প্রায় দুই দশক পর আবার একসঙ্গে কাজ করছেন বলিউডের বর্ষীয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা সুভাষ ঘাই এবং অভিনেতা শ্রেয়স তালপাড়ে। ২০০৫ সালের জনপ্রিয় ছবি ‘ইকবাল’-এর পর এবার তাঁদের নতুন সহযোগিতা ‘মান্য’ (Manya)। সমীর যোশীর পরিচালনায় তৈরি এই ছবিতে এক ১৫ বছরের কিশোরের জীবন, দারিদ্র্য, অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া এবং তার পেছনের সামাজিক পরিস্থিতির গল্প তুলে ধরা হবে। ২৪ অক্টোবর মুক্তা আর্টসের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ছবির প্রথম পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে। ছবির শুটিং শেষ হলেও মুক্তির নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
বলিউডে পুরনো সফল জুটি আবার একসঙ্গে ফিরলে দর্শকদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়। এবার এমনই এক সহযোগিতার খবর সামনে এসেছে। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা সুভাষ ঘাই এবং অভিনেতা শ্রেয়স তালপাড়ে প্রায় দুই দশক পর নতুন ছবির জন্য একসঙ্গে কাজ করছেন।
নতুন ছবির নাম ‘মান্য’ (Manya)। ছবিটি নির্মিত হয়েছে সুভাষ ঘাইয়ের প্রযোজনা সংস্থা মুক্তা আর্টসের ব্যানারে। পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন সমীর যোশী।
গত ২৪ অক্টোবর মুক্তা আর্টসের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ছবির প্রথম পোস্টার প্রকাশ করা হয়। একই সময়ে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে সুভাষ ঘাইয়ের ৫০ বছরের পথচলাও উদ্যাপন করা হচ্ছে।
সেই কারণেই এই নতুন ছবির ঘোষণা সুভাষ ঘাইয়ের কর্মজীবনে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
২০০৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ইকবাল’ শ্রেয়স তালপাড়ের অভিনয়জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছবি। নাগেশ কুকুনুর পরিচালিত সেই ছবিতে এক শ্রবণ ও বাক্প্রতিবন্ধী তরুণের ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নের গল্প তুলে ধরা হয়েছিল।
ছবিতে শ্রেয়সের অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা পায়। তাঁর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন নাসিরুদ্দিন শাহ।
‘ইকবাল’ শুধু একটি ক্রীড়াভিত্তিক ছবি ছিল না, এটি ছিল সংগ্রাম, আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিকে অতিক্রম করার গল্প। এই ছবির সাফল্য শ্রেয়স তালপাড়েকে হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে পরিচিতি এনে দেয়।
সুভাষ ঘাইয়ের মুক্তা আর্টস ছবিটির সঙ্গে যুক্ত ছিল। দীর্ঘ সময় পর আবার সেই প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে শ্রেয়সের কাজ করার বিষয়টি তাই নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট রাখা জরুরি—‘ইকবাল’-এর পরিচালক ছিলেন নাগেশ কুকুনুর, সুভাষ ঘাই নন।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ‘মান্য’ একটি আবেগঘন সামাজিক ও আদালতকেন্দ্রিক নাট্যচিত্র।
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে বস্তি এলাকায় বেড়ে ওঠা ১৫ বছরের এক কিশোর। জীবনের প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে সে চুরির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে এবং আইনি জটিলতার মুখোমুখি হয়।
কিন্তু ছবিটি শুধু অপরাধের ঘটনাকে সামনে আনতে চাইছে না। বরং একটি কিশোর কেন এমন পরিস্থিতিতে পৌঁছল, তার সামাজিক ও ব্যক্তিগত প্রেক্ষাপট কী, সেই প্রশ্নগুলির উত্তর খোঁজার চেষ্টা করবে।
দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য, শৈশবের অভিজ্ঞতা এবং সমাজের বিচারব্যবস্থার মধ্যে একটি শিশুর অবস্থান—এমন বিষয়গুলি গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।
চলচ্চিত্র নির্মাতাদের প্রকাশিত বিবরণ থেকে বোঝা যায়, কিশোরটির জীবনের অজানা দিক দর্শকদের সামনে তুলে ধরাই ছবির অন্যতম উদ্দেশ্য।
তবে সম্পূর্ণ কাহিনি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে গল্পের পরিণতি সম্পর্কে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
