Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

রেকর্ড গড়ল মুদ্রাস্ফীতির হার দাম বাড়ছে এই সমস্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের কী জানাচ্ছে সরকারি তথ্য

মুদ্রাস্ফীতির হার রেকর্ড ছোঁয়ার খবরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সরকারি পরিসংখ্যানে কোন কোন জিনিসের দাম বেড়েছে এবং সেই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচে কী প্রভাব ফেলতে পারে তা উঠে এসেছে আলোচনায় সংসারের বাজেট সামলাতে খাদ্যপণ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দামের পরিবর্তনের দিকেই এখন নজর

ভারতে খুচরো মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খরচ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার হয়েছে ৫.৫৪ শতাংশ। আগস্টের চূড়ান্ত হিসাবে এই হার ছিল ৪.৮৩ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতিও একই সময়ে ৫.৯৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭.৭৪ শতাংশ হয়েছে। সেপ্টেম্বরের তথ্য আপাতত প্রাথমিক বা ‘প্রভিশনাল’ হিসাব। এই বৃদ্ধির ফলে বাজারের দৈনন্দিন খরচ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে মুদ্রাস্ফীতির সামগ্রিক হার দিয়ে প্রতিটি পণ্যের দাম একইভাবে বেড়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় না। কোনও পণ্যে মূল্যবৃদ্ধি অনেক বেশি হতে পারে, আবার অন্য কোনও পণ্যের দাম আগের বছরের তুলনায় কমও থাকতে পারে। সংসারের বাজেটে প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করে পরিবারটি কী কী জিনিস কেনে এবং কোন খাতে কত টাকা ব্যয় করে তার উপর।

রেকর্ড কথাটির অর্থ কী প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের খুচরো মুদ্রাস্ফীতি ২০২৪ ভিত্তিবর্ষের নতুন CPI সিরিজ চালুর পর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। তাই এই খবরকে ভারতের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতি হিসেবে বর্ণনা করা যথাযথ নয়। এখানে নতুন সিরিজের মধ্যে সর্বোচ্চ হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট রাখা প্রয়োজন। কোন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসে দাম বৃদ্ধির চাপ বেশি সরকারি প্রকাশনায় কয়েকটি খাদ্যপণ্যের বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধি বিশেষভাবে চোখে পড়েছে। নিচের হারগুলি সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর তুলনায় সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর পরিবর্তন বোঝাচ্ছে এগুলি এক মাসে দাম বাড়ার হিসাব নয়।

খাদ্যপণ্য সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধি
পেঁয়াজ ১০৮.০৯%
আদা ৬২.৮৫%
রসুন ৫৪.৬২%
লেবু ৩৬.৪১%

সূত্র কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রকের CPI প্রকাশনা। এই পরিসংখ্যান দেশের সামগ্রিক মূল্যসূচকের পরিবর্তন দেখায়। কোনও নির্দিষ্ট দোকানে পেঁয়াজ বা রসুনের দাম কত টাকা হবে, তা এই হার থেকে সরাসরি জানা যায় না। স্থানীয় সরবরাহ, পণ্যের মান, পরিবহণ এবং বাজারভেদে ক্রেতার দেওয়া দাম আলাদা হতে পারে। পেঁয়াজ, আদা ও রসুন অনেক পরিবারের রান্নার নিয়মিত উপকরণ। ফলে এগুলির দাম বাড়লে অল্প অল্প করে দৈনিক খরচ বেড়ে যেতে পারে। একটি দিনের বাজারে সেই পরিবর্তন ছোট মনে হলেও মাসের শেষে তার মোট প্রভাব বোঝা যায়। বিশেষ করে নির্দিষ্ট আয়ের পরিবারগুলিকে একই বাজেটের মধ্যে কেনাকাটার পরিমাণ বা অন্য খাতের ব্যয় সামলাতে হতে পারে।

