Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বলিউডের কিংবদন্তি ধর্মেন্দ্র আর নেই, শেষ নিঃশ্বাসে থেমে গেল এক সোনালি যুগ

বলিউডের হি-ম্যান ধর্মেন্দ্র ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।অসংখ্য কালজয়ী চরিত্রে তিনি বিনোদন জগতে স্থাপন করেছিলেন এক অমর অবস্থান।শোলে, চুপকে চুপকে, সত্যকামসহ বহু হিট সিনেমার নায়ক ধর্মেন্দ্র আজও ভক্তদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর স্ত্রী হেমা মালিনী ও কন্যারা শেষ মুহূর্তে পাশে ছিলেন।ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণে গোটা ভারত শোকস্তব্ধ, বলিউড শোকের ছায়ায়।

ধর্মেন্দ্র: রূপালি পর্দার অমর হি-ম্যান

বলিউডে ধর্মেন্দ্র—এক নাম যা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে চিরকালের জন্য অমর। ৮৯ বছর বয়সে এই কিংবদন্তি অভিনেতা আমাদের মাঝে নেই, তবে তার অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং কিংবদন্তি ক্যারিয়ার চিরকাল মনে থাকবে। রূপালি পর্দায় তার ‘হি-ম্যান’ চরিত্রটি শুধু একটি নাম ছিল না; এটি এক যুগের প্রতীক, যা কোটি ভক্তের হৃদয়ে বাস করেছিল। ধর্মেন্দ্র ছিলেন সেই শিল্পী, যিনি সিনেমার জগতকে শুধুমাত্র বিনোদনের মাধ্যম হিসাবেই দেখেননি, বরং তার মাধ্যমে মানবিক আবেগ, ন্যায়পরায়ণতা এবং সাহসিকতার চিত্র তুলে ধরেছিলেন।

প্রাথমিক জীবন

ধর্মেন্দ্র, আসল নাম ধীরাজ গণেশ ধামী, জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৯৩৫ সালের ৮ ডিসেম্বরে পাঞ্জাবের আবু গড় শহরে। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন চৌকস, উদ্যমী এবং ক্রীড়া ও অভিনয়ের প্রতি আগ্রহী। তার পরিবার একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার ছিল, কিন্তু তাদের মধ্যে সৃজনশীলতা এবং সাহসিকতা ছিল স্পষ্ট। ধর্মেন্দ্রের বাবা গণেশ ধামী ব্যবসায়ী ছিলেন, আর মা সন্তোষী ধামী পরিবারের শান্তি ও সংস্কৃতির স্তম্ভ ছিলেন।

ছোটবেলা থেকেই ধর্মেন্দ্র খেলাধুলা, বিশেষ করে কুস্তি এবং অন্যান্য খেলাধুলায় বিশেষ আগ্রহী ছিলেন। স্কুল জীবন থেকেই তিনি শারীরিকভাবে সুগঠিত এবং আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। এই শারীরিক গঠন ও আধ্যাত্মিক শক্তি তাকে পরবর্তী সময়ে বলিউডে ‘হি-ম্যান’ চরিত্রের জন্য প্রস্তুত করেছিল।

চলচ্চিত্রের যাত্রা

ধর্মেন্দ্র ১৯৬০ সালে হিন্দি সিনেমার জগতে পা রাখেন। তাঁর প্রথম ছবি ‘ফেসবুক ফিল্ম’ বা ‘ফিল্ম’—এর মাধ্যমে তিনি বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। তবে মূল জনপ্রিয়তা আসে ‘সতী’ এবং ‘চুপকে চুপকে’ সিনেমার মাধ্যমে। এই চলচ্চিত্রগুলোতে তিনি শুধুমাত্র সুন্দর চেহারা বা শক্তিশালী শরীরের জন্যই নয়, বরং অভিনয়ের গভীরতা এবং চরিত্রের মানসিকতা ফুটিয়ে তোলার জন্য সমাদৃত হন।

১৯৭৫ সালে মুক্তি পায় আজও অমর ‘শোলে’। এই সিনেমায় জয়-ভিরু জুটির জয় চরিত্রে ধর্মেন্দ্র তার অভিনয় দক্ষতার অসাধারণ পরিচয় দেন। ‘শোলে’ শুধু একটি সিনেমা নয়; এটি ভারতের সিনেমার ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। জয় চরিত্রে তার অভিনয়, শারীরিক কৌশল, এবং প্রাঞ্জল উপস্থিতি আজও দর্শকদের মনে জীবন্ত।

