Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

সারা দেশে ডেটা সেন্টার গড়ার বড় পরিকল্পনা, নতুন উদ্যোগে চ্যাটার্জি গ্রুপ

চ্যাটার্জি গ্রুপের সংস্থা কর্টেক্স ডিসি সারা দেশে ২ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ডেটা সেন্টার গড়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যা দেশের ডিজিটাল পরিকাঠামোয় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

সারা দেশে ২ গিগাওয়াট ক্ষমতার ডেটা সেন্টার গড়ার পরিকল্পনা চ্যাটার্জি গ্রুপের, বড় ঘোষণা কর্টেক্স ডিসি-র

এআই, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং ডিজিটাল পরিষেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে সামনে রেখে ভারতের ডেটা সেন্টার পরিকাঠামোয় বড়সড় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে চ্যাটার্জি গোষ্ঠীর সংস্থা কর্টেক্স ডিসি। আগামী সাত বছরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মোট ২ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এআই-উপযোগী ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে সংস্থাটি। তবে এই প্রকল্পের আওতায় কোন কোন শহর বা রাজ্যে ডেটা সেন্টার তৈরি হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের কেন্দ্র গড়ে উঠবে কি না, তা নিয়েও আপাতত নির্দিষ্ট ঘোষণা নেই।

ভারতে ডেটা সেন্টার তৈরির বড় পরিকল্পনা

ভারতের প্রযুক্তি ও ডিজিটাল পরিষেবার বাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। অনলাইন পরিষেবা, ক্লাউড কম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), ডিজিটাল পেমেন্ট, ই-কমার্স এবং বিভিন্ন ধরনের ডেটাভিত্তিক ব্যবসার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উন্নত পরিকাঠামোর প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ডেটা সেন্টার শিল্পকে ঘিরে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে কর্টেক্স ডিসি-র ২ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ডেটা সেন্টার গড়ার পরিকল্পনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সংস্থাটির ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী, আগামী সাত বছরে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এআই-উপযোগী ডেটা সেন্টার তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে বাড়তে থাকা কম্পিউটিং ক্ষমতার চাহিদা মেটানোর জন্য পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে এখানে ২ গিগাওয়াট ক্ষমতার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি কোনও একটি ডেটা সেন্টারের ক্ষমতা নয়, বরং সংস্থার ঘোষিত সামগ্রিক পরিকল্পনার লক্ষ্য। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন স্থানে তৈরি হওয়া কেন্দ্রগুলির সম্মিলিত ক্ষমতা এই লক্ষ্যে পৌঁছনোর কথা।

বর্তমানে সংস্থার তরফে নির্দিষ্ট প্রকল্পের সংখ্যা, প্রতিটি কেন্দ্রের ক্ষমতা, জমির অবস্থান কিংবা মোট বিনিয়োগের পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এই পরিকল্পনার সম্পূর্ণ আর্থিক পরিসর এবং বাস্তবায়নের ধাপগুলি সম্পর্কে আরও তথ্যের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

কেন এআই-উপযোগী ডেটা সেন্টারের চাহিদা বাড়ছে?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার ফলে প্রযুক্তি শিল্পে ডেটা সেন্টারের গুরুত্ব আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। সাধারণ ওয়েবসাইট চালানো বা তথ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি এখন বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ, এআই মডেল প্রশিক্ষণ, ছবি ও ভিডিও তৈরি, ভাষাভিত্তিক প্রযুক্তি পরিচালনা এবং জটিল গণনার কাজেও শক্তিশালী কম্পিউটিং পরিকাঠামো প্রয়োজন হচ্ছে।

এআই-উপযোগী ডেটা সেন্টার এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সার্ভার, বিশেষ ধরনের প্রসেসর, দ্রুতগতির নেটওয়ার্ক এবং উন্নত কুলিং ব্যবস্থার সাহায্যে বড় আকারের গণনা করা যায়। এই ধরনের পরিকাঠামো এআই অ্যাপ্লিকেশন, ক্লাউড পরিষেবা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে, কোনও সংস্থা যদি নিজস্ব পরিকাঠামো তৈরি না করে ক্লাউডের মাধ্যমে সফটওয়্যার চালাতে চায়, তাহলে তার জন্য ডেটা সেন্টারের পরিষেবা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। একইভাবে, এআই-ভিত্তিক পরিষেবা পরিচালনা, বিপুল তথ্য সংরক্ষণ এবং দ্রুত তথ্য আদানপ্রদানের ক্ষেত্রেও এই পরিকাঠামোর ভূমিকা রয়েছে।

