৪০ দিন ধরে ধ্বংসস্তূপ, কাদামাটি ও নদীর স্রোতে চলেছে নিখোঁজদের সন্ধান। জীবিত উদ্ধারের আশা ক্রমেই ক্ষীণ হওয়ায় অবশেষে উদ্ধারকার্য স্থগিত করল নেপাল সরকার। এখনও নিখোঁজ ৫,২৮৫ জন।
নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান ও ভূমিধসের ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নীচে নিখোঁজ মানুষদের সন্ধানে দীর্ঘ ৪০ দিন ধরে চলা উদ্ধার অভিযান অবশেষে স্থগিত করল নেপাল সরকার। ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর ধ্বংসস্তূপ, কাদামাটি, ভাঙা রাস্তা এবং নদীর প্রবল স্রোতের মধ্যে দিনের পর দিন নিখোঁজদের খোঁজ চালিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, ততই কঠিন হয়েছে তল্লাশি অভিযান। জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনাও ক্রমশ ক্ষীণ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নিখোঁজদের সন্ধানে আনুষ্ঠানিক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার।
৫ অক্টোবর কাঠমাণ্ডু থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ৪০ দিন পরেও প্রায় ৫,২৮৫ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এত বিপুল সংখ্যক মানুষের কোনও সন্ধান না মেলায় স্বজনদের মধ্যে এখনও রয়েছে গভীর উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা এবং অনিশ্চয়তা। দিনের পর দিন তাঁরা অপেক্ষা করেছেন, হয়তো ধ্বংসস্তূপের কোথাও মিলবে প্রিয়জনের খোঁজ। উদ্ধারকারী দলের প্রতিটি অভিযান, প্রতিটি তল্লাশি এবং প্রতিটি খবরের দিকে তাকিয়ে থেকেছেন তাঁরা। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও বহু নিখোঁজ মানুষের সন্ধান না মেলায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
প্রবল হড়পা বান এবং ভূমিধস নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি তৈরি করে। পাহাড়ি এলাকায় আচমকা জল নেমে আসা, নদীর স্রোত বেড়ে যাওয়া এবং মাটির বিশাল অংশ ধসে পড়ার কারণে বহু এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কোথাও রাস্তা ভেসে যায়, কোথাও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আবার কোথাও বসতবাড়ি ও অন্যান্য নির্মাণ ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে নিখোঁজ ব্যক্তিদের শেষ অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে উদ্ধারকারীদের জন্য প্রতিটি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়ে ওঠে অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ।
দুর্যোগের পর থেকেই নিখোঁজদের সন্ধানে একাধিক পর্যায়ে অভিযান চালানো হয়। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে, কাদামাটির স্তর পরীক্ষা করে এবং নদীর স্রোতের আশপাশের এলাকাতেও তল্লাশি চালায়। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল এবং প্রবল স্রোত উদ্ধারকারীদের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। একদিকে ছিল প্রতিকূল আবহাওয়া, অন্যদিকে ভূমিধসের আশঙ্কা। অনেক জায়গায় নতুন করে মাটি ধসে পড়ার ঝুঁকি থাকায় উদ্ধারকারীদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হয়েছে।
নেপালের মতো পাহাড়ি দেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা বরাবরই কঠিন। দুর্গম এলাকায় দ্রুত উদ্ধারকারী দল পৌঁছনো, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া এবং দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালানো সহজ নয়। তার উপর হড়পা বান ও ভূমিধসের মতো বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি প্রতি মুহূর্তে বদলে যেতে পারে। নদীর গতিপথ পরিবর্তন, কাদামাটির স্তর বৃদ্ধি এবং নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা উদ্ধারকাজকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।
এই পরিস্থিতিতে টানা ৪০ দিন ধরে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা কমতে থাকে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর প্রথম কয়েকটি দিন সাধারণত নিখোঁজদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। কিন্তু দিনের পর দিন কেটে যাওয়ার পর সেই সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ হয়ে যায়। ফলে উদ্ধারকারী দলকে একদিকে নিখোঁজদের সন্ধান চালিয়ে যেতে হয়েছে, অন্যদিকে প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে।
