তিরন্দাজির পর এবার শুটিংয়েও সোনার সাফল্য ভারতের কাইনান চেনাই ও নীরু ঢান্দার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার খবরে দেশের পদকপ্রাপ্তির আনন্দ আরও বাড়ল তাঁদের সাফল্যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় শুটিংয়ের উজ্জ্বল উপস্থিতি ফের সামনে এল
তিরন্দাজির সাফল্যের পর এবার শুটিং রেঞ্জ থেকেও ভারতের ঝুলিতে এল সোনা। জাপানের আইচি নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ এশিয়ান গেমসে ট্র্যাপ মিক্সড টিম ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হলেন কাইনান চেনাই ও নীরু ঢান্দা। এই বিভাগে ভারতের প্রথম এশিয়ান গেমস সোনা এনে দিলেন তাঁরা। ভারতীয় জুটির জয় দেশের শুটিং অভিযানে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। ফাইনালে কাইনান ও নীরু ৩৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করেন। ৩২ পয়েন্ট নিয়ে রুপো জেতে কাতার এবং ২৩ পয়েন্ট নিয়ে ব্রোঞ্জ পায় চিন। ভারতীয় জুটির স্কোর আগের ৩০ পয়েন্টের এশীয় রেকর্ডও অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছে পিটিআইয়ের প্রতিবেদন। ফলে সোনার পদকের সঙ্গে এই জয় যুক্ত হয়েছে রেকর্ডের সঙ্গেও।
তবে যোগ্যতা অর্জন পর্বে ভারতীয় জুটি শীর্ষে ছিল না। মোট ১৩৬ পয়েন্ট নিয়ে ১২টি দলের মধ্যে চতুর্থ স্থানে থেকে ফাইনালে পৌঁছন তাঁরা। কাইনানের সংগ্রহ ছিল ৭৩ পয়েন্ট এবং নীরুর ৬৩। ফাইনালে সেই অবস্থান থেকে উঠে এসে সোনা জেতা তাঁদের সাফল্যকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে। যোগ্যতা অর্জন পর্বের ফল যে চূড়ান্ত লড়াইয়ের পরিণতি নির্ধারণ করে না, এই জয় তার একটি উদাহরণ। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী ফাইনালে কাইনান ধারাবাহিকভাবে লক্ষ্যভেদ করেন। নীরুও শুরুর কিছুটা অনিশ্চয়তা কাটিয়ে নিজের পারফরম্যান্স উন্নত করেন। দুই শুটারের মিলিত প্রচেষ্টায় ভারত প্রতিদ্বন্দ্বীদের পিছনে ফেলে শীর্ষে পৌঁছয়। এই ফল ব্যক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি জুটি হিসেবে তাঁদের কার্যকর পারফরম্যান্সকেও সামনে এনেছে। নীরুর কাছে এই সোনা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আগের দিন মহিলাদের ব্যক্তিগত ট্র্যাপ ইভেন্টে সোনা এবং দলগত ট্র্যাপে রুপো জিতেছিলেন তিনি। মিক্সড টিমের সাফল্য মিলিয়ে চলতি এশিয়ান গেমসে তাঁর পদকের সংখ্যা দাঁড়াল তিনে দুটি সোনা ও একটি রুপো। তাই তাঁর ক্ষেত্রে এটি তিনটি পদক অর্জনের সাফল্য তিনটি সোনা নয়।
এই জয়ের গুরুত্ব শুধু পদকের রঙে সীমাবদ্ধ নেই। যোগ্যতা অর্জন পর্বের পরে ফাইনালে আরও ভালো ফল করার জন্য নতুন করে মনোযোগ ধরে রাখা প্রয়োজন হয়। আগের স্কোর নিয়ে পড়ে না থেকে পরবর্তী সুযোগ কাজে লাগানো প্রতিযোগিতামূলক খেলায় গুরুত্বপূর্ণ। কাইনান ও নীরুর ফল সেই দিক থেকে চাপের মধ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর একটি নজির হিসেবে দেখা যায়। তিরন্দাজি এবং শুটিং দুই ক্ষেত্রের সাফল্য ভারতের ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য আনন্দের উপলক্ষ তৈরি করেছে। তবে প্রতিটি পদকের নিজস্ব গুরুত্ব রয়েছে। কাইনান ও নীরুর