Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

রিলের বাইরে রিয়েল ড্রামা জীতু দিতিপ্রিয়ার উত্তেজনা প্রকাশ্যে

সমস্যা যতই জটিল হোক  সবাই চাইছেন শান্তিপূর্ণ সমাধান। কারণ বিশ্বাস একটাই পৃথিবীতে এমন কোনও সংকট নেই যার মিটমাটের পথ খুঁজে পাওয়া যায় না

টলিউডে সম্পর্কের টানাপোড়েন জীতু দিতিপ্রিয়া বিতর্কের আড়ালে পেশাদুনিয়ার বাস্তব ছবি

টলিউডে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় জীতু কমল ও দিতিপ্রিয়া রায়ের মধ্যে চলা দ্বন্দ্ব। দুই জনপ্রিয় মুখের ব্যক্তিগত মনোমালিন্য প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে টেলিপাড়া জুড়ে। তবে এই ঘটনাকে অনেকেই বলছেন “উপলক্ষ মাত্র” কারণ এর গভীরে আছে এক বৃহত্তর, দীর্ঘদিনের চাপা সমস্যা। সেটাই হল কোনও গ্ল্যামারহীন, তবু অবধারিত প্রতিযোগিতানির্ভর পেশাদুনিয়ার কালো দিক যেখানে প্রতিদিনই নিজের দক্ষতা প্রমাণের তাগিদ, সহকর্মীদের মধ্যে হিমশিম প্রতিযোগিতা, এবং শুটিং ফ্লোরে অদৃশ্য মানসিক চাপ।

আজকের ডিজিটাল যুগে কোনও খবর চেপে রাখা যায় না। এক মুহূর্তে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সমাজমাধ্যম। সেই উসকানিতে ব্যক্তিগত কলহ মুহূর্তেই “ট্রেন্ডিং” হয়ে ওঠে। জীতু–দিতিপ্রিয়ার মনোমালিন্যও সেই পথে যা হয়তো অন্য কোনও প্রযুক্তিনির্ভর পেশায় হলে বিশেষ আলোড়ন তুলত না। কিন্তু বিনোদন দুনিয়া গ্ল্যামারসজ্জিত। ক্যামেরা তাদের কাজের অঙ্গ হলেও, ব্যক্তিগত আবেগও ক্যামেরাতেই বন্দী হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। তাই এই ঘটনা আজ জনমুখে, মিডিয়ার আলোচনার কেন্দ্রে।

কিন্তু এই ঝড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে টলিউডের বহু খ্যাতনামী শিল্পী ও প্রযুক্তিবিদ একটাই কথা বলছেন
“মিটমাট হওয়াই কাম্য। কোনও সমস্যারই স্থায়ী অমীমাংসিত সমাধান নেই।”


গ্ল্যামারের আড়ালে প্রতিযোগিতা ও অসূয়া পেশাদুনিয়ার বাস্তবতা

যে কোনও প্রযুক্তিনির্ভর পেশাতেই প্রতিযোগিতা রয়েছে। কিন্তু সেখানে সাধারণত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে না কোনও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব। প্রোমোশন, টিম কনফ্লিক্ট  মতানৈক্য, কাজের চাপ সব ক্ষেত্রেই দেখা যায়। তবে সে খবর কফির কাপে ঝড় তুললেও মিডিয়ার পাতায় জায়গা পায় না। কিন্তু টলিউড আলাদা। এখানকার প্রতিটি নায়ক-নায়িকা, পরিচালক বা টেকনিশিয়ান সবারই আলাদা ফ্যানবেস রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ ট্রেন্ড হয়। এই পরিস্থিতিতে যে কোনও কলহ হয়ে ওঠে চর্চার কেন্দ্র।

এই কারণেই জীতু–দিতিপ্রিয়ার মনোমালিন্য ঘিরে ছড়িয়েছে নানা জল্পনা। কেউ বলছেন ধারাবাহিক বন্ধ হয়ে যেতে পারে, কেউ বলছেন চ্যানেল ও প্রযোজনা সংস্থা নাকি অতিষ্ঠ। এই গুঞ্জনগুলো টেলিপাড়ার অন্দরে প্রবলভাবে ঘুরছে। যদিও কোনও পক্ষই এ নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি।


 লীনা গঙ্গোপাধ্যায়: “দু’জন মিলেমিশে কাজ করুক এটাই কাম্য”

প্রখ্যাত কাহিনিকার ও চিত্রনাট্যকার লীনা গঙ্গোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রকৃত ঘটনা তিনি জানেন না। তবে তিনি এও বলেছেন
“সমস্যা সর্বত্র থাকে। যে কোনও পেশায় কলহের ছাপ কাজের ওপর পড়ে এখানে ঠিক সেটাই হচ্ছে।”

লীনার মতে, শুটিং ফ্লোরের পরিবেশ নষ্ট হলে তার প্রভাব পড়ে পুরো ইউনিটে। আর একটি ধারাবাহিক মানে কেবলমাত্র নায়ক-নায়িকা নয় টিমের সঙ্গে যুক্ত বহু টেকনিশিয়ান, মেকআপ আর্টিস্ট, লাইটম্যান, সাউন্ডম্যান সবারই রুজি-রুটি জড়িয়ে। তাই খারাপ পরিবেশ তৈরি হলে কাজের ধারাবাহিকতা ভেঙে যায়।

