Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

গ্র্যামির দৌড়ে ‘ধুরন্ধর ২’! ৩০০০ কোটির ব্লকবাস্টার ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন রেকর্ড, বড় ঘোষণা নির্মাতাদের

২০২৭ সালের ৬৯তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের দৌড়ে ‘ধুরন্ধর ২’কে ঘিরে বাড়ছে প্রত্যাশা। ৩০০০ কোটির ব্লকবাস্টার ফ্র্যাঞ্চাইজির হাত ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় সিনেমা ও সঙ্গীতের সাফল্যের সম্ভাবনা নিয়ে নজর এখন নির্মাতাদের বড় ঘোষণায়। এবার গ্র্যামির মঞ্চে কি নজির গড়বে ‘ধুরন্ধর ২’?

গ্র্যামির দৌড়ে ‘ধুরন্ধর ২’, ৩০১৯ কোটির বক্স অফিস সাফল্যের পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে বড় চমক!

বক্স অফিসে একের পর এক রেকর্ড গড়ে এবার আন্তর্জাতিক সঙ্গীতের অন্যতম সম্মানজনক পুরস্কার গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের দৌড়ে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। রণবীর সিং অভিনীত এবং আদিত্য ধর পরিচালিত এই ছবির সাফল্য ঘিরে দর্শকমহলে নতুন করে তৈরি হয়েছে আগ্রহ। ছবির অ্যাকশন, অভিনয় এবং গল্পের পাশাপাশি এবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে এর সঙ্গীত। টি-সিরিজ এবং বি৬২ স্টুডিওজের তরফে জানানো হয়েছে, ৬৯তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের একাধিক বিভাগে বিবেচনার জন্য ছবিটির অ্যালবাম ও একাধিক গান জমা দেওয়া হয়েছে।

২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ধুরন্ধর’ এবং ২০২৬ সালের মার্চে মুক্তি পাওয়া তার দ্বিতীয় পর্ব ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ ইতিমধ্যেই বক্স অফিসে বিপুল সাফল্য অর্জন করেছে বলে প্রকাশিত বাণিজ্যিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। দুই ছবির সম্মিলিত বিশ্বব্যাপী আয় ৩০১৯.৩৫ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিপুল ব্যবসার পর এবার ছবির সঙ্গীত আন্তর্জাতিক মঞ্চে কতটা পরিচিতি পায়, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল।

গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের দৌড়ে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’

ভারতীয় সিনেমার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বরাবরই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কোনও ভারতীয় ছবির সঙ্গীত আন্তর্জাতিক পুরস্কারের মঞ্চে আলোচনায় উঠে এলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট শিল্পী বা প্রযোজনা সংস্থার জন্য নয়, দেশের সঙ্গীতজগতের কাছেও উল্লেখযোগ্য ঘটনা হয়ে ওঠে। সেই কারণেই ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর অ্যালবামকে ঘিরে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

টি-সিরিজ এবং বি৬২ স্টুডিওজের তরফে ছবিটির সঙ্গীত নিয়ে যে খবর প্রকাশ করা হয়েছে, তার ভিত্তিতে একাধিক গ্র্যামি বিভাগের জন্য গান জমা দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। ছবির সঙ্গীত পরিচালক শাশ্বত সচদেবের তৈরি অ্যালবামের বিভিন্ন গান আলাদা আলাদা বিভাগে বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার। গ্র্যামি পুরস্কারের জন্য কোনও গান বা অ্যালবাম জমা দেওয়া, সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত হওয়া এবং শেষ পর্যন্ত পুরস্কার জেতা—এই তিনটি আলাদা পর্যায়। তাই ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর গানগুলি জমা পড়েছে বলেই চূড়ান্ত মনোনয়ন বা পুরস্কার নিশ্চিত হয়েছে, এমনটা বলা যায় না। সংশ্লিষ্ট বিভাগের নিয়ম, যোগ্যতা যাচাই এবং পরবর্তী নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত ফল নির্ধারিত হবে।

অ্যালবাম জমা পড়েছে কোন বিভাগে?

