Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

সিকিমে Weather Disaster লাগাতার বৃষ্টিতে রিম্বি গ্রামে বড়সড় ভূমিধস

লাগাতার বৃষ্টিতে পশ্চিম সিকিমের রিম্বি গ্রামে ভয়াবহ Landslide। বড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক বাড়িঘর, বিপর্যস্ত জনজীবন।

সিকিমে Weather Disaster লাগাতার বৃষ্টিতে রিম্বি গ্রামে বড়সড় ভূমিধস
দুর্ঘটনা

Sikkim Landslide News: লাগাতার বৃষ্টির জেরে ফের বড়সড় ভূমিধসের ঘটনা ঘটল সিকিমে। পশ্চিম সিকিমের ইয়াকসাম-তাশিডিং কেন্দ্রের অন্তর্গত রিম্বি গ্রামে বৃহস্পতিবার রাতে ভয়াবহ ধস নামে। পাহাড়ের উপর থেকে মাটি, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে লোকালয়ের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে একাধিক বাড়ি এবং সরকারি কোয়ার্টার ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে জানানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

রিম্বি ও সংলগ্ন এলাকায় গত কয়েকদিন ধরেই ভূমিধসের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। লাগাতার বৃষ্টির ফলে পাহাড়ি এলাকার মাটি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। বৃহস্পতিবার রাতের নতুন ধস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ধসের মাটি ও পাথর বসতিপূর্ণ এলাকায় ঢুকে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রিম্বি গ্রামে ভয়াবহ ভূমিধস

রিম্বি গ্রামে বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনাটি ঘটে টানা বৃষ্টির মধ্যেই। পাহাড়ের ঢাল থেকে বিপুল পরিমাণ মাটি, পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ নিচের দিকে নেমে আসে। সেই ধ্বংসাবশেষ লোকালয়ের একাধিক অংশে পৌঁছে যায়। বেশ কিছু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস বা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ দফতরের সরকারি কোয়ার্টারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, রিম্বি এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সংখ্যা ৩০-এর বেশি হতে পারে এবং একটি রিপোর্টে প্রায় ৩৫টি বাড়ির ক্ষতির কথা বলা হয়েছে। বেশ কিছু পরিবারকে ইতিমধ্যেই নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাঁরা ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

প্রাণহানি না হলেও বাড়ছে উদ্বেগ

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ভয়াবহ ধসের পরও এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে লাগাতার বৃষ্টি এবং পাহাড়ের মাটির অস্থিতিশীল অবস্থার কারণে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নতুন করে ধস নামার আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে।

সিকিম প্রশাসন আগে থেকেই রিম্বি ও সিংলিটাম এলাকার ভূমিধস পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলির জন্য ত্রাণ ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন স্থানীয় বাসিন্দাদের সক্রিয় ধসের এলাকা থেকে দূরে থাকতে এবং ভারী বৃষ্টির সময় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়াতে পরামর্শ দিয়েছে।

NH10-এ ফের ধস, বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা

শুধু রিম্বি নয়, সিকিমের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও প্রভাব পড়েছে। সিকিমের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অংশের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা NH10-এর ২০ মাইল ও বর্দাং এলাকায় ধসের খবর পাওয়া গিয়েছে। এর ফলে ওই অংশে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি রাস্তায় মাটি ও পাথর পড়ে যাওয়ায় যাতায়াত আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

NH10 সিকিমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগপথ। এই রাস্তা দিয়ে রংপো, সিকিমের বিভিন্ন এলাকা এবং গ্যাংটকের মধ্যে যাতায়াত করা হয়। তাই রাস্তার কোনও অংশে ধস নামলে শুধু স্থানীয় যানবাহন নয়, পর্যটক ও অন্যান্য যাত্রীদের যাতায়াতেও প্রভাব পড়ে। ২০ মাইল ও বর্দাংয়ের পরিস্থিতির কারণে রাস্তার ওই অংশকে নিয়ে বিশেষ সতর্কতা তৈরি হয়েছে।

দার্জিলিং ও কালিম্পংয়েও বৃষ্টির প্রভাব

সিকিমের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকাতেও বৃষ্টির প্রভাব দেখা যাচ্ছে। দার্জিলিং এবং কালিম্পং জেলার কয়েকটি এলাকায় ধসের খবর পাওয়া গিয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় টানা বৃষ্টির কারণে রাস্তার উপর মাটি ও পাথর নেমে আসার পাশাপাশি কোথাও কোথাও গাছ পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

কালিম্পংয়ে গাছ পড়ে যাওয়ার কারণে NH10-এর একটি অংশে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। ফলে সিকিম ও উত্তরবঙ্গের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উপরও প্রভাব পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে পাহাড়ি রাস্তায় যাতায়াতের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন রয়েছে।

কেন বারবার ধস নামছে?

