চলতি বছর ভারতকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতালেও সূর্যকুমারের মতোই এবার নেতৃত্ব হারানোর মুখে পাকিস্তানের সলমন আলি আগা। শ্রীলঙ্কা সিরিজে নতুন অধিনায়ক ও দল থেকে বাদ পড়ার জল্পনা তুঙ্গে।
পাকিস্তান ক্রিকেট দলে ফের বড়সড় পরিবর্তনের জল্পনা। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ের আগেই পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্বে বদল হতে পারে বলে খবর। বর্তমান অধিনায়ক সলমন আলি আঘাকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় শাদাব খানকে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। শুধু অধিনায়কত্ব থেকেই নয়, সলমনকে টি-টোয়েন্টি দল থেকেও বাদ দেওয়া হতে পারে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। ফলে শ্রীলঙ্কা সিরিজ়ের আগে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলে একাধিক বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
আগামী ৯ থেকে ১৩ অক্টোবর শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে পাকিস্তান। সেই সিরিজ় শুরু হওয়ার আগেই নতুন অধিনায়কের নাম ঘোষণা করতে পারে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সলমন আলি আঘার অধিনায়কত্বের অধ্যায় শেষ হতে চলেছে। তাঁর জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নেতৃত্বের দায়িত্ব সামলানো শাদাব খানকে পাকাপাকি ভাবে অধিনায়ক করার সম্ভাবনাই এখন সবচেয়ে বেশি।
সলমন আলি আঘার নেতৃত্বে পাকিস্তান গত বছর এশিয়া কাপ এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। বড় মঞ্চে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। অধিনায়ক হিসেবেও সলমনের সিদ্ধান্ত এবং নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেই কারণেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এবার নেতৃত্বে পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে শাদাব খানের নামই সবচেয়ে বেশি সামনে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের সাদা বলের ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তিনি। এর আগেও একাধিকবার পরিবর্ত অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন শাদাব। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে। বোর্ডের পাশাপাশি দলের নতুন কোচিং সেটআপও শাদাবের নেতৃত্বের পক্ষে রয়েছে বলে খবর।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের এক আধিকারিক সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছেন, টি-টোয়েন্টির নতুন অধিনায়ক হওয়ার দৌড়ে সবার আগে রয়েছেন শাদাব খান। তাঁর পরে রয়েছেন সাহিবজ়াদা ফারহান। শাদাবকে অধিনায়ক করা হলে ফারহানকে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্বের কাঠামোতেও নতুন প্রজন্মকে সামনে আনার পরিকল্পনা করছে বোর্ড।
সাহিবজ়াদা ফারহানের নাম সামনে আসাও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। সদ্য সমাপ্ত এশিয়ান গেমসে তাঁর নেতৃত্বে পাকিস্তান রুপোর পদক জিতেছে। ফলে তরুণ ক্রিকেটারদের মধ্যে নেতৃত্বের সম্ভাবনা হিসেবে ফারহানকে দেখছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। ভবিষ্যতে তাঁকেও জাতীয় দলের নেতৃত্বের জন্য তৈরি করা হতে পারে।
পাকিস্তান ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে নেতৃত্ব নিয়ে একাধিক পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। বিভিন্ন ফরম্যাটে আলাদা নেতৃত্ব কাঠামো তৈরি করার চেষ্টা চলছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আরও নতুন ও আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চাইছে বোর্ড। সেই কারণেই শাদাব খানকে সামনে আনার পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে।
সলমন আলি আঘার জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে কারণ তাঁকে শুধু অধিনায়কত্ব থেকে সরানো নয়, টি-টোয়েন্টি দল থেকেই বাদ দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। যদি সত্যিই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটি হবে বড় পরিবর্তন। একজন অধিনায়ককে সরিয়ে তাঁর জায়গায় নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি পুরো দলের কম্বিনেশনেও পরিবর্তন আনা হতে পারে।
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজ় থেকেই সেই পরিবর্তনের শুরু হতে পারে। পাকিস্তান দলে একাধিক নতুন মুখকে সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে খবর। বিশেষ করে সাদা বলের ক্রিকেটে তরুণ ক্রিকেটারদের বেশি সুযোগ দেওয়ার দিকে নজর দিচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এর ফলে দলের কয়েকজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারও জায়গা হারাতে পারেন।
শাহিন শাহ আফ্রিদি এবং হ্যারিস রউফের মতো অভিজ্ঞ পেসারদের শ্রীলঙ্কা সিরিজ়ে বাদ পড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের ওই আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, সাদা বলের দলে বেশ কিছু নতুন মুখকে জায়গা দেওয়া হতে পারে এবং সিনিয়র ক্রিকেটারদের সরানো হতে পারে। ফলে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে পাকিস্তানের দল আগের তুলনায় অনেকটাই আলাদা হতে পারে।
