দুর্গাপুজোয় বাঁধাধরা কোনও পরিকল্পনা নেই অভিনেত্রী শ্যামৌপ্তির। ইচ্ছে হলে বাড়িতে থেকেই সিনেমা দেখে কাটাতে চান পুজোর ছুটির দিনগুলি।
কলকাতা: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো মানেই নতুন জামাকাপড়, প্যান্ডেল ঘোরা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, জমিয়ে খাওয়াদাওয়া আর প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দে সময় কাটানো। পুজোর দিনগুলিকে ঘিরে অনেকেরই থাকে একাধিক পরিকল্পনা। কেউ আগে থেকেই ঠিক করে রাখেন কোন দিন কোথায় যাবেন, আবার কেউ পুজোর ছুটিতে একটু বিশ্রাম নিতে চান। অভিনেত্রী শ্যামৌপ্তির পুজোর পরিকল্পনা অবশ্য একটু অন্যরকম। তাঁর কাছে দুর্গাপুজো মানেই বাঁধাধরা কোনও রুটিন নয়। বরং ইচ্ছে অনুযায়ী দিন কাটানো, কখনও বাড়িতে বসে সিনেমা দেখা, কখনও পারিবারিক পুজোয় যাওয়া, আবার কখনও বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠা। আর এই সব কিছুর পাশাপাশি পুজোর বিশেষ আকর্ষণ জমিয়ে খাওয়াদাওয়া।
নিজের পুজোর পরিকল্পনা জানাতে গিয়ে শ্যামৌপ্তি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কোনও পরিকল্পনা না করাটাই তাঁর আসল পরিকল্পনা। অর্থাৎ, পুজোর ছুটিতে প্রতিটি দিনকে নির্দিষ্ট সময়সূচিতে বেঁধে রাখতে চান না তিনি। যখন যেটা করতে ইচ্ছে করবে, সেটাই করবেন। কোনও দিন বাড়িতে থেকে সিনেমা দেখেই কাটিয়ে দিতে পারেন, আবার কোনও দিন বেরিয়ে পড়তে পারেন পরিবারের সঙ্গে অথবা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে।
অভিনেত্রীর এই সহজ-সরল পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে পুজোর ছুটিকে নিজের মতো করে উপভোগ করার ইচ্ছা। ব্যস্ত জীবনের মধ্যে উৎসবের কয়েকটি দিন একটু স্বস্তিতে কাটানো, প্রিয় খাবার খাওয়া এবং কাছের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানোই তাঁর কাছে বড় বিষয়।
দুর্গাপুজোর আগে থেকেই অনেকের মধ্যে শুরু হয়ে যায় পরিকল্পনার ব্যস্ততা। কোন দিন অষ্টমীর অঞ্জলি, কখন বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হবে, কোথায় খেতে যাওয়া হবে কিংবা কোন প্যান্ডেলে ঘুরতে যাওয়া হবে—সব কিছুই আগে থেকে ঠিক করে রাখতে ভালোবাসেন অনেকে। কিন্তু শ্যামৌপ্তি সেই দলে পড়েন না।
তাঁর কথায়, “দুর্গাপুজোয় কোনও প্ল্যান না করাটাই আমার আসল প্ল্যান।” এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, পুজো নিয়ে অতিরিক্ত পরিকল্পনা বা ব্যস্ততা তৈরি করতে চান না অভিনেত্রী। বরং নিজের ইচ্ছা এবং মেজাজ অনুযায়ী দিন কাটাতে পছন্দ করেন তিনি।
কোনও দিন হয়তো বাড়িতে থাকার ইচ্ছে হবে। সেদিন বাইরে বেরোনোর তাড়া না রেখে বাড়িতেই সিনেমা দেখে সময় কাটাবেন। আবার অন্য কোনও দিন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে উঠতে পারেন। পুজোর আনন্দকে নির্দিষ্ট কিছু কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না তিনি।
আসলে উৎসবের আনন্দ প্রত্যেকের কাছে আলাদা। কারও কাছে পুজো মানে সারাদিন প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘুরে বেড়ানো, কারও কাছে নতুন জামা পরে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা। আবার কেউ ব্যস্ততার বাইরে কিছুটা সময় নিজের জন্য রাখতে চান। শ্যামৌপ্তির পরিকল্পনায় এই শেষের দিকটিই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
