Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ওজন বেড়ে যাওয়ায় ক্যাটরিনাকে ট্রোলিং কড়া সমালোচনা করে পাশে দাঁড়ালেন রিচা চড্ডা

ওজন বেড়ে যাওয়ায় ক্যাটরিনা কাইফকে নিয়ে ট্রোলিংয়ের কড়া সমালোচনা করলেন রিচা চড্ডা অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে শরীরের গঠন বা ওজন নিয়ে বিদ্রূপ করার মানসিকতার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তিনি এই ঘটনায় ফের আলোচনায় উঠে এসেছে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন ও চেহারা নিয়ে অযাচিত মন্তব্য এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বডি শেমিংয়ের প্রবণতা

মাতৃত্বের পর ক্যাটরিনা কাইফের চেহারা ও ওজন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষের ঘটনায় সরব হলেন অভিনেত্রী রিচা চড্ডা। নারী তারকাদের শরীর নিয়ে অনবরত মন্তব্য এবং তাঁদের পুরনো ছবির সঙ্গে বর্তমান চেহারার তুলনা করার প্রবণতার কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে ব্যক্তিগত মর্যাদা, মাতৃত্ব এবং পেশাগত জীবনের প্রতি সম্মান দেখানোর প্রয়োজনীয়তা। ক্যাটরিনাকে ঘিরে সাম্প্রতিক আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে মাতৃত্বের পর তাঁর প্রকাশ্যে আসার ছবি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই ছবি নিয়ে কিছু সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী তাঁর চেহারার পরিবর্তনকে বিদ্রূপের বিষয় করেছেন। কেউ পুরনো ও নতুন ছবি পাশাপাশি রেখে তুলনা করেছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, তিনি আগের চেহারায় ফিরেছেন কি না। এমন মন্তব্যের বিরুদ্ধেই নিজের অবস্থান জানিয়েছেন রিচা। নারী তারকাদের শরীর নিয়ে বিচার করার বিরুদ্ধে রিচা রিচার বক্তব্য অনুযায়ী কোনও মহিলারই নিজের শরীর সম্পর্কে অন্যের অযাচিত মন্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়। মাতৃত্ব এবং কর্মজীবন একসঙ্গে সামলানো অভিনেত্রীদের প্রসঙ্গে তিনি মাধুরী দীক্ষিত, জুহি চাওলা, রানি মুখোপাধ্যায় ও সোনালি বেন্দ্রের উদাহরণ দিয়েছেন। তাঁর মতে, চলচ্চিত্র জগতে তাঁদের প্রতি সম্মান রয়েছে এই ধরনের কটাক্ষের জন্য তিনি মূলত সোশ্যাল মিডিয়ার বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যকারীদের দায়ী করেছেন। এটি রিচার নিজস্ব মূল্যায়ন। এই আলোচনায় কাজের মূল্যায়ন এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের পার্থক্যটি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। কোনও অভিনেত্রীর অভিনয়, চরিত্র নির্বাচন বা ছবির বিষয়ে দর্শকের মতামত থাকতে পারে। কিন্তু তাঁর শরীর নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য সেই আলোচনাকে ব্যক্তিগত বিদ্রূপের দিকে নিয়ে যায়। ক্যাটরিনাকে ঘিরে বিতর্ক এই সীমারেখা নিয়েই নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। পরিচয় গোপন রেখে কটাক্ষ প্রশ্ন তুললেন অভিনেত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয় আড়াল করার সুযোগ বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যকারীদের উৎসাহিত করছে বলে মনে করেন রিচা। ক্যাটরিনা ও ঐশ্বর্যা রাইয়ের মতো অভিনেত্রীদের নিয়ে কটাক্ষের প্রসঙ্গ তুলে তিনি ট্রোলারদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। পাশাপাশি, এই ধরনের মন্তব্যকে সংবাদমাধ্যম ও জনপরিসরে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন আছে কি না সেই প্রশ্নও তুলেছেন। তাঁর অবস্থান, অপমানজনক মন্তব্যকারীদের উপেক্ষা করা উচিত। এই বক্তব্যের সূত্র ধরে একটি সম্পাদকীয় প্রশ্নও সামনে আসে ট্রোলিংয়ের খবর প্রকাশ করতে গিয়ে অপমানজনক মন্তব্যগুলি বারবার তুলে ধরলে কি সেগুলিই আরও প্রচার পায় ঘটনাটি জানানো প্রয়োজন হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মর্যাদা বজায় রেখে তা উপস্থাপন করা সমান জরুরি। বিশেষত, চেহারার তুলনামূলক ছবি বা বিদ্রূপকে বিনোদন হিসেবে তুলে ধরার আগে তার উদ্দেশ্য নিয়ে ভাবা দরকার। নিজের আত্মমর্যাদা নিয়ে ক্যাটরিনার বার্তা ক্যাটরিনাও সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন মন্তব্যের প্রভাব নিয়ে নিজের ভাবনা জানিয়েছেন। লন্ডনে তাঁর প্রসাধনী ব্র্যান্ড ‘কে বিউটি’-র অনুষ্ঠানে তিনি আত্মবিশ্বাস এবং নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতার কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যের মূল কথা, সোশ্যাল মিডিয়ায় অসংখ্য মানুষের মতামত রয়েছে; প্রত্যেককে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করলে নিজের পছন্দ ও সিদ্ধান্তের জায়গা সংকুচিত হতে পারে। নেতিবাচক মন্তব্যকে নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রক হতে দিতে চান না ক্যাটরিনা। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি জানিয়েছেন, অন্যের সমালোচনাকে প্রতিটি পদক্ষেপের ভিত্তি করলে ভয় তাঁকে এগিয়ে যেতে বাধা দিত। তাই বাইরের মতামতের ভিড়ে নিজের উপর বিশ্বাস ধরে রাখার কথাই বলেছেন অভিনেত্রী।

