ভারতীয় হকির সাম্প্রতিক সাফল্যে বড় ভূমিকা রয়েছে ওড়িশার। উন্নত পরিকাঠামোর পাশাপাশি হকির উন্নয়নে আর্থিকভাবেও উদার ওড়িশা।
ভারতীয় হকির সাম্প্রতিক সাফল্যের নেপথ্যে ওড়িশার ভূমিকা যে গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। উন্নত পরিকাঠামো তৈরি থেকে শুরু করে আর্থিক সহযোগিতা—হকির উন্নয়নে একাধিক ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিয়েছে ওড়িশা। সেই মডেলকে সামনে রেখেই এবার ফুটবলের উন্নয়নে আরও সক্রিয় ভাবে এগিয়ে আসতে চাইছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর এমন উদ্যোগের বার্তা ইতিমধ্যেই কলকাতার ফুটবল মহলে আশার আলো দেখিয়েছে। এই উদ্যোগের অংশীদার হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবও।
শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ব্রাজিল বনাম ভারত ম্যাচের পর ফুটবলের উন্নয়ন নিয়ে রাজ্য সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্যের পরেই কলকাতার ফুটবল মহলে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। কীভাবে রাজ্যে ফুটবলের পরিকাঠামো আরও উন্নত করা যায়, কীভাবে তৃণমূল স্তর থেকে প্রতিভাবান ফুটবলার তুলে আনা যায় এবং কী ভাবে বাংলাকে ফের দেশের ফুটবলের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যায়—তা নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। ক্লাবের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই উন্নয়ন পরিকল্পনায় তাঁরাও অংশীদার হতে চান।
## মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগকে স্বাগত ইস্টবেঙ্গলের
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকারের বক্তব্য, ফুটবলের উন্নয়নে রাজ্য সরকারের যে পরিকল্পনা রয়েছে, তাকে তাঁরা স্বাগত জানাচ্ছেন।
তিনি জানিয়েছেন, ফুটবলের প্রচার ও প্রসারে ইস্টবেঙ্গল দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে। ভবিষ্যতেও সেই ভূমিকা বজায় রাখতে ক্লাব প্রস্তুত।
অর্থাৎ, শুধু নিজেদের দল বা ক্লাবের স্বার্থে নয়, বাংলার ফুটবলের সামগ্রিক উন্নয়নেও অংশীদার হতে চায় লাল-হলুদ শিবির।
## ওড়িশার হকি মডেল কি ফুটবলেও?
ভারতীয় হকির সাম্প্রতিক সাফল্যের সঙ্গে ওড়িশার নাম ঘনিষ্ঠ ভাবে জড়িয়ে রয়েছে। পরিকাঠামো তৈরি, প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি এবং আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে হকির উন্নয়নে রাজ্যটির ভূমিকা ইতিমধ্যেই আলোচনায় এসেছে।
সেই মডেলকেই ফুটবলের ক্ষেত্রে কাজে লাগানোর ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাজ্যে ফুটবলের পরিকাঠামো উন্নত করা গেলে শুধু কলকাতার বড় ক্লাবগুলিই নয়, জেলা ও মফস্সলের প্রতিভাবান ফুটবলারদেরও সামনে উঠে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃণমূল স্তর থেকে প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা যত শক্তিশালী হবে, ততই ভবিষ্যতে জাতীয় দলের জন্য ফুটবলার তৈরির সম্ভাবনা বাড়বে।
## অ্যাকাডেমি তৈরিতে জোর ইস্টবেঙ্গলের
ফুটবলের উন্নয়নের পাশাপাশি নিজেদের অ্যাকাডেমি তৈরির বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ইস্টবেঙ্গল। দীর্ঘদিন ধরেই ক্লাবের তরফে একটি উন্নত ফুটবল অ্যাকাডেমি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে অ্যাকাডেমি তৈরির জন্য জমি চেয়ে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদনও জানিয়েছিল ক্লাব। সেই উদ্যোগ এখনও জারি রয়েছে। এবার কয়েক দিনের মধ্যেই ফের রাজ্য সরকারের কাছে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে লাল-হলুদ ম্যানেজমেন্ট।
ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপযুক্ত জমি পাওয়া গেলে নিজেদের খরচেই অ্যাকাডেমি তৈরি করতে প্রস্তুত তারা।
## তৃণমূল স্তর থেকেই ফুটবলার তুলে আনার পরিকল্পনা
বর্তমান সময়ে ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হল তৃণমূল স্তর থেকে পর্যাপ্ত সংখ্যক প্রতিভাবান ফুটবলার তুলে আনা। শুধু বড় শহর বা নামী ক্লাবের উপর নির্ভর না করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়মিত ভাবে প্রতিভা খোঁজার প্রয়োজন রয়েছে।
ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষকর্তার বক্তব্যেও সেই বিষয়টি উঠে এসেছে। তাঁর মতে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল স্তরে কাজ করা প্রয়োজন। শুধু একটি বা দু’টি অ্যাকাডেমি দিয়ে এই কাজ সম্ভব নয়। আরও বেশি সংখ্যক অ্যাকাডেমি প্রয়োজন।
তাঁর মতে, প্রতিটি ক্লাব এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিরও এই কাজে এগিয়ে আসা উচিত।
