ময়নাগুড়ির ইন্দিরা মোড় এলাকায় গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে একাধিক গাঁজার প্যাকেট-সহ মামা-ভাগ্নেকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ফেরিওয়ালার ব্যাগে কাপড়ের পরিবর্তে গাঁজার প্যাকেট মিলতেই চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে বেশ কয়েকটি গাঁজার প্যাকেট। কী উদ্দেশ্যে ওই গাঁজা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং এর পিছনে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: কাপড় ফেরি করার ব্যাগ। বাইরে থেকে দেখলে আর পাঁচটা সাধারণ ফেরিওয়ালার ব্যাগের মতোই। কিন্তু সেই ব্যাগের ভিতরেই লুকিয়ে ছিল একাধিক গাঁজার প্যাকেট। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে ময়নাগুড়ির ইন্দিরা মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে গাঁজা-সহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ। ধৃতদের নাম বিকাশ কুমার ও রাজেশ কুমার। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্পর্কে তাঁরা মামা-ভাগ্নে এবং দু’জনেই পাঞ্জাবের বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার কোচবিহারের দিক থেকে একটি যাত্রীবাহী বাসে করে ময়নাগুড়ির ইন্দিরা মোড় এলাকায় এসে নামেন বিকাশ কুমার ও রাজেশ কুমার। তাঁদের সঙ্গে ছিল কাপড় ফেরি করার জন্য ব্যবহৃত একটি ব্যাগ। ইন্দিরা মোড় থেকে ট্রেনে করে শিলিগুড়ির দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই পুলিশের নজরে চলে আসেন ওই দুই ব্যক্তি। তাঁদের সঙ্গে থাকা ব্যাগের ভিতরে গাঁজার প্যাকেট রয়েছে বলে ময়নাগুড়ি থানার পুলিশের কাছে গোপন সূত্রে খবর পৌঁছয়।
গোপন সূত্রের খবর পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে পুলিশ। খবরের ভিত্তিতে ইন্দিরা মোড় এলাকায় পৌঁছয় ময়নাগুড়ি থানার একটি দল। সেখানে সন্দেহভাজন ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। তাঁদের যাতায়াত, গন্তব্য এবং সঙ্গে থাকা ব্যাগ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশের সন্দেহ আরও জোরালো হয় বলে জানা গিয়েছে। এরপর ব্যাগটি তল্লাশি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে তল্লাশির আগে বিষয়টি জানানো হয় ময়নাগুড়ির বিডিও সৌমেন দাসকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিডিও। তাঁর উপস্থিতিতেই শুরু হয় ব্যাগের তল্লাশি। ব্যাগ খুলতেই পুলিশের সন্দেহের সত্যতা সামনে আসে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। কাপড়ের পরিবর্তে ব্যাগের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় একাধিক গাঁজার প্যাকেট। এরপরই বিকাশ কুমার এবং রাজেশ কুমারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইন্দিরা মোড় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। সাধারণত কাপড় ফেরি করার কাজে ব্যবহৃত একটি ব্যাগ নিয়ে দুই ব্যক্তি এলাকায় এসেছিলেন। বাইরে থেকে ব্যাগটি দেখে তার ভিতরে মাদকজাতীয় কোনও সামগ্রী রয়েছে, তা বোঝার উপায় ছিল না। পুলিশের কাছে গোপন সূত্রে খবর পৌঁছনোর পরই পুরো বিষয়টি সামনে আসে। ব্যাগের ভিতর থেকে একাধিক গাঁজার প্যাকেট উদ্ধারের পর মামা-ভাগ্নেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা গাঁজা নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কী জানিয়েছে, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঞ্জাব থেকে ফোন করে তাঁদের কোচবিহারে গাঁজার প্যাকেট পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সেই প্যাকেট নিয়ে বাড়ি ফিরলে মোটা টাকা পাওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল বলেও পুলিশের কাছে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তাঁরা। সেই আর্থিক লাভের আশাতেই গাঁজার প্যাকেট নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিকাশ কুমার ও রাজেশ কুমারের বিরুদ্ধে।
পুলিশের কাছে দেওয়া এই বক্তব্যের ভিত্তিতে তদন্তের পরিধি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কোথা থেকে ওই গাঁজার প্যাকেট সংগ্রহ করা হয়েছিল, কার কাছ থেকে তাঁদের কাছে প্যাকেট পৌঁছেছিল, প্যাকেটগুলি কোথায় নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল এবং এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না—এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল। পাশাপাশি, ধৃতদের সঙ্গে যোগাযোগ করা ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে পুলিশ।
ময়নাগুড়ির ইন্দিরা মোড় এলাকার এই ঘটনাকে ঘিরে ফের একবার মাদক পাচার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে অন্য পরিচয়ের আড়ালে মাদক পরিবহণের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে তদন্তকারীদের নজর আরও গভীর হয়েছে। তবে এই ঘটনায় ধৃতদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
