গরম পড়তেই ফের সক্রিয় হয়েছে West Nile Virus, যা অনেক ক্ষেত্রেই Dengue ও Malaria-র তুলনায় বেশি জটিল আকার নিতে পারে। মশাবাহিত এই ভাইরাস শরীরে ঢুকে প্রথমে জ্বর, মাথাব্যথা, ক্লান্তির মতো উপসর্গ তৈরি করলেও গুরুতর ক্ষেত্রে এটি মস্তিষ্কে পৌঁছে স্নায়ুতন্ত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে এনসেফালাইটিস বা মেনিনজাইটিসের মতো অবস্থা তৈরি হয়ে রোগী পক্ষাঘাতগ্রস্ত পর্যন্ত হয়ে যেতে পারেন। তাই গরমের সময়ে মশার সংক্রমণ এড়াতে সতর্কতা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
গরম পড়তেই ফের সক্রিয় হয়ে উঠছে West Nile Virus, যা মশাবাহিত রোগগুলির মধ্যে অন্যতম উদ্বেগের কারণ। সাধারণত Dengue ও Malaria-র মতো পরিচিত হলেও, কিছু ক্ষেত্রে এই ভাইরাস আরও গুরুতর স্নায়বিক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস মূলত ফ্ল্যাভিভাইরাস (Flavivirus) গোত্রভুক্ত। এই একই গোত্রের অন্তর্ভুক্ত আরও কিছু ভাইরাস হলো:
? এই ভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৩৭ সালে আফ্রিকার West Nile District-এ, সেখান থেকেই এর নামকরণ।
? এই একই কিউলেক্স মশা থেকে আরও রোগ ছড়ায়, যেমন:
যদিও পশ্চিমের দেশগুলিতে এই ভাইরাস বেশি দেখা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে এর প্রকোপ বাড়ছে। বিশেষ করে Ernakulam-এ একাধিক সংক্রমণের খবর মিলেছে। তবে সংক্রমণ ঠিক কতটা ছড়িয়েছে, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
ভারতের স্বাস্থ্য সংস্থাগুলি—বিশেষ করে Centers for Disease Control and Prevention—এই ভাইরাসের আচরণ (mutation) বদলাচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।
ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রথম দিকে তেমন গুরুতর লক্ষণ বোঝা যায় না:
? কিন্তু সমস্যা শুরু হয় যখন ভাইরাস মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়।
ভাইরাস যদি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমণ করে, তখন দেখা দিতে পারে—
⚡ গুরুতর ক্ষেত্রে:
নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি:
? এদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ হলে স্নায়বিক জটিলতা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
West Nile Virus-এর সংক্রমণ সবার মধ্যেই হতে পারে, তবে কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মানুষের ক্ষেত্রে এই ভাইরাস অনেক বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যখন এটি শরীরের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলে, তখন পরিস্থিতি গুরুতর আকার নেয়। নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো—
শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এখনও সম্পূর্ণভাবে গড়ে ওঠে না। ফলে তারা সহজেই বিভিন্ন সংক্রমণের শিকার হয়। ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলে শিশুদের ক্ষেত্রে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। যদিও অনেক সময় উপসর্গ হালকা থাকে, তবে গুরুতর ক্ষেত্রে এটি মস্তিষ্কে পৌঁছে Encephalitis বা Meningitis-এর মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই কমতে থাকে। তাই বয়স্ক ব্যক্তিরা ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাদের শরীর সেই সংক্রমণের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে লড়াই করতে পারে না। এর ফলে—
এসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ প্রাণঘাতীও হতে পারে।
যাদের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল (যেমন—ডায়াবেটিস, ক্যানসার চিকিৎসা চলা, অঙ্গ প্রতিস্থাপন, বা দীর্ঘদিন স্টেরয়েড নেওয়া রোগী), তাদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাস দ্রুত মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। কারণ—
? এই তিনটি গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে সংক্রমণ হলে স্নায়বিক জটিলতা, পক্ষাঘাত (paralysis), এমনকি দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক অক্ষমতার ঝুঁকি অনেক বেশি।
