ইউক্রেনে রুশ ড্রোন হামলায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি। হামলার জেরে ভারতীয় সংস্থার একটি ওষুধ কারখানা বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘটনায় অন্তত ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। হামলার পর কারখানা ও আশপাশের এলাকায় তৈরি হয়েছে আতঙ্ক ও উদ্বেগ।
ইউক্রেনে ফের রুশ ড্রোন হামলায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে এসেছে। হামলার জেরে ভারতীয় সংস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি ওষুধ কারখানা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই হামলায় অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে একের পর এক ড্রোন হামলার মধ্যে ভারতীয় সংস্থার কারখানায় আঘাত হানার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের প্রভাব ইতিমধ্যেই দুই দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও শিল্পক্ষেত্রেও পড়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পাঞ্চল, গুদাম, পরিবহণ পরিকাঠামো থেকে শুরু করে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান—যুদ্ধের আবহে বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হামলার লক্ষ্য হয়েছে। এবার সেই তালিকায় ভারতীয় সংস্থার ওষুধ উৎপাদন কেন্দ্রের নাম উঠে আসায় পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, রুশ ড্রোন হামলার সময় কারখানা এলাকায় ব্যাপক বিস্ফোরণ ও আগুনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। হামলার অভিঘাতে কারখানার একাধিক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাস্থলে থাকা কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধারকারী ও জরুরি পরিষেবার কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
হামলায় একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত বা নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে। তাই সরকারি ভাবে প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
ভারতের সঙ্গে ইউক্রেনের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ওষুধ শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জেনেরিক ওষুধ উৎপাদক দেশ হওয়ায় ভারতীয় ওষুধ সংস্থাগুলির আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। ইউক্রেনের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশেও ভারতীয় ওষুধ সংস্থাগুলির ব্যবসায়িক কার্যক্রম রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কোনও ভারতীয় সংস্থার উৎপাদন কেন্দ্র বা কারখানা সরাসরি সামরিক হামলার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি করেছে। শুধু সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মী ও ব্যবসার নিরাপত্তাই নয়, যুদ্ধের পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
একটি ওষুধ কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব শুধুমাত্র ভবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে কাঁচামাল সরবরাহ, প্যাকেজিং, সংরক্ষণ, পরিবহণ এবং বাজারে ওষুধ পৌঁছনোর গোটা প্রক্রিয়াই ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে কোনও নির্দিষ্ট ওষুধের স্থানীয় সরবরাহ যদি ওই কারখানার উপর নির্ভরশীল হয়, তাহলে সাময়িক ঘাটতির সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
তবে এই হামলার ফলে ইউক্রেনের ওষুধের বাজারে কতটা প্রভাব পড়েছে, তা নির্ভর করবে কারখানাটির উৎপাদন ক্ষমতা, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার উপর।
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তুলনামূলকভাবে কম খরচে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর ক্ষমতার কারণে দুই পক্ষই বিভিন্ন ধরনের ড্রোন ব্যবহার করছে। সামরিক ঘাঁটি, শক্তি পরিকাঠামো, শিল্পাঞ্চল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বারবার হামলার লক্ষ্য হয়েছে।
ড্রোন হামলার অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল, এগুলি অনেক সময় খুব দ্রুত নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছে যেতে পারে। ফলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার পরও সব ড্রোনকে আটকানো সম্ভব হয় না। একটি ড্রোন কোনও শিল্পাঞ্চলে আঘাত করলে তার সঙ্গে থাকা বিস্ফোরক বা আগুনের কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও শিল্পাঞ্চলে অতীতেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, গুদাম এবং শিল্পকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। এবার ভারতীয় সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ওষুধ কারখানায় হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী মহলেও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, কারখানাটি হামলায় গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ভবনের কতটা অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং উৎপাদন ব্যবস্থা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা বিস্তারিত তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
