বলিউড অভিনেতা গোবিন্দার স্ত্রী সুনীতা আহুজা সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন যে, গোবিন্দা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করছেন এবং কিছু বন্ধুর ভুল পরামর্শে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। তিনি মনে করেন সত্যিকারের আধ্যাত্মিকতা আসে ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও সৎ কর্ম থেকে, ব্যয়বহুল পুজা-পাঠ থেকে নয়। সুনীতা স্বামীর স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব সম্পর্কে উদ্বিগ্ন এবং চাইছেন তিনি সচেতন হোক, ভুল প্রভাব এড়াক। পাশাপাশি তিনি নিজের সামাজিক কাজেও সক্রিয় থাকতে চান।
বলিউড অভিনেতা গোবিন্দা ও তাঁর স্ত্রী সুনীতা আহুজার দাম্পত্য জীবন আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সুনীতা সরাসরি প্রকাশ করেছেন যে, তার স্বামী ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করছেন এবং এমন কিছু মানুষকে বিশ্বাস করছেন যারা তাঁকে বিভ্রান্ত করে। তিনি মনে করেন প্রকৃত আধ্যাত্মিকতা আসে ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং সৎ কর্ম থেকে, ব্যয়বহুল পুজা-পাঠ থেকে নয়। সুনীতা বলেছেন, “আমাদের বাড়িতেও একজন পণ্ডিত আছে — গোবিন্দার পণ্ডিত। তিনি বলেন, 'পূজা হবে, দুই লাখ টাকা দাও।' আমি বলি, তুমি নিজে প্রার্থনা করো, অন্য কারোর দ্বারা করানো পূজা কার্যকর হবে না।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, ধনদ্বারা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা সত্যিকারের বিশ্বাস প্রকাশ করে না।তিনি আরও জানিয়েছেন, এই ধরনের পুজা-পাঠে লক্ষাধিক টাকা খরচ হচ্ছে, যা অনেকাংশে কার্যহীন এবং শুধু রীতিনীতির আড়ালে পণ্ডিতদের নিয়ন্ত্রণে হচ্ছে। তিনি বললেন, তার স্বামী অনেক সময় এই ধরনের ব্যয় ও পরামর্শ মানেন, যেগুলি তাকে আসল উদ্দেশ্য থেকে বিভ্রান্ত করছে। সুনীতা স্পষ্ট করেছেন যে, গোবিন্দার কিছু ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং পরামর্শদাতা তাঁকে ভুল পথে চালিত করছে। “তারা ওকে মূঢ় বানায় এবং খারাপ পরামর্শ দেয়। ওর এমন বন্ধুরা আছে যারা ভালো বলতে জানে না। ওর কথা ও শুনে নেয়। তাদের কারণে ওর ক্ষতি হয়।” এই কথার মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, ব্যক্তিগত চিন্তাশক্তি ও সতর্কতার অভাবে একজন মানুষ প্রায়শই অনাকাঙ্ক্ষিত পরামর্শের শিকার হতে পারেন।সুনীতা শুধুমাত্র ধর্মীয় খরচের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন নন, তিনি তাঁর স্বামীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “ওর স্কিন খারাপ হয়ে গেছে, ওর এখন খাওয়া-দাওয়া এবং ওজন নিয়ন্ত্রণের দিকে খেয়াল রাখা দরকার।” তিনি বিশ্বাস করেন যে, নিজের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা ঠিক রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “আমি বলি — তুমিই নিজের খেয়াল রাখো। অন্যদের কথা শুনলে কখনও ভালো হবে না।” এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, সুনীতা চাইছেন, গোবিন্দা নিজের দায়িত্ব সচেতনভাবে পালন করুন এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও ভুল পরামর্শ থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।অন্যদিকে, সুনীতা নিজের সামাজিক ও ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যও স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, তিনি ভবিষ্যতে একটি বৃদ্ধাশ্রম এবং প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করবেন, যা তিনি নিজস্ব অর্থায়নে করবেন। “আমি আমার নিজস্ব অর্থে করব এটা, কারণ তিনি আমাকে টাকা দেন না — বরং তাঁর 'চামচা'দের দেন।” এই কথার মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, তিনি স্বামীর ব্যয় ও আচার-আচরণের উপর কোনওভাবে নির্ভরশীল নন, বরং নিজে থেকেই সামাজিক কাজে সক্রিয় হতে চান।গোবিন্দা এবং সুনীতা আহুজা ১৯৮৭ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। দীর্ঘ বছর তাদের দাম্পত্য জীবন নানা চড়াই-উৎরাইয় দিয়ে গেছে। সম্প্রতি কিছু সময়ে তাদের মধ্যে সম্পর্কের নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে। এসব গুঞ্জনের পেছনে রয়েছে ব্যক্তিগত মতভেদ, পারিবারিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং জীবনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত। এই সাক্ষাৎকারে সুনীতা স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি যা বলছেন তা শুধুমাত্র সত্য প্রকাশের উদ্দেশ্যে এবং তিনি চান যে তার স্বামী ও চারপাশের মানুষরা সচেতন হোক।সারসংক্ষেপে, সুনীতা আহুজা তাঁর স্বামীকে ঘিরে থাকা ধর্মীয় ব্যয়, বন্ধুবান্ধবের প্রভাব এবং স্বাস্থ্যের প্রতি নজরদারি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, ব্যয়বহুল পুজা-পাঠের চেয়ে সত্যিকারের আধ্যাত্মিকতা আসে সৎ কর্ম, নৈতিকতা ও নিজের চিন্তাভাবনা থেকে। তিনি চাইছেন, গোবিন্দা নিজের স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখুন, ভুল পরামর্শ এড়িয়ে চলুন এবং ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও কাজের মাধ্যমে জীবনের অর্থ উপলব্ধি করুন। সুনীতার এই মন্তব্য শুধুই একটি ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি নয়, এটি স্বামীর সুস্থতা ও সত্যিকারের আধ্যাত্মিকতার প্রতি তার গভীর উদ্বেগের প্রকাশ।