জয়কে বিশেষ করে তুলেছে ট্র্যাপ মিক্সড টিম বিভাগে ভারতের প্রথম এশিয়াড সোনা এবং ফাইনালের রেকর্ড স্কোর। এই অর্জন ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতায় তাঁদের প্রতি প্রত্যাশা বাড়াতে পারে যদিও পরবর্তী ফল নির্ভর করবে সেই সময়ের প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্সের উপর। আইচি নাগোয়ার শুটিং রেঞ্জে ভারতীয় জুটির এই সাফল্য তাই একটি স্মরণীয় মুহূর্ত। চতুর্থ স্থানে থেকে ফাইনালে ওঠার পরে সর্বোচ্চ মঞ্চে নিজেদের এগিয়ে নিয়ে গিয়ে সোনা নিশ্চিত করেছেন তাঁরা। নীরুর তিন পদকের অভিযানের সঙ্গে কাইনানের এই যৌথ জয় ভারতীয় শুটিংয়ের এবারের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেল।
কাইনান চেনাই ও নীরু ঢান্দার সোনার সাফল্যকে শুধু পদক তালিকার একটি সংযোজন হিসেবে দেখলে এই জয়ের সম্পূর্ণ গুরুত্ব বোঝা যাবে না। যোগ্যতা অর্জন পর্বে চতুর্থ স্থানে থাকার পরে ফাইনালে নিজেদের পারফরম্যান্স উন্নত করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তাঁরা। ট্র্যাপ মিক্সড টিম বিভাগে ভারতের প্রথম এশিয়ান গেমস সোনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রেকর্ড স্কোর। এই দুটি বিষয় ভারতীয় জুটির জয়কে বিশেষ তাৎপর্য দিয়েছে। প্রতিযোগিতার একটি পর্ব শেষ হওয়ার পরে পরবর্তী পর্বের জন্য নতুনভাবে মনোযোগ ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। যোগ্যতা অর্জন পর্বে কে কোন অবস্থানে শেষ করলেন তা ফাইনালে প্রবেশের পথ নির্ধারণ করে। কিন্তু চূড়ান্ত লড়াইয়ে আগের অবস্থানের উপর নির্ভর করে জয় নিশ্চিত হয় না। সেখানে আবার নিজের দক্ষতা প্রয়োগ করতে হয়। কাইনান ও নীরুর ফল এই পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট উদাহরণ প্রাথমিক পর্বে শীর্ষে না থেকেও তাঁরা শেষ পর্যন্ত সেরা হয়েছেন।
এই সাফল্য থেকে বোঝা যায় একটি পর্বের স্কোর দিয়ে পুরো অভিযানের মূল্যায়ন করা যথেষ্ট নয়। প্রতিযোগীর সামনে পরবর্তী সুযোগ থাকলে সেই সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। আগের ফল নিয়ে অতিরিক্ত ভাবতে থাকলে নতুন পর্বের প্রস্তুতি ব্যাহত হতে পারে। আবার সেই অভিজ্ঞতা থেকে প্রয়োজনীয় সংশোধন করে এগিয়ে যেতে পারলে ভালো ফলের সম্ভাবনা তৈরি হয়। ভারতীয় জুটির জয়কে এই দৃষ্টিকোণ থেকে চাপের মধ্যে পারফরম্যান্স উন্নত করার নজির হিসেবে দেখা যায়। তবে তাঁদের মনের ভিতরে ঠিক কী চলছিল বা তাঁরা কোন নির্দিষ্ট মানসিক কৌশল ব্যবহার করেছিলেন, তা শুধু ফলাফল দেখে বলা সম্ভব নয়। নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ফাইনালে তাঁদের মিলিত স্কোর প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে বেশি ছিল। সেই ফলের ভিত্তিতেই তাঁরা সোনা অর্জন করেছেন। তাঁদের জয় নিয়ে আলোচনা করার সময় এই পার্থক্য রাখা প্রয়োজন স্কোর ও পদক যাচাইযোগ্য তথ্য, আর মানসিক প্রস্তুতির ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের বিষয়।