## কেন অ্যাকাডেমি এত গুরুত্বপূর্ণ?
একজন প্রতিভাবান ফুটবলারকে শুধু মাঠে খেলার সুযোগ দিলেই তিনি পরিণত ফুটবলার হয়ে উঠতে পারেন না। বয়স অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, শারীরিক সক্ষমতা তৈরি, টেকনিক্যাল দক্ষতা, ম্যাচ পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং মানসিক প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়।
একটি ভালো অ্যাকাডেমি সেই সুযোগ তৈরি করতে পারে।
শৈশব থেকেই যদি ফুটবলারদের সঠিক প্রশিক্ষণের আওতায় আনা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে তাদের পেশাদার ফুটবলের জন্য প্রস্তুত করা সহজ হয়। একই সঙ্গে প্রতিভাবান ফুটবলারদের মধ্যে থেকে ভবিষ্যতের জাতীয় দলের খেলোয়াড়ও উঠে আসতে পারেন।
ইস্টবেঙ্গলের নিজস্ব অ্যাকাডেমি তৈরির পরিকল্পনা সেই দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
## জমি পেলেই নিজেদের খরচে অ্যাকাডেমি
ইস্টবেঙ্গলের পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, উপযুক্ত জমি পাওয়া গেলে অ্যাকাডেমি তৈরির জন্য নিজেদের অর্থ খরচ করতে প্রস্তুত ক্লাব।
অর্থাৎ, পরিকাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় জায়গা পাওয়াকেই প্রধান বিষয় হিসেবে দেখছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। জায়গা পাওয়া গেলে পরবর্তী নির্মাণ ও উন্নয়নের কাজে ক্লাব নিজস্ব উদ্যোগে এগিয়ে যেতে চায়।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলার ফুটবলে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
## জাতীয় দলের জন্য ফুটবলার তৈরির লক্ষ্য
ভারতীয় ফুটবলের উন্নয়নের ক্ষেত্রে জাতীয় দলের জন্য মানসম্পন্ন ফুটবলার তৈরি করা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বড় ক্লাবগুলির অ্যাকাডেমি থেকে যদি নিয়মিত ভাবে প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসেন, তাহলে দেশের ফুটবলের ভিত্তিও শক্তিশালী হতে পারে।
ইস্টবেঙ্গলের মতো ঐতিহ্যশালী ক্লাবের নিজস্ব অ্যাকাডেমি থাকলে তরুণ ফুটবলারদের কাছে একটি বড় মঞ্চ তৈরি হবে। সেখান থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা বয়সভিত্তিক দল, সিনিয়র দল এবং শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলের দরজায় পৌঁছতে পারেন।
তাই অ্যাকাডেমির বিষয়টিকে শুধু ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে দেখলে হবে না। এটি বাংলার ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের সঙ্গেও যুক্ত।
## ইনভেস্টর সমস্যা মেটাতেও তৎপর ইস্টবেঙ্গল
অ্যাকাডেমির পাশাপাশি ইস্টবেঙ্গলের সামনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ইনভেস্টর সমস্যা। ক্লাব কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করতে চাইছে।
বর্তমান সময়ে বড় মাপের ফুটবল পরিচালনা করতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন। খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক, কোচিং স্টাফ, পরিকাঠামো, ভ্রমণ, প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ—সব ক্ষেত্রেই বড় আর্থিক সংস্থানের প্রয়োজন হয়।
বিশেষ করে একাধিক প্রতিযোগিতায় একই সঙ্গে দল খেললে আর্থিক চাপ আরও বাড়ে। তাই দীর্ঘমেয়াদি ভাবে শক্তিশালী দল তৈরি এবং ক্লাবের বিভিন্ন প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্থায়ী আর্থিক কাঠামো প্রয়োজন।
ইস্টবেঙ্গল কর্তৃপক্ষও সেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
## একাধিক প্রতিযোগিতায় ইস্টবেঙ্গল
চলতি মরশুমে ঘরোয়া প্রতিযোগিতার পাশাপাশি এশিয়ার ক্লাব পর্যায়ের প্রতিযোগিতাতেও অংশ নিচ্ছে ইস্টবেঙ্গল। ক্লাবের পুরুষ দল এসিএল টু-তে খেলছে। পাশাপাশি মহিলা দলও এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অংশ নিচ্ছে।
ফলে একই সময়ে ক্লাবের একাধিক দলকে নিয়ে বড় পরিসরে পরিকল্পনা করতে হচ্ছে কর্তাদের।
পুরুষ দলের পাশাপাশি মহিলা ফুটবলকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার ফলে দলের সংখ্যা এবং প্রতিযোগিতার পরিমাণ বেড়েছে। তার সঙ্গে রয়েছে জাতীয় দলের ফুটবলারদের উপস্থিতি এবং বিদেশি খেলোয়াড়দের নিয়েও দল গড়ার প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে আর্থিক সংস্থানের প্রয়োজনীয়তা আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে।
