Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

অষ্টম শ্রেণিতেই মিলবে ‘সারথি’, বাংলায় সাইকেল কারখানায় বিনামূল্যে জমি

অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য ‘সারথি’ প্রকল্পে সাইকেল দেওয়ার উদ্যোগ। পাশাপাশি বাংলায় সাইকেল উৎপাদন বাড়াতে কারখানা তৈরির জন্য বিনামূল্যে জমি দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়েছে

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই নবম শ্রেণির পরিবর্তে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের হাতে তুলে দেওয়া হবে সাইকেল। পড়ুয়াদের যাতায়াতের সুবিধা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে আরও বেশি উৎসাহ তৈরি করার লক্ষ্যে ‘সারথি’ প্রকল্পের মাধ্যমে এই সাইকেল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাওড়ার ব্যাঁটরার মধুসূদন পালচৌধুরী হাইস্কুলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সারথি’ প্রকল্পের সূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত পড়ুয়াদের হাতে প্রতীকীভাবে সাইকেল তুলে দেওয়া হয়। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়ারাও এই প্রকল্পের আওতায় আসবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

চলতি বছরে এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের প্রায় ১২ লক্ষ ৫৯ হাজার পড়ুয়াকে সাইকেল দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য প্রায় ৫০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। এর ফলে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের বিপুল সংখ্যক স্কুলপড়ুয়া উপকৃত হবে। বিশেষ করে যেসব পড়ুয়াকে প্রতিদিন দূরবর্তী এলাকা থেকে স্কুলে আসতে হয়, তাঁদের জন্য এই সাইকেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। গ্রামীণ এবং দুর্গম এলাকার ছাত্রছাত্রীদের কথা মাথায় রেখে নতুন সাইকেলের গুণগত মান উন্নত করার কথাও জানানো হয়েছে।

‘সারথি’ প্রকল্পের নতুন সাইকেলের রং ও লোগোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। একইসঙ্গে সাইকেলের গুণগত মান উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকার রাস্তার কথা মাথায় রেখে সাইকেলে উন্নত মানের ব্রেক এবং টায়ার ব্যবহারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রতিদিনের যাতায়াতে পড়ুয়াদের সুবিধা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। স্কুলে যাওয়ার পথে দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করা ছাত্রছাত্রীদের জন্য সাইকেল যাতায়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

শুধু পড়ুয়াদের হাতে সাইকেল তুলে দেওয়াই নয়, ভবিষ্যতে রাজ্যেই সাইকেল উৎপাদনের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের সাইকেল তৈরির কারখানা গড়ে তুলতে আগ্রহী সংস্থাগুলিকে বিনামূল্যে জমি দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে বাইরে থেকে সাইকেল বা সাইকেলের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আনার পরিবর্তে রাজ্যের মধ্যেই উৎপাদনের পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সাইকেল তৈরির কারখানা তৈরি হলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন, শিল্প পরিকাঠামো এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অনুষ্ঠানে ‘সবুজসাথী’ প্রকল্পের প্রসঙ্গও উঠে আসে। সাইকেল সরবরাহের ক্ষেত্রে আগে কীভাবে বাইরের রাজ্য থেকে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আনা হত, সেই প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখা হয়। ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গেই সাইকেল তৈরির পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। পড়ুয়াদের জন্য সাইকেল কেনার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে। এর ফলে রাজ্যের সাইকেল উৎপাদন শিল্পকে আরও সম্প্রসারিত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এদিনের অনুষ্ঠানে হাওড়ার ব্যাঁটরার তিনটি স্কুলের ৭৩ জন পড়ুয়ার হাতে প্রতীকীভাবে ‘সারথি’র সাইকেল তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং পড়ুয়াদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প নিয়েও একাধিক ঘোষণা করা হয়। স্কুলগুলিতে স্মার্ট ক্লাসরুম এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। রাজ্যে ইতিমধ্যেই ৬০০টি স্মার্ট স্কুল অনুমোদিত হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। আরও ২০০টি স্মার্ট স্কুলের অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্দেশ্যে পড়ুয়াদের এডুকেশনাল ট্যাব দেওয়ার বিষয়েও ঘোষণা করা হয়েছে। মোবাইল ফোনের পরিবর্তে পড়াশোনার প্রয়োজনীয় কাজে প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য এই ট্যাব কাজে লাগানো হবে বলে জানানো হয়। ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে স্কুলপড়ুয়াদের আরও বেশি যুক্ত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনলাইন শিক্ষাসামগ্রী, ডিজিটাল পাঠ এবং অন্যান্য শিক্ষামূলক কাজে ট্যাব ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের শুধু পুঁথিগত শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। স্কুল ও কলেজে এনসিসি, এনএসএস এবং ব্রতচারী চালুর উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। বিতর্ক, তাৎক্ষণিক বক্তৃতা, অঙ্কনসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা ও কার্যক্রমকে শিক্ষাব্যবস্থার অংশ করার কথা বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি তবলা, হারমোনিয়াম, মৃদঙ্গ, খঞ্জনি, একতারা এবং গিটারের মতো বাদ্যযন্ত্র শেখানোর সুযোগ তৈরির কথাও বলা হয়েছে।