এরপর ‘সত্যকাম’, ‘ধর্ম বীর’, ‘চুপকে চুপকে’, ‘পাকিজা’, ‘সারাজু’ সহ অসংখ্য সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন, যা তাকে বলিউডের অন্যতম কিংবদন্তি অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মোটামুটি ২৪৭টি ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন, যা একটি চরম অভূতপূর্ব সংখ্যা। ধর্মেন্দ্র শুধুমাত্র নায়ক ছিলেন না; তিনি সিনেমার নায়ক, যোদ্ধা, প্রেমিক, পিতা—প্রায় সব চরিত্রের সঙ্গে দর্শকদের হৃদয় জুড়েছিলেন।

জনপ্রিয়তা ও অবদান

ধর্মেন্দ্রর জনপ্রিয়তা শুধুমাত্র সিনেমার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি ছিলেন কোটি মানুষের হৃদয়ের নায়ক। ‘হি-ম্যান’ উপাধি তার শারীরিক গঠন, সাহসিকতা এবং ন্যায়পরায়ণ চরিত্রের জন্য প্রযোজিত হয়েছিল। তিনি ছিলেন সেই অভিনেতা, যিনি রোল মডেল হিসাবেও প্রিয়। মানুষ তাকে সিনেমার নায়ক হিসেবে দেখত, কিন্তু বাস্তবে তিনি ছিলেন বিনয়ী, নম্র এবং পরিশ্রমী।

১৯৭০ এবং ১৯৮০-এর দশকে ধর্মেন্দ্রের সিনেমা এক সময়কার ভারতীয় সমাজের প্রতিচ্ছবি। তাঁর চরিত্রগুলো সাধারণ মানুষকে সাহস, ন্যায়বিচার এবং আত্মমর্যাদার শিক্ষা দিত। তিনি ছিলেন এমন একজন শিল্পী, যার সিনেমা শুধু বিনোদন নয়, বরং সমাজকে চিন্তাভাবনার আহ্বান জানাত।

ধর্মেন্দ্র কেবল অভিনয়েই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; তিনি চলচ্চিত্রের অন্যান্য দিকেও অবদান রেখেছেন। প্রযোজক হিসেবে তিনি নতুন প্রতিভাদের সুযোগ দিয়েছেন, চলচ্চিত্র শিল্পের মান উন্নয়নে অবদান রেখেছেন এবং শিল্পীদের মধ্যে পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতার মান বজায় রেখেছেন।

ব্যক্তিগত জীবন

ধর্মেন্দ্রর ব্যক্তিগত জীবনও ছিল দর্শকদের কাছে অনুপ্রেরণার। তিনি ১৯৮০ সালে হেমা মালিনীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। হেমা মালিনী নিজেও বলিউডের সুপরিচিত নায়িকা। তাদের সম্পর্ক শিল্প এবং ব্যক্তিগত জীবনের মিলনস্থল হিসেবে পরিচিত। এই দম্পতি দুই কন্যা—এষা এবং আহনা—সহ সুখী পরিবার গঠন করেন। ধর্মেন্দ্র ছিলেন নিখুঁত পিতা, যারা সন্তানদের জীবনে সততা, অধ্যবসায় এবং সংস্কৃতির শিক্ষা দিয়েছেন।

তাঁর ব্যক্তিত্বের আরেকটি দিক হলো সহজ জীবনযাপন। যদিও তিনি বলিউডের কিংবদন্তি, ধনী এবং জনপ্রিয় ছিলেন, তিনি কখনও অতিরিক্ত বিলাসিতা পছন্দ করতেন না। নিজের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত সাফল্যকে তিনি বিনয়ীভাবে গ্রহণ করতেন।

সাম্প্রতিক বছর ও শেষ সময়

ধর্মেন্দ্র সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। কিছুদিন আগে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর শোনা যায়। চলচ্চিত্র প্রজেক্টেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন; করণ জোহরের ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’-তে জয়া বচ্চন এবং শাবানা আজমির সঙ্গে তার উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। পরবর্তী ছবির কাজও প্রায় শেষ করেছিলেন, কিন্তু জীবনচক্র শেষ হওয়ায় সেই ছবি মুক্তি পায়নি তার জীবদ্দশায়।

মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে সোমবার সকালে ধর্মেন্দ্র শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। শেষ মুহূর্তে পাশে ছিলেন স্ত্রী হেমা মালিনী ও দুই কন্যা। তাঁর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা ভারত শোকস্তব্ধ হয়ে যায়। সামাজিক মাধ্যমে এবং চলচ্চিত্র জগতে তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়।