মিক্সড টিমের সাফল্যে দুই খেলোয়াড়ের অবদান একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়। একজনের ভালো ফল গুরুত্বপূর্ণ হলেও চূড়ান্ত স্কোর তৈরি হয় দু’জনের পারফরম্যান্স মিলিয়ে। ফলে এই পদক কাইনান ও নীরুর যৌথ অর্জন। একই লক্ষ্য সামনে রেখে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া এবং ফাইনালে কার্যকর ফল তুলে ধরার মধ্য দিয়েই ভারতীয় জুটি শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে। এই ধরনের জয় ব্যক্তিগত সাফল্য এবং দলীয় অর্জনের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে। নীরুর নিজের পদক অভিযানের সঙ্গে কাইনানের অবদান যুক্ত হয়ে ভারতের জন্য নতুন সাফল্য এনেছে। এখানে একজনের পরিচিতি দিয়ে অন্যজনের ভূমিকা আড়াল করার সুযোগ নেই। যৌথ ইভেন্টের পদক হিসেবে এই জয়ের মূল্যায়নে দু’জনের নামই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।নীরুর কাছে মিক্সড টিমের সোনা তাঁর এবারের অভিযানের আরও একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। মহিলাদের ব্যক্তিগত ট্র্যাপে সোনা এবং দলগত বিভাগে রুপোর পরে এই পদক মিলিয়ে তাঁর সংগ্রহ হয়েছে তিনটি পদক। দুটি সোনা ও একটি রুপোর এই অর্জন বিভিন্ন বিভাগে তাঁর সফল অংশগ্রহণকে সামনে এনেছে।
তিরন্দাজির সাফল্যের সঙ্গে শুটিংয়ের এই জয় যুক্ত হওয়ায় ভারতের ক্রীড়াপ্রেমীদের আনন্দের পরিসরও বেড়েছে। আলাদা খেলায় পদক অর্জনের অর্থ আলাদা ধরনের দক্ষতা, প্রস্তুতি এবং প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করা। তাই একই দিনের সাফল্যগুলিকে একসঙ্গে উদ্যাপন করা গেলেও প্রতিটি অর্জনের নিজস্ব ইতিহাস ও গুরুত্ব রয়েছে। কাইনান নীরুর পদকের বিশেষ পরিচয় হলো ট্র্যাপ মিক্সড টিমে ভারতের প্রথম এশিয়াড সোনা।
এই জয় ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতায় তাঁদের প্রতি প্রত্যাশা বাড়াতে পারে। একটি বড় আসরে সেরা হওয়ার পরে স্বাভাবিকভাবেই পরবর্তী পারফরম্যান্সের দিকে নজর থাকে। কিন্তু বর্তমান সাফল্য ভবিষ্যতের ফল নিশ্চিত করে না। নতুন প্রতিযোগিতায় প্রস্তুতি শারীরিক অবস্থা এবং সেই দিনের পারফরম্যান্স আবার গুরুত্বপূর্ণ হবে। তাই এই অর্জনকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি পরবর্তী অভিযানকে নতুন পরীক্ষা হিসেবে দেখা প্রয়োজন। তরুণ খেলোয়াড়দের জন্যও এই ফল উৎসাহের কারণ হতে পারে। যোগ্যতা অর্জন পর্বে পিছিয়ে থাকা মানেই প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়া নয় এই বার্তা ফলাফলের মধ্যেই রয়েছে। সুযোগ থাকা পর্যন্ত নিজের কাজের উপর মনোযোগ ধরে রাখা এবং পরবর্তী পর্বে উন্নতির চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে আন্তর্জাতিক সাফল্যের পিছনে দীর্ঘ প্রস্তুতির প্রয়োজন থাকে একটি পদক সেই প্রস্তুতির দৃশ্যমান ফল। আইচি নাগোয়ার শুটিং রেঞ্জে কাইনান ও নীরুর জয় তাই ভারতের এবারের অভিযানে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। চতুর্থ স্থানে থেকে ফাইনালে পৌঁছে রেকর্ড স্কোরে সোনা অর্জন তাঁদের পারফরম্যান্সের উন্নতিকে স্পষ্ট করেছে। এই পদকের মূল্য রয়েছে প্রথমবারের অর্জনে, যৌথ প্রচেষ্টায় এবং চূড়ান্ত লড়াইয়ে নিজেদের এগিয়ে নেওয়ার মধ্যে। ভারতীয় শুটিংয়ের সাফল্যের তালিকায় তাঁদের এই জয় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে যুক্ত হলো।