কর্টেক্স ডিসি-র পরিকল্পনায় এআই-উপযোগী ডেটা সেন্টারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, সংস্থার ঘোষিত লক্ষ্য কেবল সাধারণ ডেটা সংরক্ষণের পরিকাঠামো তৈরি করা নয়; বরং ভবিষ্যতের উন্নত কম্পিউটিং চাহিদা পূরণে সক্ষম কেন্দ্র গড়ে তোলাও এই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তবে প্রতিটি কেন্দ্রের প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য, সার্ভারের ধরন, বিদ্যুৎ ব্যবহারের নির্দিষ্ট পরিমাণ এবং পরিষেবার কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।

সাত বছরের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য

কর্টেক্স ডিসি আগামী সাত বছরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ২ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ডেটা সেন্টার পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে। এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একাধিক পর্যায়ে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

ডেটা সেন্টার তৈরি করা সাধারণ বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের মতো নয়। এর জন্য উপযুক্ত জমি, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ, উচ্চগতির টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা, উন্নত কুলিং প্রযুক্তি এবং সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা প্রয়োজন হয়।

এই ধরনের প্রকল্পের ক্ষেত্রে জমির অবস্থান নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এমন জায়গা বেছে নিতে হয়, যেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহের পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে এবং যোগাযোগের পরিকাঠামো উন্নত। পাশাপাশি জমির ব্যবহার সংক্রান্ত অনুমোদন, নির্মাণের নিয়ম, পরিবেশগত বিষয় এবং স্থানীয় পরিকাঠামোর উপযুক্ততাও বিবেচনা করতে হয়।

সংস্থার এক আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, জমি নির্বাচন, বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রস্তুতি অনেকটাই এগিয়েছে। যদিও নির্দিষ্ট প্রকল্পগুলির অবস্থান এখনও চূড়ান্ত হয়নি, দ্রুত নির্মাণের মাধ্যমে বাজারের চাহিদা পূরণের লক্ষ্য রয়েছে।

এই প্রস্তুতি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক ধাপগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। তবে পরিকল্পনার প্রতিটি পর্যায়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা বজায় রাখা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া এবং পরিকাঠামো প্রস্তুত করার মতো বিষয়গুলির উপর প্রকল্পের অগ্রগতি নির্ভর করবে।

প্রথম ডেটা সেন্টার চালু করার সময়সীমা কত?

কর্টেক্স ডিসি-র পরিকল্পনার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল প্রথম কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পরে ১৮ মাসের মধ্যে সেটিকে পরিষেবা দেওয়ার উপযোগী করে তোলার লক্ষ্য। অর্থাৎ, নির্মাণকাজ শুরু হলে তুলনামূলকভাবে দ্রুত প্রথম কেন্দ্র চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থার।

তবে এই সময়সীমা নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকে গণনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রকল্পের নির্দিষ্ট অবস্থান, নির্মাণ শুরুর তারিখ কিংবা পরিষেবা চালুর চূড়ান্ত দিন এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

ডেটা সেন্টারের নির্মাণকাজের সঙ্গে একাধিক প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা যুক্ত থাকে। ভবন তৈরি করার পাশাপাশি সার্ভার স্থাপন, বিদ্যুৎ সরবরাহের নিরবচ্ছিন্ন ব্যবস্থা, ব্যাকআপ পাওয়ার, কুলিং, নেটওয়ার্ক সংযোগ এবং তথ্য সুরক্ষার পরিকাঠামো প্রস্তুত করতে হয়।

এ ছাড়া পরিষেবা চালু করার আগে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি। গ্রাহকদের তথ্য ও অ্যাপ্লিকেশন পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখাও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

এই সমস্ত কাজ পরিকল্পনামাফিক এগোলে প্রথম কেন্দ্রটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চালু করার লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হতে পারে। তবে নির্মাণের বাস্তব অগ্রগতি এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাবে না।

বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

ডেটা সেন্টার শিল্পে বিদ্যুৎ অন্যতম প্রধান পরিকাঠামোগত বিষয়। সার্ভার, নেটওয়ার্কিং সরঞ্জাম, কুলিং ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা পরিকাঠামো পরিচালনার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রয়োজন।

বিশেষ করে এআই-উপযোগী ডেটা সেন্টারে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং সরঞ্জাম ব্যবহৃত হতে পারে। ফলে বিদ্যুতের চাহিদা এবং তাপ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে পরিষেবার কার্যক্ষমতা প্রভাবিত হতে পারে। তাই এই ধরনের কেন্দ্রে সাধারণত বিদ্যুতের নির্ভরযোগ্যতা এবং বিকল্প সরবরাহের ব্যবস্থা গুরুত্ব পায়।

