সকাল থেকে আকাশ পরিষ্কার থাকলেও বেলা বাড়তেই বদলে যায় আবহাওয়া। শুরু হয় মেঘের গর্জন, এরপরই আকাশ কালো করে দক্ষিণ কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় নামে ঝেঁপে বৃষ্টি। রবিবার দুপুরের পর থেকে রাজ্যের ৬ জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
পুজোর বাজারে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন? রবিবার দুপুরের পর আচমকাই বদলে গেল কলকাতার আবহাওয়া। সকাল থেকে আকাশ ছিল বেশ পরিষ্কার। বৃষ্টির কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিতও ছিল না। কিন্তু বেলা গড়াতেই আকাশ ঢেকে যায় কালো মেঘে। শুরু হয় মেঘের গর্জন। এরপরই কলকাতার একাধিক এলাকায় নামে ঝেঁপে বৃষ্টি। সঙ্গে চলে ঘন ঘন বজ্রপাত।
ছুটির দিনে পুজোর কেনাকাটা করতে বেরিয়ে অনেকেই আচমকা বৃষ্টির মুখে পড়েন। দক্ষিণ কলকাতার বেশ কিছু এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা ছিল বেশি। ফলে রাস্তায় বেরোনো সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পুজোর বাজার করতে বেরনো ক্রেতাদেরও সমস্যায় পড়তে হয়। বিকেলের দিকে যাঁদের বাইরে বেরোনোর পরিকল্পনা ছিল, তাঁদের মধ্যেও তৈরি হয় বৃষ্টির আশঙ্কা।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এখনই পুরোপুরি বৃষ্টি থেকে রেহাই মিলছে না। আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্ত ভাবে বৃষ্টি হতে পারে। তাই প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরোলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাস্তায় বেরোনোর প্রয়োজন হলে সঙ্গে ছাতা রাখাই ভাল।
## রবিবার দুপুরে আচমকাই বদলে গেল কলকাতার আবহাওয়া
রবিবার সকাল পর্যন্ত কলকাতার আকাশ ছিল পরিষ্কার। দিনের শুরুতে দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবহাওয়ার এমন পরিবর্তন হতে পারে। রোদও ছিল। ফলে পুজোর বাজার করতে বেরোনোর জন্য অনেকেই সকালেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিলেন।
কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। প্রথমে আকাশে মেঘ জমে। ধীরে ধীরে সেই মেঘ ঘন হতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় মেঘের গর্জন। তারপরই একাধিক এলাকায় ঝেঁপে বৃষ্টি নামে।
দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর, বেহালা, কসবা এবং গড়িয়াহাট-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। আচমকা বৃষ্টিতে অনেকেই দোকান, শপিং মল, মেট্রো স্টেশন কিংবা অন্যান্য আশ্রয়স্থলে দাঁড়িয়ে পড়েন।
## দক্ষিণ কলকাতায় বৃষ্টির দাপট বেশি
রবিবার দুপুরের বৃষ্টির প্রভাব কলকাতার সব এলাকায় সমান ছিল না। দক্ষিণ কলকাতার বেশ কিছু এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা তুলনামূলক বেশি ছিল।
যাদবপুর, বেহালা, কসবা এবং গড়িয়াহাটের মতো এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাতও হয়েছে। অন্যদিকে ধর্মতলা, শিয়ালদহ, শ্যামবাজার, বাগবাজার এবং বরাহনগর এলাকায় তুলনামূলক কম বৃষ্টি হয়েছে।
কোথাও কিছুক্ষণ বৃষ্টি হওয়ার পর ফের রোদ উঠেছে। আবার কোনও কোনও এলাকায় মেঘলা আকাশের সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কলকাতার আবহাওয়ার মেজাজ যে অত্যন্ত পরিবর্তনশীল হয়ে উঠেছে, তা রবিবারের ঘটনাতেই স্পষ্ট।
## পুজোর বাজারে গিয়ে বিপাকে সাধারণ মানুষ
দুর্গাপুজো যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে বাজারে মানুষের ভিড়। নতুন জামাকাপড়, জুতো, সাজসজ্জার সামগ্রী থেকে শুরু করে পুজোর বিভিন্ন কেনাকাটা—সব মিলিয়ে কলকাতা এবং শহরতলির বাজারগুলিতে এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে।
রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় অনেকেই পরিবার নিয়ে পুজোর কেনাকাটা করতে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু আচমকা বৃষ্টি তাঁদের পরিকল্পনায় কিছুটা হলেও ছন্দপতন ঘটায়।
যাঁরা রাস্তার দোকান বা খোলা বাজারে কেনাকাটা করছিলেন, তাঁদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতে হয়। আবার যাঁরা গাড়ি বা বাইকে করে বাজারে বেরিয়েছিলেন, তাঁদেরও বৃষ্টির মধ্যে যাতায়াতে সমস্যায় পড়তে হয়েছে।
