Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

চুলের যত্ন নিতে গিয়েই বিপদ! অতিরিক্ত চর্চায় চুল ঝরছে না তো? যে ভুলগুলি এড়িয়ে চলবেন

চুলের যত্নে তেল, শ্যাম্পু, কন্ডিশনারের পাশাপাশি নানা প্রসাধনী ব্যবহার করছেন? না জেনে অতিরিক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহারই চুলের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই চুলের ধরন বুঝে সঠিক প্রসাধনী বেছে নেওয়া জরুরি।

চুলের যত্ন নিতে গিয়েই বিপদ! অতিরিক্ত হেয়ার কেয়ারে বাড়ছে চুল ঝরা, কোন ভুলগুলি এড়িয়ে চলবেন?

স্বাস্থ্যকর, ঘন ও মজবুত চুলের স্বপ্ন দেখেন অনেকেই। সেই আশাতেই নিয়মিত তেল মাখা, শ্যাম্পু করা, কন্ডিশনার ব্যবহার করা থেকে শুরু করে নানা ধরনের হেয়ার সিরাম, হেয়ার মাস্ক ও অন্যান্য প্রসাধনী ব্যবহার করেন। বাজারে চুলের যত্নের জন্য একাধিক পণ্য সহজেই পাওয়া যায়। বিজ্ঞাপনে আকর্ষণীয় প্রতিশ্রুতি দেখে অনেকেই সেগুলি নিজের দৈনন্দিন হেয়ার কেয়ার রুটিনে যোগ করেন। কিন্তু চুলের ধরন, স্ক্যাল্পের অবস্থা এবং পণ্যের উপাদান সম্পর্কে না জেনে একের পর এক প্রসাধনী ব্যবহার করলে আদৌ কি উপকার পাওয়া যায়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলের যত্ন নেওয়া অবশ্যই জরুরি। তবে অতিরিক্ত পরিচর্যা, অনুপযুক্ত প্রসাধনী এবং ভুল অভ্যাস চুল ও স্ক্যাল্পের ক্ষতি করতে পারে। কখনও চুলের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট হয়, কখনও চুল ভেঙে যেতে শুরু করে, আবার কিছু ক্ষেত্রে চুলের গোড়ায় লাগাতার টান পড়ার কারণে স্থায়ী ক্ষতিও হতে পারে। তাই চুল ঝরার সমস্যা দেখা দিলে শুধু আরও বেশি প্রসাধনী ব্যবহার করাই সমাধান নয়। বরং প্রতিদিনের হেয়ার কেয়ার রুটিনে কোথায় ভুল হচ্ছে, তা খুঁজে বের করা প্রয়োজন।

অতিরিক্ত হেয়ার কেয়ারে কেন চুলের ক্ষতি হতে পারে?

চুলের যত্নে ব্যবহৃত প্রতিটি পণ্যের কাজ আলাদা। শ্যাম্পু মূলত স্ক্যাল্প ও চুলের ময়লা, ঘাম এবং অতিরিক্ত তেল পরিষ্কার করে। কন্ডিশনার চুলের উপরিভাগ মসৃণ রাখতে এবং জট কমাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, সিরাম বা হেয়ার মাস্ক নির্দিষ্ট প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা হয়। কিন্তু প্রয়োজন না বুঝে একসঙ্গে অনেক পণ্য ব্যবহার করলে চুলের প্রকৃত সমস্যাটি আড়াল হয়ে যেতে পারে।

কিছু প্রসাধনীতে থাকা উপাদান সংবেদনশীল স্ক্যাল্পে জ্বালা, চুলকানি বা শুষ্কতা তৈরি করতে পারে। আবার অতিরিক্ত তাপ, ঘন ঘন রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট এবং রুক্ষভাবে চুল আঁচড়ানোর ফলে চুলের বাইরের সুরক্ষামূলক স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে চুল দুর্বল হয়ে ভেঙে যায়।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—চুল ভেঙে যাওয়া এবং চুলের গোড়া থেকে ঝরে পড়া এক বিষয় নয়। চুলের দৈর্ঘ্য বরাবর ছোট ছোট অংশ ভেঙে গেলে চুল পাতলা দেখাতে পারে। অন্যদিকে, প্রকৃত চুল পড়ার ক্ষেত্রে চুলের বৃদ্ধিচক্র, হরমোন, বংশগত প্রবণতা, পুষ্টির ঘাটতি বা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যাও ভূমিকা নিতে পারে।

১. অতিরিক্ত শ্যাম্পু করা কি চুল ঝরার কারণ?

