Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ভারতের শক্তির ইতিহাসে নতুন যুগ গুজরাটে উদ্বোধন হলো বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম সূর্য আদিত্যতেজ এবং অনন্ত পরিচ্ছন্ন শক্তির সূচনা

ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ইতিহাসে আজ এক অবিস্মরণীয় দিন গুজরাটের গান্ধীনগরে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলো বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক নিউক্লিয়ার ফিউশন রিঅ্যাক্টর বা কৃত্রিম সূর্য আদিত্যতেজ এই যুগান্তকারী প্রযুক্তি জল থেকে জ্বালানি তৈরি করে ভারতকে অনন্ত এবং সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত শক্তির এক নতুন যুগে প্রবেশ করাল যা দেশের অর্থনীতিকে বদলে দেবে

ভারতের বিজ্ঞান প্রযুক্তি এবং শক্তির ইতিহাসে আজকের দিনটি এক নতুন স্বর্ণযুগের সূচনা করল আজ সকালে গুজরাটের গান্ধীনগরে অবস্থিত ইনস্টিটিউট ফর প্লাজমা রিসার্চ এর বিশাল চত্বরে বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বাণিজ্যিক নিউক্লিয়ার ফিউশন রিঅ্যাক্টর বা কৃত্রিম সূর্য যার নাম দেওয়া হয়েছে আদিত্যতেজ এর জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধন হলো প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের শীর্ষ বিজ্ঞানীদের উপস্থিতিতে যখন এই বিশাল যন্ত্রটি চালু করা হলো এবং প্রথমবার প্লাজমা প্রজ্বলিত হলো তখন সমগ্র কন্ট্রোল রুম আনন্দে ফেটে পড়ল এই ঐতিহাসিক মেগা ইভেন্ট প্রমাণ করে দিল যে ভারত এখন আর কেবল শক্তির উপভোক্তা নয় বরং ভারত আজ অনন্ত এবং পরিচ্ছন্ন শক্তির জন্মদাতা এবং সমগ্র বিশ্বের পথপ্রদর্শক এতদিন আমরা কেবল কল্পবিজ্ঞানের সিনেমায় দেখেছি যে মানুষ পৃথিবীতে কৃত্রিম সূর্য তৈরি করে শক্তির অভাব দূর করছে কিন্তু আজ সেই অসম্ভব কল্পনা বাস্তবের মাটিতে ধরা দিল আদিত্যতেজ এমন একটি প্রযুক্তি যা মানব সভ্যতার শক্তির চাহিদাকে চিরতরে বদলে দিয়ে এক অভাবনীয় বিপ্লব ঘটিয়েছে এখন ভারতকে আর বিদ্যুতের জন্য কয়লা বা তেলের ওপর নির্ভর করতে হবে না

এই অসাধ্য সাধনের নেপথ্য কাহিনী এবং নিউক্লিয়ার ফিউশনের বিজ্ঞান সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ শক্তির জন্য পৃথিবীর গর্ভ খুঁড়ে কয়লা বা তেল বের করেছে যার ফলে পরিবেশ চরমভাবে দূষিত হয়েছে এবং বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর মতো ভয়াবহ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে কিন্তু ফিউশন প্রযুক্তি সম্পূর্ণ আলাদা ফিউশন হলো সেই একই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে আমাদের আসল সূর্য এবং আকাশের কোটি কোটি তারা শক্তি উৎপন্ন করে এই প্রক্রিয়ায় দুটি হালকা পরমাণু যেমন হাইড্রোজেনের দুটি আইসোটোপ ডয়টেরিয়াম এবং ট্রিটিয়াম চরম তাপ এবং চাপে যুক্ত হয়ে একটি ভারী হিলিয়াম পরমাণু তৈরি করে এবং এই যুক্ত হওয়ার সময় প্রচুর পরিমাণে শক্তি নির্গত হয় এই ফিউশন প্রক্রিয়ায় কোনো ক্ষতিকারক গ্রিনহাউস গ্যাস বা দীর্ঘস্থায়ী তেজস্ক্রিয় বর্জ্য তৈরি হয় না এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং পরিবেশবান্ধব একটি প্রযুক্তি যা জল থেকে জ্বালানি তৈরি করে কারণ ডয়টেরিয়াম সমুদ্রের জল থেকে অনায়াসেই পাওয়া যায়