অভিনয়ের জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকায় কাজের ব্যস্ততা তাঁর জীবনের একটি অংশ। তাই পুজোর ছুটিতে নিজের পছন্দ অনুযায়ী সময় কাটানোর সুযোগ পাওয়াও তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে তিনি যে নির্দিষ্ট কোনও রুটিন তৈরি করে পুজো কাটাতে চান না, তা তাঁর কথাতেই পরিষ্কার।
পুজোর দিনগুলিতে বাড়িতে সময় কাটানোর পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গেও সময় কাটাতে চান শ্যামৌপ্তি। তিনি জানিয়েছেন, তাঁদের পারিবারিক পুজো হয়। তাই সেই পুজোয় যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।
বাঙালি পরিবারের কাছে দুর্গাপুজো শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বহু ক্ষেত্রে এটি পরিবারের সদস্যদের একত্রিত হওয়ারও বিশেষ উপলক্ষ। বছরের অন্যান্য সময় কাজ, পড়াশোনা কিংবা ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে পরিবারের সকলের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানো সম্ভব হয় না। পুজোর দিনগুলি সেই সুযোগ এনে দেয়।
পারিবারিক পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পরিচিত পরিবেশ, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা হওয়া এবং একসঙ্গে উৎসব উদ্যাপনের আনন্দ। শ্যামৌপ্তির ক্ষেত্রেও পারিবারিক পুজো তাঁর দুর্গোৎসবের পরিকল্পনার একটি অংশ।
তবে পুজোর প্রতিটি দিনই যে তিনি পরিবারের সঙ্গে কাটাবেন, এমন কোনও কথা জানাননি অভিনেত্রী। তাঁর পরিকল্পনা যথেষ্ট খোলামেলা। কোনও দিন পারিবারিক পুজোয় যাওয়া হতে পারে, আবার কোনও দিন বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়েও সময় কাটতে পারে।
এই স্বতঃস্ফূর্ততাই তাঁর পুজোর পরিকল্পনাকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। আগে থেকে প্রতিটি দিন ভাগ করে না রেখে পরিস্থিতি এবং নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী সময় কাটানোর ভাবনাই প্রাধান্য পাচ্ছে।
পুজোর পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শ্যামৌপ্তি যে বিষয়টির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন, সেটি হল খাওয়াদাওয়া। তাঁর কথায়, পুজোয় একটি জিনিস অবশ্যই থাকবে, আর তা হল ভালো করে খাওয়া।
বাঙালির উৎসবের সঙ্গে খাবারের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। পুজোর সময় রাস্তায় বেরিয়ে খাবারের দোকানে ভিড় করা, বন্ধুদের সঙ্গে ফুচকা বা রোল খাওয়া, কিংবা পছন্দের কোনও খাবার সামনে পেলে নিজেকে আটকে রাখতে না পারা—এই সবই বহু মানুষের পুজোর স্মৃতির অংশ। শ্যামৌপ্তির পছন্দের তালিকাতেও রয়েছে এমনই কয়েকটি পরিচিত খাবার।
মটন রোল, চাউমিন এবং ঘুগনি—এই খাবারগুলির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন অভিনেত্রী। অর্থাৎ, পুজোর ছুটিতে তাঁর খাদ্যতালিকায় থাকবে পরিচিত জনপ্রিয় খাবারের স্বাদ। প্যান্ডেল ঘোরার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তার খাবার খাওয়া কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার ফাঁকে পছন্দের খাবার উপভোগ করা—সব মিলিয়ে পুজোর আনন্দের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকবে খাওয়াদাওয়া।
