Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

অবশেষে মিলল ছাড়পত্র, মুক্তির পথে ভাইজানের সিনেমা, স্বস্তিতে সলমন খান

ভারতের ৩৫০-এর বেশি রান সত্ত্বেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৫ উইকেটে হার। তৃতীয় ওয়ান ডে-তে ভারতের বোলিং ব্যর্থতাই হয়ে উঠল ম্যাচের বড় কারণ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ান ডে সিরিজে ভারত ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতলেও শেষ ম্যাচের হার টিম ইন্ডিয়ার চিন্তা অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। সাড়ে তিনশোর বেশি রান তুলেও পাঁচ উইকেটে হারের পর ভারতীয় দলের বোলিং বিভাগের দুর্বলতা একেবারে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ব্যাটিং বিভাগ যেখানে একের পর এক ম্যাচে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করেছে, সেখানে তৃতীয় ওয়ান ডেতে বোলাররা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। ফলে সিরিজ জয়ের আনন্দের মধ্যেও বিশ্বকাপের আগে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠে এসেছে ভারতীয় ক্রিকেট দলকে ঘিরে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে এই সিরিজকে শুধু দ্বিপাক্ষিক লড়াই হিসেবে দেখছে না ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। আগামী বছর আফ্রিকার মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ওয়ান ডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই এই সিরিজকে দেখা হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে এবং নামিবিয়ায় বিশ্বকাপের ম্যাচগুলি হওয়ার কথা। তাই পরিবেশ, পিচ এবং প্রতিপক্ষের ধরন মাথায় রেখে এখন থেকেই সঠিক কম্বিনেশন তৈরি করতে চাইছে ভারতীয় দল। কোচ গৌতম গম্ভীরের সামনে তাই সময় খুব বেশি নেই। বিশ্বকাপের আগে যে কয়েকটি সিরিজ হাতে রয়েছে, সেগুলিতেই সম্ভাব্য সেরা দলকে নিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম দুই ওয়ান ডে-তে ভারতীয় দলের জয় ছিল অনেকটাই স্বস্তিদায়ক। দুই ম্যাচেই ব্যাটিং বিভাগ দাপট দেখিয়েছে এবং প্রতিপক্ষকে খুব বেশি সুযোগ দেয়নি ভারত। সেই সময় মনে হয়েছিল, বোলিং বিভাগে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার না থাকলেও দল খুব একটা সমস্যায় পড়বে না। কিন্তু তৃতীয় ওয়ান ডে পুরো ছবিটাই কিছুটা বদলে দিয়েছে। ব্যাটাররা বড় রান করেও ম্যাচ জিততে পারেননি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা ভারতীয় বোলারদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলেছেন এবং রান তাড়া করে ম্যাচ জিতে নিয়েছেন।

এই হার ভারতীয় অধিনায়ক শুভমান গিলকেও হতাশ করেছে। ম্যাচের পর তাঁর কথায় সেই হতাশার প্রতিফলন স্পষ্ট। বিশেষ করে সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করতে না পারার আক্ষেপ রয়েছে তাঁর। তবে শুধুমাত্র শেষ ম্যাচের ফলাফল নয়, সামগ্রিকভাবে দলের চোট-আঘাতের সমস্যাও ভারতীয় ক্রিকেটকে বেশ কিছুদিন ধরে ভোগাচ্ছে বলে মনে করেন গিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কয়েকটি সিরিজে চোটের কারণে দলের পরিকল্পনায় বারবার পরিবর্তন করতে হয়েছে। ফলে প্রত্যাশিত সেরা কম্বিনেশন নিয়ে মাঠে নামা সম্ভব হয়নি।

বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের আগে এই সমস্যা দ্রুত কাটিয়ে ওঠাই এখন ভারতীয় দলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। গিল আশা করছেন, পরের সিরিজ থেকেই দলের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারকে একসঙ্গে পাওয়া যাবে। আর সেটাই ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টকে বিশ্বকাপের সম্ভাব্য দল নিয়ে পরিকল্পনা আরও স্পষ্টভাবে করার সুযোগ দেবে।

শুভমান গিলের বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়ে তাঁর অবস্থান। সাধারণত বড় টুর্নামেন্টের আগে দলগুলি বিভিন্ন ক্রিকেটারকে সুযোগ দিয়ে সম্ভাব্য কম্বিনেশন যাচাই করে। কিন্তু গিল মনে করছেন, এখন সেই পর্যায় প্রায় শেষ। হাতে সময় কম। তাই অযথা বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে সম্ভাব্য সেরা একাদশকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই উচিত।