ময়নাগুড়ি থানার পুলিশের কাছে গোপন সূত্রে খবর আসার পরই এই অভিযান চালানো হয়। সূত্রের খবর অনুযায়ী, ইন্দিরা মোড় এলাকায় আসা ওই দুই ব্যক্তির সঙ্গে থাকা কাপড়ের ব্যাগের ভিতরে গাঁজার প্যাকেট ছিল। খবর পাওয়ার পর পুলিশ আর দেরি করেনি। নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের গতিবিধির উপর নজর রাখা হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদ এবং তল্লাশির মাধ্যমে উদ্ধার হয় গাঁজা।
পুলিশের এই অভিযানে স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিও ছিল। ব্যাগ তল্লাশির সময় ময়নাগুড়ির বিডিও সৌমেন দাস ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর উপস্থিতিতেই ব্যাগ খোলা এবং তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে গাঁজার প্যাকেট উদ্ধারের পর দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত দুই ব্যক্তি কোচবিহারের দিক থেকে একটি যাত্রীবাহী বাসে করে ইন্দিরা মোড় এলাকায় আসেন। বাস থেকে নামার পর তাঁদের পরবর্তী গন্তব্য ছিল শিলিগুড়ি। ইন্দিরা মোড় থেকে ট্রেনে করে শিলিগুড়ির দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। সেই সময়ই পুলিশের কাছে তাঁদের বিষয়ে খবর পৌঁছে যায়।
অর্থাৎ, পুলিশের তৎপরতার কারণে তাঁদের যাত্রাপথ মাঝপথেই থেমে যায় বলে জানা গিয়েছে। ইন্দিরা মোড় এলাকায় তাঁদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সঙ্গে থাকা ব্যাগ নিয়ে পুলিশের সন্দেহ তৈরি হওয়ায় তল্লাশি চালানো হয়। আর সেই তল্লাশিতেই উদ্ধার হয় একাধিক গাঁজার প্যাকেট।
এই ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে ব্যাগটি। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কাপড় ফেরি করার কাজে ব্যবহৃত ওই ব্যাগের ভিতরেই গাঁজার প্যাকেট রাখা ছিল। সাধারণভাবে এই ধরনের ব্যাগে কাপড় বা অন্যান্য সামগ্রী থাকার কথা। কিন্তু পুলিশের কাছে আগে থেকেই ব্যাগের ভিতরে গাঁজা থাকার খবর থাকায় সন্দেহের ভিত্তিতে তল্লাশি চালানো হয়।
ব্যাগের ভিতর থেকে একাধিক প্যাকেট উদ্ধার হওয়ার পর বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এরপরই অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতরা সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে হওয়ায় ঘটনাটি আরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা যে বক্তব্য দিয়েছে, তা তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, পাঞ্জাব থেকে ফোন করে কোচবিহারে গাঁজার প্যাকেট পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ওই প্যাকেট নিয়ে বাড়ি ফিরলে মোটা টাকা দেওয়া হবে বলেও তাঁদের প্রলোভন দেখানো হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
এই বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করছে তদন্তকারী দল। ফোনে কারা যোগাযোগ করেছিল, কোথা থেকে ফোন করা হয়েছিল, ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে ধৃতদের কী সম্পর্ক এবং গাঁজার প্যাকেট তাঁদের হাতে কীভাবে পৌঁছল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। পাশাপাশি, তাঁদের মোবাইল ফোন এবং যোগাযোগের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, আর্থিক লাভের আশাতেই গাঁজার প্যাকেট বহনের অভিযোগে ধরা পড়েন বিকাশ কুমার ও রাজেশ কুমার। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্যাকেট পৌঁছে দেওয়ার বিনিময়ে মোটা টাকা পাওয়ার কথা ছিল। সেই প্রলোভনেই তাঁরা গাঁজা নিয়ে যাত্রা করছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।
তবে ধৃতদের এই বক্তব্য তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। তাঁরা নিজেরাই পুরো ঘটনার সঙ্গে কতটা যুক্ত, নাকি অন্য কারও নির্দেশে কাজ করছিলেন, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই ঘটনার আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
ধৃতদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইন্দিরা মোড় থেকে ট্রেনে করে শিলিগুড়ির দিকে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই পুলিশ তাঁদের আটক করে। গন্তব্য শিলিগুড়ি হলেও তাঁদের কাছে থাকা গাঁজার প্যাকেট কোথায় পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল, তা এখনও তদন্তের বিষয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা যে তথ্য দিয়েছেন, তার ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
শিলিগুড়ি যাওয়ার পথে ইন্দিরা মোড় এলাকায় তাঁদের থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এরপর উদ্ধার হওয়া গাঁজার প্যাকেটের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁদের।
