Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

সাদা নয়, কালো দুধেই মজেছেন অদা! কী এই নতুন পানীয়, কেন এত চর্চা?

সাদা দুধ নয়, এ বার কালো দুধ নিয়ে চর্চায় বলিউড অভিনেত্রী অদা শর্মা। কী এই কালো দুধ, কীভাবে তৈরি হয় এবং পান করলে কী কী উপকার মিলতে পারে? জানুন বিস্তারিত।

কালো দুধ! নাম শুনে অবাক লাগলেও, এই বিশেষ পানীয় ঘিরে এখন তৈরি হয়েছে কৌতূহল। সাধারণত দুধ বলতে আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে সাদা রঙের এক গ্লাস পানীয়। কিন্তু দুধের রং যদি হয় কালো, তা হলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে, কী দিয়ে তৈরি হয় এই পানীয়? এর স্বাদ কেমন? আর সত্যিই কি কালো দুধ পান করলে শরীরের বিশেষ কোনও উপকার হয়? বলিউড অভিনেত্রী অদা শর্মাকে ঘিরে এই পানীয়ের চর্চা সেই প্রশ্নগুলিকেই নতুন করে সামনে এনেছে।

সাদা দুধের বদলে কালো দুধের প্রতি আগ্রহ তৈরি হওয়ায় অনেকের মনেই কৌতূহল জাগছে। তবে কালো দুধ বলতে ঠিক কোন পানীয়কে বোঝানো হচ্ছে, তা জানা জরুরি। কারণ, কালো রঙের পানীয় মানেই তা কোনও বিশেষ ধরনের দুধ নয়। বিভিন্ন উপাদান মিশিয়ে দুধের রং কালো করা হতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে কালো রঙের উদ্ভিদজাত পানীয়কেও দুধের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তাই এর উপাদান না জেনে পানীয়টির স্বাস্থ্যগুণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়।

কালো দুধ আসলে কী? সাধারণ দুধের থেকে কতটা আলাদা?

অদা শর্মার চর্চিত ‘ব্ল্যাক মিল্ক’ আসলে কালো তিল, কাজুবাদাম, খেজুর ও জল দিয়ে তৈরি একটি উদ্ভিদজাত পানীয়। নামের মধ্যে দুধ থাকলেও, এই বিশেষ রেসিপিতে গরু বা মোষের দুধ ব্যবহার করা হয় না। কালো তিলের গাঢ় রং পানীয়টিকে কালো করে তোলে। কাজুবাদাম পানীয়টিকে ঘন ও মসৃণ করে এবং খেজুর যোগ করে প্রাকৃতিক মিষ্টত্ব।

সাধারণ দুধের মতো দেখতে না হলেও, এই পানীয়ের মূল আকর্ষণ হল এর উপাদান। কালো তিল ভারতীয় রান্নায় বহু দিন ধরেই ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন মিষ্টি, লাড্ডু এবং অন্যান্য খাবারে কালো তিলের ব্যবহার দেখা যায়। অন্য দিকে, কাজুবাদাম ও খেজুরও পরিচিত খাদ্য উপাদান। এই তিনটি উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে পানীয় তৈরি করার পদ্ধতিই নতুন করে আলোচনায় এসেছে অদা শর্মার ভিডিয়োর মাধ্যমে।

তবে কালো দুধের নাম শুনে একে সাধারণ দুগ্ধজাত দুধের সম্পূর্ণ বিকল্প ভাবা ঠিক হবে না। সাধারণ দুধে প্রোটিন, ক্যালশিয়াম এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে। কালো তিল ও কাজুবাদামের পানীয় থেকেও কিছু পুষ্টি পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু তার পরিমাণ নির্ভর করবে উপাদানের অনুপাত এবং তৈরির পদ্ধতির উপর। বিশেষ করে পানীয়টি ছেঁকে নেওয়া হলে তিল ও কাজুবাদামের কিছু আঁশ অবশিষ্ট অংশের সঙ্গে বেরিয়ে যেতে পারে।

কী ভাবে তৈরি করবেন কালো দুধ?

অদা শর্মার এই পানীয় বাড়িতেও তৈরি করা সম্ভব। এর জন্য খুব বেশি উপকরণের প্রয়োজন নেই। রান্নাঘরে থাকা কয়েকটি সাধারণ উপাদান দিয়েই বানানো যায় এই পানীয়।

উপকরণ:

  • কালো তিল

  • কাজুবাদাম

  • খেজুর

  • পানীয় জল

তৈরির পদ্ধতি:

প্রথমে কালো তিল ও কাজুবাদাম ভালো করে পরিষ্কার করে নিন। কাজুবাদাম কিছুক্ষণ জলে ভিজিয়ে রাখলে তা নরম হবে এবং পিষতে সুবিধা হবে। খেজুরের বীজ থাকলে তা বের করে নিন। এ বার সব উপাদান একটি ব্লেন্ডারে দিয়ে প্রয়োজনমতো জল মিশিয়ে ভালো করে পিষে নিন।

মিশ্রণটি মসৃণ হয়ে গেলে চাইলে পরিষ্কার ছাঁকনি বা পাতলা কাপড় দিয়ে ছেঁকে নিতে পারেন। তাতে পানীয়ের গঠন আরও মসৃণ হবে। আবার আঁশ ধরে রাখতে চাইলে না ছেঁকেও পান করা যায়। নিজের পছন্দ অনুযায়ী জলের পরিমাণ বাড়িয়ে বা কমিয়ে ঘনত্ব ঠিক করে নিন।

এই পানীয়তে আলাদা করে চিনি যোগ না করলেও চলে, কারণ খেজুর থেকেই কিছুটা মিষ্টত্ব পাওয়া যায়। তবে খেজুরেও প্রাকৃতিক শর্করা থাকে। তাই যাঁদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়, তাঁদের উপাদানের পরিমাণ এবং মোট খাদ্যতালিকার দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।

অদা শর্মার শেয়ার করা রেসিপি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলিতে কালো তিল, কাজুবাদাম ও খেজুরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন রেসিপিতে উপাদানের অনুপাত আলাদা হতে পারে।

কালো তিলের কী কী পুষ্টিগুণ রয়েছে?

এই পানীয়ের অন্যতম প্রধান উপাদান কালো তিল। তিলে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন, কিছু খনিজ পদার্থ এবং বিভিন্ন উদ্ভিদজাত যৌগ থাকে। বিশেষ করে ক্যালশিয়াম, আয়রন ও জিঙ্কের মতো খনিজের জন্য তিল পরিচিত। তবে তিলের জাত, প্রক্রিয়াকরণ এবং ব্যবহৃত পরিমাণের উপর পুষ্টির মাত্রা নির্ভর করে।

news image
আরও খবর

তিলে থাকা ফ্যাটের একটি বড় অংশ অসম্পৃক্ত ফ্যাট। সুষম খাদ্যতালিকায় উপযুক্ত পরিমাণে অসম্পৃক্ত ফ্যাট রাখা হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি তিলে থাকা কিছু উদ্ভিদজাত যৌগ অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করতে পারে। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতির বিরুদ্ধে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।

তবে কোনও একটি খাবারে পুষ্টি উপাদান থাকলেই সেই খাবার সব ধরনের স্বাস্থ্যসমস্যা দূর করবে, এমনটা নয়। কালো তিল খাওয়া এবং কালো তিলের পানীয় পান করার ফলও এক রকম নাও হতে পারে। বিশেষ করে পানীয় ছেঁকে নিলে কিছু পুষ্টি ও আঁশের পরিমাণ কমে যেতে পারে।

ত্বকে জেল্লা আনতে পারে কি কালো দুধ?

অদা শর্মার কালো দুধ নিয়ে আলোচনার অন্যতম কারণ ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর দাবি। অভিনেত্রী নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পানীয়ের কথা তুলে ধরেছেন এবং কালো তিলের সম্ভাব্য উপকারের কথাও উল্লেখ করেছেন। সেই থেকেই অনেকের প্রশ্ন, নিয়মিত এই পানীয় পান করলে কি সত্যিই ত্বকে জেল্লা আসে?

ত্বক ভালো রাখার ক্ষেত্রে পুষ্টিকর খাবারের ভূমিকা রয়েছে। শরীর পর্যাপ্ত প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন, খনিজ এবং জল পেলে ত্বকের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সুবিধা হয়। কালো তিল ও কাজুবাদাম খাদ্যতালিকায় কিছু পুষ্টি যোগ করতে পারে। তবে শুধু কালো দুধ পান করলেই ত্বক উজ্জ্বল হবে, এমন দাবি প্রতিষ্ঠা করার মতো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

ত্বকের স্বাস্থ্য নির্ভর করে একাধিক বিষয়ের উপর। বংশগত বৈশিষ্ট্য, বয়স, হরমোন, ঘুম, সূর্যের আলো, ত্বকের যত্ন এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস—সবকিছুরই ভূমিকা রয়েছে। তাই কোনও একটি পানীয়কে ত্বকের জেল্লা বাড়ানোর নিশ্চিত উপায় হিসেবে দেখা উচিত নয়।

ত্বকের যত্নে সুষম খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার এবং ত্বকের ধরন অনুযায়ী পরিচর্যা গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে ত্বকে সমস্যা থাকলে বা হঠাৎ পরিবর্তন দেখা দিলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

চুলের জন্য কতটা উপকারী এই পানীয়?