ক্যাটরিনার এই বক্তব্যকে আত্মস্বীকৃতির বার্তা হিসেবেও দেখা যায়। মানুষের জীবনে পরিবর্তন আসে, অগ্রাধিকার বদলায় এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিজেকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিও পরিবর্তিত হতে পারে। একজন তারকার ক্ষেত্রেও সেই ব্যক্তিগত জায়গাটুকু সম্মানের দাবি রাখে। জনপ্রিয়তা কাউকে তাঁর শরীর সম্পর্কে প্রতিটি মন্তব্যের উত্তর দিতে বাধ্য করে না। চেহারার বাইরে কাজ ও পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন এই ঘটনার সামাজিক তাৎপর্য শুধু দুই অভিনেত্রীর বক্তব্যে সীমাবদ্ধ নয়। নারী তারকাদের সম্পর্কে আলোচনায় তাঁদের কাজের পাশাপাশি চেহারা বারবার প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে। নতুন ছবি প্রকাশ পেলেই কখনও ওজন, কখনও বয়সের ছাপ, কখনও সাজপোশাক নিয়ে বিচার শুরু হয়। এমন আলোচনায় ব্যক্তি হিসেবে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও পেশাগত পরিচয় আড়ালে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। কোনও ছবি দেখে কারও স্বাস্থ্য, জীবনযাপন বা ব্যক্তিগত পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোও যথাযথ নয়। ক্যাটরিনার ক্ষেত্রেও তাঁর শরীরের পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে অনুমান ছড়ানোর পরিবর্তে তাঁর প্রকাশিত বক্তব্য এবং কাজকে গুরুত্ব দেওয়া বেশি দায়িত্বশীল আচরণ। রিচার প্রতিবাদের মধ্যে সহকর্মীর পাশে দাঁড়ানোর বার্তা রয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাটরিনার বক্তব্য মনে করিয়ে দেয়, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রশংসা কিংবা সমালোচনা দিয়ে ব্যক্তিগত মূল্য নির্ধারণ করা উচিত নয়। কাউকে সম্মান করার জন্য তাঁর কোনও নির্দিষ্ট চেহারায় ফিরে আসার অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। শরীরের গঠন যেমনই হোক, ব্যক্তিগত মর্যাদা ও সম্মান পাওয়ার অধিকার অটুট থাকে।