গিল স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি আর খুব বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পক্ষে নন। তাঁর মতে, হাতে এখন খুব বেশি সময় নেই। আগামী সিরিজগুলিতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারকে পাওয়া গেলে বিশ্বকাপে যে স্কোয়াড নিয়ে নামার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, সেই দলকেই ধীরে ধীরে তৈরি করতে হবে। অর্থাৎ বিশ্বকাপের আগে ভারতের লক্ষ্য হতে চলেছে স্থায়ী কম্বিনেশন তৈরি করা এবং প্রত্যেক ক্রিকেটারের নির্দিষ্ট ভূমিকা নিশ্চিত করা।

এই বক্তব্য থেকে ভারতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটা পরিষ্কার ছবি পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্বকাপের আগে ক্রিকেটারদের চোট থেকে সুস্থ হয়ে ফেরা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ তাদের ম্যাচ ফিটনেস এবং ধারাবাহিকতা। বিশেষ করে বোলিং বিভাগে ভারতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজে খেলেননি জসপ্রীত বুমরাহ। তাঁর অনুপস্থিতি ভারতীয় বোলিং আক্রমণের জন্য স্বাভাবিকভাবেই বড় ধাক্কা। বুমরাহ ভারতীয় দলের অন্যতম প্রধান ম্যাচ উইনার। নতুন বলে উইকেট নেওয়া থেকে শুরু করে ডেথ ওভারে রান আটকানো—সব ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তাঁকে ছাড়া ভারতীয় বোলিং ইউনিটকে নতুনভাবে সাজাতে হয়েছে।

বুমরাহর অনুপস্থিতিতে গুরনুর ব্রার, অংশুল কম্বোজ এবং মহম্মদ সিরাজদের উপর বাড়তি দায়িত্ব পড়ে। সিরাজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিজ্ঞ হলেও বাকি বোলারদের ক্ষেত্রে বড় মঞ্চে ধারাবাহিকতা এখনও প্রমাণ করার বিষয়। ফলে বুমরাহর মতো একজন নির্ভরযোগ্য পেসারের অনুপস্থিতি দলের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলেছে।

এর সঙ্গে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার চোটও ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের চিন্তা বাড়িয়েছে। ভারতীয় পেস আক্রমণে দীর্ঘদিন ধরেই চোটের সমস্যা চলছে। একের পর এক ক্রিকেটার চোটে পড়ায় বোলিং কম্বিনেশন স্থায়ী করা কঠিন হয়ে উঠেছে। একটি সিরিজে যে বোলার খেলছেন, পরের সিরিজে হয়তো তাঁকেই পাওয়া যাচ্ছে না। এর ফলে অধিনায়ক ও কোচকে বারবার পরিকল্পনা বদলাতে হচ্ছে।

হার্দিক পান্ডিয়ার চোটের ধারাবাহিকতাও ভারতের সমস্যা বাড়িয়েছে। একজন অলরাউন্ডার হিসেবে হার্দিকের গুরুত্ব শুধু ব্যাটিং বা বোলিংয়ে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি দলের ভারসাম্য তৈরি করেন। একজন অতিরিক্ত ব্যাটার বা বোলার নিয়ে খেলার সুযোগ তৈরি হয় তাঁর উপস্থিতিতে। ফলে তিনি নিয়মিত না খেলতে পারলে টিম কম্বিনেশন নিয়ে সমস্যা তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক।

নতুন বলে নীতীশ রেড্ডির পারফরম্যান্স নিয়েও প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। নতুন বল হাতে দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে তাঁকে আরও উন্নতি করতে হবে। বিশ্বকাপের মতো বড় প্রতিযোগিতায় একজন অলরাউন্ডার বা পঞ্চম বোলারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ফলে এখন থেকেই তাঁর উপর আস্থা রাখা হবে, নাকি অন্য কোনও বিকল্প তৈরি করা হবে, সেটাও টিম ম্যানেজমেন্টকে ভাবতে হবে।

ভারতের জন্য আশার জায়গা অবশ্য ব্যাটিং বিভাগ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের একাধিক বড় নাম নিজেদের পুরনো ছন্দে ফিরেছেন। দীর্ঘদিন পর রোহিত শর্মাকে আবার দুরন্ত ফর্মে দেখা গিয়েছে। তাঁর ব্যাট থেকে বড় রান আসা শুধু ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়, ভারতীয় দলের টপ অর্ডারের জন্যও বড় স্বস্তির বিষয়।

রোহিতের সঙ্গে বিরাট কোহলিও নিজের পরিচিত ছন্দে ফিরেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিরাট কোহলির অভিজ্ঞতা ভারতীয় দলের অন্যতম বড় সম্পদ। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে তাঁর ব্যাটিংয়ের উপর যে বিপুল প্রত্যাশা থাকবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে তাঁর ছন্দে ফেরাটা তাই ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য ইতিবাচক খবর।