আদিত্যতেজ রিঅ্যাক্টরের প্রযুক্তিগত বিশালতা এবং ইঞ্জিনিয়ারিং সত্যিই বিস্ময়কর এটি হলো একটি টোকামাক রিঅ্যাক্টর যা দেখতে অনেকটা বিশাল এক ডোনাট বা রিংয়ের মতো ফিউশন প্রক্রিয়া ঘটানোর জন্য এর ভেতরে হাইড্রোজেন গ্যাসকে গরম করে প্লাজমা অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয় এই প্লাজমার তাপমাত্রা পৌঁছায় প্রায় পনেরো কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াসে যা আমাদের আসল সূর্যের কেন্দ্রের তাপমাত্রার চেয়েও প্রায় দশ গুণ বেশি এত প্রচণ্ড তাপে পৃথিবীর যেকোনো ধাতু গলে বাষ্প হয়ে যাবে তাই এই প্লাজমাকে কোনো পাত্রে রাখা সম্ভব নয় ভারতীয় বিজ্ঞানীরা এই সমস্যার এক জাদুকরী সমাধান বের করেছেন তারা সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট বা অতিপরিবাহী চুম্বক ব্যবহার করে এক অদৃশ্য চৌম্বকীয় খাঁচা তৈরি করেছেন যা এই প্রচণ্ড গরম প্লাজমাকে শূন্যে ভাসিয়ে রাখে যাতে তা রিঅ্যাক্টরের দেওয়ালে স্পর্শ করতে না পারে এই শক্তিশালী চুম্বকগুলোকে আবার মাইনাস দুইশো ঊনসত্তর ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ঠান্ডা রাখতে হয় যার জন্য তরল হিলিয়ামের এক বিশাল কুলিং সিস্টেম বা ক্রায়োস্ট্যাট ব্যবহার করা হয়েছে একই যন্ত্রের মধ্যে পনেরো কোটি ডিগ্রির চরম তাপ এবং মাইনাস দুইশো ঊনসত্তর ডিগ্রির চরম শৈত্য বজায় রাখা বিজ্ঞান এবং ইঞ্জিনিয়ারিং এর এক চরম উৎকর্ষের প্রমাণ

ভারতের এই ফিউশন গবেষণার যাত্রা শুরু হয়েছিল অনেক আগে আইপিআর এর এসএসটি ওয়ান টোকামাক থেকে শুরু করে আইটিইআর প্রজেক্টে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে ভারতীয় বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই প্রযুক্তির প্রতিটি সূক্ষ্ম দিক আয়ত্ত করেছেন ফিউশন রিঅ্যাক্টরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কিউ ভ্যালু বা এনার্জি গেইন ফ্যাক্টর অর্থাৎ ফিউশন ঘটাতে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হয় তার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা এতদিন বিশ্বের অন্যান্য দেশের গবেষণাগারে ফিউশন প্রক্রিয়া কয়েক সেকেন্ডের জন্য স্থায়ী হতো কিন্তু আদিত্যতেজ আজ সেই সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়ে একটানা প্লাজমা ধরে রাখতে এবং ইনপুটের চেয়ে প্রায় কুড়ি গুণ বেশি শক্তি উৎপন্ন করতে সফল হয়েছে এটি ভারত সরকারের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য এবং মিশন মোড ফান্ডের এক চূড়ান্ত সার্থকতা যা দেশের বিজ্ঞানীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার এবং উদ্ভাবন করার সুযোগ দিয়েছে এই রিঅ্যাক্টর থেকে উৎপন্ন বিপুল পরিমাণ তাপকে কাজে লাগিয়ে স্টিম টারবাইন ঘোরানো হয় যা থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়ে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়