একটি আধুনিক ওষুধ কারখানায় উৎপাদন ইউনিট ছাড়াও থাকে বিশেষ সংরক্ষণ ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক পরিকাঠামো, প্যাকেজিং ইউনিট, পরীক্ষাগার, কাঁচামাল রাখার জায়গা এবং প্রশাসনিক ভবন। হামলার ফলে এর যেকোনও একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হতে পারে।
বিশেষ করে আগুন বা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলে উৎপাদিত ওষুধের নিরাপত্তা নিয়েও অতিরিক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে থাকা ওষুধ বা কাঁচামাল সরাসরি বাজারে পাঠানো যায় না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গুণমান পরীক্ষা এবং নিরাপত্তা যাচাই করতে হয়।
ফলে হামলার তাৎক্ষণিক ক্ষতির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে।
হামলায় অন্তত একজনের মৃত্যু এই ঘটনাকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে। যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ দিকগুলির একটি হল সাধারণ মানুষের প্রাণহানি। সামরিক সংঘাতের লক্ষ্য অনেক সময় নির্দিষ্ট সামরিক পরিকাঠামো হলেও হামলার অভিঘাত বেসামরিক মানুষ এবং কর্মরত শ্রমিকদের উপরও পড়ে।
কারখানায় কর্মরত ব্যক্তিরা প্রতিদিনের মতো কাজ করতে গিয়ে হঠাৎ হামলার মুখে পড়তে পারেন। বিস্ফোরণ, ধ্বংসস্তূপ, আগুন বা ভবনের অংশ ভেঙে পড়ার মতো ঘটনায় প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়।
মৃত ব্যক্তির পরিচয় ও ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ বিবৃতি গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা এবং নিখোঁজদের সন্ধান চালানোও জরুরি হয়ে ওঠে।
ইউক্রেনে ভারতীয় সংস্থাগুলির কার্যক্রম যুদ্ধের শুরু থেকেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি, পরিবহণ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সরবরাহ, কর্মীদের নিরাপত্তা এবং সরবরাহ শৃঙ্খল—সবকিছুতেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ভারতীয় সংস্থাগুলির জন্য ইউক্রেনের বাজার গুরুত্বপূর্ণ হলেও যুদ্ধের পরিস্থিতিতে ব্যবসা পরিচালনা করা সহজ নয়। কোনও শিল্পপ্রতিষ্ঠান সরাসরি হামলার শিকার হলে কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা করতে হয়।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংস্থাগুলিকে বিকল্প উৎপাদন কেন্দ্র, অতিরিক্ত মজুত, কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি রাখতে হয়। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ওষুধ শিল্পে সরবরাহ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হলে সংশ্লিষ্ট ওষুধের সরবরাহে সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে। তবে কোনও একটি কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হলেই গোটা দেশের ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
বড় ওষুধ সংস্থাগুলির সাধারণত একাধিক উৎপাদন ও সরবরাহ কেন্দ্র থাকে। প্রয়োজনে অন্য কারখানা থেকে উৎপাদন বাড়িয়ে ঘাটতি পূরণ করার চেষ্টা করা যায়। আমদানি বা বিকল্প সরবরাহকারীর মাধ্যমেও বাজারের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হতে পারে।
তবে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পরিবহণ ব্যবস্থা ব্যাহত হলে সমস্যা জটিল হতে পারে। রাস্তা, রেলপথ, বন্দর এবং বিমান পরিষেবার উপর যুদ্ধের প্রভাব পড়লে ওষুধ ও কাঁচামাল পরিবহণে সময় বেশি লাগতে পারে।
এই কারণে সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং স্থানীয় প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় শিল্প পরিকাঠামোর নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন সময় শিল্পাঞ্চল ও বাণিজ্যিক স্থাপনা হামলার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রে হামলার ঝুঁকি কমাতে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র, সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং জরুরি সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে যুদ্ধের পরিস্থিতিতে কোনও বেসামরিক শিল্প প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখা অত্যন্ত কঠিন। দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা অনেক দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানতে পারে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সংঘাতের প্রভাব আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার, খাদ্য সরবরাহ, পরিবহণ এবং বাণিজ্যের উপর পড়েছে।
ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও এই যুদ্ধ বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিভিন্ন দেশ ইউক্রেনকে সামরিক ও মানবিক সহায়তা দিচ্ছে। অন্যদিকে রাশিয়ার উপর একাধিক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিদেশি সংস্থাগুলির ইউক্রেনে ব্যবসা পরিচালনা করা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বহু সংস্থাকে নিজেদের কার্যক্রম নতুন করে পর্যালোচনা করতে হয়েছে।
ভারতীয় সংস্থাগুলিও এই আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির বাইরে নয়। ভারত সাধারণত যুদ্ধের দ্রুত অবসান এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