অধিনায়ক শুভমান গিল নিজেও ধারাবাহিকভাবে দলের ব্যাটিংয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠেছেন। তাঁর ব্যাটিংয়ের সঙ্গে নেতৃত্বের দায়িত্বও এখন যুক্ত হয়েছে। ফলে বিশ্বকাপের আগে তাঁর উপর চাপ যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে বড় দায়িত্ব। অধিনায়ক হিসেবে মাঠে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়াও তাঁর অন্যতম প্রধান কাজ।

শেষ ম্যাচে লোকেশ রাহুলের বড় রান পাওয়াও ভারতীয় দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। টপ অর্ডার বা মিডল অর্ডারে রাহুলের উপস্থিতি দলের ব্যাটিংকে আরও গভীরতা দেয়। তাঁর অভিজ্ঞতা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাট করার ক্ষমতা বিশ্বকাপে ভারতের জন্য কার্যকর হতে পারে।

অর্থাৎ ব্যাটিং বিভাগে ভারত এখন বেশ কয়েকটি বিকল্প হাতে রাখতে পারছে। রোহিত, বিরাট, গিল এবং রাহুলের মতো অভিজ্ঞ ও ফর্মে থাকা ব্যাটার থাকলে বড় স্কোর করা ভারতের জন্য খুব একটা কঠিন হওয়ার কথা নয়। কিন্তু তৃতীয় ওয়ান ডের ফলাফল দেখিয়ে দিয়েছে, শুধু ব্যাটিংয়ের উপর নির্ভর করে সব ম্যাচ জেতা সম্ভব নয়।

সাড়ে তিনশোর উপর রান করেও যদি একটি দল পাঁচ উইকেটে হেরে যায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই বোলিং বিভাগ নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তৃতীয় ম্যাচে সেটাই হয়েছে। ভারতীয় বোলাররা নিয়মিত উইকেট তুলে নিতে পারেননি এবং রান আটকাতেও ব্যর্থ হয়েছেন। বড় রান করার পরও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারা বিশ্বকাপের আগে দলের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে ব্যাটাররা বড় রান করলেও বোলারদের সেই স্কোর রক্ষা করতে হবে। বিশেষ করে আফ্রিকার মাটিতে পিচ ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি ভারতের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তাই বোলিং ইউনিটকে আরও শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি।

news image
আরও খবর

কোচ গৌতম গম্ভীরের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বুমরাহ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা, হার্দিক পান্ডিয়াদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটাররা ফিরে এলে দলের সেরা কম্বিনেশন কী হবে? কোন চারজন বা পাঁচজন বোলারকে খেলানো হবে? স্পিনারদের ভূমিকা কতটা থাকবে? অলরাউন্ডারদের ব্যবহার কীভাবে করা হবে? নতুন বলে কে বল করবেন? ডেথ ওভারে কার উপর ভরসা করা হবে? এই প্রশ্নগুলির উত্তর বিশ্বকাপের আগে খুঁজে বের করতেই হবে।

ভারতীয় দল যদি বুমরাহকে নিয়মিতভাবে পায়, তাহলে বোলিং আক্রমণের চেহারা অনেকটাই বদলে যেতে পারে। তাঁর সঙ্গে অভিজ্ঞ পেসারদের জুটি তৈরি করা গেলে নতুন বল এবং ডেথ—দুই ক্ষেত্রেই ভারত শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি তরুণ পেসারদেরও তৈরি রাখতে হবে, কারণ দীর্ঘ টুর্নামেন্টে চোট বা ফর্মহীনতার কারণে পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।

এই কারণেই শুভমান গিলের পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করার বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি যে বার্তা দিয়েছেন, তার মূল কথা হল—এখন থেকেই বিশ্বকাপের দল তৈরি করতে হবে। অর্থাৎ আগামী সিরিজগুলি শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়, বিশ্বকাপের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজ তাই ভারতের জন্য একদিকে সাফল্যের, অন্যদিকে সতর্ক হওয়ার সিরিজ। ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জেতা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। কিন্তু শেষ ম্যাচের হার দলকে নিজেদের দুর্বল জায়গাগুলি নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ দিয়েছে। ব্যাটিংয়ে যেখানে স্বস্তি মিলেছে, বোলিংয়ে সেখানে আরও কাজ করা দরকার।

এর পরেই রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-২০ সিরিজ। প্রথম ম্যাচ মঙ্গলবার। এশিয়ান গেমসে সোনা জয়ের পর ভারতীয় টি-২০ দলের আত্মবিশ্বাসও যথেষ্ট উঁচুতে। শ্রেয়সের নেতৃত্বাধীন দল সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে চলেছে।

