Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

পুজোর মুখে ফের খাদ্য সুরক্ষা অভিযানে কলকাতা পুরসভা, ভেজাল রুখতে শহরজুড়ে নজরদারি

দুর্গাপুজোর আগে শহরে খাবারের মান ও ভেজাল রুখতে ফের সক্রিয় কলকাতা পুরসভা। হোটেল-রেস্তরাঁ থেকে শুরু করে ফুটপাতের খাবারের দোকান—বিভিন্ন জায়গায় চলবে খাদ্য সুরক্ষা অভিযান। উৎসবের মরশুমে সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।

দুর্গাপুজোর আগে কলকাতা শহরে ফের জোরদার হতে চলেছে খাদ্য সুরক্ষা অভিযান। পুজোর মরশুমে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে খাবারের দোকান, রেস্তরাঁ এবং হোটেলে ভিড় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। একইসঙ্গে বাড়ে বাইরে খাওয়াদাওয়ার প্রবণতাও। এই পরিস্থিতিতে খাবারে ভেজাল, নিম্নমানের উপকরণ কিংবা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরির অভিযোগ রুখতে ফের ময়দানে নামছে কলকাতা পুরসভা।

প্রতি বছরই দুর্গাপুজোর আগে এবং পুজোর সময় কলকাতা শহরের বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত অভিযান চালানো হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। শহরের বিভিন্ন হোটেল, রেস্তরাঁ, খাবারের দোকান এবং ফুটপাতের খাবারের স্টল-এ নজরদারি চালানো হবে। খাবারের গুণমান, রান্নার পরিবেশ, ব্যবহৃত কাঁচামাল এবং খাদ্য সংরক্ষণের পদ্ধতি খতিয়ে দেখার উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

দুর্গাপুজো বাঙালির অন্যতম বড় উৎসব। পুজোর কয়েকদিন কলকাতার রাস্তায় মানুষের ঢল নামে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে। অনেকেই পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের সঙ্গে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরতে বের হন। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার কারণে খাবারের জন্য নির্ভর করতে হয় হোটেল, রেস্তরাঁ, ছোট খাবারের দোকান কিংবা রাস্তার ধারের বিভিন্ন স্টলের উপর।

ফলে পুজোর সময় খাদ্য সুরক্ষার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। খাবার তৈরির সময় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হচ্ছে কি না, খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে কি না কিংবা বাসি খাবার বিক্রি করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় নজরে রাখা জরুরি। পুরসভার অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্যই হল, সাধারণ মানুষ যাতে উৎসবের সময় নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পান তা নিশ্চিত করা।

শহরের বড় রেস্তরাঁ থেকে শুরু করে ছোট খাবারের দোকান—সব জায়গাতেই খাদ্য সুরক্ষার নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় নিয়মের ব্যত্যয়ের অভিযোগ ওঠে। খাবারে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার, অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘর, দীর্ঘ সময় খাবার বাইরে রেখে দেওয়া কিংবা খাদ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সতর্কতা না মানার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

পুজোর সময় মানুষের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাবারের চাহিদাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে বিভিন্ন জনপ্রিয় খাবারের দোকানে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। দ্রুত খাবার পরিবেশন করতে গিয়ে কোথাও যাতে খাদ্য সুরক্ষার নিয়ম লঙ্ঘন না হয়, সেদিকেও নজর রাখা প্রয়োজন।

এই কারণেই উৎসবের আগে পুরসভার পক্ষ থেকে অভিযান চালানো গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। অভিযানের সময় বিভিন্ন খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে সেগুলির গুণমান পরীক্ষা করা হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দোকান বা প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করা কিংবা নিয়ম না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পথও খোলা থাকে।

কলকাতার ফুটপাতের খাবারের আলাদা জনপ্রিয়তা রয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার ধারে নানা ধরনের খাবারের দোকান বসে। পুজোর সময় এই দোকানগুলিতে ক্রেতার সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। ফুচকা, চাউমিন, রোল, বিরিয়ানি, চপ, কাটলেট থেকে শুরু করে নানা ধরনের জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুডের চাহিদা থাকে।

রাস্তার খাবার সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য এবং তুলনামূলকভাবে কম খরচের হওয়ায় পুজোর সময় এর চাহিদা আরও বাড়ে। তবে একইসঙ্গে খাবার তৈরির জায়গার পরিচ্ছন্নতা, ব্যবহৃত জল, তেল এবং অন্যান্য উপকরণের গুণমান নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই ফুটপাতের খাবারের দোকানগুলিও খাদ্য সুরক্ষা অভিযানের আওতায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারের মান শুধু ভেজাল রয়েছে কি না তার উপর নির্ভর করে না। খাবার কীভাবে তৈরি হচ্ছে, কোন পরিবেশে রাখা হচ্ছে, ব্যবহৃত বাসনপত্র কতটা পরিষ্কার, খাবার ঢেকে রাখা হচ্ছে কি না এবং কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখা হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ও খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

পুজোর সময় বাইরে খাওয়ার প্রবণতা বাড়ায় এই বিষয়গুলির প্রতি নজর রাখা আরও জরুরি। কারণ একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য খাবার তৈরি করার সময় সামান্য অসতর্কতাও বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।

কলকাতা পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত অভিযান তাই শুধু ভেজাল খাবার শনাক্ত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। খাবারের দোকানগুলিতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা হচ্ছে কি না, খাদ্যদ্রব্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে কি না এবং খাবার পরিবেশনের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হচ্ছে কি না—এই বিষয়গুলিও নজরে আসতে পারে।