শিক্ষার পাশাপাশি দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং বাংলার ঐতিহ্য সম্পর্কে পড়ুয়াদের জানানো প্রয়োজন বলে অনুষ্ঠানে গুরুত্ব দেওয়া হয়। দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ, জাতীয়তাবাদ, ভারতীয় সংস্কৃতি এবং বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ দিবস এবং রাজ্য গঠনের ইতিহাস সম্পর্কেও পড়ুয়াদের জানানো প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ইংরেজি শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা ভাষার গুরুত্ব ও মাধুর্য ছড়িয়ে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

ছাত্রীদের জন্য আর্থিক সহায়তার বিষয়েও এদিন একাধিক ঘোষণা করা হয়েছে। ‘শিক্ষারত্ন’ প্রকল্পে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ছাত্রীদের বছরে ২ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি স্নাতক স্তরের ছাত্রীদের জন্য ‘কন্যারত্ন’ প্রকল্পে তিন বছরে মোট ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষায় ছাত্রীদের উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে এই ধরনের আর্থিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

‘সারথি’ প্রকল্পের মাধ্যমে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের সাইকেল দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে স্কুলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দূরের স্কুলে পড়াশোনা করা পড়ুয়াদের জন্য সাইকেল যাতায়াতের সময় এবং খরচ কমাতে সাহায্য করতে পারে। গ্রামীণ এলাকার বহু পড়ুয়ার ক্ষেত্রে স্কুলে পৌঁছতে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়। তাঁদের কথা মাথায় রেখে সাইকেলের গুণগত মান উন্নত করার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি বছরে ১২ লক্ষ ৫৯ হাজার পড়ুয়াকে সাইকেল দেওয়ার পরিকল্পনা এবং ৫০৮ কোটি টাকার বরাদ্দ এই প্রকল্পের ব্যাপক পরিসরকে তুলে ধরে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে অষ্টম শ্রেণিকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার ঘোষণা হলে আরও বেশি সংখ্যক পড়ুয়া সাইকেল পাওয়ার সুযোগ পাবে। ফলে স্কুলপড়ুয়াদের জন্য সাইকেল বিতরণ প্রকল্পের পরিধি আরও বাড়তে পারে।

news image
আরও খবর

রাজ্যে সাইকেল তৈরির কারখানা তৈরির পরিকল্পনাও এই ঘোষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। আগ্রহী সংস্থাকে বিনামূল্যে জমি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর ফলে শিল্প সংস্থাগুলির জন্য পশ্চিমবঙ্গে সাইকেল উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। স্থানীয়ভাবে সাইকেল উৎপাদন হলে সরবরাহ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সময় কমানোর পাশাপাশি রাজ্যের শিল্প পরিকাঠামোরও উন্নতি হতে পারে। তবে কারখানা তৈরির বাস্তবায়ন, জমি বরাদ্দ এবং উৎপাদন শুরু করার বিষয়গুলি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও শিল্প সংস্থার পরবর্তী পদক্ষেপের উপর নির্ভর করবে।

শিক্ষাক্ষেত্রে স্মার্ট স্কুল, এডুকেশনাল ট্যাব এবং সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি ছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণাও অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। স্কুলশিক্ষাকে আরও আধুনিক ও বহুমুখী করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, সংগীত এবং বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল কার্যক্রমকে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে একাধিক মন্ত্রী, বিধায়ক এবং প্রশাসনের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষে পড়ুয়াদের সঙ্গে বসে মিড ডে মিল খান মুখ্যমন্ত্রী। মেনুতে ছিল ভাত, মুগডাল, সয়াবিন-আলু-বড়ির তরকারি এবং টম্যাটোর চাটনি। পড়ুয়াদের সঙ্গে এইভাবে সময় কাটানোর ঘটনাও অনুষ্ঠানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য বিষয় হয়ে ওঠে।

