Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

মা-বাবাকে নিয়ে আরিয়ানা গ্রান্ডের কনসার্টে আরাধ্যা, মেয়ের মিউজিক পছন্দ শুনে অবাক অভিষেক!

মেয়ের পছন্দের গান শুনতে শুনতেই বদলে যাচ্ছে অভিষেক বচ্চনের মিউজিকের জগৎ। সম্প্রতি আরাধ্যা বচ্চন তাঁর বাবা অভিষেক ও মা ঐশ্বর্য রাই বচ্চনকে নিয়ে আরিয়ানা গ্রান্ডের কনসার্টে গিয়েছিল। অভিষেক জানিয়েছেন, কনসার্টে যাওয়ার আগে আরিয়ানা গ্রান্ডের একটি গানও তিনি চিনতেন না। তবে শিল্পীর গানের গলা ও পারফরম্যান্স তাঁকে মুগ্ধ করেছে।

মা-বাবাকে নিয়ে আরিয়ানা গ্রান্ডের কনসার্টে আরাধ্যা, মেয়ের মিউজিক পছন্দ শুনে অবাক অভিষেক!
বিনোদন

বলিউডের তারকা পরিবার বচ্চনদের নিয়ে অনুরাগীদের আগ্রহ সবসময়ই তুঙ্গে। তবে এবার কোনও সিনেমা বা পুরস্কার নয়, আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে পরিবারের মিউজিক পছন্দ। মেয়ে আরাধ্যা বচ্চনের হাত ধরে আন্তর্জাতিক পপ মিউজিকের দুনিয়ায় নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে অভিষেক বচ্চনের। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা জানিয়েছেন, বিদেশে ছুটিতে থাকার সময় আরাধ্যা তাঁকে এবং মা ঐশ্বর্য রাই বচ্চনকে নিয়ে গিয়েছিল জনপ্রিয় পপ তারকা আরিয়ানা গ্রান্ডের কনসার্টে। 

অভিষেকের কথায়, কনসার্টে যাওয়ার আগে আরিয়ানা গ্রান্ডের কোনও গানই তাঁর পরিচিত ছিল না। অর্থাৎ মেয়ের প্রিয় শিল্পীর লাইভ পারফরম্যান্স দেখতে গিয়ে অনেকটাই অচেনা জগতের মধ্যে প্রবেশ করেছিলেন তিনি। কিন্তু কনসার্ট শেষ হওয়ার পর তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল সম্পূর্ণ অন্যরকম। আরিয়ানার কণ্ঠ এবং মঞ্চে তাঁর পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে যান অভিষেক। 

আরাধ্যার পছন্দের তালিকায় কারা?

অভিষেক জানিয়েছেন, তাঁর কিশোরী মেয়ের মিউজিকের পছন্দ বেশ বৈচিত্র্যময়। শুধু একটি নির্দিষ্ট ধরনের গান নয়, বিভিন্ন সময়ের এবং বিভিন্ন ঘরানার শিল্পীদের গান শুনতে ভালোবাসে আরাধ্যা।

আরাধ্যার প্লেলিস্টে রয়েছে অলিভিয়া রড্রিগো, টেলর সুইফট এবং আরিয়ানা গ্রান্ডে-র মতো সমসাময়িক আন্তর্জাতিক পপ তারকাদের গান। এর পাশাপাশি ৮০-এর দশকের মিউজিকের প্রতিও তার আগ্রহ রয়েছে। এমনকি বন জোভি, ভ্যান হ্যালেন এবং মেটালিকা-র মতো রক ও হেভি মেটাল ঘরানার ব্যান্ডের গানও সে শুনতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন অভিষেক। 

অভিষেক তাঁর মেয়ের এই মিউজিক পছন্দকে ‘এক্লেকটিক’ বা বহুমুখী বলে বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ একই প্লেলিস্টে যেমন বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় পপ গান থাকতে পারে, তেমনই থাকতে পারে কয়েক দশক আগের রক মিউজিকও। বাবার কাছে মেয়ের এই বৈচিত্র্যময় রুচিই বিশেষভাবে আকর্ষণীয়।

আরিয়ানা গ্রান্ডের কনসার্টে কী হয়েছিল?