## অর্থের সংস্থান নিয়ে আশাবাদী ক্লাব
ইনভেস্টর সমস্যা নিয়ে ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন, ক্লাব কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলেও আশাবাদী তিনি।
ক্লাবের দৃষ্টিতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ, শক্তিশালী আর্থিক কাঠামো ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ফুটবল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন।
অ্যাকাডেমি তৈরি থেকে শুরু করে বড় দল পরিচালনা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই স্থায়ী আর্থিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। ফলে ইনভেস্টর সমস্যার সমাধান হলে ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলিও আরও গতি পেতে পারে।
## মহিলা ফুটবলেও বাড়ছে গুরুত্ব
বর্তমানে শুধু পুরুষ ফুটবল নয়, মহিলা ফুটবল নিয়েও ইস্টবেঙ্গল সক্রিয় ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। মহিলা দলের এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অংশগ্রহণ সেই উদ্যোগেরই একটি বড় উদাহরণ।
ভারতে মহিলা ফুটবলের জনপ্রিয়তা এবং প্রতিযোগিতার পরিধি ধীরে ধীরে বাড়ছে। ফলে ক্লাব পর্যায়ে মহিলা ফুটবলের জন্য শক্তিশালী পরিকাঠামো তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইস্টবেঙ্গলের অ্যাকাডেমি পরিকল্পনা যদি ভবিষ্যতে মেয়েদের ফুটবলকেও অন্তর্ভুক্ত করে, তাহলে আরও বেশি তরুণী ফুটবলার উঠে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
## বাংলার ফুটবলে নতুন সম্ভাবনা
বাংলার ফুটবলের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। কলকাতার তিন প্রধান ক্লাবকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ রয়েছে। কিন্তু আধুনিক ফুটবলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে শুধু ঐতিহ্য যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন উন্নত পরিকাঠামো, বয়সভিত্তিক প্রশিক্ষণ, আধুনিক অ্যাকাডেমি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
এই জায়গাতেই রাজ্য সরকারের উদ্যোগ এবং ক্লাবগুলির অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সরকার যদি পরিকাঠামো তৈরিতে সহযোগিতা করে এবং ক্লাবগুলি নিজেদের অভিজ্ঞতা ও আর্থিক সংস্থান নিয়ে এগিয়ে আসে, তাহলে বাংলার ফুটবলে নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।
## শুধু কলকাতা নয়, জেলাতেও নজর প্রয়োজন
বাংলার ফুটবলে প্রতিভার অভাব নেই। বহু প্রতিভাবান খেলোয়াড় কলকাতার বাইরে বিভিন্ন জেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসেন। কিন্তু সঠিক প্রশিক্ষণ এবং সুযোগের অভাবে অনেক প্রতিভাই হারিয়ে যায়।
তাই অ্যাকাডেমি তৈরির পাশাপাশি জেলা ও মফস্সল স্তরে প্রতিভা অন্বেষণের ব্যবস্থা করাও জরুরি।
স্কুল ফুটবল, জেলা লিগ, বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা এবং স্থানীয় ফুটবল কাঠামোকে শক্তিশালী করা গেলে আরও বেশি সংখ্যক তরুণ খেলোয়াড় সামনে আসতে পারেন।
ইস্টবেঙ্গল কর্তৃপক্ষের ‘দেশজুড়ে তৃণমূল স্তরে কাজ করার’ যে বক্তব্য, তার সঙ্গে এই ভাবনাটিও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
## ক্লাব ও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির ভূমিকা
ফুটবলের উন্নয়নে শুধু সরকারের উপর নির্ভর করলে হবে না। বড় ক্লাব এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলিকেও দায়িত্ব নিতে হবে। বিশেষ করে যেসব ক্লাবের দীর্ঘ ইতিহাস, বড় সমর্থকগোষ্ঠী এবং আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে, তারা যদি নিজস্ব অ্যাকাডেমি ও তৃণমূল স্তরের ফুটবলে বিনিয়োগ করে, তাহলে তার সুফল দীর্ঘমেয়াদে পাওয়া যেতে পারে।
ইস্টবেঙ্গলের পক্ষ থেকেও প্রতিটি ক্লাব ও ফ্র্যাঞ্চাইজিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর ফলে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের পাশাপাশি তরুণ খেলোয়াড় তৈরির একটি শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে।
