ইসরোর রোডম্যাপ

আজকের সাংবাদিক সম্মেলনে ইসরো তাদের আগামী ১৫ বছরের একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ তুলে ধরেছে যা শুনলে যেকোনো ভারতীয়র গর্বে বুক ভরে যাবে।

২০২৬ থেকে ২৭ সালের মধ্যে গগনযান মিশনের চূড়ান্ত পর্যায় সম্পন্ন হবে এবং মহাকাশে মানুষ পাঠানো হবে। এটিই হবে ভারতের প্রথম মানব মহাকাশ অভিযান। এরপর ২০২৮ সালে ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশনের প্রথম মডিউল উৎক্ষেপণ করা হবে। ২০৩০ থেকে ৩২ সালের মধ্যে নতুন প্রজন্মের রকেট বা এনজিএলভি তৈরি করা হবে যা আরও ভারী পেলোড বহন করতে পারবে। এরপর ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশনের পূর্ণাঙ্গ রূপদান করা হবে। তখন সেখানে ৩ থেকে ৪ জন মহাকাশচারী একটানা ১৫ থেকে ২০ দিন থাকতে পারবেন। সবশেষে ২০৪০ সালে চাঁদের বুকে প্রথম ভারতীয় মহাকাশচারীর পদার্পণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

চ্যালেঞ্জ ও প্রস্তুতি

অবশ্য এই পথ খুব মসৃণ নয়। স্পেস স্টেশন তৈরির প্রযুক্তি অত্যন্ত জটিল। মডিউলগুলোকে মহাকাশে নিখুঁতভাবে জোড়া লাগানো বা ডকিং মেকানিজম মহাকাশচারীদের জন্য অক্সিজেন ও জলের ব্যবস্থা করা বা লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম এবং মহাকাশের আবর্জনা বা স্পেস ডেব্রিস থেকে স্টেশনকে রক্ষা করা এই সবকটিই বড় চ্যালেঞ্জ। মহাকাশে ছোট একটি ধূলিকণাও বুলেটের গতিতে আঘাত করতে পারে। তাই স্টেশনের বাইরের দেওয়াল অত্যন্ত মজবুত হতে হবে।

news image
আরও খবর

ইসরোর বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন তারা ইতিমধ্যেই বেঙ্গালুরুতে একটি বিশাল স্পেস স্টেশন সিমুলেটর তৈরি করেছেন যেখানে মহাকাশচারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ডকিং প্রযুক্তির জন্য স্পেস ডকিং এক্সপেরিমেন্ট বা স্প্যাজেক্স মিশনটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে যা ২০২৮ এর মিশনের জন্য বড় আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।

মহাকাশে দেশি জীবনযাত্রা কেমন হবে ব্যোমমনটদের দিনলিপি

ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন বা বিএএস কেবল লোহা লক্কড় আর তারের জঞ্জাল হবে না এটি হবে মহাকাশে এক টুকরো মিনি ইন্ডিয়া। ইসরোর বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যেই মহাকাশচারী বা গগননটদের জীবনযাত্রা নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা করেছেন। মহাকাশের ভরশূন্য অবস্থায় শরীর ঠিক রাখা এক বড় চ্যালেঞ্জ। হাড়ের ক্ষয় এবং পেশির দুর্বলতা আটকাতে ভারতীয় মহাকাশচারীরা সেখানে নিয়মিত স্পেস যোগা বা মহাকাশ যোগব্যায়াম করবেন। ইসরো ইতিমধ্যেই এর জন্য বিশেষ প্রোটোকল তৈরি করেছে যা আন্তর্জাতিক স্তরেও আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। সূর্য নমস্কার বা প্রাণায়ামের মতো ব্যায়ামগুলো কীভাবে ওজনহীন অবস্থায় করা যায় তা নিয়ে গবেষণা চলছে।

খাবারের মেনুতেও থাকবে দেশি ছোঁয়া। মহাকাশচারীদের জন্য মাইসুরুর ডিফেন্স ফুড রিসার্চ ল্যাবরেটরি বা ডিএফআরএল বিশেষ ধরনের খাবার তৈরি করছে। এর মধ্যে রয়েছে চিকেন বিরিয়ানি উপমা ইডলি এবং সুজির হালুয়া সবই ডিহাইড্রেটেড বা জলশূন্য অবস্থায় প্যাকেজ করা যা মহাকাশে জল মিশিয়ে খাওয়ার উপযোগী হবে। অর্থাৎ পৃথিবী থেকে ৪০০ কিলোমিটার ওপরে বসেও ভারতীয় ব্যোমমনটরা বাড়ির খাবারের স্বাদ পাবেন। আচারের স্বাদও তারা পাবেন তবে তা তেল ছাড়া বিশেষ জেল ফর্মে তৈরি করা হচ্ছে যাতে ভেসে না বেড়ায়।

বেসরকারি খাতের বড় সুযোগ মহাকাশে সাপ্লাই চেইন

ইসরোর এই ঘোষণা ভারতের উদীয়মান মহাকাশ স্টার্টআপ বা নিউ স্পেস ইন্ডিয়ার জন্য এক বিশাল সুযোগের দরজা খুলে দিয়েছে। একটি স্পেস স্টেশন চালাতে গেলে সেখানে নিয়মিত খাবার জল অক্সিজেন এবং বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি পাঠানোর প্রয়োজন হয়। ইসরো জানিয়েছে তারা এই কার্গো সাপ্লাই বা মালপত্র পরিবহনের দায়িত্ব ধীরে ধীরে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর হাতে তুলে দেবে।

