Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

অভিষেকের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে লন্ডভন্ড নিউজিল্যান্ড, মাঠে রানের ঝড়!

নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনে ব্যাট হাতে ঝড় তুলল ভারত। তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক শর্মার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে কিউয়িদের দুরমুশ করে একপেশে জয় তুলে নিল টিম ইন্ডিয়া।

অভিষেক শর্মার ৩৮ বলে ১১৩! নিউজিল্যান্ডকে দুরমুশ করে ভারতের দুরন্ত জয়

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে ঝড় তুলল ভারত। প্রতিপক্ষের দেওয়া ১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুরন্ত ব্যাটিং পারফরম্যান্সের মাধ্যমে জয় ছিনিয়ে নিল টিম ইন্ডিয়া। আর এই জয়ের অন্যতম প্রধান নায়ক অভিষেক শর্মা। মাত্র ৩৮ বলে ১১৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে নিউজিল্যান্ডের বোলিং আক্রমণকে কার্যত দিশেহারা করে দিলেন ভারতীয় দলের এই বাঁহাতি ব্যাটার। তাঁর সঙ্গে তরুণ বৈভব সূর্যবংশীর আগ্রাসী ব্যাটিং ভারতের জয়ের পথ আরও সহজ করে দেয়।

প্রতিপক্ষের মাঠে এমন দাপুটে ব্যাটিং ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। শুরু থেকেই রান তোলার গতি বাড়িয়ে ভারতীয় ব্যাটাররা বুঝিয়ে দেন, বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও তাঁরা চাপে পড়তে রাজি নন। পাওয়ার প্লের মধ্যেই ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ভারত। অভিষেকের ছক্কা ও বাউন্ডারির বৃষ্টিতে নিউজিল্যান্ডের বোলাররা কার্যত অসহায় হয়ে পড়েন।

টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত ভারতের

ম্যাচের শুরুতে টসে জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। লক্ষ্য ছিল, নিউজিল্যান্ডকে কম রানে আটকে রেখে রান তাড়া করার সুবিধা নেওয়া। কিন্তু প্রথমে ব্যাট করতে নেমে স্বাগতিক দলও যথেষ্ট আগ্রাসী ক্রিকেট খেলে। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান তোলে নিউজিল্যান্ড।

দলের হয়ে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ইনিংস খেলেন ড্যারিল মিচেল। ৫২ বলে ৮৯ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাঁর ব্যাটিংয়ে ছিল বড় শট খেলার আত্মবিশ্বাস এবং ইনিংসকে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দক্ষতা। মিচেলের এই ইনিংস নিউজিল্যান্ডকে শক্তিশালী স্কোর গড়তে সাহায্য করে।

তাঁকে ভালো সঙ্গ দেন ফিন অ্যালেন। মাত্র ২৫ বলে ৪০ রান করে দলের রান তোলার গতি বাড়িয়ে দেন তিনি। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করে ভারতীয় বোলারদের উপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করেন অ্যালেন।

শেষের দিকে বেভন জ্যাকবসের অপরাজিত ৩৯ রানের ইনিংসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তাঁর ব্যাটিংয়ের সাহায্যে নিউজিল্যান্ড ১৯৮ রানের লড়াই করার মতো পুঁজি সংগ্রহ করে। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী, এই স্কোর ভারতীয় ব্যাটারদের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারত। কিন্তু অভিষেক শর্মার পরিকল্পনা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা।

অভিষেক শর্মার ব্যাটে রানের বিস্ফোরণ

১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের হয়ে ওপেন করতে আসেন অভিষেক শর্মা ও তরুণ বৈভব সূর্যবংশী। সঞ্জু স্যামসনের পরিবর্তে বৈভবকে ওপেনিংয়ে সুযোগ দেওয়া হয়। মাঠে নামার পর থেকেই দুই ব্যাটার আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখাতে শুরু করেন।

প্রথম থেকেই নিউজিল্যান্ডের বোলারদের উপর চড়াও হন অভিষেক। তাঁর ব্যাট থেকে একের পর এক চার ও ছক্কা আসতে থাকে। বলের লাইন ও দৈর্ঘ্য বুঝে কখনও সোজা ব্যাটে, কখনও আবার দুর্দান্ত টাইমিংয়ে বড় শট খেলেন তিনি। তাঁর ব্যাটিংয়ে আত্মবিশ্বাস ও আগ্রাসনের যে মিশেল দেখা যায়, তা নিউজিল্যান্ডের বোলিং পরিকল্পনাকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে ফেলে দেয়।