ভারতীয় সংস্থার কোনও বিদেশি কারখানা যুদ্ধের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা দেশের শিল্প ও কূটনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে বিদেশে ভারতীয় ব্যবসায়িক সম্পদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আসে।
ভারতের ওষুধ শিল্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভারতীয় জেনেরিক ওষুধ বহু দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই বিদেশে ভারতীয় ওষুধ সংস্থার উৎপাদন কেন্দ্রের নিরাপত্তা শুধু ব্যবসায়িক বিষয় নয়, অনেক সময় জনস্বাস্থ্যের সঙ্গেও যুক্ত।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভারতীয় সংস্থাগুলির জন্য নিরাপত্তা মূল্যায়ন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোথায় উৎপাদন চালু রাখা হবে, কোথায় মজুত রাখা হবে এবং কীভাবে জরুরি পরিস্থিতিতে কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর আগে থেকেই প্রস্তুত রাখতে হয়।
হামলার পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাধারণত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ, হতাহতের তথ্য যাচাই এবং হামলার ধরন সম্পর্কে তদন্ত করে। এই ঘটনায়ও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে ঠিক কীভাবে ড্রোনটি কারখানা এলাকায় আঘাত হেনেছিল।
ড্রোনটি কোথা থেকে এসেছিল, সেটি আটকানোর চেষ্টা হয়েছিল কি না এবং কারখানাটিই হামলার নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের পরই পাওয়া সম্ভব।
এ ধরনের ঘটনায় বিভিন্ন পক্ষের দেওয়া তথ্যের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। তাই সরকারি সূত্র এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার আনুষ্ঠানিক বিবৃতিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
যে কোনও শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কর্মীদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কারখানার কর্মীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, জরুরি যোগাযোগ এবং দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
ড্রোন হামলার সতর্কতা জারি হলে কর্মীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার প্রশিক্ষণ থাকতে হয়। পাশাপাশি কারখানার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং জরুরি চিকিৎসার সুবিধা রাখা দরকার।
হামলার পর উদ্ধারকাজে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে থাকলে দ্রুত উদ্ধার করা গেলে প্রাণ বাঁচানোর সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়।
এই হামলার পর সংশ্লিষ্ট ভারতীয় সংস্থা তাদের ইউক্রেনের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কারখানাটি পুনর্গঠন করা হবে, অন্য জায়গায় উৎপাদন সরিয়ে নেওয়া হবে, নাকি সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ থাকবে—তা পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রার উপর নির্ভর করবে।
সংস্থার পক্ষ থেকে যদি বিকল্প উৎপাদন ব্যবস্থা থাকে, তাহলে ওষুধ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হতে পারে। একই সঙ্গে কর্মীদের নিরাপত্তা এবং সম্পদের সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় আগামী দিনে ইউক্রেনে বিদেশি সংস্থাগুলির ব্যবসায়িক কৌশলেও পরিবর্তন আসতে পারে।
রুশ ড্রোন হামলায় ভারতীয় সংস্থার ওষুধ কারখানা ধ্বংসের ঘটনা যুদ্ধের মানবিক ও অর্থনৈতিক মূল্যকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে। একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হওয়া মানে শুধু একটি ভবন নষ্ট হওয়া নয়। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে বহু মানুষের কর্মসংস্থান, পরিবারের আয়, স্থানীয় অর্থনীতি এবং প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ।
একজনের মৃত্যু এই ঘটনার সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হয়, ততই সাধারণ মানুষের জীবনে তার প্রভাব বাড়ে।
আন্তর্জাতিক মহলে তাই যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান অব্যাহত রয়েছে। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের অবসান হলে ইউক্রেনের শিল্প ও অর্থনীতি পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
ইউক্রেনে রুশ ড্রোন হামলায় ভারতীয় সংস্থার ওষুধ কারখানা বিধ্বস্ত এবং অন্তত একজনের মৃত্যুর ঘটনা ফের প্রমাণ করল, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রভাব কতটা বিস্তৃত হতে পারে। সামরিক সংঘাতের অভিঘাত এখন শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই; শিল্প, ব্যবসা, কর্মসংস্থান এবং সাধারণ মানুষের জীবনও তার প্রভাবের মধ্যে রয়েছে।
ভারতীয় সংস্থার কারখানায় হামলার ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এবং তদন্তের ফলের দিকে নজর থাকবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থা কীভাবে উৎপাদন ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল মানুষের নিরাপত্তা। শিল্প প্রতিষ্ঠান, কর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের দ্রুত শান্তিপূর্ণ সমাধানই এই ধরনের ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর পথ। যতদিন সংঘাত চলবে, ততদিন ইউক্রেনে থাকা বিদেশি সংস্থা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাবে।