জুনে ভারতের টি-২০ দলের অধিনায়ক হওয়ার পর প্রত্যাশিত ছন্দে ছিলেন না শ্রেয়স আয়ার। ব্যাট হাতে বড় রান আসছিল না, মাত্র দু’বার পঞ্চাশের গণ্ডি পেরিয়েছিলেন তিনি।
লখনউ: ব্যাট হাতে দীর্ঘদিন পর যেন নিজের পুরনো ছন্দ ফিরে পেলেন শ্রেয়স আয়ার। ভারতের টি-২০ দলের অধিনায়ক হওয়ার পর থেকে তাঁর ব্যাটে বড় রানের দেখা মিলছিল না। মাঝে কয়েকটি ম্যাচে দল জিতলেও শ্রেয়সের ব্যক্তিগত ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে একানা স্টেডিয়ামে সেই সমস্ত প্রশ্নের জবাব দিলেন তিনি একেবারে ব্যাট হাতে। মাত্র ৪৩ বলে ১০টি চার এবং ৬টি ছক্কার সাহায্যে ১০২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেললেন মুম্বইকর। তাঁর এই বিধ্বংসী শতরান শুধু ভারতকে ম্যাচ জেতাতেই সাহায্য করেনি, একই সঙ্গে তাঁর ফর্ম নিয়েও যাবতীয় সংশয় অনেকটাই দূর করে দিয়েছে।
শ্রেয়স আয়ারের এই ইনিংসের বিশেষত্ব ছিল তাঁর ব্যাটিংয়ের আগ্রাসন। শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল তাঁকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা বারবার লাইন ও লেংথ বদলানোর চেষ্টা করলেও শ্রেয়স যেন তৈরি ছিলেন প্রতিটি বলের জন্য। অফসাইডে তাঁর দারুণ শটের পাশাপাশি লেগ সাইডেও একের পর এক বাউন্ডারি এবং ছক্কা আসে। ৪৩ বলে ১০২ রান—এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, কতটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছেন তিনি।
এই শতরানের পরই ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাসকর শ্রেয়স আয়ারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। গাভাসকরের মতে, শ্রেয়সকে এদিন একেবারেই অপ্রতিরোধ্য মনে হয়েছে। ক্যারিবিয়ান বোলাররা যে লাইন-লেংথেই বল করুন না কেন, প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য শ্রেয়সের হাতে উপযুক্ত জবাব ছিল। তাঁর ব্যাটিংয়ের মধ্যে ছিল নিয়ন্ত্রণ, আত্মবিশ্বাস এবং আগ্রাসনের দুর্দান্ত সমন্বয়।
জুনে ভারতের টি-২০ দলের অধিনায়ক হওয়ার পর শ্রেয়স আয়ারের সামনে তৈরি হয়েছিল নতুন দায়িত্ব। অধিনায়ক হিসেবে দলের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রত্যাশাও ছিল তাঁর উপর। কিন্তু সেই সময়টা খুব সহজ ছিল না। অধিনায়কত্বের দায়িত্ব সামলালেও ব্যাট হাতে প্রত্যাশিত ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছিল না।
মাত্র দু’বার পঞ্চাশের গণ্ডি পেরিয়েছিলেন শ্রেয়স। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর ব্যক্তিগত ফর্ম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারের কাছ থেকে ভারতীয় সমর্থকদের যে ধরনের বড় ইনিংসের প্রত্যাশা থাকে, তা পূরণ হচ্ছিল না। যদিও দল ম্যাচ জিতছিল, তবুও অধিনায়ক শ্রেয়সের ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছিল।
ক্রিকেটে অধিনায়কের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা হওয়া নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে টি-২০ ক্রিকেটে একজন অধিনায়ককে খুব দ্রুত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। কয়েকটি ম্যাচে রান না পেলেই ব্যাটারের আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। শ্রেয়সের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ফর্ম নিয়ে নানা প্রশ্ন এবং আলোচনা চলছিল। কেউ তাঁর ব্যাটিং পজিশন নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন, কেউ আবার অধিনায়কত্বের চাপকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে বড় রান করা শ্রেয়সের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
একানা স্টেডিয়ামে রবিবার শ্রেয়স আয়ার যেন সম্পূর্ণ অন্য মেজাজে ব্যাট করতে নামেন। পরিস্থিতি বুঝে প্রথমে ইনিংস তৈরি করলেও সুযোগ পেলেই বোলারদের উপর আক্রমণ করেন তিনি। একবার ছন্দ পেয়ে যাওয়ার পর তাঁকে থামানো কার্যত অসম্ভব হয়ে ওঠে।