তিনি চান চ্যানেল কর্তৃপক্ষ বা প্রযোজনা সংস্থা প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ করুক। প্রয়োজনে আলোচনা হোক—আর দ্রুত সমাধান আসুক। তার কথায়
“মহিলা কমিশনে অভিযোগ জানানো হলে তখনই মন্তব্য করা সম্ভব। আপাতত দু’জনের মিলেমিশে কাজ করাই আমার কাম্য।”

স্বস্তিকা দত্ত: “ধারাবাহিক বন্ধ মানে বহু মানুষের রুজির টান”

আট বছর পর টেলিভিশনে প্রত্যাবর্তন করা অভিনেত্রী স্বস্তিকা দত্ত আরও বাস্তবধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি পেশ করেছেন। তাঁর মতে 
“ধারাবাহিক মানে শুধুই নায়ক-নায়িকা নয়; টেকনিশিয়ানদের নিয়মিত উপার্জনের মাধ্যম এটি। ধারাবাহিক বন্ধ মানে বহু মানুষের রোজগার থেমে যাওয়া।”

তাই সমস্যার সমাধান হওয়াটা অত্যন্ত প্রয়োজন। তিনি বিশ্বাস করেন মানুষ চাইলে সব সমাধান সম্ভব। সংঘাত যতই গভীর হোক, আলোচনার মাধ্যমে মিটমাট অসম্ভব নয়।


 অমিত দাস: “সমাজমাধ্যম অন্দরকাহিনি বাইরে এনে দিচ্ছে”

স্টার জলসায় সম্প্রচারিত ‘গৃহপ্রবেশ’ ধারাবাহিকের পরিচালক অমিত দাস জানিয়েছেন, তিনি কানাঘুষো শুনেছেন, কিন্তু বিস্তারিত জানেন না। তবে তিনি সমস্যার কারণ হিসেবে সমাজমাধ্যমকে দায়ী করেছেন।
“ঘরের ঘটনা বাইরে চলে আসছে। এতে পুরো টেলিপাড়া কালিমালিপ্ত হচ্ছে

তাঁর বক্তব্য—ছোটপর্দায় এমনিতেই ঘনিষ্ঠ দৃশ্য খুবই কম থাকে। তবু যদি নায়ক-নায়িকার মধ্যে এমন সমস্যা হয় যে একসঙ্গে অভিনয় করাই কঠিন হয়ে পড়ে—তবে সত্যিই বিপদের বিষয়।


 ইন্দ্রজিৎ বসু: “অনেক সময় একসঙ্গে বেশি সময় কাটালে মতান্তর হয়”

বর্তমানের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘আজকের পরশুরাম’-এর নায়ক ইন্দ্রজিৎ বসু মনে করেন বয়সের পার্থক্য কোনও সমস্যা নয়। তিনি বলেন
“ধ্রুবতারায় নায়িকার সঙ্গে আমার বয়সের ফারাক ছিল। তবু কোনও সমস্যা হয়নি।”

তাঁর মতে, শুটিং সেটে টানা একত্রে অনেক সময় কাটাতে হয়। সেখানে মতবিরোধ হওয়া স্বাভাবিক। তবে তা সমাধান করাও সম্ভব।

news image
আরও খবর

হেমা মুন্সি: “দিতিপ্রিয়াকে ছোটবেলা থেকে চিনি দেখে খারাপ লাগছে”

বিখ্যাত কেশসজ্জাশিল্পী হেমা মুন্সি দিতিপ্রিয়ার ছোটবেলা থেকে তাঁকে চেনেন। তাই এই ঘটনার অভিঘাত তাঁর কাছে ব্যক্তিগত।
“ও খুবই লক্ষ্মী মেয়ে। ওদের পরিবার খুব ঘরোয়া। অহংকার নেই প্রতিদিন সমাজমাধ্যমে এমন খবর দেখে খারাপ লাগে।

তিনি উপলব্ধি করছেন, টলিউডের বিস্তৃতি খুবই ছোট। সবাই মিলেমিশেই কাজ করেন। সেই জায়গায় ভাটার টান তৈরি হওয়া ভালো লক্ষণ নয়।

টেলিপাড়ার অন্দরমহলে আসলে কী ঘটছে?

