Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ফ্লাইদুবাইয়ের বিমান ইজ়রায়েলে নিয়ে গিয়ে ‘ক্র্যাশ’ করানোর ছক? অভিযুক্ত পাইলটকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য

আগেই ওমানের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছিলেন ফ্লাইদুবাইয়ের অভিযুক্ত পাইলট। সেই তথ্য থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিমান সংস্থায় তাঁকে নিয়োগ করা হল, তা নিয়েই এখন উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

ফ্লাইদুবাইয়ের দুবাই-তেল আভিভগামী বিমানে মাঝ-আকাশে হামলার ঘটনা ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে অভিযুক্ত সহকারী পাইলটের অতীতের নানা তথ্য। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ওই পাইলটের নাম হামাম আল-হাম্মামি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ওমানের নাগরিক এবং এর আগে ওমানের বিমান সংস্থায় কাজ করেছিলেন বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে তাঁর বিমান চালানোর পূর্ব ইতিহাস নিয়ে। কারণ, বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উগ্রপন্থী মতাদর্শ নিয়ে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ওমানে তাঁকে বিমান চালানো থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এরপরও কীভাবে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ফ্লাইদুবাইয়ে সহকারী পাইলট হিসেবে কাজ করার অনুমতি পেলেন, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

কে এই হামাম আল-হাম্মামি?

সাম্প্রতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে হামাম আল-হাম্মামিকে ২৯ বছর বয়সি ওমানি নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁর জন্ম সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে এবং তাঁর বাবা ওমানি ও মা সিরিয়ার নাগরিক বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও তথ্য সামনে এসেছে। একটি LinkedIn প্রোফাইল, যা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁর সঙ্গে যুক্ত বলে শনাক্ত করা হয়েছে, সেখানে বিমান পরিবহণ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ইংল্যান্ডের Buckinghamshire New University-তে পড়াশোনার কথা রয়েছে।

বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে তাঁর পেশাগত জীবনও শুরু হয়েছিল ওমানেই। রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি Oman Air-এর প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে ওই সংস্থায় অন্য দায়িত্বেও কাজ করেন। কিন্তু তাঁর আচরণ ও কথিত মতাদর্শ নিয়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পর বিমান চালানোর অনুমতি নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শেষ পর্যন্ত ওমান কর্তৃপক্ষ তাঁকে বিমান চালানো থেকে নিষিদ্ধ করে।

এই তথ্য সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—এক দেশে যদি কোনও ব্যক্তিকে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিমান চালানোর অনুমতি না দেওয়া হয়, তাহলে অন্য একটি দেশের বিমান সংস্থায় যোগ দেওয়ার সময় তাঁর আগের রেকর্ড কতটা যাচাই করা হয়েছিল? এই প্রশ্নের উত্তর এখনও তদন্তাধীন।

সিরিয়ায় থাকার বিষয়টিও তদন্তে

হামাম আল-হাম্মামির অতীত নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে। একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি দীর্ঘ সময় ওমানের বাইরে, বিশেষ করে সিরিয়ায় কাটিয়েছিলেন। সেই সময় তাঁর উপর উগ্রপন্থী মতাদর্শের প্রভাব পড়েছিল কি না, তা নিয়েও বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে। তবে এই ধরনের তথ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—এগুলি তদন্তের অংশ এবং সংবাদমাধ্যমে উদ্ধৃত সূত্রনির্ভর দাবি; আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে এগুলিকে দেখা উচিত নয়।

তাঁর অনলাইন উপস্থিতি নিয়েও তদন্তকারীরা নজর দিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। কিছু সংবাদমাধ্যমে তাঁর LinkedIn বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং সেগুলির সঙ্গে কট্টরপন্থী সংগঠন বা মতাদর্শের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। তবে অনলাইন পোস্টের প্রকৃত মালিকানা, প্রেক্ষাপট এবং সেগুলির সঙ্গে অভিযুক্তের বর্তমান ঘটনার সরাসরি সম্পর্ক—এসবই তদন্তের বিষয়।

ফ্লাইদুবাই বিমানে ঠিক কী ঘটেছিল?

৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে উড়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমান। বিমানে ১৭০-এর বেশি যাত্রী ছিলেন। মাঝ-আকাশে ককপিটে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর তাঁর সহকারী পাইলট হামাম আল-হাম্মামি হামলা করেন বলে অভিযোগ। হামলার সময় বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুত নীচের দিকে নেমে যায়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানটি ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে প্রায় ১৪ হাজার ফুট নীচে নেমে গিয়েছিল। গুরুতর আহত অবস্থাতেও ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। এরপর যাত্রী ও ক্রুরা অভিযুক্তকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। পরে বিমানটির জরুরি অবতরণ করা হয় সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে।

এই ঘটনায় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকেই তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং ঘটনার বিবরণ জানান। মোদী তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

বিমানটি কি সত্যিই ইজ়রায়েলে নিয়ে গিয়ে ধ্বংস করার পরিকল্পনা ছিল?

ঘটনার পর থেকেই এই প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে। ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ইসলামপন্থী উগ্র মতাদর্শে প্রভাবিত ছিলেন এবং বিমানটি ধ্বংস করার উদ্দেশ্য থাকতে পারে। ইজ়রায়েলি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে।

তবে তদন্তের এই পর্যায়ে অভিযুক্তের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সম্পর্কে সব তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা সংস্থা ঘটনাটির সম্ভাব্য উদ্দেশ্য ও পটভূমি খতিয়ে দেখছে। ফলে বিমানটি ইচ্ছাকৃত ভাবে ইজ়রায়েলে নিয়ে গিয়ে ধ্বংস করার নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল—এটিকে এখনও তদন্তাধীন অভিযোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।

ওমানে নিষেধাজ্ঞা, তারপরও ফ্লাইদুবাইয়ে চাকরি কীভাবে?

এই ঘটনাই এখন তদন্তের অন্যতম বড় প্রশ্ন। সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাম আল-হাম্মামিকে ওমানে বিমান চালানো থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তাঁকে Oman Air-এর প্রশিক্ষণমূলক ভূমিকা থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। পরে তিনি ওই সংস্থায় অন্য দায়িত্বে ছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন।

এর ফলে বিমান সংস্থার নিয়োগ ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে কোনও পাইলটের বিরুদ্ধে যদি অন্য দেশের বিমান কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করে থাকে, তাহলে সেই তথ্য নতুন নিয়োগকারী সংস্থার কাছে পৌঁছেছিল কি না—তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এখানে আরও একটি জটিল বিষয় রয়েছে। ওমান এবং ইজ়রায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। এমন পরিস্থিতিতে একজন ওমানি নাগরিক কীভাবে ইজ়রায়েলগামী একটি বাণিজ্যিক বিমানে সহকারী পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পেলেন, সেটিও তদন্তের অংশ হয়ে উঠেছে।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে কী তথ্য ছিল?

এই প্রশ্নের উত্তর এখনও সম্পূর্ণ স্পষ্ট নয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওমানের কাছে হামাম আল-হাম্মামির বিষয়ে নিরাপত্তাজনিত তথ্য ছিল এবং সেই কারণেই তাঁকে বিমান চালানো থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই তথ্য UAE বা অন্য আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে কতটা পৌঁছেছিল, তা এখনও প্রকাশ্যে পরিষ্কার নয়।

news image
আরও খবর

অর্থাৎ তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল তথ্য আদানপ্রদান এবং পাইলট ভেটিং ব্যবস্থা। একজন পাইলটের অতীত রেকর্ড এক দেশ থেকে অন্য দেশে কীভাবে যাচাই করা হয়, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সতর্কবার্তা কীভাবে ভাগ করা হয় এবং আন্তর্জাতিক রুটে দায়িত্ব দেওয়ার আগে কোন কোন স্তরে যাচাই করা হয়—এই সব বিষয় এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

UAE-তে তদন্ত চলছে

ঘটনার পর সংযুক্ত আরব আমিরশাহি তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে। UAE অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ঘটনাটির সঙ্গে সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অভিযুক্ত হামাম আল-হাম্মামিকে সৌদি আরব থেকে UAE কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী, তা তদন্তের পর আরও স্পষ্ট হওয়ার কথা।

এই মুহূর্তে বিভিন্ন দেশ ও নিরাপত্তা সংস্থা নিজেদের মতো করে তথ্য সংগ্রহ করছে। ইজ়রায়েলও ঘটনার তদন্তে যুক্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে। ফলে এটি শুধুমাত্র একটি বিমান সংক্রান্ত ঘটনা নয়; আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা এবং আন্তঃদেশীয় নিরাপত্তা তথ্য আদানপ্রদানের বিষয়টিও এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে।