মাত্র ৪৩ বলেই ১০২ রান করেন শ্রেয়স। তাঁর ইনিংসে ছিল ১০টি চার এবং ৬টি ছক্কা। অর্থাৎ বাউন্ডারির মাধ্যমেই এসেছে তাঁর বেশিরভাগ রান। এই ইনিংসের মাধ্যমে শ্রেয়স দেখিয়ে দিয়েছেন, তিনি শুধু উইকেটে টিকে থাকার জন্য ব্যাট করতে পারেন না, প্রয়োজনের সময় ম্যাচের গতিপথও সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারেন।
টি-২০ ক্রিকেটে ৪৩ বলে শতরান করা যে কোনও ব্যাটারের জন্যই বিশেষ কৃতিত্ব। সেখানে অধিনায়কত্বের চাপ, সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়ে সমালোচনা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনা—সবকিছুকে পিছনে ফেলে এমন ইনিংস খেলা শ্রেয়সের মানসিক দৃঢ়তারও প্রমাণ।
তাঁর ১০টি চার এবং ৬টি ছক্কা ছিল ইনিংসের অন্যতম আকর্ষণ। বিশেষ করে ইনিংসের শেষের দিকে শ্রেয়স যে গতিতে রান তুলেছেন, তাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের উপর ক্রমশ চাপ বাড়তে থাকে। একবার সেট হয়ে যাওয়ার পর তিনি বোলারদের কোনও সুযোগ দেননি।
শ্রেয়সের ইনিংস দেখে মুগ্ধ সুনীল গাভাসকর। ভারতীয় ক্রিকেটের এই কিংবদন্তি ব্যাটার তাঁর প্রশংসা করতে গিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, এদিন শ্রেয়সকে অপ্রতিরোধ্য মনে হয়েছে।
গাভাসকরের বক্তব্যের মূল জায়গাটি ছিল শ্রেয়সের শট খেলার দক্ষতা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা লাইন-লেংথ পরিবর্তন করেও তাঁকে সমস্যায় ফেলতে পারেননি। শ্রেয়স পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের শট বেছে নিয়েছেন এবং বোলারদের পরিকল্পনা বুঝে তার জবাব দিয়েছেন।
গাভাসকর আরও মনে করেন, অধিনায়ক হওয়ার পর শ্রেয়স বড় রান পাচ্ছিলেন না। ফলে তাঁর ফর্ম নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। দল জিতলেও একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার যখন নিয়মিত বড় রান করতে পারেন না, তখন সেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়া স্বাভাবিক। তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে এই শতরান শ্রেয়সের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল।
গাভাসকরের মতে, সিরিজের শুরুতেই এমন ম্যাচজেতানো ইনিংস শ্রেয়সকে আত্মবিশ্বাস দেবে। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে ঘিরে ওঠা যাবতীয় প্রশ্নও অনেকটাই থামিয়ে দেবে এই শতরান।
ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে ফর্মের উত্থান-পতন খুবই স্বাভাবিক। একজন ব্যাটার প্রতিটি ম্যাচে রান করবেন, এমন নিশ্চয়তা ক্রিকেটে নেই। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারের কয়েকটি ম্যাচ খারাপ গেলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
শ্রেয়স আয়ারের ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই হয়েছিল। অধিনায়ক হওয়ার পর তাঁর কাছ থেকে প্রত্যাশা আরও বেড়ে গিয়েছিল। সেই প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় তাঁর ব্যাটিং নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু শ্রেয়স কোনও মন্তব্যের মাধ্যমে নয়, বরং ব্যাট হাতে সেই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন।
৪৩ বলে ১০২ রান এমন একটি ইনিংস, যা নিজের আত্মবিশ্বাস ফেরানোর পাশাপাশি সমালোচকদেরও কিছুটা চুপ করিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে ইনিংসটির ধরন ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক। রান করার জন্য অযথা ঝুঁকি না নিয়ে সঠিক বলকে আক্রমণ করেছেন তিনি। ফলে তাঁর ইনিংস ছিল একই সঙ্গে কার্যকর এবং বিনোদনমূলক।