news image
আরও খবর

সব খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে কি সরকারি তথ্য বলছে, সব পণ্যের ক্ষেত্রে একই চিত্র নেই। সেপ্টেম্বরের বার্ষিক হিসাবে আলুর মূল্যস্ফীতি ছিল মাইনাস ১১.৫০ শতাংশ, টমেটোর মাইনাস ৮.৬২ শতাংশ এবং ঢ্যাঁড়সের মাইনাস ৪.৪৮ শতাংশ। অর্থাৎ এই পণ্যগুলির সর্বভারতীয় সূচক আগের বছরের একই মাসের তুলনায় নিচে ছিল। এখানেও তুলনার সময়কাল মনে রাখা জরুরি। আগের বছরের তুলনায় দাম কম থাকা এবং আগের মাসের তুলনায় দাম কম থাকা এক বিষয় নয়। একটি পণ্য গত বছরের তুলনায় সস্তা হলেও সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে স্থানীয় বাজারে তার দাম বাড়তে পারে। তাই সরকারি বার্ষিক হার এবং নিজের এলাকার বর্তমান বাজারদর একসঙ্গে বিবেচনা করলে পরিস্থিতি বেশি স্পষ্ট হয়। মুদ্রাস্ফীতি কীভাবে সংসারের বাজেটে প্রভাব ফেলে মুদ্রাস্ফীতি বোঝায় নির্দিষ্ট পণ্য ও পরিষেবার একটি ঝুড়ির সামগ্রিক মূল্য কতটা পরিবর্তিত হয়েছে। এই ঝুড়িতে প্রতিটি পণ্যের গুরুত্ব বা ওজন সমান নয়। ফলে কোনও একটি পণ্যের দাম খুব বেশি বাড়লেও সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির হার সেই একই শতাংশে পৌঁছায় না। পরিবারের ক্ষেত্রেও একই যুক্তি প্রযোজ্য। যে পরিবার আয়ের বড় অংশ খাবারের পিছনে ব্যয় করে, খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি তাদের বাজেটে বেশি চাপ তৈরি করতে পারে। অন্য পরিবারে বাড়িভাড়া, যাতায়াত বা শিক্ষার খরচের গুরুত্ব বেশি হতে পারে। জাতীয় গড় তাই অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্র দেয়, কিন্তু প্রত্যেক পরিবারের অভিজ্ঞতা হুবহু প্রকাশ করে না। একটি কাল্পনিক উদাহরণে বিষয়টি বোঝা যায়। কোনও পরিবারের নির্দিষ্ট বাজারের ঝুড়ির খরচ আগে মাসে ১০,০০০ টাকা ছিল। একই পরিমাণ ও মানের জিনিস কিনতে এখন যদি ১০,৮০০ টাকা লাগে, তবে সেই পরিবারের ওই ঝুড়ির খরচ ৮ শতাংশ বেড়েছে। এটি শুধু ব্যাখ্যার উদাহরণ সরকারি মুদ্রাস্ফীতির হার বা কোনও বাস্তব পরিবারের হিসাব নয়। আয় একই থাকলে বাড়তি বাজারখরচ অন্য প্রয়োজনের জন্য রাখা টাকা কমিয়ে দিতে পারে। পরিবারকে তখন কেনাকাটার অগ্রাধিকার নতুন করে ঠিক করতে হয়। এই কারণেই খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ে মানুষের উদ্বেগ শুধু বাজারে সীমাবদ্ধ থাকে না; মাসের মোট বাজেটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। খুচরো ও পাইকারি মুদ্রাস্ফীতি আলাদা মুদ্রাস্ফীতির খবর পড়ার সময় CPI ও WPI-র পার্থক্য জানা প্রয়োজন। CPI মূলত ভোক্তা পর্যায়ের পণ্য ও পরিষেবার মূল্যপরিবর্তন মাপে। WPI পাইকারি পর্যায়ের পণ্যের মূল্যপরিবর্তন দেখায়। দুটি সূচকের পণ্যসমষ্টি ও হিসাব আলাদা হওয়ায় তাদের হারও আলাদা হতে পারে। ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত তথ্য নিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের পাইকারি মুদ্রাস্ফীতি ছিল ১১.৩৯ শতাংশ, আগস্টে যা ছিল ৯.৯২ শতাংশ। এটি ২০২২–২৩ ভিত্তিবর্ষের নতুন WPI সিরিজের সর্বোচ্চ হার। এই সংখ্যাকে খুচরো মুদ্রাস্ফীতির ৫.৫৪ শতাংশের সঙ্গে এক করে দেখা যাবে না।

