Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বিশ্বকাপে সোনার বুটের দৌড়ে আগুন, মেসি-এমবাপেকে তাড়া করছেন কেন-হালান্ড

বিশ্বকাপের সোনার বুটের দৌড়ে জমে উঠেছে তীব্র লড়াই। গোলের হিসাবে সমানে সমানে পাল্লা দিচ্ছেন লিয়োনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপে, যা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা তুঙ্গে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে শুধু দলগত সাফল্য নয়, ব্যক্তিগত লড়াইও সব সময় ফুটবলপ্রেমীদের বাড়তি আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে থাকে। কোন দল শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিতবে, কোন দল ফাইনালে উঠবে, কোন তারকা বড় ম্যাচে জ্বলে উঠবেন—এই সব প্রশ্নের সঙ্গে আরও একটি প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসে প্রতিটি বিশ্বকাপে। সেটি হল, এ বারের বিশ্বকাপে সোনার বুট জিতবেন কে? প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ গোলদাতাকে দেওয়া হয় সোনার বুট। তাই গোলের দৌড়ে প্রতিটি ম্যাচের পর বদলে যায় সমীকরণ। কেউ এগিয়ে যান, কেউ পিছিয়ে পড়েন, আবার কেউ হঠাৎ করেই এক ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে উঠে আসেন আলোচনার কেন্দ্রে।

বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ৩২ শেষ হয়ে প্রিকোয়ার্টার ফাইনাল শুরু হয়ে যাওয়ায় প্রতিযোগিতা এখন আরও কঠিন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। গ্রুপ পর্বের পরে রাউন্ড অফ ৩২-তে যেসব দল নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করেছে, তারা এখন শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নামছে আরও বেশি চাপ নিয়ে। কারণ এখান থেকে আর ভুলের কোনও সুযোগ নেই। একটি খারাপ দিন, একটি ভুল পাস, একটি মিস করা সুযোগ অথবা একটি গোল—সব কিছুই বদলে দিতে পারে কোনও দলের ভাগ্য। এই কারণেই প্রিকোয়ার্টার ফাইনালকে অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞ বিশ্বকাপের আসল লড়াইয়ের শুরু বলে মনে করেন।

এই পর্যায়ে ফুটবলপ্রেমীদের বাড়তি নজর থাকবে বিশ্বের সেরা তারকাদের দিকে। লিয়োনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, কিলিয়ান এমবাপে, হ্যারি কেন, লামিনে ইয়ামাল, নেমার, আর্লিং হালান্ড, মহম্মদ সালাহ, আশরফ হাকিমি—প্রতিটি নামই বিশ্ব ফুটবলের বড় আকর্ষণ। তাঁদের মধ্যে কেউ অভিজ্ঞতার জোরে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান, কেউ গতির দাপটে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে চান, কেউ আবার তরুণ প্রতিভার ছাপ রেখে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের পরিচিতি আরও বড় করে তুলতে চান। এই তারকাদের পারফরম্যান্স শুধু তাঁদের দলের ভবিষ্যৎ নয়, সোনার বুটের দৌড়ের ছবিও বদলে দিতে পারে।

সোনার বুটের লড়াইয়ে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন লিয়োনেল মেসি এবং কিলিয়ান এমবাপে। দু’জনেই সাতটি করে গোল করেছেন। মেসি চারটি ম্যাচ খেলেই সাত গোল করে নিজের পুরনো জাদু আরও এক বার দেখিয়েছেন। বয়স বাড়লেও গোলের সামনে তাঁর ঠান্ডা মাথা, পাসিং সেন্স, পজিশনিং এবং ম্যাচ পড়ার ক্ষমতা এখনও একই রকম ধারালো। বড় ম্যাচে কীভাবে সুযোগ তৈরি করতে হয় এবং সুযোগ পেলে কীভাবে গোল করতে হয়, মেসি তা বার বার প্রমাণ করেছেন। তাঁর প্রতিটি গোল শুধু সংখ্যার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ নয়, দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা নিয়েছে।