news image
আরও খবর

ক্যাটরিনা কাইফের বক্তব্যকে আত্মস্বীকৃতি এবং নিজের সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থা রাখার বার্তা হিসেবে দেখা যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যের মতামত যত সহজে সামনে আসে, সেই মতামতের ভিড়ে নিজের চাওয়া ও অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া ততটাই প্রয়োজন। একজন মানুষ কীভাবে জীবন কাটাবেন, কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দেবেন কিংবা নিজের পরিবর্তনকে কীভাবে গ্রহণ করবেন, তা তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে জড়িত। জনপ্রিয়তা সেই ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বা সম্মানের অধিকার কমিয়ে দেয় না। মানুষের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে একই ধরনের অগ্রাধিকার থাকে না। কর্মজীবন, পরিবার, সম্পর্ক এবং নতুন দায়িত্বের সঙ্গে সময়ের ব্যবহার ও নিজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাতে পারে। অতীতের কোনও ছবিকে মাপকাঠি ধরে বর্তমানের একজন মানুষকে বিচার করলে এই পরিবর্তনের জায়গাগুলি উপেক্ষিত হয়। ক্যাটরিনাকে ঘিরে আলোচনার ক্ষেত্রেও তাই তাঁর আগের চেহারার সঙ্গে বর্তমান চেহারা মেলানোর চেয়ে তাঁর নিজের বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তারকাদের ছবি ও ভিডিও জনসমক্ষে আসে বলে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কৌতূহল থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে কৌতূহল প্রকাশের মধ্যেও সংবেদনশীলতা থাকা দরকার। কোনও অভিনেত্রীর নতুন কাজ, অভিনয় বা পেশাগত সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করা যায়। তাঁর শরীর নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করলে সেই আলোচনা ব্যক্তিগত আক্রমণে পরিণত হয়। দর্শকের মত প্রকাশের সুযোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মর্যাদার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা উচিত। নারী তারকাদের সম্পর্কে আলোচনা অনেক সময় তাঁদের কাজ থেকে সরে গিয়ে চেহারায় আটকে থাকে। কোনও ছবি প্রকাশ পেলেই ওজন, বয়সের ছাপ কিংবা সাজপোশাক নিয়ে তুলনা শুরু হয়। এতে একজন অভিনেত্রীর দীর্ঘ প্রস্তুতি, অভিনয়ের দক্ষতা, সৃজনশীল সিদ্ধান্ত এবং পেশাগত অবদান আড়ালে চলে যেতে পারে। একজন শিল্পীকে বুঝতে হলে তাঁর পরিচয়ের এই দিকগুলিও সমান মনোযোগ দাবি করে। একটি ছবি কোনও মানুষের সম্পূর্ণ জীবনের বিবরণ দেয় না। ছবিতে ধরা পড়া একটি মুহূর্ত থেকে তাঁর স্বাস্থ্য, খাদ্যাভ্যাস, মানসিক অবস্থা বা দৈনন্দিন জীবন সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। ক্যাটরিনার ক্ষেত্রেও শরীরের পরিবর্তন নিয়ে অনুমান ছড়ানোর পরিবর্তে তিনি প্রকাশ্যে যা জানিয়েছেন তার ভিত্তিতে আলোচনা করা বেশি দায়িত্বশীল। ব্যক্তিগত বিষয়ে তিনি যতটুকু জানাতে চান, সেই সীমাটুকুও সম্মান করা প্রয়োজন।

এই প্রেক্ষাপটে রিচা চড্ডার প্রতিবাদকে সহকর্মীর মর্যাদার পক্ষে অবস্থান হিসেবে দেখা যায়। তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ দিক হল নারী তারকাদের শরীর নিয়ে কটাক্ষকে স্বাভাবিক বিনোদন হিসেবে গ্রহণ করা উচিত কি না। অন্যের চেহারা নিয়ে বিদ্রূপকে হাসির বিষয় করে তুললে অপমানজনক আচরণ আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। প্রতিবাদ সেই অভ্যাস নিয়ে ভাবার সুযোগ তৈরি করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করার আগে ভাষা ও উদ্দেশ্য বিবেচনা করা জরুরি। কোনও মন্তব্য কি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাজ নিয়ে মতামত জানাচ্ছে, নাকি শুধু তাঁকে ছোট করছে এই পার্থক্য বোঝা প্রয়োজন। পরিচয় গোপন থাকলেও মন্তব্যের প্রভাব মুছে যায় না। অনলাইনে যাঁর ছবি দেখা যাচ্ছে, তিনিও বাস্তব জীবনের একজন মানুষ তাঁর পরিবার, অনুভূতি এবং ব্যক্তিগত পরিসর রয়েছে। সংবাদমাধ্যম ও বিনোদনমূলক পেজগুলির উপস্থাপনাও এই আলোচনায় ভূমিকা রাখে। ট্রোলিংয়ের ঘটনা জানাতে গিয়ে অপমানজনক মন্তব্য বারবার প্রচার করা কিংবা পুরনো ও নতুন ছবি দিয়ে চেহারার প্রতিযোগিতা তৈরি করলে মূল বিষয়টি হারিয়ে যেতে পারে। তার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য, কাজ এবং মর্যাদার প্রশ্নকে সামনে রাখলে পাঠক ঘটনাটির তাৎপর্য আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেন।

Preview image