শ্রেয়স আয়ারের ফর্মে ফিরে আসা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, ভারতীয় দলের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টি-২০ ক্রিকেটে মাঝের সারিতে এমন একজন ব্যাটার প্রয়োজন, যিনি পরিস্থিতি অনুযায়ী ইনিংস গড়তে পারবেন এবং প্রয়োজনের সময় দ্রুত রান তুলতে পারবেন।
শ্রেয়স সেই দায়িত্ব পালনের জন্য উপযুক্ত একজন ক্রিকেটার। তাঁর হাতে শটের বৈচিত্র্য রয়েছে। স্পিন এবং পেস—দুই ধরনের বোলিংয়ের বিরুদ্ধেই রান করার ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। ফলে ফর্মে থাকা শ্রেয়স ভারতীয় ব্যাটিং লাইন-আপকে আরও শক্তিশালী করে।
বিশেষ করে অধিনায়ক হিসেবে যদি তিনি নিজের ব্যাটিং ছন্দ ধরে রাখতে পারেন, তাহলে দলের ভারসাম্য আরও ভালো হবে। অধিনায়ক নিজে রান করলে দলের অন্য ক্রিকেটারদের উপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। একজন অধিনায়কের ভালো পারফরম্যান্স পুরো দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিতে পারে।
বর্তমান ক্রিকেটে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব অত্যন্ত বেশি। একজন ক্রিকেটার কয়েকটি ম্যাচে ব্যর্থ হলেই তাঁর ফর্ম নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার মন্তব্য শুরু হয়ে যায়। শ্রেয়সের ক্ষেত্রেও তেমনই হয়েছিল।
কিন্তু ক্রিকেটারদের সবচেয়ে ভালো জবাব দেওয়ার জায়গা হল মাঠ। শ্রেয়সও সেটাই করেছেন। ৪৩ বলে ১০২ রান করে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, তাঁর ব্যাটিং ক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ করার কারণ নেই।
গাভাসকরও সেই জায়গাটিই তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, এই শতরান শ্রেয়সকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ওঠা যাবতীয় প্রশ্ন থামিয়ে দেবে। কারণ একজন ক্রিকেটারকে বিচার করার সবচেয়ে ভালো উপায় হল তাঁর মাঠের পারফরম্যান্স।
শ্রেয়সের এই ইনিংস তাই শুধু একটি শতরান নয়। এটি তাঁর আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার একটি বড় মুহূর্তও। আগামী ম্যাচগুলিতে তিনি এই ছন্দ ধরে রাখতে পারেন কি না, সেটিই এখন দেখার।
একটি দুর্দান্ত ইনিংস অবশ্যই আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিকতাই শেষ কথা। শ্রেয়সের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এই ফর্মকে পরবর্তী ম্যাচগুলিতেও ধরে রাখা।
অধিনায়ক হিসেবে তাঁকে শুধু নিজের পারফরম্যান্স নয়, গোটা দলের পরিকল্পনাও সামলাতে হবে। ব্যাট হাতে বড় রান করার পাশাপাশি বোলিং পরিবর্তন, ফিল্ডিং সাজানো এবং ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বও তাঁর।
তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে এই ইনিংস তাঁকে সেই আত্মবিশ্বাস অবশ্যই দেবে। অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নেওয়ার পর যে চাপ তৈরি হয়েছিল, একটি বড় ম্যাচজেতানো শতরান সেই চাপ অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।
শ্রেয়স আয়ারের ব্যাটিংয়ের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল তাঁর শট খেলার আত্মবিশ্বাস। সেট হয়ে যাওয়ার পর তিনি বোলারদের উপর চাপ তৈরি করতে পারেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সেটিই দেখা গেল।
তাঁর ১০টি চার এবং ৬টি ছক্কা শুধু রানসংখ্যা বাড়ায়নি, বরং ভারতীয় ইনিংসের গতি বদলে দিয়েছে। একজন ব্যাটার যখন এতটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শট খেলেন, তখন বিপক্ষ অধিনায়কের পরিকল্পনাও ক্রমশ কঠিন হয়ে যায়।
গাভাসকরের ‘অপ্রতিরোধ্য’ মন্তব্য তাই যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। শ্রেয়সের ইনিংসে এমনই একটি নিয়ন্ত্রণ এবং আত্মবিশ্বাস দেখা গিয়েছে, যা তাঁকে বোলারদের থেকে এক ধাপ এগিয়ে রেখেছিল।