বিশেষ করে বজ্রপাতের কারণে খোলা জায়গায় থাকা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
## বিকেলে বেরোবেন? সঙ্গে রাখুন ছাতা
রবিবার দুপুরের আবহাওয়ার পরিবর্তনের পর বিকেলের দিকে যাঁদের বাইরে বেরোনোর পরিকল্পনা ছিল, তাঁদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্ত ভাবে বৃষ্টি হতে পারে। ফলে আকাশ পরিষ্কার দেখালেও আচমকা বৃষ্টি নামার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে বাইরে বেরোনোর প্রয়োজন হলে সঙ্গে ছাতা রাখা ভাল। বিশেষ করে পুজোর বাজার বা দীর্ঘ সময়ের জন্য বাইরে বেরোলে আবহাওয়ার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।
## কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের ছয় জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা
হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার দুপুরের পর থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের মোট ছ’টি জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এই তালিকায় রয়েছে—
* কলকাতা
* হাওড়া
* হুগলি
* উত্তর ২৪ পরগনা
* দক্ষিণ ২৪ পরগনা
* নদিয়া
এই জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্ত ভাবে বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে।
এর সঙ্গে বজ্রপাতের সতর্কতাও রয়েছে।
ফলে শুধু বৃষ্টিই নয়, ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রপাতের বিষয়টিও মাথায় রেখে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে।
## সোমবার দক্ষিণবঙ্গে বড় কোনও সতর্কতা নেই
রবিবারের তুলনায় সোমবার দক্ষিণবঙ্গের পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হতে পারে। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার দক্ষিণবঙ্গের কোনও জেলায় আপাতত বড় ধরনের বৃষ্টির সতর্কতা নেই।
তবে তার অর্থ এই নয় যে দক্ষিণবঙ্গের কোথাও বৃষ্টিই হবে না। বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্ত ভাবে দু’-এক পশলা বৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু তার জন্য আলাদা করে সতর্কতা জারি করা হয়নি।
অর্থাৎ, স্থানীয় ভাবে মেঘ জমে বৃষ্টি হলেও তা সর্বত্র একই রকম হবে না।
## মঙ্গলবার ফের কয়েকটি জেলায় ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা
মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ফের ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিও হতে পারে।
এর পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও বিচ্ছিন্ন ভাবে বৃষ্টি হতে পারে। তবে সব জেলায় একই মাত্রায় বৃষ্টি হবে, এমন পূর্বাভাস নেই।
ফলে পুজোর বাজারের পরিকল্পনা থাকলে স্থানীয় আবহাওয়ার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
## বুধবারও বৃষ্টির সম্ভাবনা
বুধবারও দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের অন্য কয়েকটি এলাকাতেও বিক্ষিপ্ত ভাবে দু’-এক পশলা বৃষ্টি হতে পারে।
অর্থাৎ, আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া পুরোপুরি শুকনো থাকার সম্ভাবনা নেই।
## উত্তরবঙ্গেও দুর্যোগের আশঙ্কা
শুধু দক্ষিণবঙ্গ নয়, উত্তরবঙ্গের জন্যও রয়েছে বৃষ্টির পূর্বাভাস। বরং উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা তুলনামূলক বেশি।
রবিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত দার্জিলিং এবং জলপাইগুড়িতে বৃষ্টি চলতে পারে। রবিবার জলপাইগুড়ির কিছু জায়গায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
এ ছাড়াও আলিপুরদুয়ার এবং কালিম্পঙে সোমবার পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহে মঙ্গলবার ও বুধবার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে।
## পাহাড়ে বাড়তে পারে বৃষ্টির দাপট
উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকাগুলিতে আবহাওয়ার পরিবর্তন দ্রুত হয়। দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ির মতো এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় স্থানীয় মানুষ এবং পর্যটকদেরও সতর্ক থাকতে হবে।
বিশেষ করে পাহাড়ি রাস্তায় বৃষ্টির সময়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। ভারী বৃষ্টি হলে দৃশ্যমানতা কমে যেতে পারে এবং রাস্তায় সমস্যা তৈরি হতে পারে।