## ওড়িশার মডেল থেকে শিক্ষা
হকির ক্ষেত্রে ওড়িশার যে মডেল নিয়ে আলোচনা হয়, তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। শুধু একটি প্রতিযোগিতা বা একটি দলের জন্য নয়, পুরো খেলাটির পরিকাঠামো উন্নয়নের দিকে নজর দেওয়া হয়েছে।
ফুটবলেও যদি একই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া যায়, তাহলে তার সুফল দ্রুত না এলেও ভবিষ্যতে বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
পরিকাঠামো, অ্যাকাডেমি, প্রশিক্ষক, প্রতিভা অন্বেষণ এবং আর্থিক সহযোগিতা—সবকিছুকে একটি পরিকল্পনার মধ্যে আনা প্রয়োজন।
## মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে আশার আলো
শনিবার যুবভারতীতে ব্রাজিল বনাম ভারত ম্যাচের পর মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর কলকাতার ফুটবল মহলে যে আশার সঞ্চার হয়েছে, ইস্টবেঙ্গলের প্রতিক্রিয়ায় তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
ক্লাবের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, রাজ্য সরকারের ফুটবল উন্নয়নের পরিকল্পনায় তাঁরা অংশ নিতে আগ্রহী।
অর্থাৎ, সরকার যদি উদ্যোগ নেয় এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরির জন্য সহযোগিতা করে, তাহলে ইস্টবেঙ্গলও নিজেদের অভিজ্ঞতা, পরিকাঠামো এবং আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে সেই কাজে অংশ নিতে প্রস্তুত।
## সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
তবে পরিকল্পনা ঘোষণা করা এবং বাস্তবে তা কার্যকর করার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। অ্যাকাডেমির জন্য জমি পাওয়া, পরিকাঠামো তৈরি, প্রশিক্ষক নিয়োগ, খেলোয়াড় বাছাই, দীর্ঘমেয়াদি অর্থের সংস্থান এবং নিয়মিত প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা—সবকিছুই সময়সাপেক্ষ।
তার উপর ইস্টবেঙ্গলের সামনে রয়েছে ইনভেস্টর সমস্যার সমাধানের চ্যালেঞ্জ।
তাই আগামী দিনে ক্লাব কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে আলোচনার ফল কী হয়, তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।
## নতুন প্রজন্মের ফুটবলার তৈরিই লক্ষ্য
সব পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নতুন প্রজন্মের ফুটবলার তৈরি করা। কলকাতার ফুটবল ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হলে তরুণ খেলোয়াড়দের আরও বেশি সুযোগ দিতে হবে।
একটি শক্তিশালী অ্যাকাডেমি সেই কাজের ভিত্তি তৈরি করতে পারে। সঠিক প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত প্রতিযোগিতার সুযোগ পেলে তরুণ ফুটবলারদের দক্ষতা বাড়বে। একই সঙ্গে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরের ফুটবলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের তৈরি করার সুযোগ পাবেন তাঁরা।
ইস্টবেঙ্গলের অ্যাকাডেমি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সেই পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
## ফুটবলের উন্নয়নে একসঙ্গে এগোনোর বার্তা
সব মিলিয়ে রাজ্য সরকারের ফুটবল উন্নয়নের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলতে পারে বাংলায়। ওড়িশার হকি মডেলকে সামনে রেখে ফুটবলের পরিকাঠামো উন্নত করার ভাবনা, ইস্টবেঙ্গলের অ্যাকাডেমি তৈরির পরিকল্পনা এবং ক্লাবের সরকারের উদ্যোগে অংশ নেওয়ার আগ্রহ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
তবে এই উদ্যোগ কতটা বাস্তবায়িত হয়, সেটাই এখন দেখার। জমির আবেদন, অ্যাকাডেমি তৈরির পরিকল্পনা এবং ইনভেস্টর সমস্যার সমাধান—এই তিনটি বিষয়েই আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি প্রয়োজন।
**বাংলার ফুটবলের পুরনো গৌরব ফেরাতে হলে সরকার, ক্লাব, ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং ফুটবলপ্রেমী—সব পক্ষকে
ই একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে ইস্টবেঙ্গল সেই বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশীদার হতে চায়—এখন সেই আগ্রহ বাস্তবে কতটা রূপ নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে ফুটবল মহলের।**