বর্তমানে West Nile Virus-এর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো ভ্যাকসিন বা নিরাময়কারী ওষুধ সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য নয়। তাই সংক্রমণ এড়ানোই সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।
ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায়। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল বা জলাশয়ের কাছাকাছি এলাকায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিউলেক্স মশা সাধারণত রাতে বেশি সক্রিয় থাকে, তাই রাতে সুরক্ষা নেওয়া জরুরি।
মশা বংশবিস্তার করে জমে থাকা জলে। তাই—
এসব জায়গায় জল জমতে না দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সপ্তাহে অন্তত একবার এসব জায়গা পরিষ্কার করা উচিত।
বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতে বাইরে বের হলে শরীর ঢেকে রাখে এমন পোশাক পরা উচিত। এতে মশার কামড়ের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়।
বাজারে বিভিন্ন ধরনের মশা নিরোধক (repellent) পাওয়া যায়, যেমন—
এসব নিয়মিত ব্যবহার করলে মশার কামড় এড়ানো যায়।
বর্তমানে এই ভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনো টিকা বা ওষুধ নেই। তাই প্রতিরোধই একমাত্র ভরসা:
West Nile Virus-এর বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য কার্যকর ও সর্বজনীন ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা সহজলভ্য নয়। তাই এই রোগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হলো প্রতিরোধ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা ও দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমেই সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায়, বিশেষ করে বর্ষার আগে-পরে, মশার বংশবিস্তার দ্রুত বাড়ে। এই সময় Culex mosquito-এর সক্রিয়তাও বেড়ে যায়, যা ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস ছড়ানোর প্রধান মাধ্যম। তাই ব্যক্তিগত ও পরিবেশগত—দু’দিক থেকেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।
মশার কামড় থেকে বাঁচার সবচেয়ে সহজ, সাশ্রয়ী এবং কার্যকর উপায় হলো মশারি ব্যবহার। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর সময় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কিউলেক্স মশা মূলত নিশাচর—অর্থাৎ রাতেই বেশি সক্রিয় থাকে।
গ্রামাঞ্চল বা জলাশয়ের আশপাশে বসবাসকারী মানুষদের জন্য মশারি প্রায় অপরিহার্য। শহরেও, বিশেষ করে যেসব এলাকায় জল জমে থাকে বা ড্রেনেজ ব্যবস্থা দুর্বল, সেখানে মশার উপদ্রব বেশি—সেখানে মশারি ব্যবহারে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।
? বর্তমানে ইনসেক্টিসাইড-ট্রিটেড (ITN) মশারিও পাওয়া যায়, যা মশাকে শুধু দূরে রাখে না, মেরে ফেলতেও সাহায্য করে।
মশার জন্ম ও বংশবিস্তার হয় স্থির বা জমে থাকা জলে। তাই পরিবেশ পরিষ্কার রাখা প্রতিরোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলির একটি।
? একটি ছোট্ট ভুল—যেমন কোথাও জল জমে থাকা—পুরো এলাকায় মশার বিস্তার ঘটাতে পারে। তাই এটি শুধু ব্যক্তিগত নয়, সামাজিক দায়িত্বও।
মশার কামড় এড়াতে শরীর ঢেকে রাখা একটি কার্যকর পদ্ধতি। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতে বাইরে বের হলে—
পরা উচিত।
? হালকা রঙের পোশাক পরলে মশা কম আকৃষ্ট হয়—এটিও একটি ছোট কিন্তু কার্যকর টিপস।
বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের মশা নিরোধক (repellent) পাওয়া যায়, যা মশাকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।
? DEET, picaridin ইত্যাদি উপাদানযুক্ত রিপেলেন্ট কার্যকর হলেও, ব্যবহারের আগে সতর্কতা মেনে চলা জরুরি।
প্রতিরোধকে আরও শক্তিশালী করতে কিছু অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে—
ঘরে মশা ঢোকা আটকাতে দরজা-জানালায় মশারি নেট লাগানো খুবই কার্যকর।
নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে মশার বংশবিস্তার কমে।
শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন, কারণ তাদের শরীরে সংক্রমণের প্রভাব বেশি পড়ে।
এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।