অন্যদিকে কিলিয়ান এমবাপে পাঁচটি ম্যাচ খেলে সাত গোল করেছেন। ফ্রান্সের আক্রমণভাগে তাঁর গতি, শক্তি এবং ফিনিশিং প্রতিপক্ষের জন্য বড় মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমবাপে শুধু গোল করছেন না, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে এগিয়েও দিচ্ছেন। নকআউট পর্বে তাঁর গোল করার ক্ষমতা আগেও দেখা গিয়েছে, এ বারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। মেসির সঙ্গে সমান গোলে থাকলেও অ্যাসিস্টের হিসাবে এমবাপে এগিয়ে থাকায় সোনার বুটের লড়াইয়ে তাঁর অবস্থান আরও শক্তিশালী বলে ধরা হচ্ছে।

মেসি এবং এমবাপের এই লড়াই বিশ্বকাপের আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একদিকে মেসির অভিজ্ঞতা, শিল্পীসুলভ ফুটবল এবং অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ; অন্যদিকে এমবাপের গতি, আগ্রাসন এবং গোল করার ক্ষুধা। দুই প্রজন্মের দুই মহাতারকার মধ্যে এই সোনার বুটের টক্কর ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আলাদা উত্তেজনা তৈরি করেছে। প্রতিটি ম্যাচের আগে এখন শুধু দল জিতবে কি না, সেই প্রশ্নই নয়; মেসি বা এমবাপে গোল করলেন কি না, সেটাও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে।

এই দৌড়ে খুব পিছিয়ে নেই হ্যারি কেন এবং আর্লিং হালান্ড। দু’জনেই পাঁচটি করে গোল করেছেন। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেন বরাবরই গোলের সামনে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য। তাঁর পজিশনিং, বক্সের ভিতরে উপস্থিতি, পেনাল্টি নেওয়ার দক্ষতা এবং হেডিং ক্ষমতা ইংল্যান্ডের জন্য বড় শক্তি। নকআউট পর্বে যদি ইংল্যান্ড আরও এগোতে পারে, তাহলে কেনের সামনে সোনার বুটের লড়াইয়ে আরও উপরে ওঠার সুযোগ থাকবে। মাত্র দুই গোলের ব্যবধান খুব বড় নয়, বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় যেখানে একটি ম্যাচেই কোনও স্ট্রাইকার দুই বা তিন গোল করে ছবিটা বদলে দিতে পারেন।

আর্লিং হালান্ডও একই ভাবে বিপজ্জনক। ক্লাব ফুটবলে গোলমেশিন হিসাবে পরিচিত হালান্ড বিশ্বকাপেও নিজের ক্ষমতা দেখিয়েছেন। তাঁর শক্তিশালী শরীর, দ্রুততা, বক্সের ভিতরে নিখুঁত উপস্থিতি এবং এক স্পর্শে গোল করার ক্ষমতা প্রতিপক্ষের রক্ষণকে সব সময় চাপে রাখে। পাঁচ গোল করে তিনি এখন সোনার বুটের দৌড়ে যুগ্ম ভাবে তৃতীয় স্থানে। তাঁর দল যদি আরও কয়েকটি ম্যাচ খেলতে পারে, তাহলে হালান্ডের পক্ষে মেসি বা এমবাপেকে ছুঁয়ে ফেলা অসম্ভব নয়।