পুজোর আগে শহরের বিভিন্ন বাজারেও খাদ্যদ্রব্যের উপর নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ। মিষ্টি, মশলা, তেল, দুধজাতীয় সামগ্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রস্তুত খাবার—উৎসবের সময় এসব পণ্যের বিক্রি অনেক বেড়ে যায়। চাহিদা বাড়ার সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে নিম্নমানের বা ভেজাল খাদ্যসামগ্রী বাজারজাত করতে না পারে, সেদিকেও নজরদারি প্রয়োজন।

news image
আরও খবর

বিশেষ করে পুজোর সময় মিষ্টির দোকানগুলিতে ব্যাপক ভিড় হয়। বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি ও অন্যান্য খাবার প্রচুর পরিমাণে তৈরি করা হয়। ফলে সেগুলির প্রস্তুত প্রক্রিয়া, সংরক্ষণ এবং বিক্রির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একইভাবে রেস্তরাঁ এবং হোটেলগুলিতেও পুজোর সময় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। অনেক প্রতিষ্ঠানকে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি খাবার প্রস্তুত করতে হয়। এই সময় খাবার কতটা সময় ধরে সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং কীভাবে তা ক্রেতাদের কাছে পরিবেশন করা হচ্ছে, সেটিও খাদ্য সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

শুধু ব্যবসায়ীদের উপর নজরদারি নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও খাদ্য সুরক্ষা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। কোনও খাবারের দোকানের পরিবেশ অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন মনে হলে সেখানে খাবার না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। একইভাবে খাবারের গন্ধ, স্বাদ বা চেহারায় অস্বাভাবিক কিছু মনে হলে সতর্ক হওয়াও জরুরি।

পুজোর সময় শহরের মানুষের একটি বড় অংশ রাত পর্যন্ত বাইরে থাকেন। অনেকেই ঠাকুর দেখে রাতের খাবার রাস্তার দোকান বা রেস্তরাঁয় সেরে নেন। ফলে এই সময় খাবারের দোকানগুলিতে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি চাপ থাকে। প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার হলে নিয়ম ভাঙার প্রবণতা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।

কলকাতা পুরসভার এই উদ্যোগের ফলে পুজোর আগে খাদ্য ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলির উপরও বাড়তি দায়িত্ব তৈরি হচ্ছে। শুধু অভিযান চলার সময় নয়, সারা বছরই খাদ্য সুরক্ষার নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন। কারণ নিরাপদ খাবার সরবরাহ করা ব্যবসায়ীদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

দুর্গাপুজো উপলক্ষে কলকাতায় শুধু স্থানীয় মানুষই নয়, বিভিন্ন জেলা এবং দেশের অন্যান্য প্রান্ত থেকেও বহু মানুষ আসেন। ফলে শহরের খাবারের দোকানগুলিতে বিপুল সংখ্যক মানুষের নির্ভরতা তৈরি হয়। পুজোর মরশুমে শহরের খাদ্য ব্যবস্থার উপর এই অতিরিক্ত চাপের বিষয়টিও প্রশাসনের নজরে থাকে।

খাবারে ভেজাল বা খাদ্যদূষণের ঘটনা শুধু একজন মানুষের অসুস্থতার কারণ হতে পারে না; বড় আকারে সমস্যা তৈরি হলে একসঙ্গে বহু মানুষ আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই উৎসবের আগে খাদ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কলকাতার মতো জনবহুল শহরে এই নজরদারির গুরুত্ব আরও বেশি। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন জায়গায় খাবার খান। পুজোর সময় সেই সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। তাই শহরের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে নিরাপদ রাখা প্রশাসনের কাছে বড় দায়িত্ব।

এবারও পুজোর আগে কলকাতা পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা অভিযানকে তাই যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি কোথাও নিয়মের ব্যত্যয় ধরা পড়লে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হতে পারে।

অভিযানের ফলে একদিকে যেমন খাবারের গুণমান সম্পর্কে সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়বে, অন্যদিকে ব্যবসায়ীরাও খাদ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলতে আরও সতর্ক হবেন। উৎসবের মরশুমে নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করতে প্রশাসন এবং খাদ্য ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ।

পুজোর আনন্দে কলকাতার রাস্তায় খাবারের স্বাদ নেওয়া বহু মানুষের কাছে উৎসবেরই একটি অংশ। বন্ধুদের সঙ্গে ফুচকা, পরিবারের সঙ্গে রেস্তরাঁয় খাওয়া কিংবা রাতের পুজো পরিক্রমার মাঝে রাস্তার ধারের খাবার—সবকিছুরই আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। তবে সেই আনন্দ যাতে অসুস্থতার কারণ না হয়, তার জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিত করা জরুরি।

তাই পুজোর মুখে কলকাতা পুরসভার এই খাদ্য সুরক্ষা অভিযানকে ঘিরে নজর থাকবে শহরবাসীর। কোথায় কী ধরনের অনিয়ম ধরা পড়ে, কতগুলি জায়গায় নমুনা পরীক্ষা করা হয় এবং নিয়ম না মানলে কী ধরনের পদক্ষেপ করা হয়—সেদিকেই নজর থাকবে।

সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর আগে কলকাতা পুরসভার ফের খাদ্য সুরক্ষা অভিযানে নামার সিদ্ধান্ত শহরের সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পুজোর আনন্দের পাশাপাশি শহরবাসীর খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। হোটেল-রেস্তরাঁ থেকে ফুটপাতের খাবারের দোকান—শহরের সর্বত্র নজরদারি জোরদার হলে উৎসবের মরশুমে নিরাপদ খাবার পাওয়ার বিষয়ে সাধারণ মানুষের আস্থাও বাড়বে।

Preview image