হিমালয় সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকাগুলিতে ভারী বৃষ্টির সময় ভূমিধসের ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি হলে পাহাড়ের মাটিতে জল ঢুকে মাটির স্থিতিশীলতা কমতে পারে। এর ফলে পাহাড়ের ঢাল থেকে মাটি, পাথর ও গাছপালা নিচে নেমে আসার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

রিম্বি ও সংলগ্ন এলাকায় এর আগেও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি তথ্যেও সেপ্টেম্বর মাসে রিম্বি ও সিংলিটাম এলাকার ভূমিধস পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণ ও রাস্তা মেরামতের কাজের কথা জানানো হয়েছিল।

এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতেও রিম্বি এলাকায় ভূমিধসের কারণে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছিল। প্রশাসন এবং বিভিন্ন দফতরের যৌথ উদ্যোগে রাস্তা পরিষ্কার করে যোগাযোগ পুনরুদ্ধারের কাজ করা হয়েছিল।

news image
আরও খবর

প্রশাসনের নজরদারি

নতুন ধসের পর প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের তরফে আগে থেকেই রিম্বি ও সিংলিটাম এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলিকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ত্রাণ শিবির তৈরির ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।

সাধারণ মানুষের জন্য সতর্কতা

লাগাতার বৃষ্টির সময় পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী এবং যাতায়াতকারী মানুষদের বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনও জায়গায় নতুন ফাটল দেখা দিলে, মাটির নড়াচড়া লক্ষ্য করলে অথবা পাহাড় থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শুনতে পেলে দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়া জরুরি।

সিকিম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি আগেই সক্রিয় ভূমিধস এলাকা, জমে থাকা ধ্বংসাবশেষ, নদী ও নালা সংলগ্ন এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। ভারী বৃষ্টির সময় রাতে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।

পর্যটকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট

সিকিমে এই সময় পর্যটকদের যাতায়াতের উপরও আবহাওয়ার প্রভাব পড়তে পারে। পাহাড়ি রাস্তায় ধসের কারণে কোনও কোনও জায়গায় যান চলাচল বন্ধ বা সীমিত হতে পারে। তাই যাঁরা সিকিম, দার্জিলিং বা কালিম্পং ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের যাত্রার আগে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের রাস্তার পরিস্থিতি সম্পর্কে আপডেট নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে NH10-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি সড়কে ধসের ঘটনা ঘটলে বিকল্প রুট, যান চলাচলের বিধিনিষেধ বা রাস্তা পরিষ্কারের কাজের কারণে যাত্রার সময় বাড়তে পারে।

রিম্বির বর্তমান পরিস্থিতি

রিম্বি গ্রামের সাম্প্রতিক ভূমিধস ফের প্রমাণ করেছে যে টানা বৃষ্টির সময়ে পাহাড়ি এলাকার পরিস্থিতি কত দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। একদিকে বাড়িঘর ও সরকারি পরিকাঠামোর ক্ষতি, অন্যদিকে রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।

তবে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানির খবর না পাওয়া স্বস্তির বিষয়। প্রশাসনের তৎপরতায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলিকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। আগামী কয়েক ঘণ্টা এবং দিনগুলিতে বৃষ্টির পরিস্থিতি এবং নতুন করে ধস নামে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।

Sikkim Landslide, Rimbi Landslide, West Sikkim Landslide, NH10 Landslide, Sikkim Heavy Rain, Rimbi Village, Yuksom Tashiding, Gyalshing, Bardang Landslide, 20 Mile Landslide, Darjeeling Landslide, Kalimpong Landslide এবং North Bengal Weather—এই ঘটনাকে ঘিরে এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ সার্চ টার্ম হয়ে উঠেছে।

সিকিমের রিম্বি গ্রামে ভয়াবহ ভূমিধসের পর পরিস্থিতি এখনও নজরদারিতে রয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে আরও কোথাও ধস নামছে কি না, রাস্তা যোগাযোগ স্বাভাবিক হচ্ছে কি না এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য প্রশাসনের তরফে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে—এসবের উপর পরবর্তী আপডেট নির্ভর করছে।

সিকিমের রিম্বি গ্রামের এই ভূমিধসের ঘটনা ফের পাহাড়ি এলাকায় দুর্যোগ মোকাবিলার গুরুত্ব সামনে এনেছে। টানা বৃষ্টির কারণে শুধু বসতবাড়ি নয়, রাস্তা, বিদ্যুৎ পরিষেবা এবং স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে NH10-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়কে ধস নামায় সিকিমের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগের উপর চাপ তৈরি হয়েছে। রাস্তার বিভিন্ন অংশে মাটি, পাথর ও গাছ পড়ে থাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক করতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে দ্রুত কাজ করতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হল নতুন করে ধস নামার সম্ভাবনা। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পাহাড়ের মাটি আরও নরম হয়ে যেতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা মানুষদের সতর্ক থাকা এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে পর্যটকদেরও আবহাওয়া ও রাস্তার সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে যাত্রা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনে বৃষ্টির পরিস্থিতি ও রাস্তা পুনরায় খোলার বিষয়ে প্রশাসনের আপডেটের দিকেই নজর থাকবে।

Preview image