বিদেশে গ্রীষ্মের ছুটিতে থাকার সময় আরাধ্যাই নাকি পরিবারের জন্য এই কনসার্টের পরিকল্পনা করেছিল। অভিষেকের বক্তব্য অনুযায়ী, মেয়ের আগ্রহেই তিনি ও ঐশ্বর্য আরিয়ানা গ্রান্ডের লাইভ শো দেখতে যান।

অভিষেকের জন্য এটি ছিল বেশ অন্যরকম অভিজ্ঞতা। কারণ তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে কনসার্টে যাওয়ার আগে আরিয়ানা গ্রান্ডের একটি গানও তিনি জানতেন না। কিন্তু লাইভ পারফরম্যান্স দেখার পর তাঁর ধারণা বদলে যায়।

বিশেষ করে আরিয়ানার গানের গুণমান, কণ্ঠের শক্তি এবং মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি অভিষেককে মুগ্ধ করে। একইসঙ্গে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আন্তর্জাতিক পপ তারকাদের জনপ্রিয়তাও তাঁকে অবাক করেছে। 

বাবার পছন্দ আবার একেবারেই অন্যরকম

আরাধ্যার মিউজিকের সঙ্গে অভিষেকের নিজের পছন্দের যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। সাক্ষাৎকারে নিজের প্রিয় শিল্পীদের প্রসঙ্গে অভিষেক জানিয়েছেন, তিনি মূলত পুরনো হিন্দি সিনেমার গান শুনতে পছন্দ করেন।

তাঁর প্রিয় শিল্পীদের তালিকায় রয়েছেন কিশোর কুমার। পাশাপাশি পুরনো হিন্দি চলচ্চিত্রের সঙ্গীতের ক্ষেত্রে তিনি আর ডি বর্মন, এস ডি বর্মন, কল্যাণজি-আনন্দজি, লক্ষ্মীকান্ত-পেয়ারেলাল এবং বাপ্পি লাহিড়ী-র কাজেরও প্রশংসা করেছেন। 

ফলে বাবা ও মেয়ের মিউজিকের পছন্দে প্রজন্মের ব্যবধান স্পষ্ট। অভিষেক যেখানে পুরনো হিন্দি সিনেমার সুরে স্বচ্ছন্দ, সেখানে আরাধ্যার পছন্দে রয়েছে টেলর সুইফট, অলিভিয়া রড্রিগো ও আরিয়ানা গ্রান্ডের মতো নতুন প্রজন্মের আন্তর্জাতিক শিল্পী।

তবে সেই পার্থক্যই বচ্চন পরিবারের মিউজিকের গল্পকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

মেয়ের জন্য নতুন গান শুনছেন অভিষেক

আরাধ্যার মিউজিক পছন্দ যে অভিষেকের শোনার অভ্যাসেও প্রভাব ফেলছে, সেটিও তাঁর কথায় স্পষ্ট। মেয়ের কারণে টেলর সুইফট বা আরিয়ানা গ্রান্ডের মতো শিল্পীদের গান সম্পর্কে তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এমনকি তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র নতুন প্রজন্মের শিল্পী বলে তাঁদের গানকে উপেক্ষা করা ঠিক নয়।

অভিষেকের বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, প্রজন্মের পার্থক্য থাকলেও নতুন ধরনের মিউজিককে আগে শুনে বোঝার চেষ্টা করা উচিত। কোনও শিল্পীর গান নিজের পরিচিত ঘরানার না হলেই তা খারাপ—এমন ধারণার সঙ্গে তিনি একমত নন।