মাত্র ১৫ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন অভিষেক। এত দ্রুত ৫০ রানে পৌঁছনো তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটিংয়েরই প্রমাণ। তবে অর্ধশতরান করার পরেও থামেননি তিনি। বরং আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। মাঠের বিভিন্ন প্রান্তে বল পাঠিয়ে রান তোলার গতি বজায় রাখেন এই ভারতীয় ব্যাটার।

শেষ পর্যন্ত মাত্র ৩৮ বলে ১১৩ রান করে আউট হন অভিষেক। তাঁর ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ১১টি ছয়। অর্থাৎ বাউন্ডারি থেকেই আসে তাঁর ১০২ রান। এই পরিসংখ্যানই বুঝিয়ে দেয়, নিউজিল্যান্ডের বোলারদের বিরুদ্ধে কতটা দাপট দেখিয়েছেন তিনি।

অভিষেকের এমন ব্যাটিং ভারতকে শুধু দ্রুত রান তুলতেই সাহায্য করেনি, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও এনে দিয়েছে। প্রতিপক্ষের বোলারদের কাছে পরিকল্পনা বদলানোর খুব বেশি সুযোগ ছিল না। একের পর এক বড় শটে ভারতীয় শিবিরে আত্মবিশ্বাস বাড়তে থাকে।

বৈভব সূর্যবংশীর ঝোড়ো ইনিংস

অভিষেকের পাশাপাশি নজর কেড়েছেন তরুণ বৈভব সূর্যবংশীও। ওপেনিংয়ে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলেন তিনি। অভিষেকের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়া ভারতের রান তোলার গতিকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

মাত্র ১৯ বলে ৪৫ রান করেন বৈভব। তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি চার ও চারটি ছয়। বয়সে তরুণ হলেও বড় মঞ্চে ব্যাট হাতে যে আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন, তা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের বিরুদ্ধে ভয়ডরহীন ব্যাটিং করে দলের জয়ের ভিত তৈরি করেন তিনি।

দুই ওপেনারের দ্রুত রান তোলার ফলে পাওয়ার প্লের মধ্যেই ম্যাচের চেহারা বদলে যায়। মাত্র ছয় ওভারে বিনা উইকেটে ১১৮ রান তুলে নেয় ভারত। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এমন আগ্রাসী শুরু যে কোনও দলের জন্যই বড় সুবিধা তৈরি করে। নিউজিল্যান্ডের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি ক্রমশ কঠিন হয়ে ওঠে।

বৈভব আউট হয়ে গেলেও ততক্ষণে ভারতের জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই উজ্জ্বল হয়ে গিয়েছিল। অভিষেকের সঙ্গে তাঁর জুটি ম্যাচে ভারতকে যে এগিয়ে দিয়েছিল, সেটাই শেষ পর্যন্ত জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

news image
আরও খবর

দ্রুত রান তোলার পরেও কয়েকটি উইকেট হারায় ভারত

ম্যাচের শুরুতে ভারত এত দ্রুত রান তুলেছিল যে জয়ের লক্ষ্য ক্রমশ সহজ হয়ে যায়। তবে অভিষেকের দুরন্ত ইনিংস শেষ হওয়ার পর কয়েকটি উইকেট হারায় ভারত। ১১৩ রান করে অভিষেক আউট হওয়ার পর সঞ্জু স্যামসন করেন ১৮ রান। শ্রেয়স আইয়ারের ব্যাট থেকে আসে ৫ রান।

পরপর উইকেট পড়ায় সাময়িকভাবে ভারতের ইনিংসে কিছুটা বিরতি আসে। কিন্তু ততক্ষণে প্রয়োজনীয় রানের অধিকাংশই তুলে ফেলেছিল দল। ফলে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ম্যাচে ফিরে আসার সুযোগ খুব একটা ছিল না।

শেষ পর্যন্ত ১৩.২ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৯ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে ভারত। অর্থাৎ হাতে ৬ উইকেট রেখে লক্ষ্য পূরণ করে ভারতীয় দল। ২০ ওভারের ম্যাচে মাত্র ১৩.২ ওভারে ১৯৯ রান তোলা এই ব্যাটিং পারফরম্যান্সের দাপট স্পষ্ট করে দেয়।

ভারতের জয়ের নেপথ্যে কী ছিল?