ভারতীয় ক্রিকেটে শ্রেয়স আয়ারের মতো ব্যাটারদের গুরুত্ব অনেক। কারণ তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটিংয়ের গতি বদলাতে পারেন। ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে ইনিংস তৈরি করার পাশাপাশি দ্রুত রান তোলার ক্ষমতাও তাঁর রয়েছে।
একজন টি-২০ অধিনায়কের জন্য এই বৈশিষ্ট্য আরও গুরুত্বপূর্ণ। কখনও তাঁকে উইকেট ধরে রাখতে হবে, আবার কখনও কয়েক ওভারের মধ্যে ম্যাচের চেহারা বদলে দিতে হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তাঁর ১০২ রানের ইনিংস দ্বিতীয় ভূমিকাটির অসাধারণ উদাহরণ।
যদি এই ইনিংস তাঁর ধারাবাহিক ফর্মের সূচনা হয়, তাহলে ভারতীয় দলের জন্য সেটি নিঃসন্দেহে সুখবর।
সুনীল গাভাসকর ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম শ্রদ্ধেয় নাম। তাঁর মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটার যখন কোনও ব্যাটারের ইনিংসের প্রশংসা করেন, তখন সেই প্রশংসার গুরুত্ব স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি।
গাভাসকর শুধু শ্রেয়সের রানসংখ্যার প্রশংসা করেননি। তিনি তাঁর ব্যাটিংয়ের ধরন, বোলারদের বিরুদ্ধে তাঁর পরিকল্পনা এবং ম্যাচের গুরুত্ব—সবকিছু বিবেচনা করেই মন্তব্য করেছেন।
বিশেষ করে অধিনায়ক হওয়ার পর শ্রেয়সের বড় রান না পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে গাভাসকর বুঝিয়ে দিয়েছেন, এই শতরান কতটা প্রয়োজনীয় ছিল। তাঁর মতে, এই ইনিংস শ্রেয়সের সেরা ফর্মে ফিরে আসার জোরালো ইঙ্গিত।
একটি শতরান যে কোনও ব্যাটারের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিতে পারে। কিন্তু শ্রেয়স আয়ারের ক্ষেত্রে এখন নজর থাকবে ধারাবাহিকতার দিকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ১০২ রানের ইনিংসের পর তিনি পরের ম্যাচগুলিতে কেমন পারফর্ম করেন, সেটিই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তবে এই মুহূর্তে ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকদের জন্য বার্তাটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। অধিনায়ক শ্রেয়সের ব্যাটে আবার বড় রান এসেছে। তার থেকেও বড় বিষয়, রানটি এসেছে এমন একটি ম্যাচে যেখানে দলের প্রয়োজন ছিল বড় ইনিংসের।
শ্রেয়স সেই দায়িত্ব শুধু পালনই করেননি, বরং দুর্দান্তভাবে পালন করেছেন।
জুনে ভারতের টি-২০ দলের অধিনায়ক হওয়ার পর শ্রেয়স আয়ারের ব্যাটে বড় রানের ঘাটতি নিয়ে আলোচনা কম হয়নি। মাত্র দু’বার পঞ্চাশের গণ্ডি পেরোনোর পর তাঁর ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। দল জিতলেও অধিনায়কের ব্যাটিং নিয়ে উদ্বেগ ছিল।
কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে একানা স্টেডিয়ামে ৪৩ বলে ১০২ রানের ঝোড়ো শতরান সেই সব প্রশ্নেরই শক্তিশালী জবাব দিয়েছে। ১০টি চার এবং ৬টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংস দেখিয়ে দিয়েছে, শ্রেয়স এখনও বড় ম্যাচের পারফর্মার হওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
সুনীল গাভাসকরের প্রশংসা সেই পারফরম্যান্সের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাঁর চোখে শ্রেয়স এদিন ছিলেন ‘অপ্রতিরোধ্য’। ক্যারিবিয়ান বোলাররা যে পরিকল্পনাতেই বল করুন না কেন, শ্রেয়স তার জবাব দিয়েছেন ব্যাট হাতে।
এই শতরান তাই শুধু স্কোরবোর্ডে তিন অঙ্কের একটি সংখ্যা নয়। এটি অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ারের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার বার্তা। একই সঙ্গে ভারতীয় দলের জন্যও এটি স্বস্তির খবর। এখন দেখার, এই শতরানের পর শ্রেয়স তাঁর দুর্দান্ত ছন্দ কতটা দীর্ঘস্থায়ী করতে পারেন।
যদি এই ইনিংস তাঁর ধারাবাহিক ফর্মের সূচনা হয়ে থাকে, তাহলে আগামী ম্যাচগুলিতে ভারতীয় দলের ব্যাটিং শক্তি আরও বাড়বে। আর শ্রেয়স আয়ারের সামনে খুলে যেতে পারে অধিনায়ক ও ব্যাটার—দুই ভূমিকাতেই নতুন সাফল্যের দরজা।