তবে শ্যামৌপ্তি জানিয়েছেন, তিনি সারা বছর ডায়েট করেন না। তাঁর দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে সাধারণত বাড়ির খাবারই প্রাধান্য পায়। পুজোর কয়েকটি দিন সেই নিয়মে কিছুটা পরিবর্তন আসে। এই সময়ে বাইরের খাবার খাওয়া এবং পরিচিত রুটিন থেকে একটু বেরিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হয়।
এখানে তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় হল, সারা বছরের অভ্যাসের বাইরে উৎসবের কয়েকটি দিন নিজের পছন্দের খাবার উপভোগ করতে চান তিনি। তাই পুজোর খাওয়াদাওয়ার তালিকায় কোনও বিশেষ বিধিনিষেধের কথা উঠে আসেনি।
বর্তমানে জীবনযাত্রা, খাবারদাবার এবং শরীরচর্চা নিয়ে অনেকেই সচেতন। বিশেষ করে বিনোদন জগতের তারকাদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে দর্শকদের কৌতূহল থাকে। শ্যামৌপ্তির কথায় উঠে এসেছে তাঁর নিজের দৈনন্দিন অভ্যাসের একটি সাধারণ দিক।
তিনি জানিয়েছেন, সারা বছর বাড়ির খাবার খান। পুজোর কয়েকটি দিন অবশ্য সেই নিয়মে কিছুটা অনিয়ম হয়। উৎসবের সময় পছন্দের খাবার খাওয়া এবং স্বাভাবিক রুটিন থেকে সামান্য বিরতি নেওয়াই তাঁর পরিকল্পনার অংশ।
তাঁর এই বক্তব্যে পুজোর আনন্দের একটি পরিচিত ছবি ফুটে ওঠে। সারা বছর কাজের ব্যস্ততা এবং দৈনন্দিন অভ্যাসের মধ্যে থাকার পর উৎসবের সময় অনেকেই নিজেদের পছন্দের খাবার খেতে চান। বিশেষ করে দুর্গাপুজোর সময় কলকাতা ও আশপাশের এলাকার খাবারের দোকানগুলিতে নানা ধরনের খাবারের আকর্ষণ থাকে।
শ্যামৌপ্তির পছন্দের মটন রোল, চাউমিন এবং ঘুগনিও সেই উৎসবের খাদ্যসংস্কৃতির পরিচিত অংশ। ফলে তাঁর পুজোর পরিকল্পনায় খাওয়াদাওয়া যে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
তবে অভিনেত্রীর বক্তব্যকে কোনও নির্দিষ্ট ডায়েট বা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরামর্শ হিসেবে দেখার কারণ নেই। তিনি কেবল নিজের দৈনন্দিন অভ্যাস এবং পুজোর সময় কীভাবে খাওয়াদাওয়া করতে ভালোবাসেন, সেই কথাই জানিয়েছেন।
খাওয়াদাওয়ার পাশাপাশি শ্যামৌপ্তির পুজোর পরিকল্পনায় রয়েছে বিশ্রাম। তিনি জানিয়েছেন, সময় পেলেই ঘুমিয়ে নেন। পুজোর সময়ও সেই অভ্যাস বজায় রাখতে চান।
উৎসবের সময় অনেকেই একটানা ঘোরাঘুরি, আড্ডা এবং নানা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কারণে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। আবার কারও কাছে ছুটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা, দুপুরে একটু বিশ্রাম নেওয়া কিংবা বাড়িতে আরামে সময় কাটানো।
শ্যামৌপ্তির বক্তব্যে পুজোর সেই স্বস্তির দিকটিই উঠে এসেছে। তাঁর কাছে পুজো মানেই প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাইরে থাকার বাধ্যবাধকতা নয়। বরং যখন সুযোগ পাবেন, তখন বিশ্রাম নেবেন এবং নিজের মতো করে সময় কাটাবেন।
অভিনয়ের কাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষের জীবনে নানা সময়ে ব্যস্ততা থাকতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে উৎসবের ছুটিতে বিশ্রামের সুযোগ পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। যদিও তাঁর কাজের নির্দিষ্ট সময়সূচি সম্পর্কে তিনি এখানে কিছু জানাননি, তবু পুজোয় নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী ঘুম এবং বিশ্রামের কথা উল্লেখ করেছেন স্পষ্টভাবেই।
