Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

দিল্লির সহকারী কোচ হওয়ার আগে সৌরভের কী প্রশ্ন ছিল যুবরাজকে? ফাঁস করলেন যুবরাজ নিজেই

২০০০ সালে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের অধিনায়কত্বে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় যুবরাজ সিংয়ের। যুবরাজের কেরিয়ারে সৌরভের অবদানের কথাও বারবার উঠে এসেছে।

‘গত ২৫ বছর ধরে তোমার সহকারী’, দিল্লিতে যোগ দেওয়ার আগে সৌরভকে কী বলেছিলেন যুবরাজ?

আইপিএলের আগামী মরসুমে আরও এক বার একসঙ্গে দেখা যাবে ভারতীয় ক্রিকেটের দুই প্রাক্তন তারকা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও যুবরাজ সিংহকে। এক সময় ভারতীয় দলের জার্সিতে একসঙ্গে খেলেছেন তাঁরা। সৌরভের অধিনায়কত্বে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল যুবরাজের। এ বার সেই সৌরভের সঙ্গেই নতুন ভূমিকায় কাজ করতে চলেছেন যুবি। দিল্লি ক্যাপিটালসের প্রধান কোচ হয়েছেন সৌরভ। অন্য দিকে, দিল্লির সহকারী কোচ তথা ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন যুবরাজ। নতুন মরসুমে তাঁদের এই জুটি ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে আগ্রহ। তবে দিল্লির কোচিং দলে যোগ দেওয়ার আগে সৌরভ ও যুবরাজের মধ্যে কী কথা হয়েছিল, তা প্রকাশ্যে এনে পুরনো সম্পর্কের এক মজার দিক তুলে ধরেছেন যুবরাজ নিজেই।

দিল্লি ক্যাপিটালসের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিয়োয় সেই কথোপকথনের কথা জানিয়েছেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার। সৌরভের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে যুবরাজ জানান, দিল্লির কোচিং দলে যোগ দেওয়ার আগে সৌরভ তাঁকে একটি প্রশ্ন করেছিলেন। সেই প্রশ্নের উত্তরে যুবরাজ যা বলেছিলেন, তা শুনলে তাঁদের সম্পর্কের গভীরতা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়।

যুবরাজের কথায়, “দাদা আমাকে প্রশ্ন করেছিল, ‘তুমি কি আমার সহকারী হবে?’ আমি বলেছিলাম, ‘গত ২৫ বছর ধরে আমি তোমার সহকারী। আমি তো সেই একই কাজ করব।’”

যুবরাজের এই কথার মধ্যে যেমন মজার ছোঁয়া রয়েছে, তেমনই রয়েছে সৌরভের প্রতি তাঁর দীর্ঘদিনের শ্রদ্ধা ও ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত। ক্রিকেটার হিসেবে যাঁর অধিনায়কত্বে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু, এ বার সেই সৌরভের সঙ্গেই দলের কোচিংয়ের দায়িত্ব সামলাবেন যুবরাজ। মাঠে ক্রিকেটার হিসেবে যে সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল, এ বার তা নতুন রূপে দেখা যাবে ডাগআউটে।

সৌরভের অধিনায়কত্বেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক যুবরাজের

২০০০ সালে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের অধিনায়কত্বে ভারতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল যুবরাজ সিংহের। সেই সময় ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের উঠে আসার পর্ব চলছিল। সৌরভের নেতৃত্বে ভারতীয় দল নতুন মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। তরুণ ক্রিকেটারদের উপর আস্থা রাখা এবং তাঁদের নিজেদের দক্ষতা মেলে ধরার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে সৌরভের ভূমিকা নিয়ে বহু বার আলোচনা হয়েছে। যুবরাজও বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন, তাঁর ক্রিকেটজীবনে সৌরভের অবদান গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতীয় ক্রিকেটে যুবরাজের উত্থান ছিল উল্লেখযোগ্য। ব্যাট হাতে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রান করা এবং ফিল্ডিংয়ে অসাধারণ দক্ষতার জন্য দ্রুত পরিচিতি পেয়েছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ভারতের একাধিক স্মরণীয় জয়ের সঙ্গে জড়িয়ে যায় তাঁর নাম। ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০১১ সালের এক দিনের বিশ্বকাপ জয়ে যুবরাজের অবদান ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।

তবে সেই সাফল্যের যাত্রা শুরু হয়েছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সুযোগ পাওয়ার মধ্য দিয়ে। আর সেই সুযোগের সময় ভারতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন সৌরভ। ফলে তাঁদের সম্পর্ক কেবল দু’জন প্রাক্তন সতীর্থের সম্পর্ক নয়, বরং একজন তরুণ ক্রিকেটারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সময়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ও।