ধর্মেন্দ্রের চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক প্রভাব

ধর্মেন্দ্রর প্রভাব শুধুমাত্র সিনেমার দিকেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি ভারতীয় সিনেমার এক স্বর্ণযুগের প্রতীক। তার অভিনয় নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে, চলচ্চিত্রের নৈতিকতা, অধ্যবসায় এবং মানসিক দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছে। ধর্মেন্দ্র ছিলেন সেই নায়ক, যিনি সাধারণ মানুষকে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সাহস এবং ন্যায়পরায়ণতার শিক্ষা দিয়েছেন।

news image
আরও খবর

‘শোলে’র জয়, ‘ধর্ম বীর’-এর দৃঢ়তা এবং ‘চুপকে চুপকে’-এর প্রেমিক চরিত্র আজও দর্শকদের মনে অমলিন। ধর্মেন্দ্র শুধু অভিনেতা ছিলেন না; তিনি একজন সাংস্কৃতিক আইকন, যিনি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসকে চিরকাল প্রভাবিত করেছেন।

বলিউডের ইতিহাসে কয়েকজন নায়ক আছেন, যাদের নাম শুনলেই মনে পড়ে এক entire যুগের স্মৃতি, তাদের অভিনয়, তাদের সাহসিকতা এবং মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া। ধর্মেন্দ্র—এক নাম, যা শুধু একটি পরিচয় নয়, বরং একটি সংস্কৃতির প্রতীক। ৮৯ বছর বয়সে ধর্মেন্দ্র আমাদের ছেড়ে গেলেন, তবে তার কীর্তি, চলচ্চিত্র জগতের অবদান এবং জনপ্রিয়তা চিরকাল অমর।

ধর্মেন্দ্র—আসল নাম ধীরাজ গণেশ ধামী—জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৯৩৫ সালের ৮ ডিসেম্বর পাঞ্জাবের আবু গড়ে। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন চৌকস, সাহসী এবং ক্রীড়া ও অভিনয়ের প্রতি আগ্রহী। তাঁর পরিবারের মধ্যবিত্ত জীবন তাকে নৈতিকতা, পরিশ্রম এবং সততার শিক্ষা দিয়েছিল। বাবা গণেশ ধামী ব্যবসায়ী ছিলেন এবং মা সন্তোষী ধামী ছিলেন পরিবারকে সংহত রাখার কেন্দ্রীয় শক্তি। ধর্মেন্দ্রের শারীরিক গঠন, তার ক্রীড়া দক্ষতা এবং দৃঢ় মানসিকতা পরবর্তীতে তাকে ‘হি-ম্যান’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।

চলচ্চিত্রে যাত্রা

ধর্মেন্দ্র ১৯৬০ সালে বলিউডে পা রাখেন। প্রথমদিকে তিনি ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, কিন্তু তার স্বাভাবিক অভিনয়, শারীরিক উপস্থিতি এবং দর্শকদের সাথে সংযোগ তাকে দ্রুত জনপ্রিয় করে তোলে। প্রথম উল্লেখযোগ্য সফলতা আসে ১৯৬৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘চুপকে চুপকে’ সিনেমার মাধ্যমে। এরপর ‘সত্যকাম’, ‘পাকিজা’, ‘ধর্ম বীর’—একের পর এক সিনেমা তাকে বলিউডের প্রধান নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

১৯৭৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘শোলে’ চলচ্চিত্রটি ধর্মেন্দ্রকে সত্যিকারের কিংবদন্তি বানায়। ‘জয়’ চরিত্রে তার অভিনয়, শারীরিক দক্ষতা এবং প্রাঞ্জল উপস্থিতি দর্শকদের হৃদয় জয় করে। ‘শোলে’ কেবল একটি সিনেমা নয়, বরং ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। ‘শোলে’ সিনেমার মাধ্যমে ধর্মেন্দ্র এমন এক পরিচয় স্থাপন করেন, যা আজও নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে।

ধর্মেন্দ্র মোটামুটি ২৪৭টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন, যা স্বতন্ত্রভাবে বলিউডের ইতিহাসে একটি বিশাল কীর্তি। তিনি নায়ক, প্রেমিক, পিতা, যোদ্ধা—প্রায় সব ধরনের চরিত্রে দর্শকদের প্রভাবিত করেছেন। শুধু সিনেমা নয়, তার শারীরিক উপস্থিতি, অভিনয়ের গভীরতা এবং চরিত্রের প্রতি নিষ্ঠা তাকে অমর করে তুলেছে।

জনপ্রিয়তা ও সামাজিক প্রভাব

ধর্মেন্দ্র ছিলেন শুধু নায়ক নয়, বরং জনগণের হৃদয়ের নায়ক। ‘হি-ম্যান’ উপাধি তার সাহস, শক্তি এবং ন্যায়পরায়ণ চরিত্রের জন্য প্রযোজিত হয়েছিল। তিনি দর্শকদের কাছে রোল মডেল হিসেবে সমাদৃত। ১৯৭০-১৯৮০ দশকে তার সিনেমা সমাজের প্রতিচ্ছবি হিসেবে কাজ করত। তিনি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার চ্যালেঞ্জ, ন্যায়বিচার এবং মানবিক সম্পর্ককে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতেন।