এই ম্যাচে ভারতের জয়ের সবচেয়ে বড় কারণ ছিল শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং। ১৯৯ রানের মতো বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে সাধারণত উইকেট ধরে রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রান তোলার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। কিন্তু অভিষেক ও বৈভব শুরু থেকেই রান তোলার গতি এমন জায়গায় নিয়ে যান, যাতে পরের ব্যাটারদের উপর চাপ অনেকটাই কমে যায়।

অভিষেকের বড় শট খেলার ক্ষমতা এবং বৈভবের দ্রুত রান তোলার দক্ষতা নিউজিল্যান্ডকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়। পাওয়ার প্লেতে ১১৮ রান ওঠার পর ম্যাচে ভারতের নিয়ন্ত্রণ আরও মজবুত হয়। এরপর কয়েকটি উইকেট পড়লেও প্রয়োজনীয় রান তোলার ক্ষেত্রে বড় কোনও বাধার মুখে পড়তে হয়নি দলকে।

নিউজিল্যান্ডের ব্যাটাররা প্রথম ইনিংসে ভালো রান করলেও ভারতীয় ওপেনারদের আক্রমণ সামলাতে পারেননি বোলাররা। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শুরুতে দ্রুত রান তোলার গুরুত্ব এই ম্যাচে আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল।

অভিষেক শর্মার ইনিংস কেন বিশেষ?

অভিষেক শর্মার ৩৮ বলে ১১৩ রানের ইনিংস এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। মাত্র ১৫ বলে অর্ধশতরান এবং পরবর্তী সময়ে দ্রুত তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছনো তাঁর ব্যাটিং দক্ষতার পরিচয় দেয়। ১১টি ছক্কা ও ৯টি চারের সাহায্যে তিনি নিউজিল্যান্ডের বোলারদের উপর ধারাবাহিক চাপ বজায় রাখেন।

এই ধরনের ইনিংস শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সকেও বদলে দিতে পারে। বড় লক্ষ্য তাড়া করার সময় একজন ব্যাটার যদি দ্রুত রান তুলতে পারেন, তাহলে প্রতিপক্ষের বোলিং পরিকল্পনা ভেঙে পড়ে। অভিষেকের ইনিংসেও সেই ছবিই দেখা গিয়েছে।

তবে একটি ম্যাচের পারফরম্যান্স দিয়েই ভবিষ্যতের সব সাফল্য নিশ্চিত ধরে নেওয়া যায় না। ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে একই রকম দায়িত্বশীল ব্যাটিং করাই হবে তাঁর পরবর্তী চ্যালেঞ্জ।

শেষ কথা

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই ম্যাচে ভারতীয় দলের ব্যাটিং পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে নজরকাড়া। প্রথমে ১৯৮ রান করেও ম্যাচ জিততে পারেনি নিউজিল্যান্ড। কারণ, রান তাড়া করতে নেমে অভিষেক শর্মা ও বৈভব সূর্যবংশী শুরু থেকেই এমন ঝড় তোলেন যে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ দ্রুত ভারতের হাতে চলে আসে।

অভিষেকের ৩৮ বলে ১১৩ রান, বৈভবের ১৯ বলে ৪৫ রান এবং পাওয়ার প্লেতে ১১৮ রানের দুরন্ত সূচনা—এই তিনটি বিষয় ভারতের জয়ের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। শেষ পর্যন্ত ১৩.২ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৯ রান তুলে ৬ উইকেটে জয় পায় ভারত।

এই ম্যাচ আবারও দেখিয়ে দিল, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আক্রমণাত্মক ওপেনিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অভিষেক শর্মার বিধ্বংসী ইনিংস এবং বৈভব সূর্যবংশীর সাহসী ব্যাটিং ক্রিকেটপ্রেমীদের আলোচনায় থাকার মতো পারফরম্যান্স। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই দাপুটে জয় ভারতীয় দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি অভিষেকের ব্যাটিং নিয়েও নতুন করে আগ্রহ তৈরি করবে।

বিঃদ্রঃ প্রকাশের আগে ম্যাচের তারিখ, ভেন্যু, স্কোরকার্ড, খেলোয়াড়দের পরিসংখ্যান ও ম্যাচের ফল নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করে নেবেন। এখানে দেওয়া তথ্য আপনার সরবরাহ করা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে।

 

Preview image