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর সম্পূর্ণ অ্যালবাম ‘Best Compilation Soundtrack for Visual Media’ বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে। এই বিভাগের সঙ্গে সিনেমা ও অন্যান্য ভিজ্যুয়াল মাধ্যমের জন্য তৈরি সঙ্গীত সংকলনের সম্পর্ক রয়েছে। ছবির বিভিন্ন গান একসঙ্গে একটি অ্যালবাম হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিবেচিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।

একটি সিনেমার সঙ্গীত শুধু একটি গান বা একটি জনপ্রিয় সুরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। গল্পের আবহ তৈরি করা, চরিত্রের মানসিক অবস্থাকে তুলে ধরা, দৃশ্যের উত্তেজনা বাড়ানো এবং দর্শকের মনে ছবির স্মৃতি ধরে রাখার ক্ষেত্রেও সঙ্গীত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর অ্যালবামকে ঘিরে আলোচনাতেও সেই সামগ্রিক সঙ্গীত অভিজ্ঞতার বিষয়টি সামনে এসেছে।

তবে অ্যালবামটি জমা পড়া এবং গ্র্যামির চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাওয়া এক বিষয় নয়। এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, গান ও অ্যালবামগুলির জমা দেওয়ার খবরকে সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পথে একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা।

শাশ্বত সচদেবের সঙ্গীতে নয়টি গান নিয়ে আলোচনা

‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন শাশ্বত সচদেব। ছবির অ্যালবামে বিভিন্ন ধরনের সঙ্গীতধারা, শিল্পীর কণ্ঠ এবং গানের পরিবেশনা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, অ্যালবামের নয়টি গানকে পৃথক গ্র্যামি বিভাগে বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়েছে।

এই তালিকায় রয়েছে অরিজিৎ সিংয়ের কণ্ঠে ‘ফির সে’, বম্বে রকার্স, খান সাব, জ্যাসমিন স্যান্ডলাস, রেবল, টোকেন ও সুধীর যাদুবংশীদের পরিবেশনায় ‘আরি আরি’, ‘জান সে গুজরাতে হ্যায়’, ‘কানহাইয়া’, ‘যাইয়ে সাজনা’, ‘ডেস্টিনি – মন আটকিয়া’, ‘ভারি জাভান’ এবং ‘হাম প্যায়ার করনে ওয়ালে’-র মতো গান।

প্রতিটি গানের সঙ্গীতধারা, পরিবেশনা এবং সম্ভাব্য বিভাগ আলাদা হওয়ায় অ্যালবামটির বৈচিত্র্যও আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে। যদিও গানগুলির জমা দেওয়ার খবরকে চূড়ান্ত মনোনয়নের সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক হবে না, তবুও ছবির সঙ্গীতকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার এই প্রচেষ্টা নজর কেড়েছে।

‘ফির সে’ গান নিয়ে বাড়তি আগ্রহ

‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর অ্যালবামে অরিজিৎ সিংয়ের কণ্ঠে ‘ফির সে’ গানটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গানটি ‘Best Song Written for Visual Media’ বিভাগের জন্য জমা দেওয়া হয়েছে।

অরিজিৎ সিং ভারতীয় সঙ্গীতজগতের পরিচিত নাম। তাঁর কণ্ঠে কোনও ছবির গান প্রকাশিত হলে তা নিয়ে শ্রোতাদের আগ্রহ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। সেই পরিচিতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর বিপুল জনপ্রিয়তা। ফলে ‘ফির সে’ গানটি গ্র্যামির জন্য বিবেচনার উদ্দেশ্যে জমা পড়ার খবর নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

তবে এই বিভাগে গানটির জমা পড়া মানেই গানটি চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছে, এমন নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক তালিকাই চূড়ান্ত মনোনয়ন সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারবে।

‘আরি আরি’ গানটি কোন বিভাগে জমা পড়েছে?