বাড়িতে সিনেমা দেখা, ঘুমিয়ে নেওয়া, পছন্দের খাবার খাওয়া—এই সব সাধারণ বিষয়ের মধ্যেই তিনি পুজোর আনন্দ খুঁজে নিতে চান।
শ্যামৌপ্তি অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত হলেও বাস্তব জীবনে অভিনয় করতে তাঁর ভালো লাগে না। পুজোর স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি এই বিষয়টিও তুলে ধরেছেন।
পর্দায় অভিনয় করা আর বাস্তব জীবনে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা এক বিষয় নয়। অভিনেতাদের পেশাগত জীবনে নানা চরিত্রে অভিনয় করতে হয়, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে তাঁরা প্রত্যেকেই নিজস্ব স্বভাব ও পছন্দ নিয়ে চলেন। শ্যামৌপ্তির বক্তব্যেও সেই পার্থক্যের ইঙ্গিত রয়েছে।
দুর্গাপুজোর মতো উৎসবের সময় নানা মানুষের সঙ্গে দেখা হয়, নতুন পরিচয় তৈরি হয় এবং অনেকের জীবনে বিশেষ স্মৃতি তৈরি হয়। বিশেষ করে পুজোর অঞ্জলি, প্যান্ডেলে ঘোরাঘুরি কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা থেকে কখনও কখনও প্রেমের গল্পও তৈরি হয়। কিন্তু শ্যামৌপ্তির পুজোর অভিজ্ঞতা সেই প্রচলিত রোম্যান্টিক গল্পের মতো নয়।
অঞ্জলি দেওয়ার সময় তাঁর দিকে কেউ ফুল ছুড়ে দিয়েছেন, এমন অভিজ্ঞতা কখনও হয়নি বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। বরং তাঁর কথায়, তিনি নিজেই মা দুর্গার দিকে ফুল ছুড়ে দিয়েছেন। তাঁর পাশে যাঁরা অঞ্জলি দিয়েছেন, তাঁরাও মা দুর্গাকেই ফুল দিয়েছেন।
এই মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে পুজোর সময়কার একটি মজার স্মৃতির কথা উঠে এসেছে। অঞ্জলির মতো ধর্মীয় আচারকে ঘিরে অনেকের মনে নানা ধরনের অভিজ্ঞতা জমা হয়। কারও কাছে সেটি শুধুই পুজোর অংশ, আবার কারও কাছে সেই মুহূর্ত থেকে তৈরি হয় বিশেষ কোনও স্মৃতি। শ্যামৌপ্তি নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বিষয়টিকে সহজ ও রসিকতার সঙ্গেই তুলে ধরেছেন।
দুর্গাপুজোর সঙ্গে প্রেমের গল্পের সম্পর্ক বাঙালির জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে বহুদিনের। নতুন জামাকাপড় পরে প্যান্ডেলে যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, কারও প্রতি ভালো লাগা তৈরি হওয়া কিংবা সাহস করে মনের কথা জানানো—এই ধরনের ঘটনা অনেকের পুজোর স্মৃতিতে জায়গা করে নেয়।
শ্যামৌপ্তির অভিজ্ঞতা অবশ্য আলাদা। তিনি জানিয়েছেন, ছোটবেলায় তিনি বরাবরই একটু ভীতু ছিলেন। সারাক্ষণ মা-বাবার সঙ্গে থাকতেন। ফলে প্যান্ডেলে গিয়ে কারও কাছে ফোন নম্বর চাওয়া বা নিজের নম্বর দেওয়ার মতো সাহস তাঁর হয়নি।
তাই পুজোয় তাঁর নিজের কোনও প্রেমের গল্প তৈরি হয়নি বলেই জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তবে বন্ধুদের ক্ষেত্রে তিনি সাহায্য করেছেন বহুবার। সেই দিনগুলির কথা মনে পড়লে এখন তাঁর হাসি পায়।
