৮ই মে ২০২৬ এমন মনে হচ্ছে পনেরো বছর ধরে মোম জ্বলছিল হঠাৎ গলতে শুরু করেছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এই একটি হিন্দি বাক্য বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থাকে সবচেয়ে নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছে দীর্ঘ পনেরো বছরের তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির এই ঐতিহাসিক জয় প্রমাণ করে যে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং দুর্নীতির পাহাড় অবশেষে গলতে শুরু করেছে এবং রাজ্যে এক নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা হতে চলেছে
কলকাতা ৮ই মে ২০২৬
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস এবং সামাজিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আজকের দিনটি এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং গভীর চিন্তার দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে সোশ্যাল মিডিয়া এবং ডিজিটাল দুনিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে গত কয়েকদিন ধরে একটি বিশেষ হিন্দি বাক্য প্রবলভাবে ভাইরাল হয়েছে বাক্যটি হলো অ্যায়সা লগ রহা হ্যায় পনদ্রহ সাল সে মোম জল রহা থা অচানক পিঘলনে লগা যার বাংলা অনুবাদ করলে দাঁড়ায় মনে হচ্ছে পনেরো বছর ধরে মোম জ্বলছিল হঠাৎ গলতে শুরু করেছে এই একটি মাত্র বাক্য যেন সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক এবং সামাজিক অবস্থার এক নিখুঁত এবং অত্যন্ত গভীর রূপক হিসেবে কাজ করছে সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দীর্ঘ পনেরো বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের পতন এবং ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপির বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের যে ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে তা এই মোম গলার রূপকের মাধ্যমেই সবচেয়ে সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করা যায় একটি মোমবাতি যখন জ্বলে তখন প্রথমদিকে তা অত্যন্ত সুন্দর আলো দেয় চারপাশ আলোকিত করে কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই মোম গলতে শুরু করে এবং একসময় তা সম্পূর্ণ গলে গিয়ে নিভে যায় বাংলার রাজনীতিতেও ঠিক এই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করা গেছে এবং এই পরিবর্তনের হাওয়া এখন সমগ্র রাজ্যের প্রতিটি কোণায় প্রবলভাবে অনুভূত হচ্ছে
এই রূপকটিকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে গেলে আমাদের ফিরে তাকাতে হবে আজ থেকে ঠিক পনেরো বছর আগে অর্থাৎ ২০১১ সালের সেই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের দিনটিতে দীর্ঘ চৌত্রিশ বছরের বামফ্রন্ট শাসনের অবসান ঘটিয়ে যখন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এসেছিল তখন বাংলার মানুষের মনে এক বিশাল আশা এবং উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছিল মানুষ ভেবেছিলেন যে এবার হয়তো বাংলার বুকে এক নতুন সূর্যোদয় হবে শিল্পায়ন আসবে তরুণদের কর্মসংস্থান হবে এবং এক দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ে উঠবে ২০১১ সালের সেই দিনগুলোতে তৃণমূল কংগ্রেস ছিল সেই নতুন জ্বলন্ত মোমবাতির মতো যা বাংলার অন্ধকার রাজনীতিতে এক নতুন আলোর দিশা দেখিয়েছিল মা মাটি মানুষ স্লোগান দিয়ে তারা সমাজের একদম নিচুতলার মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের মন জয় করেছিলেন সেই সময় বাংলার মানুষ এই নতুন সরকারকে দুই হাত তুলে আশীর্বাদ করেছিলেন এবং পরপর তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে তাদের ক্ষমতায় টিকিয়ে রেখেছিলেন মোমবাতিটি অত্যন্ত উজ্জ্বলভাবে জ্বলছিল এবং মনে হচ্ছিল এই আলো হয়তো কোনোদিন নিভবে না