ছবির আরেকটি আলোচিত গান ‘আরি আরি’। প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, বম্বে রকার্স, খান সাব, জ্যাসমিন স্যান্ডলাস, রেবল, টোকেন এবং সুধীর যাদুবংশীদের পরিবেশনায় গানটি ‘Best Asian Pop Music Performance’ বিভাগের জন্য জমা দেওয়া হয়েছে।

এশীয় পপ সঙ্গীতের বৈচিত্র্য, শিল্পীদের পরিবেশনা এবং বিভিন্ন সঙ্গীতধারার সংমিশ্রণ এই ধরনের বিভাগকে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় করে তোলে। ‘আরি আরি’ গানটির ক্ষেত্রে একাধিক শিল্পীর অংশগ্রহণও আলোচনার একটি দিক।

ভারতীয় চলচ্চিত্রের সঙ্গীতে বিভিন্ন ভাষা, ছন্দ এবং আধুনিক সাউন্ডের মিশ্রণ ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর অ্যালবাম নিয়েও সেই বহুমাত্রিক সঙ্গীতের প্রসঙ্গ সামনে এসেছে। তবে গানটির চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে নিশ্চিত হতে আনুষ্ঠানিক গ্র্যামি ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

‘জান সে গুজরাতে হ্যায়’ ও ‘কানহাইয়া’

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ‘জান সে গুজরাতে হ্যায়’ এবং ‘কানহাইয়া’ গান দুটি ‘Best Global Music Performance’ বিভাগের জন্য জমা দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বসঙ্গীতের পরিসরে বিভিন্ন দেশের শিল্পী, সঙ্গীত ঐতিহ্য এবং আঞ্চলিক সুরের গুরুত্ব রয়েছে। ভারতীয় চলচ্চিত্রের গানও দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব সুর, ছন্দ এবং ভাষাগত বৈচিত্র্যের মাধ্যমে শ্রোতাদের আকর্ষণ করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর গান দুটি এই বিভাগের জন্য জমা পড়ার খবর আগ্রহ তৈরি করেছে।

এখানেও মনে রাখা জরুরি, কোনও বিভাগের জন্য গান জমা দেওয়া মানেই সেটি চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকায় স্থান পেয়েছে এমন নয়। জমা দেওয়ার পর যোগ্যতা যাচাই এবং নির্বাচনের ধাপ থাকে। তাই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা গেলেও নিশ্চিত সাফল্যের দাবি করা যায় না।

‘যাইয়ে সাজনা’ নিয়ে কী জানা যাচ্ছে?

জ্যাসমিন স্যান্ডলাস এবং সতিন্দর সরতাজের গাওয়া ‘যাইয়ে সাজনা’ গানটি ‘Best Pop Duo/Group Performance’ বিভাগের জন্য জমা দেওয়া হয়েছে বলে প্রকাশিত বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।

এই ধরনের বিভাগে একাধিক শিল্পীর যৌথ পরিবেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোনও গানে দুই বা তার বেশি শিল্পীর কণ্ঠ, সঙ্গীতায়োজন এবং পারস্পরিক সমন্বয় শ্রোতার অভিজ্ঞতাকে আলাদা মাত্রা দিতে পারে। ‘যাইয়ে সাজনা’ গানটির ক্ষেত্রেও দুই শিল্পীর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য।

ছবির অ্যালবামে বিভিন্ন শিল্পী ও পরিবেশনার উপস্থিতি দেখায় যে সঙ্গীতের ক্ষেত্রে একাধিক কণ্ঠ ও শৈলীকে জায়গা দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, জমা দেওয়া গানগুলির মধ্যে কোনওটি পরবর্তী পর্যায়ে চূড়ান্ত মনোনয়ন অর্জন করতে পারে কি না।

র‍্যাপ, ডান্স ও রিমিক্স বিভাগেও গান জমা

‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর সঙ্গীত অ্যালবাম নিয়ে আলোচনার আরেকটি দিক হল, শুধু পপ বা গ্লোবাল মিউজিক বিভাগ নয়, র‍্যাপ, ডান্স এবং রিমিক্সের মতো বিভাগেও গান জমা দেওয়ার খবর এসেছে।

প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, ‘ডেস্টিনি – মন আটকিয়া’ গানটি ‘Best Rap Performance’ বিভাগের জন্য জমা দেওয়া হয়েছে। ‘ভারি জাভান’ গানটি জমা পড়েছে ‘Best Dance/Electronic Recording’ বিভাগের জন্য। অন্যদিকে, ‘হাম প্যায়ার করনে ওয়ালে’ গানটি ‘Best Remixed Recording’ বিভাগের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এই বিভাগগুলির নাম থেকেই বোঝা যায়, সঙ্গীতের বিভিন্ন শৈলীকে কেন্দ্র করে গানগুলির মূল্যায়নের সুযোগ রয়েছে। র‍্যাপের ক্ষেত্রে পরিবেশনা ও ধারার বৈশিষ্ট্য, ডান্স বা ইলেকট্রনিক সঙ্গীতে প্রযোজনা ও সাউন্ডের ভূমিকা এবং রিমিক্সের ক্ষেত্রে মূল সঙ্গীতের নতুন বিন্যাস গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

news image
আরও খবর

তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগের জন্য গান জমা দেওয়া হয়েছে—এই তথ্যের বাইরে চূড়ান্ত মনোনয়ন, প্রতিযোগিতার ফল বা পুরস্কার জয়ের বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যায় না।