এই স্মৃতিচারণে পুজোর সময়কার কৈশোর ও তারুণ্যের পরিচিত আবেগ ফুটে উঠেছে। বন্ধুদের মধ্যে কারও প্রতি ভালো লাগা তৈরি হলে অন্য বন্ধুরা অনেক সময় মধ্যস্থতা করেন, পরিচয় করিয়ে দেন কিংবা যোগাযোগের ব্যবস্থা করতে সাহায্য করেন। শ্যামৌপ্তিও বন্ধুদের এমন পরিস্থিতিতে পাশে থেকেছেন বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, নিজের ক্ষেত্রে মা-বাবার সঙ্গে থাকা এবং স্বভাবগত ভীতু মনোভাবের কারণে সেই ধরনের কোনও অভিজ্ঞতা হয়নি। তাঁর এই বক্তব্যে পুজোর স্মৃতির একটি ব্যক্তিগত ও মজার দিক সামনে এসেছে।
পুজোর পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শ্যামৌপ্তি শেষ পর্যন্ত যে বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন, তা হল কাছের মানুষদের সঙ্গে ভালো থাকা। তাঁর মতে, দুর্গাপুজো সকলের কাছেই বিশেষ। তাই প্রিয়জনদের নিয়ে যাতে ভালো থাকতে পারেন, সেটাই তাঁর প্রার্থনা।
এই ভাবনাই তাঁর পুজোর পরিকল্পনার মূল সুর। বাড়িতে সিনেমা দেখা, পারিবারিক পুজোয় যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, পছন্দের খাবার খাওয়া কিংবা সময় পেলে ঘুমিয়ে নেওয়া—সব কিছুর মধ্যেই রয়েছে নিজের মতো করে আনন্দ খুঁজে নেওয়ার ইচ্ছা।
দুর্গাপুজো শুধু উৎসবের সাজসজ্জা বা ঘোরাঘুরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অনেকের কাছে এটি পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সময়, পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ নতুন করে তৈরি করার সুযোগ এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে কিছু সুন্দর মুহূর্ত কাটানোর উপলক্ষ।
শ্যামৌপ্তির বক্তব্যেও সেই আবেগই প্রাধান্য পেয়েছে। তাঁর পুজোয় বড় কোনও পরিকল্পনা নেই, নেই প্রতিদিনের জন্য নির্দিষ্ট কোনও কর্মসূচি। বরং নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী সময় কাটানো এবং কাছের মানুষদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়াই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে শ্যামৌপ্তির দুর্গাপুজোর পরিকল্পনা বেশ সহজ-সরল। পুজোর ছুটিতে কোনও বাঁধাধরা রুটিনে নিজেকে আটকে রাখতে চান না তিনি। কোনও দিন বাড়িতে সিনেমা দেখবেন, কোনও দিন পারিবারিক পুজোয় যাবেন, আবার কোনও দিন বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে উঠবেন। এর সঙ্গে থাকছে মটন রোল, চাউমিন, ঘুগনির মতো পছন্দের খাবার এবং সময় পেলেই ঘুমিয়ে নেওয়ার সুযোগ।
পাশাপাশি নিজের ছোটবেলার পুজোর স্মৃতি, অঞ্জলি দেওয়ার অভিজ্ঞতা এবং বন্ধুদের প্রেমের গল্পে সাহায্য করার ঘটনাও ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায় উঠে এসেছে এমন এক পুজোর ছবি, যেখানে আনন্দের জন্য বড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই।
আসলে উৎসবের আনন্দ প্রত্যেকের কাছে আলাদা। কেউ পরিকল্পনা করে পুজোর প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেন, আবার কেউ পরিকল্পনাহীন সময়ের মধ্যেই খুঁজে পান স্বস্তি। শ্যামৌপ্তির কাছে দ্বিতীয় পথটিই বেশি পছন্দের।
তাঁর পুজোর দর্শন তাই সহজ—ইচ্ছে হলে ঘোরা, ইচ্ছে হলে বাড়িতে থাকা, পছন্দের খাবার খাওয়া এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে ভালো থাকা। কারণ শেষ পর্যন্ত দুর্গাপুজোর আনন্দ শুধু কোথায় গেলেন বা কী করলেন, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং কাদের সঙ্গে সময় কাটালেন এবং সেই সময় কতটা আনন্দে কাটল, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।