যুবরাজ বহু বার সৌরভকে নিজের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটীয় প্রভাব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাই দিল্লি ক্যাপিটালসের কোচিং দলে তাঁদের একসঙ্গে কাজ করার খবর সামনে আসার পর পুরনো সেই সম্পর্ক আবার আলোচনায় উঠে এসেছে।

নতুন ভূমিকায় যুবরাজ, সামনে অন্য রকম চ্যালেঞ্জ

ক্রিকেটার হিসেবে দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার পর এ বার কোচিংয়ের দায়িত্বে নিজেকে আরও বেশি করে যুক্ত করতে চলেছেন যুবরাজ। তাঁর মতে, গত কয়েক বছর ধরেই এই ধরনের কাজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছেন তিনি। এর আগে একাধিক তরুণ ক্রিকেটারের সঙ্গে আলাদা করে কাজ করেছেন যুবরাজ। সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে নতুন দায়িত্বের জন্য তৈরি হতে সাহায্য করেছে।

নতুন দায়িত্ব নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে যুবরাজ বলেন, “আমার খুব ভাল লেগেছিল। গত তিন-চার বছর ধরে এই ধরনের কাজের জন্যই নিজেকে তৈরি করেছি। আলাদা করে ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজ করেছি। কিন্তু এ ভাবে একটা গোটা দলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা প্রথম বার হবে।”

যুবরাজের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, ব্যক্তিগত ভাবে ক্রিকেটারদের সাহায্য করা এবং একটি সম্পূর্ণ দলের সঙ্গে কোচিংয়ের দায়িত্ব পালন করাকে তিনি আলাদা অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন। কোনও একজন ক্রিকেটারের ব্যাটিং, মানসিক প্রস্তুতি কিংবা খেলার নির্দিষ্ট দিক নিয়ে কাজ করার সঙ্গে পুরো দলের পরিকল্পনার অংশ হওয়া এক নয়। দলের বিভিন্ন ক্রিকেটারের প্রয়োজন, তাঁদের দক্ষতা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের ভূমিকা বোঝার বিষয়টিও সেখানে গুরুত্বপূর্ণ।

দিল্লি ক্যাপিটালসের ব্যাটিং কোচ হিসেবে যুবরাজের দায়িত্ব তাই শুধু ব্যাটিংয়ের খুঁটিনাটি শেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। দলের ব্যাটারদের প্রস্তুতি, তাঁদের আত্মবিশ্বাস এবং ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো বিষয়েও তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে। যদিও নতুন মরসুমে ঠিক কী ভাবে তিনি নিজের ভূমিকা পালন করবেন, তা সময়ই বলবে।

news image
আরও খবর

তবে তরুণ ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে নতুন নয়। শুভমন গিল, অভিষেক শর্মার মতো ক্রিকেটারদের উন্নতির সঙ্গে যুবরাজের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের প্রসঙ্গ বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে। তরুণ প্রতিভাদের সঙ্গে কাজ করার সেই অভিজ্ঞতা এ বার দিল্লির মতো একটি আইপিএল দলের বৃহত্তর পরিসরে কাজে লাগানোর সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।

সৌরভের কাছ থেকে শেখা শিক্ষা এ বার দিল্লির ক্রিকেটারদের দিতে চান যুবি

যুবরাজের কাছে সৌরভ শুধু প্রাক্তন অধিনায়ক নন, বরং ক্রিকেটজীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ পথপ্রদর্শক। সৌরভের অধিনায়কত্বে খেলার সময় যে অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা পেয়েছিলেন, এ বার তা দিল্লি ক্যাপিটালসের ক্রিকেটারদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান তিনি। বিশেষ করে সাজঘরের পরিবেশ, দলের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস এবং চাপের মধ্যে নিজেদের উপর আস্থা রাখার বিষয়গুলিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন যুবরাজ।

সৌরভের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষার কথা বলতে গিয়ে যুবরাজ বলেন, “দাদার কাছে সবচেয়ে বড় যে শিক্ষা পেয়েছি, তা হল, কী ভাবে একটা ফুরফুরে সাজঘর তৈরি করা। আমার শুরু ওর অধিনায়কত্বে হয়েছিল। দাদা আমাদের বিশ্বাস করতে শিখিয়েছিল যে, আমরাই সেরা। দেশের বাইরেও আমরা জিততে পারি। আমি ওকে বরাবর আমার বড় দাদা হিসেবেই দেখে এসেছি। সেই দাদার সঙ্গে এ বার কাজ করব।”