চার গোল করে দৌড়ে রয়েছেন আরও কয়েক জন ফুটবলার। তাঁদের মধ্যে উসমান দেম্বেলে, ভিনিসিয়াস জুনিয়র, মিকেল ওয়ারজ়াবাল এবং ইসমাইলা সার উল্লেখযোগ্য। দেম্বেলে ফ্রান্সের আক্রমণে গতি এবং সৃজনশীলতা যোগ করেছেন। উইং দিয়ে তাঁর দৌড়, ড্রিবলিং এবং হঠাৎ গোলের সুযোগ তৈরি করার ক্ষমতা ফ্রান্সকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলেছে। এমবাপে সামনে থাকায় দেম্বেলের উপর চাপ কিছুটা কম, কিন্তু সুযোগ পেলে তিনি যে গোল করতে পারেন, তা প্রমাণ করেছেন।

news image
আরও খবর

ভিনিসিয়াস জুনিয়র ব্রাজ়িলের অন্যতম বড় আশা। তাঁর গতি, স্কিল, ড্রিবলিং এবং প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে হারানোর ক্ষমতা তাঁকে আলাদা করে তোলে। চার গোল করে তিনি সোনার বুটের দৌড়ে এখনও জীবিত। ব্রাজ়িল নকআউট পর্বে যত এগোবে, ভিনিসিয়াসের সুযোগও তত বাড়বে। নেমার থাকুন বা না থাকুন, ব্রাজ়িলের আক্রমণে ভিনিসিয়াস এখন বড় অস্ত্র।

মিকেল ওয়ারজ়াবালও চার গোল করে আলোচনায় আছেন। স্পেনের ফুটবল সাধারণত পাসিং, পজিশনাল প্লে এবং দলগত আক্রমণের উপর নির্ভরশীল। সেই সিস্টেমের মধ্যে থেকেও ওয়ারজ়াবাল গোল করার জায়গা খুঁজে নিয়েছেন। স্পেন যদি বলের দখল ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে পারে, তাহলে তাঁর গোলের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ইসমাইলা সারও চার গোল করেছেন, কিন্তু তাঁর সামনে আর এগোনোর সুযোগ নেই, কারণ সেনেগাল প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিয়েছে। এই জায়গাটাই সোনার বুটের লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। শুধু গোল করলেই হয় না, দলের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাও জরুরি। কোনও ফুটবলার শুরুতে অনেক গোল করলেও তাঁর দল যদি আগে বিদায় নেয়, তাহলে শেষ পর্যন্ত সোনার বুট জেতা কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে কোনও খেলোয়াড়ের দল যদি সেমিফাইনাল বা ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছয়, তাহলে তাঁর সামনে গোল বাড়ানোর একাধিক সুযোগ থাকে।

এই কারণেই মেসি, এমবাপে, কেন, হালান্ড, দেম্বেলে, ভিনিসিয়াসদের সামনে এখনও সুযোগ রয়েছে। তাঁদের দল যত এগোবে, সোনার বুটের সমীকরণ তত বদলাবে। বিশেষ করে নকআউট পর্বে ম্যাচের গুরুত্ব বেড়ে যায়। এখানে প্রতিটি গোলের দাম অনেক বেশি। গ্রুপ পর্বে বা রাউন্ড অফ ৩২-তে গোলের সংখ্যা বাড়ানো তুলনামূলক সহজ হতে পারে, কিন্তু শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল বা ফাইনালে গোল করা অনেক কঠিন। কারণ প্রতিপক্ষ আরও শক্তিশালী, রক্ষণ আরও সংগঠিত এবং চাপ অনেক বেশি।

সোনার বুটের লড়াইয়ে টাইব্রেকার হিসাবেও কিছু বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত দুই বা তার বেশি ফুটবলার সমান গোল করলে অ্যাসিস্টের সংখ্যা দেখা হয়। অ্যাসিস্টেও সমতা থাকলে কম মিনিট খেলা ফুটবলার এগিয়ে থাকতে পারেন। তাই শুধু গোল নয়, সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোও বড় ভূমিকা নিতে পারে। এমবাপে এই জায়গায় মেসির থেকে সামান্য এগিয়ে থাকতে পারেন, কারণ তাঁর অ্যাসিস্ট রয়েছে। তবে প্রতিযোগিতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও কিছু নিশ্চিত বলা যায় না। এক ম্যাচেই সব হিসাব বদলে যেতে পারে।

 

 

 

Preview image