ছবির প্রথম পোস্টারে শ্রেয়স তালপাড়েকে আদালতের পরিবেশে দেখা গিয়েছে। সেখানে তিনি একজন আইনজীবীর ভূমিকায় উপস্থিত রয়েছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এক কিশোরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা শ্রেয়সের চরিত্রকে ঘিরেই ছবির নাটকীয় পরিস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
তাঁর চরিত্রটি কিশোরটির পক্ষে আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে পোস্টার থেকে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে চলচ্চিত্রের সম্পূর্ণ চরিত্রবিন্যাস এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
শ্রেয়সের অভিনয়জীবনে বিভিন্ন ধরনের চরিত্র রয়েছে। কখনও আবেগপ্রধান সামাজিক ছবি, কখনও কমেডি, আবার কখনও গুরুত্বপূর্ণ সহ-অভিনেতার ভূমিকায় তাঁকে দেখা গিয়েছে।
নতুন ছবিটি তাঁর অভিনয়দক্ষতার আরও একটি ভিন্ন দিক সামনে আনতে পারে।
শ্রেয়স তালপাড়ের সঙ্গে আবার কাজ করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সুভাষ ঘাই।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শ্রেয়সকে একজন বহুমুখী অভিনেতা হিসেবে তিনি মূল্যায়ন করেন। ‘ইকবাল’, ‘আপনা স্বপ্না মানি মানি’ এবং ‘গোলমাল’-এর মতো ছবিতে শ্রেয়সের অভিনয়ক্ষমতার বিভিন্ন দিক প্রকাশ পেয়েছে।
সুভাষ ঘাইয়ের মতে, ‘মান্য’-তে শ্রেয়সের অভিনয় আবারও তাঁর চরিত্রকে বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তোলার ক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে।
একই সঙ্গে ছবির অন্যান্য অভিনেতা এবং নতুন প্রতিভাদের কাজের প্রশংসাও করেছেন তিনি।
এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, নতুন ছবির গল্পের পাশাপাশি অভিনয়কেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন নির্মাতারা।
‘মান্য’ ছবির পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন সমীর যোশী।
ছবিটি প্রযোজনা করছে মুক্তা আর্টস, পুনীত আগরওয়াল এবং রাহুল পুরি। নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে স্লো বার্ন এন্টারটেনমেন্ট।
সুভাষ ঘাই এই ছবির উপস্থাপক হিসেবে রয়েছেন।
এখানে তাঁর ভূমিকা নিয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ রয়েছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে পরিচালক হিসেবে পরিচিত হওয়ায় অনেকেই ভাবতে পারেন, নতুন ছবিটির পরিচালনাও তিনি করছেন।
কিন্তু নির্মাতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিচালক সমীর যোশী। ফলে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে এই পার্থক্যটি উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ।
শ্রেয়স তালপাড়ের পাশাপাশি ছবিতে রয়েছেন সংবেদনা সুভালকা, দিব্যা শর্মা, প্রিয়দর্শিনী পূজা এবং জোহেব ফারুকির মতো শিল্পীরা।
আরও কয়েকজন অভিনেতার নাম বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে তাঁদের প্রত্যেকের চরিত্র এবং পর্দায় উপস্থিতির গুরুত্ব সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি।
নির্মাতাদের পক্ষ থেকে আগামী দিনে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে।
যেহেতু ছবির কেন্দ্রে রয়েছে এক কিশোরের গল্প, তাই তরুণ চরিত্রগুলির অভিনয় দর্শকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত মুক্তা আর্টস ২৪ অক্টোবর ২০২৬-এ ৪৮ বছর পূর্ণ করেছে।
সুভাষ ঘাইয়ের এই প্রযোজনা সংস্থা ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে।
‘কর্জ’, ‘হিরো’, ‘পরদেশ’, ‘তাল’-এর মতো ছবির মাধ্যমে সুভাষ ঘাই জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পাশাপাশি গল্পনির্ভর এবং সামাজিক বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া চলচ্চিত্র নির্মাণেও তাঁর সংস্থা যুক্ত থেকেছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্র প্রযোজনা, পরিবেশনা, প্রদর্শন এবং চলচ্চিত্র শিক্ষার ক্ষেত্রে সংস্থাটির কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে।
এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ‘মান্য’-র পোস্টার প্রকাশ তাই শুধু একটি নতুন সিনেমার প্রচার নয়, সংস্থার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনারও অংশ।
ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে পাঁচ দশকের পথচলা সুভাষ ঘাইয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
তাঁর কর্মজীবনে জনপ্রিয় বাণিজ্যিক ছবি যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে সমাজের বিভিন্ন সমস্যাকে কেন্দ্র করে তৈরি চলচ্চিত্র।
সময়ের সঙ্গে দর্শকদের রুচি এবং চলচ্চিত্রের ব্যবসায়িক কাঠামো বদলেছে। বড় পর্দার পাশাপাশি বর্তমানে OTT প্ল্যাটফর্মও চলচ্চিত্র ও সিরিজের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মুক্তা আর্টস ভবিষ্যতে অ্যানিমেশন, OTT সিরিজ, তথ্যচিত্র এবং নতুন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পরিকল্পনা করছে।
‘মান্য’ সেই বৃহত্তর পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ছবি হিসেবে সামনে এসেছে।
‘মান্য’-র পাশাপাশি আরও কয়েকটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করার কথা সামনে এসেছে।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সঞ্জয় দত্তকে নিয়ে ‘খলনায়ক রিটার্নস’ এবং অনিল কাপুরকে নিয়ে একটি আদালতকেন্দ্রিক ছবির পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।
তবে এই প্রকল্পগুলির চূড়ান্ত মুক্তির সময়সূচি এবং সম্পূর্ণ নির্মাণসংক্রান্ত তথ্য এখনও নিশ্চিত নয়।
সুভাষ ঘাইয়ের দীর্ঘ চলচ্চিত্রজীবনের কথা বিবেচনা করলে নতুন অভিনেতা ও নির্মাতাদের সঙ্গে তাঁর সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
আগামী দিনে এই প্রকল্পগুলি কতটা বাস্তবায়িত হয় এবং দর্শকদের সামনে কীভাবে পৌঁছয়, তা দেখার বিষয়।
নির্মাতাদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ‘মান্য’ ছবির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে।
২৪ অক্টোবর নতুন পোস্টার প্রকাশের মাধ্যমে ছবিটিকে দর্শকদের সামনে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
তবে এখনও আনুষ্ঠানিক মুক্তির দিন ঘোষণা করা হয়নি।
ফলে ছবিটি কোন মাসে প্রেক্ষাগৃহে আসবে কিংবা পরবর্তী সময়ে কোন OTT প্ল্যাটফর্মে দেখা যাবে, তা নিয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রচারপর্বের পরবর্তী ধাপে টিজার, ট্রেলার এবং মুক্তির দিন ঘোষণা করা হতে পারে। কিন্তু নির্মাতাদের ঘোষণা ছাড়া কোনও নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করা বিভ্রান্তিকর হবে।
‘মান্য’-র গুরুত্ব শুধু সুভাষ ঘাই এবং শ্রেয়স তালপাড়ের পুনর্মিলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
একটি কিশোরের অপরাধের পেছনের পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা এবং তার জীবনের মানবিক দিক তুলে ধরার বিষয়টি ছবিকে সামাজিক তাৎপর্য দিতে পারে।
বিশেষ করে কিশোর অপরাধ, আর্থিক অনটন এবং বিচারব্যবস্থার মতো বিষয় নিয়ে চলচ্চিত্র দর্শকদের নতুন করে ভাবতে উৎসাহিত করতে পারে।
অন্যদিকে শ্রেয়স তালপাড়ের জন্যও এটি একটি অভিনয়নির্ভর চরিত্রে নিজেকে তুলে ধরার সুযোগ।
‘ইকবাল’-এর মাধ্যমে যাঁরা শ্রেয়সকে চিনেছিলেন, তাঁদের কাছে এই নতুন সহযোগিতা স্মৃতিমেদুর মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে।
প্রায় দুই দশক পর সুভাষ ঘাইয়ের প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে শ্রেয়স তালপাড়ের নতুন কাজ বলিউডে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
‘মান্য’-র প্রথম পোস্টার প্রকাশিত হয়েছে, শুটিংও শেষ হয়েছে। এখন অপেক্ষা ছবির ট্রেলার এবং মুক্তির তারিখ ঘোষণার।
সমীর যোশীর পরিচালনায় এই সামাজিক আদালতনির্ভর গল্প কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা ছবিটি মুক্তির পরই বোঝা যাবে।
তবে আপাতত নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ‘ইকবাল’-এর পর সুভাষ ঘাই ও শ্রেয়স তালপাড়ের এই পুনর্মিলন তাঁদের কাজের অনুরাগীদের কাছে নতুন আগ্রহের বিষয়।