চুলের যত্নে শ্যাম্পু অপরিহার্য হলেও প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বার শ্যাম্পু করা কিছু মানুষের স্ক্যাল্পে শুষ্কতা ও অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। বিশেষত, যাঁদের মাথার ত্বক সংবেদনশীল বা যাঁরা শক্তিশালী ক্লিনজিং উপাদানযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি হতে পারে।

শ্যাম্পু করার সময় চুলের গোড়া ও স্ক্যাল্প পরিষ্কার করা প্রয়োজন। তবে খুব জোরে ঘষাঘষি করা, নখ দিয়ে স্ক্যাল্প আঁচড়ানো বা বারবার চুলে শ্যাম্পু লাগানো ঠিক নয়। এতে চুলের জট বাড়তে পারে এবং দুর্বল চুল সহজে ভেঙে যেতে পারে।

অনেক শ্যাম্পুতে সোডিয়াম লরেথ সালফেট (SLES) বা সোডিয়াম লরিল সালফেট (SLS)-এর মতো পরিষ্কার করার উপাদান থাকে। এগুলি ময়লা ও তেল সরাতে সাহায্য করে। তবে উপাদানগুলির প্রতি ব্যক্তিভেদে সংবেদনশীলতা আলাদা হতে পারে। তাই কোনও একটি উপাদান রয়েছে বলেই সব শ্যাম্পু ক্ষতিকর, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

কত ঘন ঘন শ্যাম্পু করবেন, তা নির্ভর করে স্ক্যাল্প কতটা তৈলাক্ত, ঘাম ও ময়লা জমার পরিমাণ, চুলের ধরন এবং দৈনন্দিন কাজকর্মের উপর। কারও প্রতিদিন শ্যাম্পু করার প্রয়োজন হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে সপ্তাহে কয়েক বার যথেষ্ট। শ্যাম্পুর পর স্ক্যাল্পে টান, চুলকানি বা অতিরিক্ত শুষ্কতা দেখা দিলে মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করার বিষয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

২. রাসায়নিকযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহারে সতর্ক থাকুন

চুল সোজা করা, কার্ল করা, রং করা কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে নির্দিষ্ট স্টাইল বজায় রাখার জন্য নানা ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করা হয়। প্রয়োজনের তুলনায় ঘন ঘন রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট করলে চুলের গঠন দুর্বল হতে পারে। চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া, ডগা ফেটে যাওয়া এবং মাঝখান থেকে ভেঙে পড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

একই সময়ে একাধিক নতুন পণ্য ব্যবহার করলে কোন পণ্যটি থেকে সমস্যা হচ্ছে, তা বোঝাও কঠিন হয়ে যায়। বিশেষ করে স্ক্যাল্পে জ্বালা, লালচে ভাব, চুলকানি বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে পণ্যটির ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

তবে সব হেয়ার প্রোডাক্টই ক্ষতিকর নয়। সঠিক পণ্য সঠিকভাবে ব্যবহার করলে চুলের পরিচর্যায় উপকার পাওয়া যায়। তাই বিজ্ঞাপনের দাবি বা অন্যের অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর না করে নিজের চুলের প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য বেছে নেওয়াই ভালো।

৩. খুব শক্ত করে চুল বাঁধার অভ্যাস ছাড়ুন

অনেকেই নিয়মিত টাইট পনিটেল, শক্ত করে বাঁধা খোঁপা, বেণি বা হেয়ার এক্সটেনশন ব্যবহার করেন। দেখতে সুন্দর লাগলেও দীর্ঘদিন ধরে চুলের গোড়ায় টান পড়লে ক্ষতি হতে পারে। বিশেষত, কপালের দুই পাশ, কানের উপরের অংশ এবং চুলের সামনের সারিতে এর প্রভাব দেখা যায়।

চুলে লাগাতার টান পড়ার কারণে যে ধরনের চুল পড়ার সমস্যা তৈরি হতে পারে, তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘ট্র্যাকশন অ্যালোপেশিয়া’ বলা হয়। প্রাথমিক অবস্থায় চুল বাঁধার ধরন বদলালে এবং টান কমালে ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে একই অভ্যাস চলতে থাকলে চুলের ফলিকল স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তাই চুল বাঁধার সময় অতিরিক্ত টান এড়িয়ে চলুন। নরম হেয়ার টাই ব্যবহার করুন, নিয়মিত একই জায়গায় টাইট পনিটেল বাঁধবেন না এবং চুলে ব্যথা বা টান অনুভব করলে সঙ্গে সঙ্গে স্টাইলটি আলগা করে নিন। হেয়ার এক্সটেনশন ব্যবহার করলে তার ওজন এবং লাগানোর পদ্ধতির দিকেও নজর দিন।

৪. অতিরিক্ত হিট স্টাইলিং কি চুল দুর্বল করে?

হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেটনার এবং কার্লিং আয়রনের মতো যন্ত্র নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শে আসে। বিশেষ করে খুব বেশি তাপমাত্রায় বা ভেজা চুলে স্ট্রেটনার ব্যবহার করলে চুলের গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

এর ফলে চুলের স্বাভাবিক মসৃণতা কমে যেতে পারে, ডগা ফেটে যেতে পারে এবং চুল সহজে ভেঙে পড়তে পারে। এই ধরনের ক্ষতিকে অনেক সময় চুল পড়া বলে মনে হলেও আসলে সেটি চুলের দৈর্ঘ্য বরাবর ভেঙে যাওয়ার সমস্যা হতে পারে।

সম্ভব হলে হিট স্টাইলিং কমিয়ে দিন। হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করলে কম তাপমাত্রা বেছে নিন এবং স্ট্রেটনার বা কার্লিং আয়রন ব্যবহারের আগে চুল সম্পূর্ণ শুকনো রাখুন। হিট প্রোটেক্ট্যান্ট পণ্য কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে, তবে তা অতিরিক্ত তাপের ক্ষতি পুরোপুরি আটকাতে পারে না।

৫. একসঙ্গে অনেক হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করা কি জরুরি?

বাজারে শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, সিরাম, লিভ-ইন কন্ডিশনার, হেয়ার মাস্ক, স্ক্যাল্প টনিক, তেল এবং নানা ধরনের ট্রিটমেন্ট পাওয়া যায়। সব পণ্য একসঙ্গে ব্যবহার করলেই যে চুল বেশি ভালো থাকবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই।

news image
আরও খবর

প্রথমে চুলের প্রকৃত প্রয়োজন বুঝতে হবে। স্ক্যাল্পে অতিরিক্ত তেল জমলে পরিষ্কারের প্রয়োজন হতে পারে। চুলের দৈর্ঘ্য শুষ্ক হলে কন্ডিশনার উপকারী হতে পারে। আবার নির্দিষ্ট ধরনের চুল পড়ার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে বিশেষ চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।

অপ্রয়োজনীয় পণ্য ব্যবহার করলে স্ক্যাল্পে অবশিষ্ট পদার্থ জমা, অস্বস্তি বা কোনও কোনও উপাদানে প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত খরচও বাড়ে। তাই সহজ একটি রুটিন তৈরি করুন—প্রয়োজনমতো শ্যাম্পু, চুলের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী কন্ডিশনার এবং প্রয়োজন হলে উপযুক্ত অতিরিক্ত পণ্য।

একসঙ্গে একাধিক নতুন পণ্য শুরু না করে একটি করে ব্যবহার করা ভালো। এতে কোনও পণ্য ব্যবহারের পর সমস্যা দেখা দিলে তার সম্ভাব্য কারণ চিহ্নিত করা সহজ হয়।

৬. চুল পড়ার পিছনে শুধু হেয়ার কেয়ার দায়ী নয়

চুল পড়ার সব সমস্যার কারণ অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহার নয়। বংশগত প্রবণতা, হরমোনের পরিবর্তন, থাইরয়েডের সমস্যা, আয়রনের ঘাটতি, অপর্যাপ্ত পুষ্টি, মানসিক চাপ, অসুস্থতা এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও চুল পড়ার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।

কখনও জ্বর, বড় কোনও অসুস্থতা, অস্ত্রোপচার, সন্তান প্রসব বা তীব্র মানসিক চাপের কয়েক মাস পর সাময়িকভাবে বেশি চুল ঝরতে পারে। এই ধরনের চুল পড়ার ক্ষেত্রে শুধু শ্যাম্পু বা তেল বদলালে সমস্যার মূল কারণ দূর হয় না।

তাই চুল পড়ার পরিমাণ হঠাৎ বেড়ে গেলে, মাথার নির্দিষ্ট অংশে চুল পাতলা হয়ে গেলে, গোলাকার টাক দেখা দিলে অথবা স্ক্যাল্পে ব্যথা, চুলকানি, লালচে ভাব কিংবা ক্ষত তৈরি হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক পরীক্ষা করে কারণ নির্ধারণ করতে পারেন।

৭. হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট কি সব সমস্যার স্থায়ী সমাধান?

