ভিভেক ওবেরয় রাজস্থানে Road ছবির শুটিংয়ে এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন। তিনি বলেন, শুটিংয়ের সময় একটি দুর্ঘটনায় প্রায় তার প্রাণ যায়। সেসময়, তার জীবন বিপদের মুখে চলে গিয়েছিল, কিন্তু অবশেষে তিনি জীবিত ফিরে আসেন। এই ঘটনা তার জীবনের এক অত্যন্ত তিক্ত ও রোমাঞ্চকর স্মৃতি হয়ে থাকবে।
বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ভিভেক ওবেরয়, যিনি ‘কিউমো, দ্য লিজেন্ড’, ‘কোম্পানি’, ‘ধুম’, ‘রাজা’ ইত্যাদি ছবিতে অভিনয় করেছেন, সম্প্রতি এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন। রাজস্থানে ‘Road’ ছবির শুটিং করতে গিয়ে তিনি প্রায় প্রাণ হারাতে বসেছিলেন। শুটিংয়ের সময়ে তার কাছে যা ঘটেছিল তা এক অবিশ্বাস্য দুর্ঘটনার মতো শোনাতে পারে, কিন্তু বাস্তবে এটি ছিল একটি ভয়ঙ্কর বাস্তবতা, যা তাকে জীবনের মূল্য উপলব্ধি করতে বাধ্য করেছে।
এই আর্টিকেলে, আমরা ভিভেক ওবেরয়ের শুটিংয়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এবং তার জীবনের এমন এক দুর্ঘটনা যেটি তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়, তা বিস্তারিতভাবে জানব।
ভিভেক ওবেরয় শুটিং করতে গিয়ে জীবনের এক বড় ঝুঁকি নিয়ে ছিলেন। ‘Road’ ছবির শুটিং করতে গিয়ে একাধিক রোমাঞ্চকর দৃশ্যের মধ্যে তিনি এক বড় দুর্ঘটনার শিকার হন। রাজস্থানে এই ছবির শুটিং চলছিল, যেখানে এক্সট্রিম স্টান্ট, দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানো, এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজ ছিল। ভিভেক নিজেই এই দৃশ্যের মধ্যে ছিলেন এবং তার জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মুহূর্তের মুখোমুখি হন।
ভিভেক বলেন, "শুটিং চলাকালীন, আমি এক ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্যের জন্য প্রস্তুত ছিলাম, যেখানে আমি একটি গাড়ির মধ্যে বসে ছিলাম। শুটিংয়ের সময় গ্যাস ট্যাঙ্কের সাথে গাড়ি একত্রিত হয় এবং মুহূর্তেই বড় বিস্ফোরণ ঘটে। আমি মনে করি, শুটিংয়ের এক অংশ যখন ঘটছিল, আমি যদি আরো কিছু সেকেন্ড আগে বাইরে বেরিয়ে আসতে পারতাম, তাহলে হয়তো আর জীবিত থাকতাম না।"
তিনি আরও বলেন, "এটা ছিল সন্ত্রস্তকর এবং আমি সত্যিই ভাগ্যবান যে ওই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছি। এটা শুধু আমার জন্য নয়, পুরো টিমের জন্য ছিল একটা বিপদের মুহূর্ত।"
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ভিভেক ওবেরয়ের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হলেও তিনি অল্প সময়েই সেরে ওঠেন। শুটিংয়ের পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, তার শরীরের বেশ কিছু জায়গায় অল্প ক্ষত হয়েছিল, তবে ভাগ্যক্রমে বড় ধরনের আঘাত থেকে তিনি রক্ষা পেয়েছিলেন।
ভিভেক জানান, "দুর্ঘটনার পর অনেকদিন ধরে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় যন্ত্রণা অনুভব করেছি। তবে আমি নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে করি যে, আমি জীবিত আছি। আমি মনে করি, শুটিংয়ের সময়ে আমি যে পরিস্থিতি থেকে বেঁচে ফিরে এসেছি, তা এক ঈশ্বরের দান ছিল।"
তিনি আরো বলেন, "এই ঘটনার পর আমি জীবনকে নতুন দৃষ্টিতে দেখতে শুরু করেছি। তখন থেকে, আমি জানি যে, আমাদের সবার জীবনই এক অনিশ্চিত যাত্রা, এবং যে কোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।"
ভিভেক ওবেরয়ের এই দুর্ঘটনা তার জীবনে এক বিশাল প্রভাব ফেলেছে। শুটিংয়ে তার এমন এক বিপদজনক অভিজ্ঞতার পর তিনি তার জীবনকে নতুন করে মূল্যায়ন করতে শুরু করেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কতটা মূল্যবান, এবং তা সঠিকভাবে উপভোগ করতে হবে।
ভিভেক বলেন, "এটা আমার জীবনের এক মাইলফলক। আমি আগে যতটা জীবনের প্রতি উদাসীন ছিলাম, আজ তা থেকে অনেক দূরে চলে এসেছি। আমি এখন আমার পরিবার, বন্ধুবান্ধব, এবং কাজের প্রতি আরও মনোযোগী। আমি বুঝতে পেরেছি যে, জীবন এবং মৃত্যুর মধ্যে খুব ছোট্ট এক ফাঁক। তাই আমাদের প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করতে হবে।"
এই দুর্ঘটনার পর ভিভেক আরও সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে শুরু করেছেন এবং স্বেচ্ছাসেবী কাজের মাধ্যমে সমাজের জন্য কিছু করার প্রতি আগ্রহী হয়েছেন।