৬৯তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস ঘিরে প্রত্যাশা

২০২৭ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ৬৯তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গীতশিল্পী, সুরকার, গীতিকার, প্রযোজক এবং অন্যান্য পেশাদারদের কাছে এই পুরস্কার বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তাই ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর সঙ্গীত নিয়ে প্রকাশিত খবর ভারতীয় বিনোদনজগতের আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

গ্র্যামির মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে কোনও ভারতীয় ছবির সঙ্গীতের উপস্থিতি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। ভারতীয় চলচ্চিত্রে সঙ্গীত বরাবরই গল্প বলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কখনও গান চরিত্রের আবেগকে তুলে ধরে, কখনও ছবির প্রচারে ভূমিকা রাখে, আবার কখনও কোনও সুর সিনেমার বাইরেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর ক্ষেত্রেও বক্স অফিস সাফল্যের পাশাপাশি অ্যালবামের আন্তর্জাতিক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে গ্র্যামির চূড়ান্ত মনোনয়ন ও পুরস্কার ঘোষণার আগে কোনও গানকে বিজয়ী বা নিশ্চিত মনোনীত হিসেবে তুলে ধরা সঠিক হবে না।

‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজির বক্স অফিস সাফল্য

গ্র্যামির খবরের পাশাপাশি ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজির বক্স অফিস সাফল্যও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। ২০২৫ সালে মুক্তি পায় প্রথম ছবি ‘ধুরন্ধর’। এরপর ২০২৬ সালের মার্চে মুক্তি পায় দ্বিতীয় পর্ব ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। প্রকাশিত বাণিজ্যিক প্রতিবেদনে দুই ছবির সম্মিলিত বিশ্বব্যাপী আয় ৩০১৯.৩৫ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই অঙ্কটি ফ্র্যাঞ্চাইজিটির বাণিজ্যিক সাফল্য সম্পর্কে ধারণা দেয়। তবে বক্স অফিসের হিসাব বিভিন্ন সূত্রে আলাদা হতে পারে। বিশ্বব্যাপী মোট আয়, ভারতের নেট কালেকশন, ভারতের গ্রস কালেকশন এবং বিদেশের বাজার থেকে প্রাপ্ত আয় এক ধরনের হিসাব নয়। তাই কোনও নির্দিষ্ট অঙ্ক উদ্ধৃত করার সময় সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক সূত্র ও হিসাবের ধরন উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজির আয়ের সঙ্গে ‘বাহুবলী’ এবং ‘পুষ্পা’র মতো জনপ্রিয় দক্ষিণী ফ্র্যাঞ্চাইজির তুলনাও করা হয়েছে। এই তুলনা দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করলেও সব ছবির আয়ের হিসাব একই পদ্ধতিতে করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।

মুক্তির দিনেই রেকর্ড গড়েছিল ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’

২০২৬ সালের মার্চে মুক্তি পাওয়া ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর প্রথম দিনের বক্স অফিস সংগ্রহ নিয়েও ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ছবিটি মুক্তির দিন ভারতে ১০২.৫৫ কোটি টাকার ব্যবসা করেছিল। এই পরিসংখ্যান ছবিটির বাণিজ্যিক প্রত্যাশা এবং দর্শকদের আগ্রহের মাত্রা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে।

একটি ছবির প্রথম দিনের ব্যবসা নির্ভর করে অগ্রিম বুকিং, প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা, শোয়ের সময়, দর্শকের চাহিদা এবং মুক্তির সময়কার প্রতিযোগিতার মতো একাধিক বিষয়ের উপর। তাই প্রথম দিনের আয়ের অঙ্ক যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা, পরবর্তী দিনের সংগ্রহ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের ফলাফলও বিবেচনা করতে হয়।