এই বক্তব্যে সৌরভের নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন যুবরাজ। একটি দলের সাফল্যের জন্য শুধু প্রতিভা কিংবা দক্ষতা যথেষ্ট নয়, ক্রিকেটারদের নিজেদের উপর বিশ্বাস রাখাও জরুরি। বিশেষ করে বিদেশের মাঠে খেলতে গেলে পরিস্থিতি অনেক সময় প্রতিকূল হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে দলকে একজোট রাখা এবং ক্রিকেটারদের মনে জয়ের বিশ্বাস তৈরি করা অধিনায়কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

সৌরভের অধিনায়কত্বে খেলার সময় যুবরাজ যে অভিজ্ঞতা পেয়েছিলেন, তা তাঁর নিজের ক্রিকেটীয় ভাবনাকেও প্রভাবিত করেছে। এ বার কোচ হিসেবে সেই অভিজ্ঞতা অন্য ক্রিকেটারদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। দলের মধ্যে স্বচ্ছন্দ পরিবেশ তৈরি করা, ক্রিকেটারদের নিজেদের দক্ষতার উপর আস্থা রাখতে শেখানো এবং ব্যর্থতার পরেও ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা তৈরি করা—এই বিষয়গুলি কোচিংয়ের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

যুবরাজের বক্তব্যে সৌরভের প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধার কথাও উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সৌরভকে বড় দাদার মতো দেখেছেন। তাই তাঁর সঙ্গে নতুন ভূমিকায় কাজ করার সুযোগ যুবরাজের কাছে নিছক পেশাগত দায়িত্ব নয়, বরং ক্রিকেটজীবনের একটি বিশেষ অভিজ্ঞতাও।

দিল্লি ক্যাপিটালসের নতুন জুটির দিকে নজর

আইপিএলে একটি দলের সাফল্যের পিছনে ক্রিকেটারদের পাশাপাশি কোচিং স্টাফের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। মরসুমের আগে পরিকল্পনা তৈরি করা, ক্রিকেটারদের প্রস্তুত রাখা, দলের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং প্রতিযোগিতার চাপ সামলানোর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা কোচিং দলের অন্যতম দায়িত্ব। দিল্লি ক্যাপিটালসের প্রধান কোচ হিসেবে সৌরভের অভিজ্ঞতা এবং সহকারী তথা ব্যাটিং কোচ হিসেবে যুবরাজের ক্রিকেটীয় জ্ঞান এই দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সৌরভ ভারতীয় ক্রিকেটে অধিনায়ক ও প্রশাসক—দু’টি ভূমিকাতেই কাজ করেছেন। যুবরাজের রয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং বড় প্রতিযোগিতায় চাপ সামলে পারফর্ম করার নজির। তাঁদের ক্রিকেটীয় অভিজ্ঞতার পরিসর আলাদা হলেও, ভারতীয় দলের হয়ে একসঙ্গে খেলার অতীত তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি করেছে।

তবে আইপিএলের মতো প্রতিযোগিতায় সাফল্য নির্ভর করবে মাঠের পারফরম্যান্স, দলের ভারসাম্য, ক্রিকেটারদের ধারাবাহিকতা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপর। কোচিং দলে অভিজ্ঞ দুই প্রাক্তন ক্রিকেটারের উপস্থিতি দিল্লি ক্যাপিটালসের জন্য কতটা কার্যকর হবে, তা বোঝা যাবে প্রতিযোগিতা এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে।

যুবরাজের কাছে আপাতত সবচেয়ে বড় বিষয় হল, ক্রিকেটার হিসেবে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তা নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের কাজে লাগানো। আর সেই কাজ করতে গিয়ে পাশে পাচ্ছেন এমন এক মানুষকে, যাঁর অধিনায়কত্বে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের যাত্রা শুরু হয়েছিল।

দিল্লি ক্যাপিটালসে তাঁদের এই নতুন অধ্যায়ের শুরু তাই শুধু দুই প্রাক্তন ক্রিকেটারের পুনর্মিলন নয়। এটি পুরনো সম্পর্ক, দীর্ঘদিনের আস্থা এবং ক্রিকেট থেকে শেখা অভিজ্ঞতাকে নতুন ভূমিকায় কাজে লাগানোরও গল্প। সৌরভের প্রশ্নের উত্তরে যুবরাজের ‘গত ২৫ বছর ধরে তোমার সহকারী’ মন্তব্য সেই সম্পর্কেরই এক মজার প্রকাশ। এখন দেখার, মাঠের বাইরে গড়ে ওঠা এই বোঝাপড়া দিল্লি ক্যাপিটালসের সাজঘর এবং দলের পারফরম্যান্সে কতটা প্রভাব ফেলে।

Preview image