এই ঘটনায় পুলিশের তদন্তে বেশ কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রথমত, গাঁজার প্যাকেটগুলি তাঁদের হাতে কীভাবে পৌঁছেছিল। দ্বিতীয়ত, ওই প্যাকেট কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। তৃতীয়ত, প্যাকেটগুলি কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। চতুর্থত, এই গোটা প্রক্রিয়ার সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না।
এছাড়াও পাঞ্জাব থেকে ফোন করে কোচবিহারে প্যাকেট পৌঁছে দেওয়ার যে দাবি ধৃতরা করেছে, তার সত্যতা যাচাই করাও তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফোনে যোগাযোগকারী ব্যক্তিদের শনাক্ত করা গেলে ঘটনার পিছনের আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ময়নাগুড়িতে গাঁজা-সহ মামা-ভাগ্নে গ্রেপ্তারের এই ঘটনায় পুলিশের তৎপরতা সামনে এসেছে। গোপন সূত্রের খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সন্দেহভাজনদের আটক করা এবং ব্যাগ তল্লাশি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে প্রশাসনের আধিকারিকের উপস্থিতিতে তল্লাশি চালিয়ে গাঁজা উদ্ধারের পর গ্রেপ্তার করা হয় দু’জনকে।
পুলিশের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উদ্ধার হওয়া গাঁজার পরিমাণ, প্যাকেটের সংখ্যা এবং অন্যান্য বিষয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মাদক পরিবহণের অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।
ঘটনার পর ময়নাগুড়ি থানার তদন্তকারী দল বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ধৃত বিকাশ কুমার এবং রাজেশ কুমারের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া গাঁজার প্যাকেট কোথা থেকে এসেছিল এবং কোথায় নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, তা জানতে তদন্ত চলছে।
পুলিশের তদন্তে ধৃতদের দেওয়া তথ্যের পাশাপাশি অন্যান্য প্রমাণও খতিয়ে দেখা হবে। তাঁদের যাত্রাপথ, যোগাযোগ এবং গন্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে। তদন্তের অগ্রগতির উপর নির্ভর করেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ময়নাগুড়ির ইন্দিরা মোড় এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়। প্রকাশ্যে কাপড় ফেরি করার ব্যাগের ভিতর থেকে গাঁজার প্যাকেট উদ্ধার হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়। পুলিশের তল্লাশি এবং দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে ঘিরে কিছু সময়ের জন্য এলাকায় নজর পড়ে।
যদিও পুলিশের তদন্ত এখনও চলছে, তবুও গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গাঁজা উদ্ধারের বিষয়টি এই ঘটনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গাঁজা পাচারের পুরো নেটওয়ার্ক সম্পর্কে নিশ্চিত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত বিকাশ কুমার এবং রাজেশ কুমার পাঞ্জাবের বাসিন্দা। সম্পর্কে তাঁরা মামা-ভাগ্নে। তাঁদের বিরুদ্ধে গাঁজা পরিবহণের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করার পর জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
দুই ধৃতের বক্তব্য এবং তাঁদের যাত্রাপথের তথ্য মিলিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল। পাঞ্জাব থেকে ফোন আসার দাবি এবং কোচবিহারে গাঁজার প্যাকেট পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
গাঁজা-সহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিকাশ কুমার ও রাজেশ কুমারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ। উদ্ধার হওয়া গাঁজার প্যাকেট এবং ধৃতদের বক্তব্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গাঁজার উৎস, পরিবহণের উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে অন্য কারও যোগ রয়েছে কি না, তা জানতে তদন্ত চলছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, ময়নাগুড়ির ইন্দিরা মোড় এলাকায় কাপড় ফেরির ব্যাগ থেকে একাধিক গাঁজার প্যাকেট উদ্ধারের ঘটনা নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর পুলিশের দ্রুত অভিযান এবং প্রশাসনের আধিকারিকের উপস্থিতিতে ব্যাগ তল্লাশির পরই সামনে আসে পুরো বিষয়টি। কোচবিহারের দিক থেকে বাসে করে এসে শিলিগুড়ির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগেই পুলিশের হাতে ধরা পড়েন পাঞ্জাবের বাসিন্দা মামা-ভাগ্নে বিকাশ কুমার ও রাজেশ কুমার।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাঞ্জাব থেকে ফোন করে কোচবিহারে গাঁজার প্যাকেট পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল এবং সেই কাজের বিনিময়ে মোটা টাকা পাওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। সেই দাবি কতটা সত্যি, প্যাকেটগুলি কোথা থেকে এসেছিল এবং এই ঘটনায় আরও কারও যোগ রয়েছে কি না—এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।
ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে গাঁজা উদ্ধারের এই ঘটনার পিছনে থাকা আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।