শক্তির এই নতুন উৎস ভারতের অর্থনীতিতে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে তা এক কথায় অকল্পনীয় এতদিন ভারত তার শক্তির চাহিদার আশি শতাংশ মেটানোর জন্য বিদেশ থেকে তেল এবং কয়লা আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল যার জন্য প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হতো এখন সেই পুরো টাকাটাই দেশের উন্নয়নে কাজে লাগবে শক্তির দাম এক ধাক্কায় প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে সরকার ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশের সমস্ত কৃষকদের সেচের জন্য আর বিদ্যুতের বিল দিতে হবে না তারা এখন চব্বিশ ঘণ্টা বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পাবেন যার ফলে কৃষি উৎপাদন বহুগুণ বেড়ে যাবে গ্রামের যে কুটির শিল্পগুলো বিদ্যুতের অভাবে ধুঁকছিল তা আবার নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে ছোট ছোট কারখানার মালিকরা যারা জেনারেটরের তেলের খরচ জোগাতে হিমশিম খেতেন তারা এখন অত্যন্ত সস্তায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাবেন এর ফলে তাদের উৎপাদন খরচ কমবে এবং তারা আন্তর্জাতিক বাজারে চিনের সাথে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে পারবেন

শিল্পক্ষেত্রেও এক বিশাল জোয়ার আসবে মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পের অধীনে যে বিশাল সব ম্যানুফ্যাকচারিং হাব বা উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে তাদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো সস্তা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ইস্পাত সিমেন্ট এবং অ্যালুমিনিয়ামের মতো ভারী শিল্পগুলো এখন অনেক কম খরচে উৎপাদন করতে পারবে এর ফলে দেশে তৈরি জিনিসের দাম কমবে এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রেও এর প্রভাব হবে বিপুল আধুনিক যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চালানোর জন্য যে বিশাল সব ডেটা সেন্টার এবং সুপারকম্পিউটার তৈরি হচ্ছে সেগুলোর জন্য প্রচুর বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় আদিত্যতেজ থেকে পাওয়া সস্তা বিদ্যুৎ ভারতের আইটি সেক্টরকে বিশ্বের কাছে আরও বেশি লাভজনক করে তুলবে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন এই ফিউশন প্রযুক্তির কারণে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার আগামী এক দশকের জন্য দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছে যাবে এবং ভারত খুব শীঘ্রই দশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হবে

পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার ক্ষেত্রে ফিউশন শক্তি হলো মানব সভ্যতার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার গত কয়েক দশক ধরে ভারত অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথে পরিবেশ দূষণের সমস্যাতেও ভুগছিল কয়লা চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে নির্গত ধোঁয়া দেশের বাতাসকে বিষাক্ত করে তুলছিল কিন্তু আদিত্যতেজ চালু হওয়ার ফলে এখন ধীরে ধীরে দেশের সমস্ত থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট বা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হবে এর ফলে প্রতি বছর কোটি কোটি টন কার্বন ডাই অক্সাইড বাতাসে মেশা বন্ধ হবে দিল্লির মতো শহরগুলো যা শীতকালে ধোঁয়াশায় ঢেকে যেত তা আবার নীল আকাশ ফিরে পাবে ভারত প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং নেট জিরো বা শূন্য কার্বন নিঃসরণের যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল তা নির্ধারিত সময়ের কয়েক দশক আগেই পূরণ করে ফেলবে এটি বিশ্ব দরবারে ভারতকে এক দায়িত্বশীল এবং পরিবেশ সচেতন মহাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে

কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ফিউশন প্রযুক্তি এক সম্পূর্ণ নতুন যুগের সূচনা করেছে অনেকে ভাবতে পারেন যে এত উন্নত প্রযুক্তির ফলে হয়তো সাধারণ মানুষের কাজ কমে যাবে কিন্তু বাস্তবে তার উল্টোটা ঘটছে এই বিশাল প্রকল্প পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য লক্ষ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে কেবল ফিজিসিস্ট বা ইঞ্জিনিয়ার নয় বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে প্লাজমা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এআই প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ার ডেটা সায়েন্টিস্ট এবং রোবোটিক্স এক্সপার্টদের প্রবল চাহিদা তৈরি হয়েছে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে কর্পোরেট সেক্টরে শক্তির এই নতুন উৎসকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন স্টার্টআপ কোম্পানি তৈরি হচ্ছে যারা এই সস্তা বিদ্যুৎকে কাজে লাগিয়ে গ্রাহকদের নতুন পরিষেবা দিচ্ছে এই কোম্পানিগুলোতে এখন প্রচুর তরুণ তরুণীকে নিয়োগ করা হচ্ছে যারা একই সাথে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ডেটা বিশ্লেষণ এবং ক্লায়েন্ট রিলেশন সামলাচ্ছেন এই নতুন প্রজন্মের কর্মীরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এই অত্যাধুনিক ইকোসিস্টেমকে সচল রেখেছেন

শিক্ষা এবং গবেষণার ক্ষেত্রেও এই ফিউশন শক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন তাদের সিলেবাস সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে প্লাজমা ফিজিক্স সুপারকন্ডাক্টিং মেটেরিয়ালস এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এর ওপর জোর দিচ্ছে আইআইটি এবং এনআইটিগুলোতে ফিউশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর নতুন কোর্স চালু হয়েছে যে ছাত্রছাত্রীরা আগে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে কেবল আইটি কোম্পানিতে কোডিং করার কথা ভাবত তারা এখন ফিউশন সায়েন্টিস্ট হওয়ার স্বপ্ন দেখছে স্টেম এডুকেশন বা বিজ্ঞান প্রযুক্তির শিক্ষায় এক বিপুল উৎসাহ দেখা যাচ্ছে স্কুল স্তরের ছেলেমেয়েদের জন্যও বিশেষ ডিজিটাল ল্যাব তৈরি করা হচ্ছে যেখানে তারা ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে আদিত্যতেজ রিঅ্যাক্টরের ভেতরে ঘুরে দেখতে পারবে এবং ফিউশনের বিজ্ঞান শিখতে পারবে এই নতুন প্রযুক্তি ভারতের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানী এবং প্রযুক্তিবিদ হিসেবে গড়ে তুলবে যারা আগামী দিনে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে

news image
আরও খবর

সামাজিক মাধ্যম এবং ডিজিটাল কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের জগতেও আদিত্যতেজ এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এখন সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল তারা প্রচুর তরুণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের নিয়োগ করছে যারা আঞ্চলিক ভাষায় অত্যন্ত আকর্ষণীয় ভিডিও এবং ইনফোগ্রাফিক্স তৈরি করে সাধারণ মানুষকে ফিউশন শক্তির সুবিধাগুলো বোঝাচ্ছে এই তরুণরা অত্যন্ত জটিল বৈজ্ঞানিক তত্ত্বকে সহজ এবং মজাদার গল্পে পরিণত করে ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউবে শেয়ার করছেন যা নিমেষের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে এর ফলে বিজ্ঞান নিয়ে মানুষের মধ্যে যে ভয় বা অনীহা ছিল তা দূর হচ্ছে এবং যারা বিজ্ঞান নিয়ে পড়েননি তারাও এই বিশাল প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের অংশীদার হতে পারছেন এবং ঘরে বসে ভালো অর্থ উপার্জন করছেন