শাহিন শাহ আফ্রিদি পাকিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পেসার। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলের বোলিং আক্রমণের অন্যতম প্রধান মুখ। হ্যারিস রউফও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাকিস্তানের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁদের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা পাকিস্তান ক্রিকেটে বড় বার্তা দেবে। বোর্ড যে নতুনভাবে দল সাজাতে চাইছে, সেটিই তার সবচেয়ে বড় ইঙ্গিত হতে পারে।
অন্যদিকে, শাদাব খানের সামনে আসার সম্ভাবনা পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। অলরাউন্ডার হিসেবে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য শাদাব। ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই তাঁর অবদান রয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। ফলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কাছে তাঁকে টি-টোয়েন্টি দলের জন্য উপযুক্ত নেতা বলে মনে হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।
শাদাবকে অধিনায়ক করা হলে তাঁর সঙ্গে সহ-অধিনায়ক হিসেবে সাহিবজ়াদা ফারহানকে রাখা হতে পারে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের নেতৃত্বের জন্য ফারহানকে প্রস্তুত করার পরিকল্পনাও থাকতে পারে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড যদি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোয়, তাহলে শাদাব ও ফারহানের জুটি আগামী কয়েক বছর পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এই পুরো পরিবর্তনের পিছনে নতুন কোচিং ব্যবস্থার ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের কোচিং টিমের পরিকল্পনায় শাদাব খান এবং সাহিবজ়াদা ফারহান নেতৃত্বের জন্য এগিয়ে রয়েছেন বলে খবর। মাইক হেসনের পরিকল্পনায় সলমন আলি আঘা নেই বলেও ওই পাক আধিকারিক জানিয়েছেন। ফলে শুধু বোর্ডের সিদ্ধান্ত নয়, দলের ক্রিকেটীয় পরিকল্পনার মধ্যেও নেতৃত্ব পরিবর্তনের ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত বছর এশিয়া কাপ এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বড় টুর্নামেন্টে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার পর সলমনের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। এবার সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে চলেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। শ্রীলঙ্কা সিরিজ়ের আগে নতুন অধিনায়কের নাম ঘোষণা করা হলে পাকিস্তানের ক্রিকেটে আরও একবার নেতৃত্ব পরিবর্তনের ছবি দেখা যাবে।
এখানে ভারতের সূর্যকুমার যাদবের প্রসঙ্গও উঠে আসছে। চলতি বছর ভারতকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতানোর পরেও সূর্যকুমার যাদবকে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে আলোচনায় এসেছে। ছোট ফরম্যাটের ভারতীয় দল থেকেও তাঁর জায়গা নিয়ে পরিবর্তন হয়েছে। পাকিস্তানে সলমন আলি আঘার ক্ষেত্রেও অনেকটা একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে ক্রিকেট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে বিষয়টি শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কারণ সলমনকে দল থেকেও বাদ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি তিনি স্কোয়াডেই না থাকেন, তাহলে শাদাব খানের নেতৃত্বে পাকিস্তানের নতুন টি-টোয়েন্টি দল কেমন হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের সিরিজ় পাকিস্তানের জন্য তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। এই সিরিজ়ে নতুন অধিনায়ক, নতুন ক্রিকেটার এবং নতুন কম্বিনেশন দেখা গেলে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া আরও স্পষ্ট হয়ে যাবে। একইসঙ্গে শাহিন আফ্রিদি, হ্যারিস রউফের মতো সিনিয়র ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এখন যে পথে এগোতে চাইছে, তাতে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তরুণ ক্রিকেটারদের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নেতৃত্বের ক্ষেত্রে শাদাব খানকে সামনে আনা এবং সাহিবজ়াদা ফারহানকে সহ-অধিনায়ক করার পরিকল্পনা তারই ইঙ্গিত। ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন টি-টোয়েন্টি দল গড়ে তোলাই সম্ভবত বোর্ডের লক্ষ্য।
সব মিলিয়ে শ্রীলঙ্কা সিরিজ়ের আগে পাকিস্তান ক্রিকেটে একাধিক বড় সিদ্ধান্ত আসতে চলেছে। সলমন আলি আঘার অধিনায়কত্বের ভবিষ্যৎ, শাদাব খানের সম্ভাব্য নতুন দায়িত্ব, সাহিবজ়াদা ফারহানের সহ-অধিনায়ক হওয়ার সম্ভাবনা এবং শাহিন আফ্রিদি-হ্যারিস রউফের মতো সিনিয়রদের দলে থাকা—সবকিছু নিয়েই এখন জোর আলোচনা।
শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই দেখার। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, শ্রীলঙ্কা সিরিজ়ের আগে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলে বড়সড় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। শাদাব খান যদি সত্যিই নতুন অধিনায়ক হন, তাহলে তাঁর নেতৃত্বে পাকিস্তান কীভাবে নতুন দল গড়ে এবং আগামী টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতাগুলিতে কতটা সফল হয়, সেদিকেই থাকবে ক্রিকেটবিশ্বের নজর।