কিন্তু যেকোনো মোমবাতিরই একটি নির্দিষ্ট আয়ু থাকে এবং তার ভেতরে থাকা সুতো যখন পুড়তে পুড়তে শেষ পর্যায়ে চলে আসে তখন মোমের শরীরও গলতে শুরু করে গত পনেরো বছরে বিশেষ করে গত কয়েক বছরে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সেই উজ্জ্বল আলো ধীরে ধীরে স্তিমিত হতে শুরু করেছিল এবং দুর্নীতির চরম আঁচে মোমের শরীর দ্রুত গলতে আরম্ভ করেছিল রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় নিয়োগ দুর্নীতি বা রিক্রুটমেন্ট স্ক্যাম রেশন দুর্নীতি কয়লা পাচার এবং গরু পাচারের মতো একাধিক হাই প্রোফাইল দুর্নীতি মামলায় শাসক দলের একের পর এক প্রথম সারির নেতা মন্ত্রী এবং বিধায়কদের গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে এক গভীর এবং স্থায়ী ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল যে মানুষগুলো একদিন এই সরকারের ওপর অগাধ বিশ্বাস রেখেছিলেন তারা নিজেদের চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছিলেন কীভাবে তাদের করের টাকা এবং তাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের অধিকার কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত নেতার পকেটে চলে যাচ্ছে যোগ্য এবং মেধাবী চাকরিপ্রার্থীরা দিনের পর দিন রাস্তায় বসে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে আন্দোলন করেছেন কিন্তু তাদের চোখের জল মোছানোর কেউ ছিল না এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং হতাশা থেকেই মোমবাতির আলো কমতে শুরু করেছিল এবং মোম গলতে শুরু করেছিল
এই মোম গলার প্রক্রিয়াটিকে আরও ত্বরান্বিত করেছিল রাজ্যের শিল্প এবং কর্মসংস্থানের চরম বেহাল দশা দীর্ঘ পনেরো বছর ধরে রাজ্যে কোনো বড় ভারী শিল্প আসেনি বা কোনো বড় কর্পোরেট বিনিয়োগ হয়নি যার ফলে রাজ্যের হাজার হাজার মেধাবী তরুণ তরুণী এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করা ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের রাজ্যে কাজ না পেয়ে ব্যাঙ্গালোর হায়দ্রাবাদ পুনে বা মুম্বাইয়ের মতো শহরে পাড়ি দিতে বাধ্য হয়েছেন বাংলার গ্রামগঞ্জ থেকে লক্ষ লক্ষ অদক্ষ শ্রমিক কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে চলে গেছেন রাজ্যের অর্থনীতি মূলত কিছু সরকারি অনুদান এবং উৎসবের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছিলেন যে কেবল ৫০০ বা ১০০০ টাকার ভাতার ওপর নির্ভর করে একটি রাজ্যের সুস্থ এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনীতি গড়ে উঠতে পারে না তরুণ প্রজন্মের মনে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল তারা এমন একটি সরকার চাইছিলেন যারা কেবল প্রতিশ্রুতি দেবে না বরং বাস্তবে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে এই তরুণদের হতাশা এবং বেকারত্বের জ্বালা শাসক দলের পতনকে আরও নিশ্চিত করে তুলেছিল
মহিলাদের নিরাপত্তা এবং নারী সম্মান রক্ষার বিষয়টিও এই নির্বাচনে এক অত্যন্ত বড় এবং নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছে ২০২৪ সালের আর জি কর মেডিকেল কলেজের সেই ভয়াবহ এবং মর্মান্তিক ঘটনা সমগ্র বাংলার মানুষের মনে বিশেষ করে মহিলাদের মনে এক গভীর ক্ষত তৈরি করেছিল শাসক দল বিভিন্ন নারী কল্যাণমূলক প্রকল্প যেমন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং কন্যাশ্রীর মাধ্যমে মহিলাদের মন জয় করার চেষ্টা করলেও আর জি করের ঘটনা এবং তারপর সন্দেশখালির মতো একাধিক জায়গায় মহিলাদের ওপর হওয়া অত্যাচারের অভিযোগ প্রমাণ করে দিয়েছিল যে রাজ্যে মহিলারা আদতে সুরক্ষিত নন সাধারণ মানুষ এবং বিশেষ করে মহিলারা বুঝতে পেরেছিলেন যে কেবল আর্থিক সহায়তাই শেষ কথা নয় সম্মান এবং নিরাপত্তার সাথে বেঁচে থাকার অধিকার সবচেয়ে বড় অধিকার বিজেপির পক্ষ থেকে এইবারের প্রচারে মহিলাদের নিরাপত্তা এবং রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কথা বারবার তুলে ধরা হয়েছিল যা সাধারণ মহিলাদের মনে এক বিশাল ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল এবং তারা শাসক দলের ওপর থেকে সম্পূর্ণ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন
এই সমস্ত পুঞ্জীভূত ক্ষোভ হতাশা এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এক হয়েই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ইভিএম মেশিনের বোতামে প্রতিফলিত হয়েছে এবং পনেরো বছর ধরে জ্বলতে থাকা সেই মোমবাতিটি হঠাৎ করেই সম্পূর্ণ গলে গিয়ে নিভে গেছে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি এই গলতে থাকা মোমের জায়গাতে এক নতুন এবং শক্তিশালী প্রদীপ জ্বালানোর প্রতিশ্রুতি নিয়ে মানুষের সামনে উপস্থিত হয়েছিল বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে বুথ স্তরের কর্মীরা গত কয়েক বছর ধরে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এবং ধারাবাহিক আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষের মনে নিজেদের জায়গা তৈরি করেছেন তারা বাংলার মানুষকে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের স্বপ্ন দেখিয়েছেন অর্থাৎ কেন্দ্রে এবং রাজ্যে একই দলের সরকার থাকলে রাজ্যের উন্নয়নে এক বিশাল গতি আসবে বলে তারা দাবি করেছেন বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা ক্ষমতায় এলে রাজ্যে নতুন আইটি পার্ক তৈরি হবে সেমিকন্ডাক্টর হাব গড়ে উঠবে এবং শিল্পায়নের এক নতুন যুগের সূচনা হবে দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ প্রশাসন এবং যোগ্য প্রার্থীদের মেধার ভিত্তিতে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি তরুণ প্রজন্মের মনে এক বিশাল আশার আলো জাগিয়েছে
এই ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পালাবদলে সোশ্যাল মিডিয়া এবং ডিজিটাল সাংবাদিকতার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নির্ণায়ক লেন্সপিডিয়া এর মতো আধুনিক ডিজিটাল নিউজ প্ল্যাটফর্মগুলো এবং স্বাধীন কনটেন্ট ক্রিয়েটররা গত কয়েক বছর ধরে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে রাজ্যের প্রকৃত অবস্থা দুর্নীতির চিত্র এবং সাধারণ মানুষের দুর্দশার কথা বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছেন তরুণরা নিজেদের স্মার্টফোন ব্যবহার করে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষণ মিম এবং ভিডিও তৈরি করে সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করেছেন এই ডিজিটাল প্রচারের ফলে শাসক দলের কোনো ভুল বা দুর্নীতি আর ধামাচাপা দিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি অ্যায়সা লগ রহা হ্যায় পনদ্রহ সাল সে মোম জল রহা থা অচানক পিঘলনে লগা এই বাক্যটিও এই ডিজিটাল মাধ্যমেই ভাইরাল হয়েছে এবং মানুষের মনের কথাকে এক লাইনে প্রকাশ করেছে আধুনিক যুগে নির্বাচন এখন আর কেবল দেওয়াল লিখন বা মাইক বাজানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই ডিজিটাল স্পেস এখন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ময়দান এবং বিজেপি সেই ময়দানে অত্যন্ত সফলভাবে নিজেদের প্রচার চালিয়েছে
