১ অক্টোবরের তুলনায় ফাইন গোল্ড, ২২ ক্যারেট ও ১৮ ক্যারেট সোনার দামই বেড়েছে। তবে বাজার ও বিক্রেতাভেদে রেটে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে।
পুজোর আবহে ফের ঊর্ধ্বমুখী হল সোনার দাম। দুর্গাপুজোর আগে গয়না কেনার পরিকল্পনা করছেন বহু মানুষ। তার মধ্যেই কলকাতার বাজারে সোনার দামে নতুন করে বৃদ্ধি দেখা গেল। ২ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার সকালে স্বর্ণ শিল্প বাঁচাও কমিটির প্রকাশিত রেট অনুযায়ী, ১ অক্টোবরের তুলনায় ৯৯৫ ফাইন গোল্ড, ২২ ক্যারেট এবং ১৮ ক্যারেট—তিন ধরনের সোনার দামই বেড়েছে। ফলে পুজোর মরশুমে সোনা কিনতে যাওয়ার আগে আজকের নতুন দাম জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
স্বর্ণ শিল্প বাঁচাও কমিটির ২ অক্টোবর সকাল ১০টা ২০ মিনিটের প্রকাশিত রেট অনুযায়ী, ৯৯৫ ফাইন গোল্ডের দাম প্রতি গ্রাম হয়েছে ১৪,৮৪৫ টাকা। আগের দিন, অর্থাৎ ১ অক্টোবর এই একই সোনার দর ছিল প্রতি গ্রাম ১৪,৭৪৬ টাকা। অর্থাৎ মাত্র একদিনের ব্যবধানে প্রতি গ্রামে ৯৯ টাকা দাম বেড়েছে। সেই হিসাবে ১০ গ্রাম ৯৯৫ ফাইন গোল্ডের দামে একদিনে প্রায় ৯৯০ টাকার পার্থক্য তৈরি হয়েছে। পুজোর আগে যারা বেশি পরিমাণে সোনা কেনার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য এই দৈনিক ওঠানামা নজরে রাখার মতো।
শুধু ফাইন গোল্ড নয়, ২২ ক্যারেট সোনার দামেও বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। ২ অক্টোবর ২২ ক্যারেট বা ৯১৬ বিশুদ্ধতার সোনার বিক্রির দর প্রতি গ্রাম ১৪,১০০ টাকা। ১ অক্টোবর এই দর ছিল ১৪,০১০ টাকা। অর্থাৎ একদিনে প্রতি গ্রামে ৯০ টাকা বেড়েছে। ১০ গ্রাম ২২ ক্যারেট সোনার ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৯০০ টাকা। ফলে পুজোর সময়ে গয়না কেনার বাজেট তৈরির ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন ক্রেতাদের হিসাবেও প্রভাব ফেলতে পারে।
২২ ক্যারেট সোনার শুধু বিক্রির দরই নয়, কেনার দরেও পরিবর্তন হয়েছে। ১ অক্টোবর ২২ ক্যারেট সোনার কেনার দর যেখানে প্রতি গ্রাম ১৩,৪১৮ টাকা ছিল, ২ অক্টোবর তা বেড়ে হয়েছে ১৩,৫০৮ টাকা। অর্থাৎ একদিনে প্রতি গ্রামে ৯০ টাকা বৃদ্ধি হয়েছে। সোনা কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী ও বাজার পর্যবেক্ষকদের কাছে এই ধরনের দৈনিক দর পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে ১৮ ক্যারেট সোনার দামও ২ অক্টোবর বেড়েছে। ১ অক্টোবর ১৮ ক্যারেট বা ৭৫০ বিশুদ্ধতার সোনার প্রতি গ্রামের দর ছিল ১১,৫০০ টাকা। ২ অক্টোবর সেই দর বেড়ে হয়েছে ১১,৫৮০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি গ্রামে ৮০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ১০ গ্রাম হিসাবে দেখলে ১৮ ক্যারেট সোনার ক্ষেত্রেও একদিনে ৮০০ টাকা বেশি দামের পার্থক্য তৈরি হয়েছে।
অর্থাৎ ২ অক্টোবরের প্রকাশিত রেটের দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে, ফাইন গোল্ড থেকে শুরু করে ২২ ক্যারেট এবং ১৮ ক্যারেট—সব ক্ষেত্রেই সোনার বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রয়েছে। বিশেষ করে দুর্গাপুজোর আগে সোনার গয়না কেনার চাহিদা বাড়তে পারে বলে এই সময় প্রতিদিনের সোনার দর অনেক ক্রেতাই নজরে রাখছেন।
তবে এখানে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বর্ণ শিল্প বাঁচাও কমিটির প্রকাশিত এই রেটের সঙ্গে ৩ শতাংশ GST ধরা হয়নি। অর্থাৎ দোকান থেকে গয়না কেনার সময় শুধুমাত্র প্রকাশিত সোনার মূল্যের হিসাব করলেই হবে না। এর সঙ্গে প্রযোজ্য GST এবং গয়নার ক্ষেত্রে মেকিং চার্জ যোগ হতে পারে। ফলে প্রকাশিত প্রতি গ্রামের দাম এবং দোকানে গিয়ে একজন ক্রেতাকে যে চূড়ান্ত টাকা দিতে হবে, তার মধ্যে পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক।