নেপাল সরকারের উদ্ধার অভিযান স্থগিতের সিদ্ধান্ত তাই অত্যন্ত কঠিন এবং আবেগঘন একটি পদক্ষেপ। কারণ, এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ। তাঁদের পরিবারের কাছে উদ্ধার অভিযান বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর নিঃসন্দেহে গভীর আঘাতের। বহু পরিবার এখনও আশা করে থাকতে পারেন যে কোনও একদিন হয়তো তাঁদের প্রিয়জনের সন্ধান মিলবে। কিন্তু ৪০ দিন ধরে চলা তল্লাশি অভিযানের পরও যখন বিপুল সংখ্যক মানুষের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি, তখন প্রশাসনের পক্ষেও একইভাবে অভিযান চালিয়ে যাওয়া ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ে।
নিখোঁজ প্রায় ৫,২৮৫ মানুষের সংখ্যা এই বিপর্যয়ের ভয়াবহতারই একটি বড় ছবি তুলে ধরে। প্রত্যেক নিখোঁজ ব্যক্তির পিছনে রয়েছে একটি করে পরিবার, একটি করে অপেক্ষা এবং অসংখ্য প্রশ্ন। কেউ হয়তো পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী, কেউ সন্তান, কেউ বাবা-মা, আবার কেউ স্বামী বা স্ত্রী। তাঁদের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ফলে শুধু একটি মানুষ নয়, একটি গোটা পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। অনেক পরিবার এখনও নিশ্চিতভাবে জানতে পারেনি তাঁদের প্রিয়জনের কী হয়েছে।
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলির মধ্যে একটি হল যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা। রাস্তা এবং সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হলে দুর্গত এলাকায় পৌঁছনো কঠিন হয়ে যায়। নেপালের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি সেই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। বহু এলাকায় উদ্ধারকারী দলকে দুর্গম পথ পেরিয়ে পৌঁছতে হয়েছে। কোথাও কাদামাটি সরাতে হয়েছে, কোথাও ভেঙে যাওয়া রাস্তা অতিক্রম করতে হয়েছে। আবার নদী ও জলস্রোতের কারণে কিছু এলাকায় তল্লাশি চালানোও সম্ভব হয়নি।
হড়পা বান সাধারণ বন্যার তুলনায় অনেক বেশি আকস্মিক এবং ধ্বংসাত্মক হতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় প্রবল বৃষ্টির ফলে অল্প সময়ের মধ্যে নদী বা জলধারায় বিপুল পরিমাণ জল নেমে আসে। সেই স্রোতের সঙ্গে পাথর, মাটি, গাছ এবং অন্যান্য ধ্বংসাবশেষও ভেসে যেতে পারে। ফলে কয়েক মিনিট বা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একটি এলাকা সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে। নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের ক্ষেত্রেও এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিই বহু জায়গায় তৈরি হয়েছিল।
এর সঙ্গে যুক্ত হয় ভূমিধস। পাহাড়ের ঢাল থেকে মাটি ও পাথরের বিশাল অংশ নেমে এসে রাস্তা, বাড়ি এবং অন্যান্য স্থাপনা চাপা দিতে পারে। অনেক সময় ভূমিধসের পরে উদ্ধার অভিযান শুরু করার আগেই নতুন করে ধস নামার আশঙ্কা থাকে। ফলে উদ্ধারকারীদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও একটি বড় বিষয়। নিজেরাই বিপদের মধ্যে পড়ে গেলে উদ্ধার অভিযান আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
এই কারণেই দীর্ঘ ৪০ দিনের তল্লাশির পর নেপাল সরকার এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করতে চাইছে। উদ্ধার অভিযানের পরিবর্তে বিপর্যস্ত জনপদগুলিকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনার দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় পরিকাঠামো পুনর্গঠন করা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুর্গত মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সহায়তা করা এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়াও সরকারের সামনে বড় দায়িত্ব।
তবে উদ্ধার অভিযান স্থগিত হলেও নিখোঁজ মানুষদের পরিবারগুলির প্রশ্ন শেষ হয়ে যাচ্ছে না। তাঁদের কাছে এখনও সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—প্রিয়জন কোথায়? ৪০ দিন ধরে চলা অপেক্ষার পর এই প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া তাঁদের জন্য অত্যন্ত কঠিন। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত একদিকে বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন হলেও, অন্যদিকে হাজার হাজার পরিবারের কাছে এটি নতুন অনিশ্চয়তার সূচনা।
দুর্যোগের পর নিখোঁজদের পরিচয় শনাক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কোথাও যদি দেহাবশেষ বা কোনও ব্যক্তিগত সামগ্রী উদ্ধার হয়, তা পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং পরিচয় নিশ্চিত করা প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এর জন্য তথ্য সংগ্রহ, নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি এবং পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে নিখোঁজদের বিষয়ে সরকারি তথ্যভান্ডার তৈরি এবং নিয়মিত তা আপডেট করাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