‘সারথি’ প্রকল্পের সাইকেল কবে থেকে দেওয়া হবে, কোন শ্রেণির পড়ুয়ারা সাইকেল পাবে, কতজন পড়ুয়া এই প্রকল্পের আওতায় আসবে, কত টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং পশ্চিমবঙ্গে সাইকেল তৈরির কারখানা নিয়ে কী পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে—এই সমস্ত বিষয় নিয়েই এখন নজর রয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের সাইকেল দেওয়ার ঘোষণা প্রকল্পটির পরিধিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।

শিক্ষাক্ষেত্রে একাধিক নতুন উদ্যোগের পাশাপাশি পড়ুয়াদের যাতায়াতের সুবিধা নিশ্চিত করতে সাইকেল দেওয়ার কর্মসূচি, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, স্মার্ট স্কুল, এডুকেশনাল ট্যাব এবং ছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা—সব মিলিয়ে অনুষ্ঠানে একাধিক ঘোষণা করা হয়েছে। ‘সারথি’ প্রকল্পের মাধ্যমে সাইকেল বিতরণ এবং রাজ্যেই সাইকেল উৎপাদনের সম্ভাব্য পরিকল্পনা আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ও শিল্পক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আনে, সেদিকেও নজর থাকবে।

অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের সাইকেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত, ১২ লক্ষ ৫৯ হাজার পড়ুয়ার জন্য সাইকেল বরাদ্দ, ৫০৮ কোটি টাকার প্রকল্প ব্যয়, উন্নত ব্রেক ও টায়ার, নতুন রং ও লোগো, রাজ্যে সাইকেল তৈরির কারখানার জন্য বিনামূল্যে জমি, স্মার্ট স্কুল, এডুকেশনাল ট্যাব, ‘শিক্ষারত্ন’ এবং ‘কন্যারত্ন’—অনুষ্ঠানে ঘোষিত একাধিক বিষয়কে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। পড়ুয়াদের শিক্ষার পাশাপাশি যাতায়াত, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সাংস্কৃতিক শিক্ষা এবং আর্থিক সহায়তার বিষয়গুলিকেও এই ঘোষণাগুলিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

‘সারথি’ প্রকল্পের অধীনে সাইকেল পাওয়ার ফলে স্কুলে নিয়মিত যাতায়াতকারী ছাত্রছাত্রীদের সুবিধা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষত যেসব এলাকায় গণপরিবহণের সুযোগ সীমিত বা স্কুল বাড়ি থেকে অনেকটা দূরে, সেখানে সাইকেল একটি কার্যকর যাতায়াতের মাধ্যম হতে পারে। উন্নত মানের ব্রেক ও টায়ার ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে।

রাজ্যের মধ্যেই সাইকেল তৈরির কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে পড়ুয়াদের জন্য প্রয়োজনীয় সাইকেলের একটি অংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিনামূল্যে জমি দেওয়ার ঘোষণা এই শিল্প উদ্যোগে আগ্রহী সংস্থাগুলিকে উৎসাহিত করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে পড়ুয়াদের জন্য সাইকেল কেনার চুক্তির সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে।

এই পুরো উদ্যোগের পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ৬০০টি স্মার্ট স্কুলের অনুমোদন, আরও ২০০টির জন্য আবেদন, এডুকেশনাল ট্যাব, এনসিসি, এনএসএস ও ব্রতচারী চালুর পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল বিষয়কে স্কুলে যুক্ত করার উদ্যোগ শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন পরিকাঠামো তৈরির পরিকল্পনাকে তুলে ধরে।

ছাত্রীদের আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রেও নতুন ঘোষণা করা হয়েছে। ‘শিক্ষারত্ন’ প্রকল্পে বছরে ২ হাজার টাকা এবং ‘কন্যারত্ন’ প্রকল্পে তিন বছরে মোট ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে ছাত্রীদের শিক্ষাজীবনে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

সব মিলিয়ে ‘সারথি’ প্রকল্পকে ঘিরে এদিনের অনুষ্ঠানে শুধু সাইকেল বিতরণ নয়, শিক্ষা, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, শিল্প এবং ছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা সংক্রান্ত একাধিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের সাইকেল দেওয়ার ঘোষণার পাশাপাশি রাজ্যে সাইকেল উৎপাদনের কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও এই উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখন নজর থাকবে ঘোষিত প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন এবং পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকে।

Preview image