গয়নার দাম নির্ধারণের সময় সোনার বিশুদ্ধতা, ওজন, মেকিং চার্জ, GST এবং দোকানের নিজস্ব চার্জের মতো বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একই দিনে বিভিন্ন দোকান বা বাজারে সোনার চূড়ান্ত বিক্রির দামও কিছুটা আলাদা হতে পারে। তাই কোনও নির্দিষ্ট গয়না কেনার আগে দোকানের কাছ থেকে সোনার বেস রেট, মেকিং চার্জ, GST এবং অন্যান্য প্রযোজ্য খরচ আলাদা করে জেনে নেওয়া ভালো।
কলকাতার বিভিন্ন বাজারে ২ অক্টোবর ২২ ক্যারেট এবং ২৪ ক্যারেট সোনার দামও ভিন্ন রেঞ্জে দেখা যাচ্ছে। পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন বাজার ও বিক্রেতার ক্ষেত্রে ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রায় ১৩,৬৮০ টাকা এবং ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রায় ১৪,৯২৪ টাকা প্রতি গ্রাম পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। তবে এগুলি বাজার ও বিক্রেতাভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই গয়না কেনার আগে স্থানীয় দোকানের সর্বশেষ রেট যাচাই করা জরুরি।
সোনার পাশাপাশি ২ অক্টোবর রুপোর বাজারেও পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। স্বর্ণ শিল্প বাঁচাও কমিটির প্রকাশিত রেট অনুযায়ী, ৯৯৯ বিশুদ্ধতার সিলভার বারের দাম প্রতি কেজি ২,২৪,০৫৬ টাকা। ১ অক্টোবর এই দাম ছিল প্রতি কেজি ২,২৪,৩৬৮ টাকা। অর্থাৎ একদিনে প্রতি কেজিতে রুপোর দাম ৩১২ টাকা কমেছে। সোনার দাম যেখানে বেড়েছে, সেখানে রুপোর দামে সামান্য পতন দেখা যাওয়ায় মূল্যবান ধাতুর বাজারে একই দিনে ভিন্ন ধরনের গতিবিধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
রুপো কিনতে গেলেও একইভাবে চূড়ান্ত দামের ক্ষেত্রে কর এবং অন্যান্য প্রযোজ্য খরচের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। বিশেষ করে রুপোর বার, কয়েন বা গয়না কেনার ক্ষেত্রে পণ্যের ধরন অনুযায়ী অতিরিক্ত চার্জ থাকতে পারে। তাই প্রকাশিত বাজারদরকে সরাসরি দোকানের চূড়ান্ত বিল হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
পুজোর সময় বাঙালির কেনাকাটায় সোনার গয়নার একটি আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে অনেক পরিবার নতুন গয়না কেনেন। কেউ নিজের জন্য, কেউ পরিবারের সদস্যদের জন্য, আবার অনেকে বিয়ে বা বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য সোনা কেনার পরিকল্পনা করেন। সেই কারণে পুজোর আগে সোনার দামের দৈনিক পরিবর্তন ক্রেতাদের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
২ অক্টোবরের দর অনুযায়ী, একদিনের ব্যবধানে সোনার বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে ৮০ থেকে ৯৯ টাকা পর্যন্ত প্রতি গ্রামে বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। যদিও এই ধরনের দৈনিক পরিবর্তন দেখে ভবিষ্যতে সোনার দাম কোন দিকে যাবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। আন্তর্জাতিক বাজার, ডলারের দামের ওঠানামা, বিনিয়োগকারীদের চাহিদা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক কারণসহ একাধিক বিষয় সোনার বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