কালো তিলের পুষ্টিগুণের কারণে চুলের যত্নের প্রসঙ্গেও এই পানীয় নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য বজায় রাখতে পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন। খাদ্যতালিকায় পুষ্টির ঘাটতি থাকলে তার প্রভাব চুলেও পড়তে পারে।

কালো তিল ও কাজুবাদাম কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করতে পারে। তাই সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে এগুলি খাওয়া যেতে পারে। কিন্তু কালো দুধ পান করলে চুল পড়া বন্ধ হবে বা নতুন চুল গজাবে, এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই। চুল পড়ার কারণও একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে। পুষ্টির ঘাটতি, হরমোনের পরিবর্তন, বংশগত কারণ কিংবা কিছু শারীরিক সমস্যার জন্য চুল পড়তে পারে।

অতএব, চুলের সমস্যার সমাধান হিসেবে শুধু এই পানীয়ের উপর নির্ভর করা ঠিক নয়। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চুল পড়লে তার কারণ নির্ণয় করা জরুরি।

কালো দুধের অবশিষ্ট অংশ দিয়ে ফেসপ্যাক?

পানীয় তৈরি করার পরে ছেঁকে নেওয়া তিল ও কাজুবাদামের মিশ্রণ ফেলে না দিয়ে মুখে ব্যবহার করার কথাও অদা শর্মাকে ঘিরে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তবে খাবার হিসেবে কোনও উপাদান পুষ্টিকর হলেই তা মুখে লাগানোর জন্য নিরাপদ হবে, এমন নয়। ত্বকের ধরন অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া আলাদা হতে পারে। বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বক বা বাদামে অ্যালার্জি থাকলে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। মুখে কোনও নতুন উপাদান লাগানোর আগে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। জ্বালা, লালচে ভাব বা চুলকানি হলে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

এ ছাড়া, খাবারের অবশিষ্ট মিশ্রণ দীর্ঘক্ষণ বাইরে রেখে দিলে তাতে জীবাণু জন্মানোর আশঙ্কা থাকে। তাই তাজা উপাদান ব্যবহার করা এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। মুখের ত্বকের যত্নে কোনও ঘরোয়া প্যাকের কার্যকারিতা নিয়ে নিশ্চিত দাবি করার আগে তার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ থাকা প্রয়োজন।

কালো দুধ পান করার আগে কী কী বিষয়ে সতর্ক থাকবেন?

কালো তিল, কাজুবাদাম ও খেজুর পরিচিত খাদ্য উপাদান হলেও সবার জন্য একই খাবার সমান উপযোগী নয়। বিশেষ করে যাঁদের তিল বা কাজুবাদামে অ্যালার্জি রয়েছে, তাঁদের এই পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত। অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া কখনও গুরুতরও হতে পারে।

এ ছাড়া, এই পানীয়কে সাধারণ দুধের সমতুল্য পুষ্টির উৎস ধরে নেওয়া ঠিক নয়। যাঁরা নিরামিষ খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করেন অথবা দুগ্ধজাত খাবার খান না, তাঁদের খাদ্যতালিকায় প্রোটিন ও ক্যালশিয়ামের পর্যাপ্ত উৎস থাকা প্রয়োজন। শুধু কালো তিলের পানীয়ের উপর নির্ভর না করে অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারও রাখতে হবে।

খেজুরের কারণে পানীয়তে শর্করা থাকে এবং কাজুবাদাম ও তিলের জন্য ক্যালরির পরিমাণও কম নয়। তাই পরিমাণের দিকে নজর রাখা দরকার। বিশেষ কোনও অসুস্থতা থাকলে বা নির্দিষ্ট খাদ্যনিয়ম মেনে চললে চিকিৎসক কিংবা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী পানীয়টি খাদ্যতালিকায় যোগ করা ভালো।

নতুন পানীয়ের চর্চা, কিন্তু স্বাস্থ্যগুণ নিয়ে বাস্তব ধারণা জরুরি

অদা শর্মার কালো দুধ নিয়ে আগ্রহের মূল কারণ এর ব্যতিক্রমী রং এবং সহজ উপকরণে তৈরি হওয়ার বিষয়টি। কালো তিল, কাজুবাদাম ও খেজুরের মিশ্রণ নিঃসন্দেহে খাদ্যতালিকায় নতুনত্ব আনতে পারে। যাঁরা নতুন ধরনের উদ্ভিদজাত পানীয় চেখে দেখতে চান, তাঁদের কাছেও এটি আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারে।

তবে কোনও অভিনেত্রী কোনও খাবার বা পানীয় ব্যবহার করছেন বলেই সেটি সবার জন্য বিশেষ উপকারী, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়। কালো তিলের পুষ্টিগুণ রয়েছে, কিন্তু ত্বক উজ্জ্বল করা, চুল পড়া বন্ধ করা কিংবা শরীরের নির্দিষ্ট সমস্যা দূর করার ক্ষেত্রে এই পানীয়ের কার্যকারিতা নিয়ে আরও নির্ভরযোগ্য গবেষণা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, কালো দুধকে সুষম খাদ্যতালিকার একটি সম্ভাব্য বিকল্প পানীয় হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে এর উপাদান, পুষ্টিগুণ, পরিমাণ এবং নিজের শরীরের প্রয়োজন বুঝে পান করাই বুদ্ধিমানের কাজ। সাদা দুধের বদলে কালো পানীয়—নতুনত্বের জন্য আকর্ষণীয় হলেও, সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি কোনও একটি পানীয় নয়; বরং বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন।

Preview image