এখন প্রশ্ন হলো এই পনেরো বছরের মোম গলে যাওয়ার পর যে নতুন রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে তা রাজ্যের ভবিষ্যতের জন্য কতটা শুভকর হবে ভারতীয় জনতা পার্টির সামনে এখন এক বিশাল এবং অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ বাংলার মানুষ তাদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে ক্ষমতায় এনেছেন ঠিকই কিন্তু মানুষের প্রত্যাশার পারদ এখন আকাশছোঁয়া নতুন সরকারকে এসেই সবার আগে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কড়া হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং রাজনৈতিক হিংসা চিরতরে বন্ধ করতে হবে দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থা ভেঙে ফেলে এক সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজ্যে শিল্প আনার জন্য শিল্পপতিদের সাথে নিরন্তর আলোচনা এবং উপযুক্ত পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে যাতে তরুণরা নিজেদের রাজ্যেই কাজ পান কৃষি ক্ষেত্রে কৃষকদের ফসলের সঠিক সহায়কমূল্য সুনিশ্চিত করতে হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে এই কাজগুলো রাতারাতি সম্ভব নয় কিন্তু সরকারকে তাদের কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে যে তারা সঠিক পথেই এগোচ্ছেন
এই রাজনৈতিক পালাবদল কেবল একটি দলের পরিবর্তন নয় বরং এটি বাংলার মানুষের মানসিকতা এবং চিন্তাধারার এক বিশাল পরিবর্তন বাংলার মানুষ প্রমাণ করেছেন যে তারা আর কোনো নির্দিষ্ট দলের অন্ধ সমর্থক নন তারা অত্যন্ত সচেতন এবং হিসেবি ভোটার যখন কোনো দল মানুষের বিশ্বাস নিয়ে খেলা করে এবং অহংকারে মত্ত হয়ে পড়ে তখন সাধারণ মানুষ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই তাদের যোগ্য জবাব দেয় এই পনেরো বছরের গলিত মোম আগামী দিনের যে কোনো শাসক দলের জন্যই এক বিরাট সতর্কবার্তা ক্ষমতার অহংকার যে কত দ্রুত পতন ডেকে আনতে পারে তা এই নির্বাচন অত্যন্ত স্পষ্টভাবে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে গণতন্ত্রে সাধারণ মানুষই শেষ কথা বলে এবং মানুষের জনাদেশকে সম্মান জানানো প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রাথমিক কর্তব্য
গ্রাম বাংলার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শহরের উচ্চবিত্ত সমাজ কলেজ পড়ুয়া তরুণ থেকে শুরু করে দিন আনা দিন খাওয়া মজুর সবাই আজ এই পরিবর্তনের অংশীদার হয়েছেন বর্ধমানের চাষি হুগলীর কারখানার শ্রমিক কলকাতার কর্পোরেট কর্মী এবং দার্জিলিংয়ের চা শ্রমিক সবাই আজ এক নতুন ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন তারা চাইছেন বাংলা আবার তার হারানো গৌরব ফিরে পাক আবার শিক্ষা সংস্কৃতি এবং শিল্পে সমগ্র দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্থান অধিকার করুক নতুন সরকারের দায়িত্ব এই স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়া এবং বাংলার মানুষের এই অগাধ বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করা মোমবাতি হয়তো নিভে গেছে কিন্তু মানুষের মনে যে নতুন আশার প্রদীপ জ্বলে উঠেছে তাকে সযত্নে রক্ষা করতে হবে
পরিশেষে বলা যায় যে পনেরো বছর ধরে জ্বলতে থাকা মোমের এই হঠাৎ গলে যাওয়ার রূপকটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে রাজনীতিতে কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয় আজ যে ক্ষমতায় আছে কাল সে নাও থাকতে পারে তাই ক্ষমতার চেয়ারে বসে মানুষের সেবা করাই হলো রাজনীতির একমাত্র মূল লক্ষ্য ভারতীয় জনতা পার্টির এই ঐতিহাসিক জয় যেমন তাদের জন্য এক বিশাল আনন্দের বিষয় ঠিক তেমনই এক বিশাল দায়িত্বেরও বিষয় বাংলার মানুষ তাদের যে অভূতপূর্ব সমর্থন দিয়েছেন তার প্রতিদান তাদের কাজের মাধ্যমেই দিতে হবে আমরা আশা করব আগামী দিনে বাংলা এক সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত শান্ত এবং শিল্পোন্নত রাজ্য হিসেবে ভারতের মানচিত্রে নিজের জায়গা করে নেবে এবং মোম গলার এই ইতিহাস এক নতুন উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে কাজ করবে বিস্তারিত খবরের জন্য এবং এই রাজনৈতিক পালাবদলের সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ পড়তে কমেন্ট বক্সে থাকা লিঙ্কে এখনই ক্লিক করুন