আরিয়ানা গ্রান্ডের কনসার্টে যাওয়ার ঘটনাটিও যেন সেই কথার বাস্তব উদাহরণ। যে শিল্পীর একটি গানও আগে জানা ছিল না, তাঁর লাইভ পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত অভিষেককে মুগ্ধ করেছে।

আরাধ্যার ‘এক্লেকটিক’ মিউজিক টেস্ট

আরাধ্যার মিউজিক পছন্দের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল এর বৈচিত্র্য। একদিকে সমসাময়িক পপ মিউজিক, অন্যদিকে ৮০-এর দশকের রক ব্যান্ড—দুই ধরনের গানই তার পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।

news image
আরও খবর

অভিষেকের কথায়, আরাধ্যা অলিভিয়া রড্রিগো, টেলর সুইফট ও আরিয়ানা গ্রান্ডের গান শোনে। পাশাপাশি বন জোভি, ভ্যান হ্যালেন এবং মেটালিকার মতো ব্যান্ডের গানেও তার আগ্রহ রয়েছে।

এই বৈচিত্র্যকেই অভিষেক মজার বিষয় হিসেবে দেখছেন। তাঁর নিজের ভাষায়, মেয়ের সঙ্গীতের রুচি ভালো হওয়ায় তিনি অনেকটাই ‘নিরাপদ’—অর্থাৎ শুধু নতুন প্রজন্মের গানই তাঁকে শুনতে হবে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

বাবা-মেয়ের সম্পর্কেও মিউজিকের ভূমিকা

এই ঘটনা শুধু একজন তারকা অভিনেতার কনসার্টে যাওয়ার গল্প নয়। বরং বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের পছন্দের জায়গায় গিয়ে সময় কাটানোর একটি সুন্দর উদাহরণও বটে।

কিশোর-কিশোরীদের অনেক পছন্দই তাঁদের বাবা-মায়ের কাছে অচেনা হতে পারে। বিশেষ করে গান, সিনেমা, সোশ্যাল মিডিয়া বা বিনোদনের ক্ষেত্রে প্রজন্মের পার্থক্য খুব সহজেই তৈরি হয়। কিন্তু আরাধ্যার ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, সেই পার্থক্যকে দূর করার একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে মিউজিক।

আরাধ্যা নিজের পছন্দের শিল্পীকে বাবা-মায়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। আর অভিষেকও মেয়ের পছন্দকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান না করে সেই জগতের অভিজ্ঞতা নিয়েছেন। ফলাফল—আরিয়ানা গ্রান্ডের কনসার্টে গিয়ে তাঁর নিজেরই নতুন এক ধরনের মিউজিকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে।

বচ্চন পরিবারের সঙ্গীতের ঐতিহ্যও আলাদা

বচ্চন পরিবারে সঙ্গীতের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন নয়। অভিষেক নিজেও অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে গান গেয়েছেন। ফলে তাঁর নিজের সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহ থাকার বিষয়টি নতুন নয়।

তবে তাঁর পছন্দ মূলত ভারতীয় এবং বিশেষ করে পুরনো হিন্দি চলচ্চিত্রের সঙ্গীতকে ঘিরে। অন্যদিকে আরাধ্যার পছন্দ আন্তর্জাতিক পপ ও রকের দিকে বেশি বিস্তৃত। এই দুই প্রজন্মের পছন্দ একসঙ্গে মিশে যাওয়াটাই এখন বচ্চন পরিবারের মিউজিকের গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

আরাধ্যার পছন্দের তালিকা শুনে বোঝা যায়, সে শুধু বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় গানেই আটকে নেই। পুরনো দশকের আন্তর্জাতিক রক মিউজিকের প্রতিও তার আগ্রহ রয়েছে। ফলে তার প্লেলিস্টে একদিকে টেলর সুইফট বা আরিয়ানা গ্রান্ডে, অন্যদিকে বন জোভি বা মেটালিকা—দুই ধরনের শিল্পীরই জায়গা রয়েছে। 