চুল পড়ার সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চললে অনেকে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টের কথা ভাবেন। কিন্তু এই পদ্ধতি সবার জন্য উপযুক্ত নয়। হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টে সাধারণত মাথার একটি অংশ থেকে চুলের ফলিকল নিয়ে অন্য অংশে প্রতিস্থাপন করা হয়। এটি নির্দিষ্ট ধরনের চুল পড়ার ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে।

তবে সক্রিয় চুল পড়ার কারণ, স্ক্যাল্পের অবস্থা, চুলের ঘনত্ব এবং ভবিষ্যতে চুল পড়ার সম্ভাবনা বিবেচনা না করে শুধু অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। ট্রান্সপ্লান্টের পরও স্বাভাবিক চুলের যত্ন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হতে পারে।

যাঁদের চুলের গোড়া বারবার টান পড়া বা প্রদাহের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে আগে সমস্যার কারণ নির্ণয় করা জরুরি। স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ফলিকল থেকে স্বাভাবিকভাবে চুল গজানোর সম্ভাবনা কমে যেতে পারে। তাই হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টের আগে যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

৮. চুলের যত্নে কোন অভ্যাসগুলি মেনে চলবেন?

চুলের যত্নে জটিল রুটিনের চেয়ে নিয়মিত ও উপযুক্ত পরিচর্যা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকটি সহজ অভ্যাস মেনে চলতে পারেন।

প্রথমত, নিজের স্ক্যাল্পের ধরন বুঝুন। স্ক্যাল্প তৈলাক্ত না শুষ্ক, চুলে খুশকি বা চুলকানি রয়েছে কি না, তা বুঝে পণ্য বেছে নিন।

দ্বিতীয়ত, প্রয়োজন অনুযায়ী শ্যাম্পু করুন। চুল পরিষ্কার রাখুন, তবে অতিরিক্ত ঘষাঘষি বা অপ্রয়োজনীয় বারবার শ্যাম্পু করা এড়িয়ে চলুন।

তৃতীয়ত, কন্ডিশনার সঠিকভাবে ব্যবহার করুন। সাধারণত চুলের মাঝের অংশ থেকে ডগা পর্যন্ত কন্ডিশনার লাগানো উপকারী। পণ্যের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করুন।

চতুর্থত, ভেজা চুলের সঙ্গে সাবধানে আচরণ করুন। ভেজা চুল তুলনামূলকভাবে বেশি দুর্বল থাকতে পারে। তাই জোরে ঘষে মুছবেন না, জট ছাড়ানোর সময় ধীরে আঁচড়ান এবং টানাটানি এড়িয়ে চলুন।

পঞ্চমত, টাইট হেয়ারস্টাইল ও অতিরিক্ত তাপ কমান। প্রতিদিন শক্ত করে চুল বাঁধা বা নিয়মিত উচ্চ তাপমাত্রায় স্টাইলিং করার অভ্যাস বদলান।

ষষ্ঠত, সুষম খাবার খান। পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টি চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে পরীক্ষা বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে উচ্চ মাত্রার সাপ্লিমেন্ট শুরু করবেন না।

সপ্তমত, সমস্যার লক্ষণ উপেক্ষা করবেন না। চুল পড়া দীর্ঘস্থায়ী হলে বা দ্রুত বাড়লে শুধু প্রসাধনী বদলে অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের সাহায্য নিন।

উপসংহার: চুলের যত্নে বেশি নয়, সঠিক পরিচর্যাই গুরুত্বপূর্ণ

ঘন, মজবুত ও স্বাস্থ্যকর চুল পেতে নিয়মিত পরিচর্যা প্রয়োজন। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে প্রতিদিন একাধিক প্রসাধনী ব্যবহার করতে হবে বা চুলকে বারবার নানা ট্রিটমেন্টের মধ্যে দিয়ে নিয়ে যেতে হবে। অতিরিক্ত শ্যাম্পু, অনুপযুক্ত পণ্য, ঘন ঘন হিট স্টাইলিং এবং খুব শক্ত করে চুল বাঁধার মতো অভ্যাস চুলের ক্ষতি করতে পারে।

তবে চুল ঝরার কারণ সবার ক্ষেত্রে এক নয়। তাই নিজের চুলের ধরন বুঝে সহজ রুটিন তৈরি করুন, নতুন পণ্য ব্যবহারে সতর্ক থাকুন এবং চুল পড়া বেড়ে গেলে তার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করুন। প্রয়োজন হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, চুলের যত্নে সঠিক অভ্যাসই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—অতিরিক্ত প্রসাধনী নয়।

Preview image