## কেন আচমকা বৃষ্টি?
রবিবার সকালের পরিষ্কার আকাশ থেকে দুপুরের ঝেঁপে বৃষ্টিতে অনেকেই অবাক হয়েছেন। তবে বর্ষাকাল-পরবর্তী এই সময়েও স্থানীয় ভাবে মেঘ তৈরি হয়ে আচমকা বৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
একটি এলাকায় আকাশ পরিষ্কার থাকলেও কয়েক কিলোমিটার দূরে মেঘ জমে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। কলকাতার ক্ষেত্রেও রবিবার এমন স্থানীয় আবহাওয়া পরিবর্তনের ছবি দেখা গিয়েছে।
সকাল থেকে রোদ থাকায় অনেকেই বৃষ্টির কথা ভাবেননি। কিন্তু দুপুরের পর মেঘ জমতেই পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়।
## পুজোর বাজার কি মাটি হবে?
দুর্গাপুজোর আগে কলকাতার বাজারে এখন কেনাকাটার মরশুম। সপ্তাহের অন্যান্য দিনের পাশাপাশি ছুটির দিনগুলিতে বাজারে ভিড় আরও বাড়ে।
এই পরিস্থিতিতে বৃষ্টির পূর্বাভাস স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসায়ী এবং ক্রেতা—দুই পক্ষের জন্যই চিন্তার কারণ।
তবে আগামী কয়েক দিনের পূর্বাভাসে সর্বত্র টানা বৃষ্টির কথা বলা হয়নি। বরং বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্ত ভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনার কথাই জানানো হয়েছে।
ফলে বৃষ্টির কারণে পুজোর বাজার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হবে, এমনটা বলা যাচ্ছে না। তবে আচমকা বৃষ্টির জন্য কেনাকাটার পরিকল্পনায় সামান্য পরিবর্তন আনতে হতে পারে।
বিশেষ করে বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে বাইরে বেরোলে ছাতা সঙ্গে রাখা এবং আবহাওয়ার আপডেট দেখে বেরোনো সুবিধাজনক।
## পুজোর কেনাকাটায় বাড়তি সতর্কতা
পুজোর আগে বাজারে বেরোতে হলে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা যেতে পারে—
**ছাতা সঙ্গে রাখুন:** আকাশ পরিষ্কার থাকলেও আচমকা বৃষ্টি হতে পারে।
**বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা এড়িয়ে চলুন:** মাঠ, পার্ক বা ফাঁকা জায়গায় থাকলে বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া উচিত।
**গাড়ি চালানোর সময় সতর্ক থাকুন:** বৃষ্টির সময়ে রাস্তা পিচ্ছিল হতে পারে এবং দৃশ্যমানতাও কমে যেতে পারে।
**আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে বেরোন:** বিশেষ করে দীর্ঘ সময়ের জন্য বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে দিনের আবহাওয়ার আপডেট দেখে নেওয়া ভাল।
**পুজোর বাজারের সময় পরিকল্পনা করে নিন:** বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে অপেক্ষাকৃত শুকনো সময় বেছে নেওয়া যেতে পারে।
## বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা
দক্ষিণবঙ্গের ছ’টি জেলায় শুধু বৃষ্টিই নয়, ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।
বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়া একসঙ্গে হলে শহরের রাস্তায় গাছের ডাল ভেঙে পড়া, সাময়িক ভাবে যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হওয়া কিংবা দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