আরিয়ানা গ্রান্ডেকে নতুন করে আবিষ্কার অভিষেকের

আরিয়ানা গ্রান্ডের কনসার্টে যাওয়ার আগে অভিষেক তাঁর গান সম্পর্কে প্রায় অজ্ঞ ছিলেন। কিন্তু লাইভ পারফরম্যান্সের অভিজ্ঞতা তাঁকে দেখিয়েছে, কোনও শিল্পীকে শুধুমাত্র তাঁর জনপ্রিয়তা দিয়ে বিচার না করে তাঁর কাজকে সরাসরি অনুভব করাও গুরুত্বপূর্ণ।

কনসার্টে আরিয়ানার কণ্ঠ তাঁকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে। একইসঙ্গে তরুণ দর্শকদের উচ্ছ্বাসও তাঁর নজর কেড়েছে। 

অভিষেকের এই অভিজ্ঞতা তাই একদিকে যেমন আরাধ্যার মিউজিক পছন্দের পরিচয় দেয়, অন্যদিকে বাবা-মেয়ের সম্পর্কের একটি সহজ, স্বাভাবিক দিকও সামনে আনে।

সব মিলিয়ে, বচ্চন পরিবারের এই কনসার্ট-গল্পে সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্র যেন আরাধ্যাই। নিজের পছন্দের শিল্পীকে দেখাতে বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে বাবার প্লেলিস্টে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জায়গা করে দেওয়া—সবকিছুতেই রয়েছে এক সুন্দর প্রজন্মের সেতুবন্ধন।

আর অভিষেকের বক্তব্য থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—মেয়ের মিউজিক পছন্দ সম্পর্কে আগে হয়তো তাঁর ধারণা ছিল না, কিন্তু সেই পছন্দকে কাছ থেকে জানার পর তিনি নিজেও মুগ্ধ। 

মেয়ের মিউজিক পছন্দ সম্পর্কে অভিষেকের এই মন্তব্য তাই শুধু বিনোদন জগতের একটি খবর নয়। এর মধ্যে রয়েছে বাবা-মেয়ের সম্পর্ক, প্রজন্মের ব্যবধান এবং নতুন ধরনের সঙ্গীতকে গ্রহণ করার একটি সুন্দর বার্তা। সন্তান কী শুনছে, কী দেখছে বা কোন শিল্পীকে পছন্দ করছে—সেটি বোঝার চেষ্টা করলে বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের যোগাযোগ আরও সহজ হতে পারে।

আরাধ্যার পছন্দের তালিকায় এত ভিন্ন ধরনের শিল্পীর উপস্থিতিও বেশ নজরকাড়া। পপ মিউজিকের পাশাপাশি রক ও মেটাল—একাধিক ঘরানার গান শোনার অভ্যাস তার। আর সেই পছন্দই বাবাকে নতুন মিউজিকের সঙ্গে পরিচিত করছে।

সব মিলিয়ে, আরাধ্যা বচ্চনের মিউজিক পছন্দ নিয়ে অভিষেক বচ্চনের মন্তব্যে সামনে এসেছে বচ্চন পরিবারের এক অন্যরকম ছবি। পর্দার তারকা বাবা-মায়ের বাইরে এখানে দেখা যাচ্ছে একজন বাবাকে, যিনি মেয়ের পছন্দকে জানতে আগ্রহী এবং সেই পছন্দের অংশ হতে প্রস্তুত। আরিয়ানা গ্রান্ডের কনসার্ট থেকে শুরু করে টেলর সুইফট, অলিভিয়া রড্রিগো, বন জোভি, ভ্যান হ্যালেন ও মেটালিকা—আরাধ্যার মিউজিক দুনিয়া যে যথেষ্ট বৈচিত্র্যময়, তা অভিষেকের কথাতেই স্পষ্ট।

Preview image