‘Road’ ছবির শুটিংয়ের সময় যে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে সমালোচনাও উঠেছে। চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে স্টান্ট এবং একশন দৃশ্যগুলো সব সময়ই কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকে, কিন্তু সেগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে করা উচিত। ভিভেক ওবেরয় নিজেও জানেন, যে ধরনের স্টান্ট তিনি করেছিলেন, তা যথেষ্ট বিপজ্জনক ছিল। তবে, শুটিংয়ের জন্য যে সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, সেগুলির মধ্যে কিছু জায়গায় নিরাপত্তা ব্যর্থতা ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
এই বিষয়ে ভিভেক বলেন, "আমি জানি যে, শুটিংয়ের সময় যদি আমরা আরও সতর্ক থাকতাম, তাহলে হয়তো কিছুটা বিপদ কম হত। তবে, আমি নিজেও জানি, স্টান্ট দৃশ্যগুলো সাধারণত ঝুঁকিপূর্ণ হয়। তবে, আমাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল, এবং সেটি কখনোই উপেক্ষিত হওয়া উচিত নয়।"
ভিভেক ওবেরয় শুটিংয়ের সময় যে ধরনের স্টান্ট করেছিলেন, তা সোজাসুজি ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু শুটিং সেটে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা যথেষ্ট ছিল না। সিনেমার শুটিংয়ে স্টান্ট দৃশ্য সবসময় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকে, তবে যদি নিরাপত্তার কোনো অবহেলা হয়, তখন তা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে ভিভেক বলেন, "আমরা সবসময় জানি যে, শুটিংয়ে যে ধরনের স্টান্ট আমরা করি, তা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু এই ধরনের দুর্ঘটনা হলে আরও বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ছিল।"
তার মতে, শুটিংয়ের সময়ে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, বিশেষত যখন স্টান্ট দৃশ্যের কথা আসে। বিভিন্ন স্টান্ট দৃশ্যের জন্য প্রশিক্ষিত স্টান্ট ডবল ব্যবহার করা এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে দুর্ঘটনা এড়ানো যেতে পারে।
এছাড়া, পরিচালক এবং প্রযোজকরা এই বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়া উচিত যাতে এই ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে।
ভিভেক ওবেরয়ের দুর্ঘটনা চলচ্চিত্র শিল্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন আলোচনা শুরু করেছে। শুটিংয়ে যে ধরনের ঝুঁকি নিয়ে অভিনেতারা কাজ করেন, তা কখনো কখনো দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই, এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত ব্যক্তি এবং কর্তৃপক্ষের উচিত, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা।
বিভিন্ন স্টান্ট কো-অর্ডিনেটর, পরিচালক এবং প্রযোজকরা জানাচ্ছেন, তাদের শুটিংয়ের সময় দুর্ঘটনা কমাতে অনেক ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। এছাড়া, স্টান্ট দৃশ্যের জন্য প্রশিক্ষিত স্টান্ট ডবল ব্যবহার করার মাধ্যমে বিপদ কমানো যেতে পারে।
ভিভেক ওবেরয় মনে করেন, "ফিল্ম শিল্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি আরও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। স্টান্ট দৃশ্যগুলো যতটা সম্ভব নিরাপদ হতে হবে, এবং আমাদের যাতে ক্ষতির সম্মুখীন হতে না হয়, সে জন্য ভালোভাবে পরিকল্পনা করতে হবে।"
এই দুর্ঘটনার পর ভিভেক ওবেরয়ের ক্যারিয়ারে কিছু পরিবর্তন এসেছে। তিনি নতুন কাজের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন এবং আরও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন করতে শুরু করেছেন। তিনি শুটিংয়ের সময়ে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া উচিত, তার জন্য অতিরিক্ত সচেতন থাকতে শুরু করেছেন।
তিনি এখন চলচ্চিত্রের বাইরে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী কাজেও অংশগ্রহণ করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক বেশি সক্রিয় থাকছেন এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে জীবনকে দেখছেন।
ভিভেক ওবেরয়ের এই ভয়াবহ শুটিং দুর্ঘটনা শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত জীবনের এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত ছিল না, বরং এটি চলচ্চিত্র শিল্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছে। এই ধরনের দুর্ঘটনা থেকে শিখে নেওয়া উচিত যে, জীবনের মূল্য এবং নিরাপত্তা কখনোই ছোট বিষয় নয়। ভিভেকের অভিজ্ঞতা তার জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে এবং তাকে আরও দায়িত্বশীল এবং সচেতন করে তুলেছে। আশা করা যায়, ভবিষ্যতে চলচ্চিত্র শিল্পে আরও উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে এবং অভিনেতাদের জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
এটি এক নতুন শিক্ষা, যে প্রতিটি জীবন গুরুত্বপূর্ণ এবং সেই জীবনের সুরক্ষা সর্বপ্রথম।