ধর্মেন্দ্রর প্রভাব কেবল সিনেমায় সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি প্রযোজক হিসেবেও নতুন প্রতিভাদের সুযোগ দিয়েছেন এবং শিল্পীদের মধ্যে পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতা বজায় রাখতে সহায়ক ছিলেন। তার কাজের মাধ্যমে ভারতীয় সিনেমার মান এবং দৃষ্টিভঙ্গি উজ্জ্বল হয়েছে।

ব্যক্তিগত জীবন

১৯৮০ সালে ধর্মেন্দ্র হেমা মালিনীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। হেমা মালিনী নিজেও বলিউডের সুপরিচিত নায়িকা। তাদের দম্পতি দুটি কন্যা—এষা ও আহনা—সহ সুখী পরিবার গঠন করেছেন। ধর্মেন্দ্র ছিলেন নিখুঁত পিতা, যিনি সন্তানদের জীবনে সততা, অধ্যবসায় এবং সংস্কৃতির শিক্ষা দিয়েছেন।

ধর্মেন্দ্র ছিলেন সহজ জীবনযাপনকারী। তিনি কখনও বিলাসিতা পছন্দ করতেন না। তার কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত সাফল্যকে তিনি বিনয়ীভাবে গ্রহণ করতেন। চলচ্চিত্রের প্রতি তার নিষ্ঠা এবং পরিবারকে গুরুত্বপূর্ণ রাখা ছিল তার জীবনের মূলমন্ত্র।

সাম্প্রতিক বছর

ধর্মেন্দ্র সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। কয়েক মাস আগে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। যদিও তিনি পরবর্তী সিনেমার কাজও প্রায় শেষ করেছিলেন, তার জীবনচক্র শেষ হওয়ায় সেই সিনেমা মুক্তি পায়নি তার জীবদ্দশায়।

করণ জোহরের ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’-তে জয়া বচ্চন এবং শাবানা আজমির সঙ্গে তার উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। হাসপাতালের খবরে পরিবার সহ ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা দ্রুত তার কাছে ছুটে যান। শেষ মুহূর্তে স্ত্রী হেমা মালিনী এবং দুই কন্যা তার পাশে ছিলেন।

মৃত্যু ও শোক

মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে সোমবার সকালে ধর্মেন্দ্র শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই গোটা ভারত শোকস্তব্ধ হয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং চলচ্চিত্র জগতে তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়। বলিউডের নানা কিংবদন্তি তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণ শুধু একজন অভিনেতার মৃত্যু নয়, বরং এক যুগের সমাপ্তি। তার সিনেমা, চরিত্র এবং মানবিক মূল্যবোধ চিরকাল নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক প্রভাব

ধর্মেন্দ্রের প্রভাব শুধুমাত্র সিনেমার পরিধিতেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি ভারতীয় সিনেমার এক স্বর্ণযুগের প্রতীক। তার অভিনয়, চরিত্রের গভীরতা এবং দর্শকের সাথে সংযোগ চিরকাল নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

‘শোলে’র জয় চরিত্র, ‘ধর্ম বীর’-এর দৃঢ়তা এবং ‘চুপকে চুপকে’-এর প্রেমিক চরিত্র আজও দর্শকদের মনে অমলিন। ধর্মেন্দ্র শুধু অভিনেতা ছিলেন না; তিনি একজন সাংস্কৃতিক আইকন, যিনি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসকে চিরকাল প্রভাবিত করেছেন।

উপসংহার

ধর্মেন্দ্র চলে গেলেন, কিন্তু তার কীর্তি, চরিত্র এবং সিনেমার মাধ্যমে যে প্রভাব তিনি রেখে গেছেন, তা চিরকাল অমর থাকবে। বলিউড শোকস্তব্ধ, এবং কোটি ভক্ত তার জন্য গভীরভাবে শোক প্রকাশ করেছেন। তার অভিনয়, সততা, পরিশ্রম এবং ব্যক্তিত্ব ভবিষ্যতের প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। রূপালি পর্দার এই হি-ম্যান আজ আমাদের মাঝে নেই, তবে তার কিংবদন্তি চিরকাল বেঁচে থাকবে।

ধর্মেন্দ্র শুধু একজন অভিনেতা নন; তিনি একটি যুগের প্রতীক। তার চরিত্র, অভিনয় এবং মানবিক মূল্যবোধ চিরকাল নতুন প্রজন্মকে উৎসাহ দেবে। তিনি চলে গেলেও, তার স্মৃতি, সিনেমা এবং প্রভাব আমাদের হৃদয়ে চিরকাল অমর থাকবে।

Preview image