পাইকারি খরচ বাড়লে ব্যবসার উপর চাপ তৈরি হতে পারে। তবে সেই বাড়তি খরচ কতটা খুচরো দামে যাবে, তা মজুত, প্রতিযোগিতা, চাহিদা এবং ব্যবসার নিজস্ব সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে। তাই পাইকারি মুদ্রাস্ফীতির হার দেখে প্রতিটি দোকানের দাম একই হারে বাড়বে এমন পূর্বাভাস দেওয়া যায় না। বাজারের খরচ বুঝতে নিজের হিসাবও জরুরি পরিবারের খরচে পরিবর্তন বোঝার একটি উপায় হল নিয়মিত কেনা জিনিসের পরিমাণ ও দাম লিখে রাখা। শুধু মোট বিল দেখলে খরচ কেন বাড়ল, তা সব সময় বোঝা যায় না। বেশি পরিমাণ কেনা হয়েছে, পণ্যের মান বদলেছে, নাকি একই জিনিসের দাম বেড়েছে আলাদা হিসাব রাখলে এই পার্থক্য ধরা পড়ে। প্যাকেটজাত পণ্যের ক্ষেত্রেও শুধু প্যাকেটের দাম নয়, ওজন বা পরিমাণ দেখা প্রয়োজন। একই দামে ছোট প্যাকেট কিনলে প্রতি কেজি বা প্রতি লিটারের খরচ বেড়ে যেতে পারে। আবার বড় প্যাকেটের প্রতি ইউনিট দাম কম হলেও প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিনে নষ্ট হলে সাশ্রয় হয় না। সেপ্টেম্বরের পরিসংখ্যান খাদ্যপণ্যে মূল্যবৃদ্ধির চাপ দেখাচ্ছে, তবে বাজারের চিত্র সব পণ্যে সমান নয়। তাই নির্দিষ্ট সময়কাল সূচকের ধরন এবং স্থানীয় বাজারদর বুঝে খবরটি পড়া প্রয়োজন। সংসারের বাজেটের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিসংখ্যানের পাশাপাশি নিজের নিয়মিত কেনাকাটার হিসাবই প্রকৃত পরিবর্তন বুঝতে সবচেয়ে সরাসরি সাহায্য করবে।সব খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে কি সরকারি তথ্য বলছে, সব পণ্যের ক্ষেত্রে একই চিত্র নেই। সেপ্টেম্বরের বার্ষিক হিসাবে আলুর মূল্যস্ফীতি ছিল মাইনাস ১১.৫০ শতাংশ, টমেটোর মাইনাস ৮.৬২ শতাংশ এবং ঢ্যাঁড়সের মাইনাস ৪.৪৮ শতাংশ। অর্থাৎ এই পণ্যগুলির সর্বভারতীয় সূচক আগের বছরের একই মাসের তুলনায় নিচে ছিল। এখানেও তুলনার সময়কাল মনে রাখা জরুরি। আগের বছরের তুলনায় দাম কম থাকা এবং আগের মাসের তুলনায় দাম কম থাকা এক বিষয় নয়। একটি পণ্য গত বছরের তুলনায় সস্তা হলেও সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে স্থানীয় বাজারে তার দাম বাড়তে পারে। তাই সরকারি বার্ষিক হার এবং নিজের এলাকার বর্তমান বাজারদর একসঙ্গে বিবেচনা করলে পরিস্থিতি বেশি স্পষ্ট হয়। মুদ্রাস্ফীতি কীভাবে সংসারের বাজেটে প্রভাব ফেলে মুদ্রাস্ফীতি বোঝায় নির্দিষ্ট পণ্য ও পরিষেবার একটি ঝুড়ির সামগ্রিক মূল্য কতটা পরিবর্তিত হয়েছে। এই ঝুড়িতে প্রতিটি পণ্যের গুরুত্ব বা ওজন সমান নয়। ফলে কোনও একটি পণ্যের দাম খুব বেশি বাড়লেও সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির হার সেই একই শতাংশে পৌঁছায় না। পরিবারের ক্ষেত্রেও একই যুক্তি প্রযোজ্য। যে পরিবার আয়ের বড় অংশ খাবারের পিছনে ব্যয় করে, খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি তাদের বাজেটে বেশি চাপ তৈরি করতে পারে। অন্য পরিবারে বাড়িভাড়া, যাতায়াত বা শিক্ষার খরচের গুরুত্ব বেশি হতে পারে। জাতীয় গড় তাই অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্র দেয়, কিন্তু প্রত্যেক পরিবারের অভিজ্ঞতা হুবহু প্রকাশ করে না। একটি কাল্পনিক উদাহরণে বিষয়টি বোঝা যায়। কোনও পরিবারের নির্দিষ্ট বাজারের ঝুড়ির খরচ আগে মাসে ১০,০০০ টাকা ছিল। একই পরিমাণ ও মানের জিনিস কিনতে এখন যদি ১০,৮০০ টাকা লাগে, তবে সেই পরিবারের ওই ঝুড়ির খরচ ৮ শতাংশ বেড়েছে। এটি শুধু ব্যাখ্যার উদাহরণ সরকারি মুদ্রাস্ফীতির হার বা কোনও বাস্তব পরিবারের হিসাব নয়। আয় একই থাকলে বাড়তি বাজারখরচ অন্য প্রয়োজনের জন্য রাখা টাকা কমিয়ে দিতে পারে। পরিবারকে তখন কেনাকাটার অগ্রাধিকার নতুন করে ঠিক করতে হয়। এই কারণেই খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ে মানুষের উদ্বেগ শুধু বাজারে সীমাবদ্ধ থাকে না; মাসের মোট বাজেটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। খুচরো ও পাইকারি মুদ্রাস্ফীতি আলাদা মুদ্রাস্ফীতির খবর পড়ার সময় CPI ও WPI-র পার্থক্য জানা প্রয়োজন। CPI মূলত ভোক্তা পর্যায়ের পণ্য ও পরিষেবার মূল্যপরিবর্তন মাপে।

Preview image