ছবিটির মুক্তি ঘিরে বিপুল আগ্রহ তৈরি হওয়ায় এর সঙ্গীত এবং অন্যান্য প্রচারমূলক উপাদানও দর্শকদের আলোচনায় এসেছে। এখন গ্র্যামির জন্য গান জমা দেওয়ার খবর সেই আলোচনাকে বক্স অফিসের বাইরের একটি নতুন ক্ষেত্রে নিয়ে গিয়েছে।

২১ হাজারেরও বেশি স্ক্রিনে মুক্তির দাবি

প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ দেশজুড়ে মোট ২১ হাজার ৭২৮টি স্ক্রিনে মুক্তি পেয়েছিল। এই সংখ্যাটি উল্লেখ করা হলেও স্ক্রিন, প্রেক্ষাগৃহ এবং প্রদর্শনের সংখ্যা এক জিনিস নয়। তাই নির্দিষ্ট পরিসংখ্যানকে চূড়ান্তভাবে ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক রিপোর্টের সংজ্ঞা যাচাই করা দরকার।

বড় বাজেটের ভারতীয় ছবির ক্ষেত্রে মুক্তির ব্যাপ্তি বক্স অফিসের সম্ভাবনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিভিন্ন শহর, অঞ্চল এবং ভাষার দর্শকদের কাছে পৌঁছনোর সুযোগ থাকলে ছবির প্রাথমিক ব্যবসা বাড়তে পারে। তবে শুধু স্ক্রিনের সংখ্যা দিয়ে কোনও ছবির সাফল্য নির্ধারণ করা যায় না। দর্শকের প্রতিক্রিয়া, টিকিট বিক্রি এবং ধারাবাহিক চাহিদাও গুরুত্বপূর্ণ।

রণবীর সিং ও আদিত্য ধরের জুটি

‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর কেন্দ্রে রয়েছেন অভিনেতা রণবীর সিং এবং পরিচালক আদিত্য ধর। ছবিটি ঘিরে আলোচনায় তাঁদের ভূমিকা যেমন উঠে এসেছে, তেমনই এসেছে সঙ্গীত পরিচালক শাশ্বত সচদেবের কাজের প্রসঙ্গ।

একটি সিনেমার সাফল্য সাধারণত একক কোনও উপাদানের উপর নির্ভর করে না। অভিনয়, পরিচালনা, চিত্রনাট্য, সম্পাদনা, সঙ্গীত, প্রচার এবং মুক্তির কৌশল—সবকিছু মিলেই দর্শকের অভিজ্ঞতা তৈরি হয়। ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজির ক্ষেত্রেও বক্স অফিসের খবরের পাশাপাশি সঙ্গীত নিয়ে আলোচনা তৈরি হওয়া সেই বৃহত্তর ছবিরই অংশ।

গ্র্যামির জন্য গান জমা দেওয়ার খবর ছবিটির সঙ্গীতকে আলাদা করে সামনে এনেছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সঙ্গীতের স্বীকৃতি অর্জন করতে পারলে তা সংশ্লিষ্ট শিল্পীদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নেবে কি না, তা নির্ভর করবে আনুষ্ঠানিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার উপর।

ভারতীয় সিনেমার সঙ্গীতের আন্তর্জাতিক সম্ভাবনা

ভারতীয় চলচ্চিত্রের সঙ্গীতের নিজস্ব দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। হিন্দি সিনেমার পাশাপাশি বাংলা, তামিল, তেলুগু, মালয়ালম, কন্নড় এবং অন্যান্য ভাষার ছবিতেও সঙ্গীত গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ভারতীয় সুর, ছন্দ, বাদ্যযন্ত্র এবং আধুনিক সঙ্গীত প্রযুক্তির সংমিশ্রণ দেশীয় শ্রোতাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছেও আগ্রহ তৈরি করতে পারে।

বিশ্বায়নের ফলে সিনেমার গান এখন শুধু ছবির মুক্তির সময়েই সীমাবদ্ধ থাকে না। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক মাধ্যম, স্ট্রিমিং পরিষেবা এবং আন্তর্জাতিক বিতরণের মাধ্যমে বিভিন্ন ভাষার গান দ্রুত নতুন শ্রোতাদের কাছে পৌঁছতে পারে। এর ফলে ভারতীয় সঙ্গীতশিল্পীদের কাজ আন্তর্জাতিক আলোচনায় আসার সুযোগও বাড়ছে।

‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর গানগুলি গ্র্যামির বিভিন্ন বিভাগের জন্য জমা দেওয়ার খবরকে সেই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখা যেতে পারে। তবে কোনও একটি অ্যালবামের জমা পড়া থেকে পুরো ভারতীয় সঙ্গীতশিল্পের আন্তর্জাতিক অবস্থান সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়। প্রতিটি শিল্পী ও কাজের স্বীকৃতি নির্ধারিত হয় তার নিজস্ব যোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট পুরস্কারের নিয়ম অনুসারে।

জমা, মনোনয়ন ও পুরস্কারের মধ্যে পার্থক্য কী?

গ্র্যামি নিয়ে আলোচনার সময় তিনটি বিষয় আলাদা করে বোঝা জরুরি।

প্রথমত, জমা দেওয়া বা সাবমিশন হল কোনও যোগ্য গান, অ্যালবাম বা সঙ্গীতকর্মকে নির্দিষ্ট বিভাগের বিবেচনার জন্য পাঠানো। দ্বিতীয়ত, চূড়ান্ত মনোনয়ন হল নির্বাচন প্রক্রিয়ার পর কোনও কাজের আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত হওয়া। তৃতীয়ত, পুরস্কার জয় হল সংশ্লিষ্ট বিভাগের চূড়ান্ত ফলাফলে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত হওয়া।

এই তিনটি পর্যায় এক নয়। ফলে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর অ্যালবাম এবং গানগুলির জমা পড়ার খবরকে সম্ভাব্য স্বীকৃতির পথে একটি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করাই যথাযথ। আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কোনও গানকে গ্র্যামি মনোনীত বলে উল্লেখ করা উচিত নয়।

এখন নজর কোন দিকে?

‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর বক্স অফিস সাফল্য, একাধিক শিল্পীর অংশগ্রহণে তৈরি সঙ্গীত অ্যালবাম এবং গ্র্যামির জন্য বিভিন্ন গান জমা দেওয়ার খবর—সব মিলিয়ে ছবিটি নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অরিজিৎ সিংয়ের ‘ফির সে’, ‘আরি আরি’, ‘যাইয়ে সাজনা’ এবং অন্যান্য গান কোন পর্যায় পর্যন্ত এগোয়, তা নিয়ে দর্শক ও সঙ্গীতপ্রেমীদের কৌতূহল থাকতে পারে।

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল গ্র্যামি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের চূড়ান্ত তালিকার জন্য অপেক্ষা করা। জমা দেওয়ার খবর অবশ্যই আলোচনার যোগ্য, কিন্তু চূড়ান্ত মনোনয়ন বা পুরস্কারের বিষয়ে নিশ্চিত দাবি করার জন্য নির্ভরযোগ্য আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর যাত্রা এখন বক্স অফিসের আলোচনা থেকে আন্তর্জাতিক সঙ্গীতের সম্ভাব্য স্বীকৃতির দিকেও এগিয়েছে। রণবীর সিং অভিনীত এই ছবির সঙ্গীত শেষ পর্যন্ত গ্র্যামির চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকায় জায়গা করে নিতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার। ভারতীয় সিনেমার সঙ্গীতের জন্য এই খবর নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে, আর সেই প্রত্যাশার উত্তর মিলবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরেই।

মূল কীওয়ার্ড: Dhurandhar 2 Grammy Awards 2027, Dhurandhar The Revenge, Ranveer Singh, Shashwat Sachdev, Dhurandhar 2 Songs, Grammy Submission, Bollywood News, Indian Cinema, Dhurandhar Box Office Collection.

সম্পাদনাগত নোট: প্রকাশের আগে গ্র্যামিতে জমা দেওয়া গানগুলির বিভাগ, ৩০১৯.৩৫ কোটি টাকার সম্মিলিত বক্স অফিস আয়, ১০২.৫৫ কোটি টাকার প্রথম দিনের সংগ্রহ এবং ২১,৭২৮ স্ক্রিনের দাবিগুলি মূল ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। জমা দেওয়া গানকে চূড়ান্ত মনোনীত বা পুরস্কারপ্রাপ্ত হিসেবে উল্লেখ করবেন না।

Preview image