তাই আবহাওয়া খারাপ হলে অপ্রয়োজনে খোলা জায়গায় না থাকার পরামর্শই নিরাপদ।
## বজ্রপাত নিয়ে সতর্কতা জরুরি
রবিবার কলকাতার একাধিক এলাকায় ঘন ঘন বজ্রপাত হয়েছে। আগামী কয়েক দিনও দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গাছের নিচে দাঁড়ানো বা খোলা জায়গায় অবস্থান করা এড়িয়ে চলা উচিত।
পুজোর বাজারে বা রাস্তায় থাকার সময় আচমকা বজ্রপাত শুরু হলে কাছাকাছি নিরাপদ ভবন বা দোকানে আশ্রয় নেওয়া ভাল।
## কখন কাটবে এই বৃষ্টি?
এই মুহূর্তে পুরোপুরি বৃষ্টির পরিস্থিতি কবে শেষ হবে, তা নিশ্চিত ভাবে বলা যাচ্ছে না। কারণ আগামী কয়েক দিনও দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার দক্ষিণবঙ্গে বড় কোনও সতর্কতা না থাকলেও মঙ্গলবার এবং বুধবার ফের কয়েকটি জেলায় ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থাৎ, একটানা বৃষ্টি না হলেও **মাঝে মাঝে বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের পরিস্থিতি** তৈরি হতে পারে।
## কলকাতার জন্য আগামী কয়েক দিন কেমন?
কলকাতায় আপাতত সবচেয়ে বড় বিষয় হল আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন। সকালে রোদ, দুপুরে মেঘ এবং তার পর ঝেঁপে বৃষ্টি—রবিবারের আবহাওয়ায় সেই ছবিই দেখা গিয়েছে।
আগামী কয়েক দিনও স্থানীয় ভাবে বৃষ্টি হতে পারে। তাই শহরবাসীর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হল আবহাওয়ার আপডেটের দিকে নজর রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পনা করা।
পুজোর বাজারে বেরোলে সঙ্গে ছাতা রাখলে আচমকা বৃষ্টির হাত থেকে কিছুটা হলেও রেহাই পাওয়া যাবে।
### শেষ কথা
পুজোর আগে কলকাতায় যখন বাজারে কেনাকাটার ব্যস্ততা তুঙ্গে, তখনই আবহাওয়ার এই পরিবর্তন কিছুটা হলেও চিন্তা বাড়িয়েছে। রবিবার সকাল থেকে আকাশ পরিষ্কার থাকলেও দুপুরের পর দক্ষিণ কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় ঝেঁপে বৃষ্টি এবং ঘন ঘন বজ্রপাত হয়েছে।
হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কলকাতা-সহ হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদিয়ায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গেও বজ্রপাত হতে পারে।
সোমবার দক্ষিণবঙ্গে বড় কোনও সতর্কতা না থাকলেও মঙ্গলবার ও বুধবার ফের কয়েকটি জেলায় ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গেও রবিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
তাই পুজোর বাজার পুরোপুরি মাটি হয়ে যাবে, এমন আশঙ্কা এখনই নেই। তবে **আচমকা বৃষ্টি
যে পুজোর কেনাকাটার পরিকল্পনায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে, রবিবারের আবহাওয়াই তার প্রমাণ।** বাইরে বেরোনোর আগে আবহাওয়ার খবর দেখে নেওয়া এবং সঙ্গে ছাতা রাখা তাই আপাতত সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।