কর্টেক্স ডিসি-র ক্ষেত্রেও বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা তৈরির বিষয়টি প্রাথমিক প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংস্থাটি কোন বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করবে, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ব্যবহারের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে কি না, কিংবা প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য কত বিদ্যুৎ প্রয়োজন হবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

ভবিষ্যতে এই বিষয়গুলির বিস্তারিত জানা গেলে প্রকল্পের প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত কাঠামো সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

পশ্চিমবঙ্গে কি ডেটা সেন্টার তৈরি করবে চ্যাটার্জি গ্রুপ?

কর্টেক্স ডিসি-র এই ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও প্রযুক্তি পরিকাঠামো নিয়েও নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। কারণ, সম্প্রতি রাজ্যে ফেনল-অ্যাসিটোন কারখানার উদ্বোধনের সময় চ্যাটার্জি গোষ্ঠীর কর্ণধার পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় এআই, ডেটা সেন্টার, রোবটিক্স এবং কোয়ান্টাম প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রগুলিকে বিশ্ব অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ মুনাফার ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

তাঁর বক্তব্যে এই ধরনের প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রগুলিতে রাজ্যের অংশগ্রহণের গুরুত্ব উঠে এসেছিল। সেই প্রসঙ্গে রাজ্যে ডেটা সেন্টার গড়ার আহ্বানও জানানো হয়েছিল বলে প্রকাশিত বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে কর্টেক্স ডিসি-র দেশজুড়ে ডেটা সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণার পরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, পশ্চিমবঙ্গ কি এই প্রকল্পের সম্ভাব্য গন্তব্যগুলির মধ্যে থাকবে?

বর্তমানে এই প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি। সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশের কোন কোন অঞ্চলে ডেটা সেন্টার তৈরি হবে, তা এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। ফলে পশ্চিমবঙ্গের কোনও শহরে প্রকল্প গড়ে ওঠার বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

তবে রাজ্যে ডেটা সেন্টার তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হলে জমির উপযুক্ততা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, উন্নত ইন্টারনেট সংযোগ, শিল্প পরিকাঠামো এবং দক্ষ কর্মীর প্রাপ্যতার মতো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

কোনও নির্দিষ্ট প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে আসবে কি না, তা নির্ভর করবে সংস্থার বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত, পরিকাঠামোগত মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের উপর। তাই আপাতত রাজ্যে কেন্দ্র তৈরির সম্ভাবনাকে নিশ্চিত ঘোষণা হিসেবে না দেখে ভবিষ্যতের একটি অনিষ্পন্ন বিষয় হিসেবেই দেখা উচিত।

news image
আরও খবর

ডেটা সেন্টার শিল্পে বিনিয়োগের সম্ভাবনা

ডেটা সেন্টার শিল্পের বিকাশ শুধু প্রযুক্তি সংস্থার জন্য নয়, সংশ্লিষ্ট একাধিক ক্ষেত্রের জন্যও ব্যবসার সুযোগ তৈরি করতে পারে। একটি বড় ডেটা সেন্টার প্রকল্পের সঙ্গে নির্মাণ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, কুলিং ব্যবস্থা, নেটওয়ার্কিং, নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত পরিষেবার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্র যুক্ত থাকে।

এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্মাণ সংস্থা, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী, প্রযুক্তি পরিষেবা প্রদানকারী এবং অন্যান্য পরিকাঠামো সংস্থার কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কেন্দ্র চালু হওয়ার পরেও রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত পরিচালনার জন্য কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি প্রকল্পে বিপুল সংখ্যক স্থায়ী চাকরি তৈরি হবেই। কর্মসংস্থানের পরিমাণ নির্ভর করে কেন্দ্রের আকার, প্রযুক্তিগত কাঠামো, পরিচালনার পদ্ধতি এবং কতটা কাজ সরাসরি সংস্থা পরিচালনা করবে তার উপর।

কর্টেক্স ডিসি-র প্রকল্পগুলিতে কত বিনিয়োগ হবে, কত কর্মসংস্থান তৈরি হবে কিংবা কোন কোন স্থানীয় সংস্থা যুক্ত হতে পারে, সে সম্পর্কে এখনও নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়নি। ফলে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করা গেলেও কোনও নির্দিষ্ট অঙ্ক বা চাকরির সংখ্যা উল্লেখ করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই।

ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের সঙ্গে ডেটা সেন্টারের সম্পর্ক

ক্লাউড কম্পিউটিং আধুনিক ডিজিটাল অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর সাহায্যে ব্যক্তি ও সংস্থা নিজেদের কম্পিউটারে সব তথ্য সংরক্ষণ না করেও ইন্টারনেটের মাধ্যমে দূরবর্তী সার্ভার ব্যবহার করতে পারে। সফটওয়্যার চালানো, তথ্য সংরক্ষণ, ব্যাকআপ রাখা এবং বিভিন্ন ডিজিটাল পরিষেবা পরিচালনার জন্য ক্লাউড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

এই পরিষেবাগুলি পরিচালনার জন্য ডেটা সেন্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেখানে থাকা সার্ভার ও নেটওয়ার্কিং পরিকাঠামোর সাহায্যে তথ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং আদানপ্রদান করা হয়।

ব্যবসা ও প্রযুক্তি সংস্থাগুলির ক্লাউড ব্যবহারের চাহিদা বাড়লে ডেটা সেন্টারের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। একইভাবে, এআই-ভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন জনপ্রিয় হওয়ার ফলে আরও বেশি কম্পিউটিং ক্ষমতা এবং দ্রুত তথ্য প্রক্রিয়াকরণের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।

কর্টেক্স ডিসি-র ঘোষণায় এআই এবং ক্লাউড পরিষেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। আগামী সাত বছরে ২ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পরিকাঠামো গড়ার লক্ষ্য সেই বাজারের সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই নেওয়া হয়েছে বলে সংস্থার পরিকল্পনা থেকে বোঝা যায়।

তবে ভবিষ্যতে এই চাহিদা কত দ্রুত বাড়বে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে কত ক্ষমতার কেন্দ্রের প্রয়োজন হবে, তা নির্ভর করবে প্রযুক্তির ব্যবহার, ব্যবসায়িক বিনিয়োগ এবং গ্রাহকদের চাহিদার উপর।

এআই প্রযুক্তির প্রসারে নতুন পরিকাঠামোর ভূমিকা

এআই প্রযুক্তি বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে। তথ্য বিশ্লেষণ, ভাষা প্রক্রিয়াকরণ, ছবি ও ভিডিও তৈরি, গ্রাহক পরিষেবা, ব্যবসায়িক অটোমেশন এবং গবেষণার মতো কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ছে।

এই ধরনের প্রযুক্তি পরিচালনার জন্য প্রায়ই বড় পরিমাণে তথ্য এবং শক্তিশালী কম্পিউটিং ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে বড় এআই মডেল প্রশিক্ষণ এবং বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারীর অনুরোধের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিকাঠামোর ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এআই-উপযোগী ডেটা সেন্টার তৈরি হলে প্রযুক্তি সংস্থাগুলি নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী কম্পিউটিং সম্পদ ব্যবহার করার সুযোগ পেতে পারে। এর ফলে বিভিন্ন ডিজিটাল পরিষেবা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো পাওয়া সহজ হতে পারে।

তবে ডেটা সেন্টার তৈরি হলেই এআই প্রযুক্তির সমস্ত সমস্যা সমাধান হয়ে যায় না। উন্নত হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, দক্ষ কর্মী, নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্ক এবং তথ্য সুরক্ষার ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

কর্টেক্স ডিসি-র পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভারতের এআই-সম্পর্কিত কম্পিউটিং পরিকাঠামো বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু প্রকল্পগুলির প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে সেগুলি কোথায় তৈরি হচ্ছে, কতটা ক্ষমতা যুক্ত হচ্ছে এবং কোন ধরনের পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে তার উপর।

প্রকল্প বাস্তবায়নে কী কী চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে?

বড় আকারের ডেটা সেন্টার প্রকল্পের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা ঘোষণা করা প্রথম ধাপ। এরপর জমি নির্বাচন, অর্থের সংস্থান, বিদ্যুৎ সরবরাহ, নির্মাণ, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম স্থাপন এবং পরিষেবা চালু করার মতো একাধিক পর্যায় সম্পন্ন করতে হয়।

প্রথমত, উপযুক্ত জমি নির্বাচন করতে হয়। জমির অবস্থান এমন হওয়া দরকার, যাতে বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ পরিকাঠামোর সুবিধা পাওয়া যায় এবং নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।

দ্বিতীয়ত, বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হয়। ডেটা সেন্টারের সার্ভার এবং কুলিং ব্যবস্থাকে দীর্ঘ সময় ধরে চালু রাখতে হয় বলে বিদ্যুতের ব্যবস্থা বিশেষ গুরুত্ব পায়।