টি-২০ সিরিজের আবহ আবার ওয়ান ডে ক্রিকেটের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে ম্যাচের গতি অনেক বেশি। কয়েক ওভারের মধ্যে ম্যাচের রং বদলে যেতে পারে। ফলে তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য নিজেদের প্রমাণ করার বড় সুযোগ থাকবে। বিশেষ করে যারা ভবিষ্যতে ভারতীয় টি-২০ দলের নিয়মিত সদস্য হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন, তাঁদের জন্য এই সিরিজ গুরুত্বপূর্ণ।

ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর থাকবে বৈভব সূর্যবংশীর দিকেও। এশিয়ান গেমসে জাপানের মাটিতে তাঁর ব্যাট থেকে বড় স্কোর আসেনি। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজে তিনি কীভাবে নিজেকে মেলে ধরেন, তা দেখার জন্য আগ্রহ থাকবে। তরুণ এই ব্যাটারের কাছ থেকে বড় ইনিংসের অপেক্ষায় রয়েছেন সমর্থকেরা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজ তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য যেমন সুযোগ, তেমনই ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য ভবিষ্যতের পরিকল্পনা যাচাই করার মঞ্চ। ওয়ান ডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এবং টি-২০ ক্রিকেটের পরিকল্পনা—দুই ক্ষেত্রেই ভারতকে আলাদা করে ভাবতে হবে। তবে একটি বিষয় দুই ফরম্যাটেই একই—চোটমুক্ত এবং সেরা ক্রিকেটারদের নিয়মিত পাওয়া।

সব মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ ভারতীয় ক্রিকেট দলের সামনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রেখে গেল। ব্যাটিং নিয়ে আপাতত স্বস্তি থাকলেও বোলিং বিভাগে উন্নতির প্রয়োজন পরিষ্কার। বুমরাহ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটাররা ফিরলে সেই সমস্যা কতটা মিটবে, সেটাই এখন দেখার।

শুভমান গিলের বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, ভারতীয় দল আর বেশি সময় নষ্ট করতে চায় না। বিশ্বকাপের আগে যে স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনা রয়েছে, সেই ক্রিকেটারদের নিয়েই ধীরে ধীরে স্থায়ী কম্বিনেশন তৈরি করতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। ফলে পরবর্তী সিরিজগুলিতে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তাঁদের ভূমিকা এবং ধারাবাহিকতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ভারতের সামনে লক্ষ্য একটাই—বিশ্বকাপের আগে নিজেদের দুর্বলতাগুলি চিহ্নিত করে সেগুলি দূর করা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচের হার সেই দুর্বলতাগুলিকে আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে। ব্যাটিং শক্তিশালী, অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা ফর্মে ফিরছেন, অধিনায়ক আত্মবিশ্বাসী—এখন প্রয়োজন একটি নির্ভরযোগ্য বোলিং ইউনিট।

আগামী কয়েকটি সিরিজেই তাই বোঝা যাবে, ভারতীয় দল বিশ্বকাপের জন্য কতটা প্রস্তুত হচ্ছে। গৌতম গম্ভীরের পরিকল্পনা, শুভমান গিলের নেতৃত্ব, বুমরাহর প্রত্যাবর্তন, হার্দিক পান্ডিয়ার ফিটনেস এবং তরুণ পেসারদের পারফরম্যান্স—সবকিছুর উপরই থাকবে নজর।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় ভারতের জন্য শেষ কথা নয়। বরং বিশ্বকাপের আগে এটি একটি বড় প্রস্তুতি পর্বের অংশ। তৃতীয় ম্যাচের হার তাই শুধুই একটি পরাজয় নয়; এটি ভারতীয় দলের বোলিং বিভাগকে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। সেই বার্তা থেকে শিক্ষা নিয়ে পরের সিরিজগুলিতে ভারত কতটা শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসে, এখন সেটাই দেখার।

বিশ্বকাপের মঞ্চে সাফল্য পেতে হলে শুধু তারকা ব্যাটারদের উপর নির্ভর করলে চলবে না। প্রয়োজন এমন একটি বোলিং ইউনিট, যারা কঠিন পরিস্থিতিতেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে পারে। বুমরাহ-সহ অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা ফিরে এলে সেই ভারসাম্য কতটা তৈরি হয়, সেটাই ভারতীয় ক্রিকেটের পরবর্তী বড় পরীক্ষা।

আর সেই পরীক্ষার শুরু হয়ে গিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ থেকেই। সামনে রয়েছে আরও একাধিক সিরিজ, আরও অনেক ম্যাচ এবং আরও অনেক প্রশ্নের উত্তর। ভারতীয় দলের কাছে এখন প্রতিটি ম্যাচই বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ। তাই শুভমান গিলের কথার মতোই—পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় প্রায় শেষ। এখন সময় সেরা দলকে নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনাকে আরও নিখুঁত করার।

 

 

 

 

Preview image