বিনোদন জগত সবসময়ই ঝলমলে। কিন্তু সেই উজ্জ্বলতার পেছনে থাকে কঠোর পরিশ্রম, নিয়মিত চাপ, রেটিংয়ের লড়াই, দর্শকের প্রত্যাশা এবং চ্যানেলের চাহিদা
শিল্পী–প্রযুক্তিবিদদের অনেকেই মানসিকভাবে যথেষ্ট চাপের মুখে থাকেন। কোনও কারণে সম্পর্কের টানাপোড়েন হলে কাজের গতি কমে যায়, শুটিং পরিবেশ নষ্ট হয়, আর তার আঁচ এসে পড়ে পুরো টিমের উপর।

জীতু দিতিপ্রিয়ার ঘটনা সেই বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি।
যেখানে দুই শিল্পীর ব্যক্তিগত মতবিরোধ একসময়ে পুরো ইউনিটকে প্রভাবিত করতে পারে।

এই তো কয়েক সপ্তাহ আগেও টলিউডে এমন ঘটনা ঘটেছে নাম প্রকাশ্যে না এলেও জানা গেছে, তাও মিটমাট হয়েছে। তাই শিল্পীমহলের আশা এ ঘটনায়ও সমাধান হবে।


সমাজমাধ্যম: সমস্যাকে উসকে দেওয়া নাকি সমাধান বাধাগ্রস্ত করা?

যা আগে “অন্দরের সমস্যা” ছিল, এখন তা বাইরে চলে আসে কয়েক সেকেন্ডে। কারও ব্যক্তিগত কথোপকথন, রাগ, ক্ষোভ বা মনোমালিন্য সবই কনটেন্ট হয়ে যায়। মানুষ তা শেয়ার করে, কমেন্ট করে, ভাইরাল করে। ফলে শিল্পীদের উপর চাপ আরও বেড়ে যায়।
সমস্যা যেটুকু ছিল, সেটি বেড়ে হয়ে ওঠে তুফান।

বহু বিশেষজ্ঞ মনে করেন
সোশ্যাল মিডিয়া সমস্যার সমাধান নয়, বরং অনেক সময় সমস্যাকে জটিল করে তোলে।


টলিউডে কলহ নতুন কিছু নয় সমাধানও নতুন নয়

লীনা গঙ্গোপাধ্যায়, স্বস্তিকা দত্ত, অমিত দাস, ইন্দ্রজিৎ বসু সবারই বক্তব্য এক জায়গায় এসে মিলে যায়
এই ধরনের মনোমালিন্য টলিউডে নতুন নয়। যতবার হয়েছে, ততবারই মিটেও গেছে

শিল্পীদের মধ্যে মতভেদ থাকতেই পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাজই মুখ্য। কাজ চালিয়ে যেতে হলে সম্পর্ককে মধুর করা ছাড়া পথ নেই

সবাইয়ের আর্জি মিটে যাক সব, ভালো থাকুক টেলিপাড়া

এই মুহূর্তে টলিউডের প্রত্যেকের একটাই আশা
জীতু–দিতিপ্রিয়ার সম্পর্কের তিক্ততা কাটুক
কারণ এই কলহ কেবল দুই শিল্পীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পুরো ইন্ডাস্ট্রির ভাবমূর্তি, কাজের পরিবেশ, এবং ভবিষ্যৎ ধারাবাহিকের স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে।

প্রত্যেকেই বিশ্বাস করেন
পৃথিবীতে এমন কোনও সমস্যা নেই যার সমাধান নেই
মানুষ চাইলে আলোচনার মাধ্যমে, ধৈর্য ও বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে সব সমস্যারই সমাধান সম্ভব।


 উপসংহার

জীতু–দিতিপ্রিয়ার দ্বন্দ্বের আড়ালে উঠে এসেছে টেলিপাড়ার বাস্তব চিত্রএকটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক, আবেগপ্রবণ এবং চাপযুক্ত পেশাদুনিয়া। ব্যক্তিগত মতানৈক্য যতই তীব্র হোক, শেষ পর্যন্ত সবার লক্ষ্য একটাই—ভালো কাজ, সুস্থ পরিবেশ এবং দর্শকের সন্তুষ্টি।

আজ সমস্যার কারণে টেলিভিশন দুনিয়া কিছুটা আলোড়িত হলেও, সময়ই বলে দেবে সমাধানের পথ।
যেমন টলিউডের প্রবীণরা বলছেন
“মিলেমিশেই কাজ করতে হয়। সমস্যার সমাধান আছে, শুধু চাই ইচ্ছাশক্তি।” আজকের এই বিতর্ক যতই তোলপাড় সৃষ্টি করুক, দিনের শেষে শিল্পী–প্রযুক্তিবিদ সবাই জানেন, ধারাবাহিক টিকে থাকে সবার যৌথ প্রচেষ্টায়। ব্যক্তিগত অভিমান বা ভুল বোঝাবুঝি যতই গভীর হোক, পেশাদারিত্বের জায়গায় দাঁড়িয়ে সমঝোতা করতেই হয়। দর্শকের প্রত্যাশা, চ্যানেলের চাপ, টিমের রুজি সব মিলিয়ে সমাধান খোঁজা ছাড়া অন্য পথ নেই। তাই আশাবাদী টেলিপাড়া জীতু ও দিতিপ্রিয়া নিশ্চয়ই আলোচনায় ফিরে আসবেন, সমস্যা কাটিয়ে আবারও একসঙ্গে কাজ করবেন। শেষ পর্যন্ত, সম্পর্কের টানাপোড়েন নয়, কাজই সবার পরিচয়।

Preview image