এই উপার্জিত অর্থ এবং ফিউশন প্রযুক্তির এই বিশাল সাফল্য তরুণ সৃজনশীল মানুষদের স্বাধীনভাবে কাজ করার এবং স্বপ্ন পূরণের এক নতুন পথ খুলে দিয়েছে অনেক স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা যারা অর্থের অভাবে তাদের সিনেমা বানাতে পারতেন না তারা এখন ডিজিটাল মার্কেটিং থেকে আয় করা টাকা সরাসরি তাদের নিজেদের শর্ট ফিল্ম প্রোজেকশনে বিনিয়োগ করছেন অনেক তরুণ নির্মাতা এই ফিউশন প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন সাই ফাই বা কল্পবিজ্ঞানের গল্প লিখছেন তারা এমন সিনেমা বানাচ্ছেন যেখানে মানুষ ফিউশন শক্তি ব্যবহার করে মহাকাশের দূর দূরান্তে পাড়ি দিচ্ছে বা নতুন সভ্যতার পত্তন করছে এই ধরনের গভীর এবং চিন্তাশীল সিনেমা বানানোর জন্য যে মানসিক এবং আর্থিক স্বাধীনতার প্রয়োজন তা তারা এখন পাচ্ছেন এবং অত্যন্ত কম বাজেটে এমন বিশ্বমানের সিনেমা তৈরি করছেন যা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ভারতের নাম উজ্জ্বল করছে

আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের এই সাফল্য এক বিশাল এবং অভূতপূর্ব প্রভাব ফেলেছে আমেরিকা চিন এবং ইউরোপের দেশগুলো যারা গত কয়েক দশক ধরে ফিউশন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছিল তারা আজ ভারতের এই বাণিজ্যিক সাফল্য দেখে রীতিমতো বিস্মিত এবং হতবাক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো ভারতের এই অর্জনকে একুশ শতকের সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক জয় বলে বর্ণনা করছে ভারত এখন আর বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল নয় বরং বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ এখন ভারতের কাছ থেকে এই ফিউশন প্রযুক্তি এবং সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট কেনার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে এটি ভারতের সফট পাওয়ার এবং প্রযুক্তিগত কূটনীতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে ভারত আজ প্রমাণ করল যে মেধা এবং সদিচ্ছা থাকলে উন্নয়নশীল দেশও বিশ্বকে প্রযুক্তিগত পথ দেখাতে পারে

শক্তি কূটনীতি বা এনার্জি ডিপ্লোমেসির ক্ষেত্রে আদিত্যতেজ এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে যে দেশগুলোর কাছে তেল বা গ্যাসের বিশাল ভাণ্ডার ছিল তারা এতদিন বিশ্ব রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করত কিন্তু ফিউশন শক্তির ফলে সেই ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু এখন ভারতের দিকে সরে এসেছে ভারত এখন শক্তি আমদানিকারক দেশ থেকে শক্তি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হতে চলেছে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলো যেমন বাংলাদেশ নেপাল ভুটান এবং শ্রীলঙ্কা যারা বিদ্যুতের অভাবে নিজেদের শিল্পায়ন করতে পারছিল না ভারত তাদের এই ফিউশন বিদ্যুৎ অত্যন্ত কম দামে রপ্তানি করার প্রস্তাব দিয়েছে এর ফলে একটি শক্তিশালী দক্ষিণ এশীয় সুপারগ্রিড তৈরি হবে যা এই গোটা অঞ্চলের অর্থনীতিকে বদলে দেবে এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারতের প্রভাবকে আরও মজবুত করবে

ফিউশন গবেষণার ফলে যে সমস্ত নতুন প্রযুক্তি বা স্পিন অফ টেকনোলজি আবিষ্কার হয়েছে তা অন্যান্য ক্ষেত্রেও বিশাল কাজে লাগছে আদিত্যতেজ এর জন্য যে অত্যন্ত শক্তিশালী সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট তৈরি করা হয়েছে তা এখন চিকিৎসা ক্ষেত্রে উন্নত এবং সস্তা এমআরআই মেশিন তৈরি করতে ব্যবহৃত হচ্ছে ফিউশন রিঅ্যাক্টরের ভেতরের চরম বিকিরণ সহ্য করার জন্য যে বিশেষ মেটেরিয়াল বা ধাতু তৈরি করা হয়েছে তা এখন ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো তাদের মহাকাশযানের বাইরের আবরণ হিসেবে ব্যবহার করবে প্লাজমা নিয়ন্ত্রণের জন্য যে অত্যন্ত দ্রুতগতির এআই এবং মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম তৈরি করা হয়েছে তা এখন দেশের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং সাইবার সুরক্ষার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে অর্থাৎ একটি মেগা প্রজেক্ট দেশের সামগ্রিক প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোকে কয়েক দশক এগিয়ে দিয়েছে

মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে ফিউশন শক্তি এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে ইসরো ইতিমধ্যেই ফিউশন প্রোপালশন বা ফিউশন চালিত রকেট ইঞ্জিন নিয়ে কাজ শুরু করেছে সাধারণ রাসায়নিক রকেটে করে মঙ্গল গ্রহে যেতে যেখানে কয়েক মাস সময় লাগে সেখানে ফিউশন চালিত মহাকাশযানে করে মাত্র কয়েক সপ্তাহে মঙ্গলে পৌঁছানো সম্ভব হবে এটি মানব সভ্যতার জন্য সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহে বসতি স্থাপন করার পথ সুগম করবে আদিত্যতেজ কেবল পৃথিবীর শক্তির অভাব মেটাবে না এটি ভবিষ্যতে মহাশূন্যে ভারতের আধিপত্য বিস্তারের মূল চাবিকাঠি হয়ে উঠবে ভারত এখন মহাকাশ সভ্যতায় পরিণত হওয়ার দিকে দ্রুত পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে

ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা মাথায় রেখে সরকার ঘোষণা করেছে যে আগামী দশ বছরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আরও দশটি এমন ফিউশন রিঅ্যাক্টর তৈরি করা হবে এই বিকেন্দ্রীকরণের ফলে শক্তির জন্য আর কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের ওপর নির্ভর করতে হবে না প্রতিটি রাজ্য নিজেদের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ নিজেরাই তৈরি করতে পারবে এটি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তাকেও অনেক বেশি সুনিশ্চিত করবে কারণ বাইরের কোনো দেশ আর তেল বা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে ভারতকে ব্ল্যাকমেইল করতে পারবে না ভারত সম্পূর্ণভাবে শক্তি স্বাধীন এবং আত্মনির্ভর দেশে পরিণত হবে যা দেশের প্রতিটি নাগরিকের মনে এক প্রবল আত্মবিশ্বাস এবং গর্বের সঞ্চার করবে

২০২৬ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি দিনটি সমগ্র মানবজাতির কাছে প্রমাণ করল যে মানুষের মেধা এবং উদ্ভাবন ক্ষমতা পৃথিবীর যেকোনো সংকটকে অনায়াসে জয় করতে পারে যে শক্তির জন্য মানুষ এতদিন পৃথিবীর প্রকৃতিকে ধ্বংস করেছে আজ বিজ্ঞান সেই ধ্বংসলীলা থেকে প্রকৃতিকে মুক্তি দিল আদিত্যতেজ কেবল ইট লোহা এবং চুম্বকের তৈরি একটি যন্ত্র নয় এটি হলো একশো ত্রিশ কোটি ভারতীয়ের আশা আকাঙ্ক্ষা এবং বিশ্বজয়ের স্বপ্নের এক জীবন্ত প্রতীক আমরা এখন এমন এক ভারতের নাগরিক যে ভারত কেবল স্বপ্ন দেখে না বরং সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়ে সমগ্র পৃথিবীকে আলোকিত করে ফিউশন শক্তির এই অসীম আলো ভারতের অর্থনীতি সমাজ এবং সংস্কৃতিকে এক নতুন দিশা দেখাবে ভারত আজ এক সত্যিকারের এবং অবিসংবাদিত মহাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল জয় বিজ্ঞান জয় প্রযুক্তি জয় ভারত

Preview image