তৃতীয়ত, তাপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা তৈরি করতে হয়। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং সরঞ্জাম থেকে তাপ উৎপন্ন হয়। সঠিক কুলিং ব্যবস্থা না থাকলে সরঞ্জামের কার্যক্ষমতা এবং নির্ভরযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

চতুর্থত, দ্রুতগতির নেটওয়ার্ক সংযোগ এবং তথ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হয়। গ্রাহকদের তথ্য এবং ডিজিটাল পরিষেবা পরিচালনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও পরিষেবার ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া নির্মাণের খরচ, প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের প্রাপ্যতা, দক্ষ কর্মী নিয়োগ এবং বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

কর্টেক্স ডিসি ইতিমধ্যেই জমি নির্বাচন, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে এই প্রস্তুতির ভিত্তিতে প্রকল্পগুলির চূড়ান্ত অবস্থান বা নির্মাণ শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাবে না।

আগামী দিনে কোন বিষয়গুলির দিকে নজর থাকবে?

কর্টেক্স ডিসি-র ঘোষণার পরবর্তী পর্যায়ে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। প্রথমত, সংস্থাটি কোন কোন রাজ্য বা শহরে ডেটা সেন্টার গড়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তা জানা দরকার। দ্বিতীয়ত, প্রথম প্রকল্পের নির্মাণকাজ কবে শুরু হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

তৃতীয়ত, প্রকল্পগুলির জন্য কত অর্থ বিনিয়োগ করা হবে এবং কীভাবে পর্যায়ক্রমে ২ গিগাওয়াট ক্ষমতার লক্ষ্যে পৌঁছনো হবে, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। চতুর্থত, বিদ্যুৎ সরবরাহ, কুলিং প্রযুক্তি এবং এআই-সম্পর্কিত পরিষেবার ক্ষেত্রে সংস্থার নির্দিষ্ট পরিকল্পনা কী, সেটিও নজরে থাকবে।

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও একইভাবে নজর থাকবে। রাজ্যে ডেটা সেন্টার তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হলেও কর্টেক্স ডিসি-র তরফে কোনও নির্দিষ্ট স্থান ঘোষণা না করা পর্যন্ত বিষয়টি অনিশ্চিতই থাকবে।

প্রকল্পের অবস্থান চূড়ান্ত হলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের পরিকাঠামো, সম্ভাব্য কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় ব্যবসার সুযোগ সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।

উপসংহার

চ্যাটার্জি গোষ্ঠীর সংস্থা কর্টেক্স ডিসি-র আগামী সাত বছরে সারা দেশে ২ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এআই-উপযোগী ডেটা সেন্টার গড়ার পরিকল্পনা ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামো নিয়ে চলতে থাকা আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এআই এবং ক্লাউড পরিষেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে।

সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, জমি নির্বাচন, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে যোগাযোগের প্রস্তুতি এগিয়েছে। প্রথম কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর ১৮ মাসের মধ্যে সেটিকে পরিষেবা দেওয়ার উপযোগী করে তোলার লক্ষ্যও রয়েছে।

তবে এখনও পর্যন্ত প্রকল্পগুলির নির্দিষ্ট অবস্থান, মোট বিনিয়োগ, কেন্দ্রের সংখ্যা এবং পশ্চিমবঙ্গে কোনও ডেটা সেন্টার তৈরি হবে কি না, সে সম্পর্কে চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি। তাই প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি বুঝতে সংস্থার পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে নজর রাখতে হবে।

সব মিলিয়ে, কর্টেক্স ডিসি-র এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হল আগামী দিনের এআই ও ক্লাউড পরিষেবার চাহিদা মেটাতে বৃহৎ পরিসরে ডেটা সেন্টার পরিকাঠামো তৈরি করা। পরিকল্পনাটি কতটা দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং ভারতের কোন কোন অঞ্চলে নতুন কেন্দ্র গড়ে ওঠে, এখন সেটাই দেখার।

প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই: প্রকাশিত বিবরণে উল্লিখিত ২ গিগাওয়াট ক্ষমতা, সাত বছরের সময়সীমা এবং প্রথম কেন্দ্র চালুর ১৮ মাসের লক্ষ্যের তথ্য সংস্থার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া উচিত। পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্র তৈরির বিষয়ে নিশ্চিত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত শিরোনাম বা প্রতিবেদনে সেটিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।

Preview image