স্কাইরুট অ্যারোস্পেস এবং অগ্নিকূল কসমস এর মতো ভারতীয় কোম্পানিগুলো যারা ইতিমধ্যেই রকেট প্রযুক্তিতে নিজেদের প্রমাণ করেছে তারা ভবিষ্যতে বিএএস এর জন্য স্পেস ডেলিভারি বয় এর ভূমিকা পালন করতে পারে। এর ফলে এক বিশাল মহাকাশ অর্থনীতি বা স্পেস ইকোনমি তৈরি হবে যা হাজার হাজার ইঞ্জিনিয়ার এবং বিজ্ঞানীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে। ২০২৬ সালের এই ঘোষণা তাই কেবল ইসরোর নয় ভারতের শিল্পমহলের কাছেও এক বড় উৎসবের দিন।

বিশ্বের জন্য স্পেস ডিপ্লোমেসি

ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন কেবল ভারতের স্বার্থেই ব্যবহার হবে না এটি ভারতের স্পেস ডিপ্লোমেসি বা মহাকাশ কূটনীতির এক বড় হাতিয়ার হতে চলেছে। ইসরো প্রধান এস সোমনাথ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলো যাদের নিজস্ব স্পেস প্রোগ্রাম নেই তাদের বিজ্ঞানীদেরও এই স্টেশনে গবেষণা করার সুযোগ দেওয়া হবে। বাংলাদেশ নেপাল ভুটান বা আফ্রিকার দেশগুলোর কাছে মহাকাশ গবেষণার দরজা খুলে দিয়ে ভারত বিশ্বনেতার ভূমিকা পালন করবে। এটি বসুধৈব কুটুম্বকম বা পুরো বিশ্ব এক পরিবার ভারতের এই প্রাচীন দর্শনেরই মহাজাগতিক প্রতিফলন।

প্রযুক্তিগত উপজাত বা স্পিন অফ বেনিফিট

স্পেস স্টেশন তৈরির জন্য যে উচ্চমানের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হচ্ছে তার সুফল পাবে সাধারণ মানুষও। মহাকাশের জন্য তৈরি উন্নত জল পরিশোধন প্রযুক্তি খরাপ্রবণ এলাকায় ব্যবহার করা যেতে পারে। স্টেশনের জন্য তৈরি হালকা কিন্তু মজবুত ধাতু কৃত্রিম অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তৈরিতে কাজে লাগতে পারে। এমনকি মহাকাশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য যে প্রযুক্তি ভারত তৈরি করছে তা পৃথিবীর পরিবেশ রক্ষায় নতুন দিকনির্দেশ করতে পারে। সৌরশক্তির ব্যবহার নিয়েও নতুন নতুন প্রযুক্তি উঠে আসবে যা ভবিষ্যতে আমাদের এনার্জি সংকট মেটাতে পারে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

ইসরোর এই ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে হইচই পড়ে গেছে। নাসা এবং ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি ভারতকে অভিনন্দন জানিয়েছে। আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে তারা আইএসএস এর অবসরের পর ভারতের সাথে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী। অন্যদিকে রাশিয়ার রসকসমস প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে ইসরো স্পষ্ট করে দিয়েছে ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন হবে ১০০ শতাংশ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বা মেক ইন ইন্ডিয়ার সেরা উদাহরণ। চিন অবশ্য এই বিষয়ে খুব সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা বুঝতে পারছে মহাকাশে এশিয়ার একচ্ছত্র আধিপত্য আর তাদের থাকছে না।

উপসংহার অনন্তের পথে ভারত

২০২৮ সাল খুব দূরে নয়। শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে যখন এলভিএম ৩ রকেটটি আগুনের ধোঁয়া ছড়িয়ে আকাশের দিকে উঠবে তখন তার পেটে থাকবে ভারতের স্বপ্নের এক টুকরো। সেই টুকরোটি পৃথিবীর মাটি থেকে ৪০০ কিলোমিটার ওপরে স্থাপিত হয়ে জানান দেবে মহাকাশ কারোর একার সম্পত্তি নয়।

আজ ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দিনটি ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে সেই দিন হিসেবে যেদিন ভারত জানিয়ে দিল তারা আর মহাকাশে ভাড়াটে হয়ে থাকতে চায় না এবার তারা নিজেদের বাড়ি বানাবে। আকাশের ওই নীল সীমানা ছাড়িয়ে অসীম শূন্যতায় উড়বে ভারতের তেরঙ্গা। ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন কেবল ইসরোর সাফল্য নয় এটি ১৪০ কোটি ভারতবাসীর সংকল্পের প্রতীক।

যখন আমাদের গগননটরা সেখান থেকে নিচের নীল গ্রহটির দিকে তাকিয়ে বলবেন সারে জাঁহা সে আচ্ছা হিন্দুস্তাঁ হামারা সেই মুহূর্তটি হবে একবিংশ শতাব্দীর ভারতের শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত। বিজ্ঞান প্রযুক্তি এবং দেশপ্রেমের এই ত্রিবেণী সঙ্গমে ভারত আজ এক নতুন ইতিহাসের সূচনা করল। এই অভিযান শুধু বিজ্ঞানের নয় এটি একটি জাতির আত্মবিশ্বাসের অভিযান। আগামী প্রজন্ম এই সাফল্য দেখে স্বপ্ন দেখবে মহাকাশ বিজ্ঞানী হওয়ার। ভারতের গ্রামের কোনো এক স্কুল পড়ুয়া আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাববে একদিন ওই স্টেশনে আমিও যাব। এই স্বপ্নই ভারতকে বিশ্বগুরুর আসনে বসাবে।

Preview image