নেপালের এই বিপর্যয় আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, পাহাড়ি অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কতটা ভয়াবহ হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আবহাওয়ার ধরন বদলানো, অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত এবং আকস্মিক জলপ্রবাহের মতো ঘটনা অনেক অঞ্চলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। পাহাড়ি এলাকায় বসতি, রাস্তা এবং অন্যান্য পরিকাঠামো তৈরি করার সময় তাই দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। নদীর জলস্তর, বৃষ্টিপাত এবং ভূমিধসের সম্ভাবনা সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পৌঁছে দেওয়া গেলে বহু মানুষকে আগেই নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও দুর্যোগ মোকাবিলার প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন।
নেপালের বর্তমান পরিস্থিতিতে পুনর্গঠন শুধু রাস্তা বা বাড়ি তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। যাঁরা পরিবার হারিয়েছেন, যাঁরা এখনও নিখোঁজ স্বজনের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং যাঁরা ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন—তাঁদের মানসিক ও সামাজিক পুনর্বাসনও গুরুত্বপূর্ণ। একটি বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর স্বাভাবিক জীবন ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগে। তাই সরকারের সামনে এখন দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের বড় দায়িত্ব।
৪০ দিন ধরে চলা উদ্ধার অভিযানের সমাপ্তি তাই নেপালের জন্য একটি অধ্যায়ের শেষ হলেও, বিপর্যয়ের প্রভাব এখনও শেষ হয়নি। প্রায় ৫,২৮৫ জন নিখোঁজ থাকার তথ্যই দেখিয়ে দিচ্ছে, এই দুর্যোগ কতটা গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। উদ্ধারকারী দল তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছে, কিন্তু প্রকৃতির ভয়াবহতার সামনে শেষ পর্যন্ত থামতে হয়েছে। এখন লক্ষ্য—ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নতুন করে জীবন গড়ে তোলা।
কাঠমাণ্ডু থেকে পাওয়া এই খবর শুধু একটি উদ্ধার অভিযান বন্ধ হওয়ার খবর নয়; এটি হাজার হাজার পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা এবং হারানোর গল্পও বহন করছে। নেপাল সরকার এখন দুর্গত জনপদগুলিকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর দিকে নজর দিলেও নিখোঁজদের পরিবারগুলির কাছে অপেক্ষার অবসান এখনও হয়নি। ৪০ দিন পরও তাঁদের মনে একই প্রশ্ন—যাঁরা নিখোঁজ, তাঁদের কী হয়েছিল?
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষত শুকোতে সময় লাগে। ধ্বংস হওয়া বাড়ি আবার তৈরি করা যায়, রাস্তা ও সেতু মেরামত করা যায়, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা যায়। কিন্তু প্রিয়জন হারানোর ক্ষত পূরণ করা যায় না। আর যখন সেই প্রিয়জনের কোনও সন্ধানই মেলে না, তখন অপেক্ষাটাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতা। নেপালের হাজার হাজার পরিবার এখন সেই বাস্তবতার মধ্য দিয়েই দিন কাটাচ্ছে।
তাই উদ্ধার অভিযান স্থগিতের পর নেপালের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে পুনর্গঠন, পুনর্বাসন এবং নিখোঁজদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে হড়পা বান, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী প্রস্তুতি তৈরি করতে হবে। কারণ প্রকৃতির সামনে মানুষের নিয়ন্ত্রণ সীমিত হলেও আগাম প্রস্তুতি এবং দ্রুত সতর্কীকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
৪০ দিনের তল্লাশি শেষে নেপাল সরকার উদ্ধার অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত করেছে। কিন্তু এই বিপর্যয়ের গল্প এখানেই শেষ নয়। এখন শুরু হচ্ছে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে, ক্ষতিগ্রস্ত জনপদ পুনর্গঠন করে এবং দুর্গত মানুষকে সঙ্গে নিয়ে নেপালকে আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে হবে। আর সেই পথ চলার মধ্যেই হয়তো একদিন নিখোঁজদের পরিবারগুলি তাঁদের দীর্ঘ অপেক্ষার কোনও উত্তর পাবে—এই আশাতেই হয়তো এখনও দিন গুনছেন হাজার হাজার মানুষ।