সোনার দামের ক্ষেত্রে ২২ ক্যারেট এবং ২৪ ক্যারেটের মধ্যে পার্থক্য বোঝাও জরুরি। ২৪ ক্যারেট বা উচ্চ বিশুদ্ধতার সোনা সাধারণত বিনিয়োগ বা বার-সংক্রান্ত ব্যবহারে বেশি দেখা যায়, অন্যদিকে গয়না তৈরিতে ২২ ক্যারেট সোনার ব্যবহার বেশি প্রচলিত। আবার ১৮ ক্যারেট সোনায় অন্য ধাতুর পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকায় এর দাম ২২ বা ২৪ ক্যারেটের তুলনায় কম হতে পারে। গয়না কেনার সময় তাই শুধু দাম নয়, সোনার ক্যারেট এবং হলমার্ক সম্পর্কেও সচেতন থাকা প্রয়োজন।
বিশেষ করে পুজোর কেনাকাটায় তাড়াহুড়ো করে সোনা না কিনে একাধিক দোকানের দর তুলনা করা যেতে পারে। দোকানে গিয়ে প্রতি গ্রামের সোনার দাম কত, মেকিং চার্জ কীভাবে নেওয়া হচ্ছে, GST কত, পুরনো সোনা বদল করলে কী মূল্য পাওয়া যাবে এবং চূড়ান্ত বিল কত হচ্ছে—এসব বিষয় আগে জেনে নেওয়া ভালো। একই ডিজাইনের গয়নার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন দোকানে মেকিং চার্জের পার্থক্যের কারণে মোট দামে যথেষ্ট পরিবর্তন হতে পারে।
২ অক্টোবরের বাজারদরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল ২২ ক্যারেট এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দাম উভয়ই আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। ২২ ক্যারেট বিক্রির দর প্রতি গ্রামে ১৪,১০০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের দর প্রতি গ্রামে ১১,৫৮০ টাকা। ৯৯৫ ফাইন গোল্ডের দর হয়েছে ১৪,৮৪৫ টাকা প্রতি গ্রাম। অন্যদিকে ৯৯৯ বিশুদ্ধতার সিলভার বারের দাম দাঁড়িয়েছে ২,২৪,০৫৬ টাকা প্রতি কেজি।
তবে বাজারদর সবসময় স্থির থাকে না। একই দিনের মধ্যেও বিভিন্ন উৎসে প্রকাশিত দরে কিছুটা পার্থক্য দেখা যেতে পারে। তাই এই প্রতিবেদনে দেওয়া দামকে একটি প্রকাশিত বাজারদর হিসেবে দেখা উচিত। বাস্তবে গয়না কেনার সময় সংশ্লিষ্ট দোকানের আপডেটেড রেট এবং চূড়ান্ত বিল যাচাই করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
পুজোর মুখে সোনার দাম বাড়ায় যারা ইতিমধ্যেই গয়না কেনার পরিকল্পনা করেছেন, তাদের জন্য আজকের রেট জানা বিশেষ প্রয়োজন। ১০ গ্রাম সোনা কিনলে প্রতি গ্রামে কয়েক দশ টাকা পরিবর্তনও মোট দামে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি করতে পারে। তার সঙ্গে GST ও মেকিং চার্জ যোগ হলে মোট খরচ আরও বাড়তে পারে।
সোনার পাশাপাশি রুপোর দামেও দৈনিক পরিবর্তন হওয়ায় মূল্যবান ধাতুর বাজারে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারী এবং সাধারণ ক্রেতারা। ২ অক্টোবর রুপোর প্রতি কেজি দরে ৩১২ টাকা কমেছে বলে স্বর্ণ শিল্প বাঁচাও কমিটির প্রকাশিত রেটে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সোনা ও রুপোর বাজারে একই দিনে বিপরীতমুখী পরিবর্তন দেখা গেল।
সব মিলিয়ে, ২ অক্টোবর ২০২৬-এর কলকাতা সোনার বাজারে মূল ছবিটি হল—ফাইন গোল্ড, ২২ ক্যারেট এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দাম বেড়েছে, অন্যদিকে ৯৯৯ বিশুদ্ধতার রুপোর দামে সামান্য পতন হয়েছে। পুজোর আগে গয়না কেনার পরিকল্পনা থাকলে বর্তমান বাজারদরের পাশাপাশি GST, মেকিং চার্জ এবং দোকানভেদে অতিরিক্ত খরচের বিষয়টি অবশ্যই হিসাবের মধ্যে রাখা প্রয়োজন।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত সোনার ও রুপোর দর ২ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১০টা ২০ মিনিটে স্বর্ণ শিল্প বাঁচাও কমিটির প্রকাশিত রেটের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন বাজার, দোকান, গয়নার ধরন, মেকিং চার্জ ও করের কারণে চূড়ান্ত দামে পার্থক্য হতে পারে। তাই কেনাকাটার আগে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতার কাছ থেকে সর্বশেষ রেট ও চূড়ান্ত মূল্য যাচাই করুন।