ইরানের যোগের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে

ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও অভিযুক্তের সঙ্গে ইরানের কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেই সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের কোনও সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করবে। তবে এই মুহূর্তে অভিযুক্তের সঙ্গে ইরানের সরাসরি যোগ থাকার কোনও চূড়ান্ত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। তাই এটিকেও তদন্তাধীন সম্ভাবনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত সংবেদনশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ঘটেছে। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী বিমানে এই ধরনের হামলার ফলে স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বেড়েছে।

ফ্লাইদুবাইয়ের তেল আভিভ রুট বন্ধ

ঘটনার পর ফ্লাইদুবাই ইজ়রায়েলগামী তাদের বিমান পরিষেবা সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে। এর ফলে দুবাই-তেল আভিভ বিমান যোগাযোগেও প্রভাব পড়েছে।

একটি বাণিজ্যিক বিমানে ককপিটের ভিতরে সহকারী পাইলটের হামলার ঘটনা অত্যন্ত বিরল এবং গুরুতর নিরাপত্তা বিষয়। ফলে ভবিষ্যতে পাইলট নিয়োগ, ককপিট অ্যাক্সেস, ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশন এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা তথ্য আদানপ্রদানের নিয়ম নিয়ে নতুন করে আলোচনা হতে পারে।

স্মিত মচ্ছরের ভূমিকা

এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলির একটি হল ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের ভূমিকা। হামলার পরও তিনি ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। এর ফলে যাত্রীরা এবং অন্য ক্রু সদস্যরা ককপিটে ঢুকে অভিযুক্তকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। এরপর বিমানটি নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে কথোপকথনে স্মিত মচ্ছর ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরেন। তাঁর অভিজ্ঞতা থেকেই বোঝা যায়, কয়েক সেকেন্ডের সিদ্ধান্ত কীভাবে একটি বড় বিমান দুর্ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

সামনে কী হতে পারে?

এখন তদন্তকারীদের সামনে কয়েকটি মূল প্রশ্ন। প্রথমত, হামাম আল-হাম্মামির প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল। দ্বিতীয়ত, ওমানে তাঁর বিরুদ্ধে আগে যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তার পূর্ণ তথ্য UAE বা ফ্লাইদুবাইয়ের কাছে পৌঁছেছিল কি না। তৃতীয়ত, যদি সেই তথ্য পৌঁছে থাকে, তাহলে কীভাবে তিনি আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী বিমানের ককপিটে দায়িত্ব পেলেন। চতুর্থত, তাঁর কথিত অনলাইন কার্যকলাপ এবং বর্তমান ঘটনার মধ্যে কোনও সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না।

এ ছাড়াও তদন্তকারীরা দেখবেন, তিনি একাই এই কাজ করেছিলেন কি না বা অন্য কারও সহযোগিতা পেয়েছিলেন কি না। একই সঙ্গে ইরান বা কোনও উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল কি না, সেই বিষয়টিও বিভিন্ন সংস্থা খতিয়ে দেখতে পারে।

সবশেষে, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে—এক দেশে নিরাপত্তাজনিত কারণে কোনও পাইলটকে উড়ান থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে সেই তথ্য আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলির কাছে কীভাবে পৌঁছবে এবং নতুন নিয়োগের সময় তা কীভাবে যাচাই করা হবে?

ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে হামলার তদন্ত এখনও চলছে। হামাম আল-হাম্মামির অতীত, ওমানে তাঁর বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ, ফ্লাইদুবাইয়ে তাঁর নিয়োগ এবং তেল আভিভগামী বিমানে তাঁর আচরণ—সবকিছু মিলিয়ে তদন্তকারীরা একটি পূর্ণ চিত্র তৈরি করার চেষ্টা করছেন। বর্তমানে প্রকাশিত তথ্যের একটি বড় অংশ সংবাদমাধ্যমের সূত্র ও কর্মকর্তাদের বক্তব্যনির্ভর। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তের উদ্দেশ্য বা সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।

এদিকে আহত ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর চিকিৎসাধীন এবং বিমানে থাকা যাত্রীরা নিরাপদে সৌদি আরবে পৌঁছেছিলেন। ঘটনার পর ফ্লাইদুবাইয়ের তেল আভিভ রুট সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আগামী দিনে UAE, সৌদি আরব, ইজ়রায়েল এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থার তদন্ত থেকে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। সেই তথ্যই শেষ পর্যন্ত স্পষ্ট করবে, কীভাবে এই ঘটনা ঘটল এবং ওমানে আগে থেকেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা এক পাইলট কীভাবে ফের আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী বিমানের ককপিটে পৌঁছে গেলেন।

Preview image