গ্রীষ্মের বাগান রঙিন করে তুলতে জিনিয়ার সঙ্গে লাগাতে পারেন আরও কয়েক ধরনের ফুলের গাছ তাদের পাতা ও ফুলের ভিন্ন রঙ ও গঠনে বাগানে যোগ হবে নতুন সৌন্দর্য ও প্রাণ। ??
গ্রীষ্মের বাগান মানেই উজ্জ্বল রঙের ফুল, রোদে ঝলমলে পাপড়ি আর প্রজাপতির আনাগোনা। এই সময় বাগানে যে ফুলটি সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে, তা হল Zinnia। সাদা, লাল, হলুদ, কমলা, গোলাপি কিংবা বেগুনি—নানান রঙের জিনিয়া ফুটলে বাগানের পরিবেশই বদলে যায়।
তবে শুধু জিনিয়া লাগালেই বাগান সম্পূর্ণ হয় না। তার সঙ্গে যদি কিছু মানানসই ফুলের গাছ রাখা যায়, তবে বাগানের সৌন্দর্য আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সঠিক গাছ বেছে নিলে শুধু ফুলের রংই নয়, পাতার গঠন, উচ্চতা এবং গাছের বিস্তার—সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক আকর্ষণীয় ফুলের বাগান।
গ্রীষ্মের বাগান সাজাতে জিনিয়ার সঙ্গে কয়েকটি বিশেষ ফুলের গাছ লাগানো যেতে পারে। এই গাছগুলি একই ধরনের পরিবেশে ভাল বেড়ে ওঠে এবং একসঙ্গে থাকলে বাগানে তৈরি হয় রঙের অসাধারণ সমন্বয়।
জিনিয়া ফুলের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ তার সহজ পরিচর্যা। নতুন বাগানপ্রেমীদের জন্যও এই গাছ খুবই উপযোগী।
জিনিয়ার কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য—
অল্প যত্নেই দ্রুত বেড়ে ওঠে
গরম আবহাওয়ায় ভাল থাকে
দীর্ঘ সময় ধরে ফুল দেয়
বিভিন্ন রঙে পাওয়া যায়
প্রজাপতি ও মৌমাছি আকৃষ্ট করে
বাগানে যদি জিনিয়া থাকে, তবে তা স্বাভাবিকভাবেই নজর কাড়ে। কিন্তু সেই সৌন্দর্যকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে আরও কিছু ফুলের গাছ।
জিনিয়ার পাশে লাগানোর জন্য অন্যতম সুন্দর ফুলের গাছ হল Salvia।
সালভিয়া গাছের ফুল সাধারণত লাল, নীল বা বেগুনি রঙের হয়। এই উজ্জ্বল রঙ জিনিয়ার সঙ্গে একসঙ্গে ফুটলে বাগানে তৈরি হয় চোখধাঁধানো রঙের সমাহার।
১. উভয় গাছই সূর্যালোক পছন্দ করে
২. গ্রীষ্মে ভালোভাবে বেড়ে ওঠে
৩. প্রজাপতি ও পাখিকে আকৃষ্ট করে
৪. ফুলের আকার ও গঠনে বৈচিত্র আনে
সালভিয়া গাছ লাগানোর সময় কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।
গাছটি পূর্ণ সূর্যালোক পছন্দ করে
মাটিতে যেন জল জমে না থাকে
টব বা বাগানের মাটি ঝুরঝুরে হওয়া প্রয়োজন
নিয়মিত কিন্তু পরিমিত জল দিতে হবে
জিনিয়ার পাশে কয়েকটি সালভিয়া গাছ লাগালে বাগানে এক ধরনের উচ্চতা ও গঠনগত বৈচিত্র তৈরি হয়।
জিনিয়ার সঙ্গে লাগানো যায় আর একটি সুন্দর ফুলের গাছ—Peony।
পিওনি ফুল তার বড় আকার এবং থোকা থোকা পাপড়ির জন্য বিখ্যাত। গোলাপি, সাদা বা লাল রঙের এই ফুল ফুটলে বাগানের সৌন্দর্য অনেকটাই বেড়ে যায়।
পিওনি ফুলের কয়েকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে—
বড় ও আকর্ষণীয় ফুল
দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকে
গাছটি বেশ ঘন হয়
ফুলের গন্ধ মনোরম
জিনিয়ার তুলনায় পিওনির ফুল অনেক বড়। ফলে দুই ধরনের ফুল একসঙ্গে থাকলে বাগানে দৃষ্টিনন্দন বৈচিত্র তৈরি হয়।
পিওনি গাছ লাগানোর সময় কিছু বিষয় মাথায় রাখা দরকার।
দিনে অন্তত ৬ ঘণ্টা সূর্যালোক দরকার
মাটিতে ভাল জলনিকাশি থাকা প্রয়োজন
জিনিয়ার গাছ থেকে একটু দূরে লাগানো উচিত
মাটিতে জৈব সার দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়
এই গাছ খুব বেশি পরিচর্যা চায় না, ফলে ব্যস্ত জীবনেও সহজেই এই ফুলের গাছ বাগানে রাখা যায়।
গ্রীষ্মের বাগানে জিনিয়ার সঙ্গে লাগানোর জন্য আর একটি জনপ্রিয় গাছ হল Catharanthus roseus, যাকে আমরা সাধারণত নয়নতারা বলে চিনি।
এই গাছের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল—অত্যন্ত কম যত্নে সারা বছরই ফুল ফোটাতে পারে।
গরম সহ্য করতে পারে
কম জলেই বাঁচে
দ্রুত ফুল ফোটে
খুব কম পোকামাকড় হয়
জিনিয়া, সালভিয়া ও পিওনির সঙ্গে নয়নতারা লাগালে বাগান আরও ঘন ও রঙিন দেখায়।
টবে বা মাটিতে সহজেই লাগানো যায়
মাঝারি সূর্যালোক দরকার
অতিরিক্ত জল দেওয়া যাবে না
মাঝে মাঝে জৈব সার দিলে ফুল বেশি হয়
নয়নতারা গাছের ফুল ছোট হলেও সংখ্যায় অনেক বেশি হয়। ফলে বাগানে সবসময় ফুল ফুটে থাকার অনুভূতি তৈরি হয়।
জিনিয়া, সালভিয়া, পিওনি এবং নয়নতারা—এই চার ধরনের ফুল একসঙ্গে লাগালে বাগানে তৈরি হয় রঙের অসাধারণ মেলবন্ধন।
এই গাছগুলির মধ্যে কয়েকটি বিশেষ মিল রয়েছে—
সবই গ্রীষ্মে ভাল বেড়ে ওঠে
সূর্যালোক পছন্দ করে
সহজে পরিচর্যা করা যায়
প্রজাপতি ও মৌমাছি আকৃষ্ট করে
ফলে একসঙ্গে লাগালে বাগান শুধু সুন্দরই হয় না, পরিবেশও আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
গ্রীষ্মে ফুলের বাগান সুন্দর রাখতে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।
গ্রীষ্মের বেশিরভাগ ফুলই সূর্যালোক পছন্দ করে। তাই বাগানের এমন জায়গা বেছে নিন যেখানে দিনে অন্তত ৫–৬ ঘণ্টা রোদ আসে।
মাটিতে জল জমে থাকলে গাছের শিকড় পচে যেতে পারে। তাই মাটি ঝুরঝুরে রাখা দরকার।
গরমে মাটি দ্রুত শুকিয়ে যায়। তাই সকালে বা সন্ধ্যায় জল দেওয়া ভাল।
ভার্মি কম্পোস্ট বা গোবর সার দিলে গাছ দ্রুত বাড়ে এবং ফুল বেশি ফোটে।
ফুল শুকিয়ে গেলে তা কেটে দিলে নতুন কুঁড়ি দ্রুত বের হয়।
জিনিয়া ও সালভিয়ার মতো ফুল প্রজাপতি এবং মৌমাছিকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
ফলে এই গাছগুলি বাগানে লাগালে শুধু ফুলই নয়, জীববৈচিত্রও বাড়ে।
বাগানে প্রজাপতি উড়তে দেখা গেলে পরিবেশ আরও সুন্দর লাগে।
অনেকেই ভাবেন ফুলের বাগান করতে হলে বড় জায়গা দরকার। কিন্তু বাস্তবে টব বা ছাদের বাগানেও এই গাছগুলি সহজেই লাগানো যায়।
ছোট বাগানের জন্য কিছু উপায়—
বড় টবের বদলে মাঝারি টব ব্যবহার করুন
বিভিন্ন উচ্চতার গাছ একসঙ্গে রাখুন
রঙের বৈচিত্র তৈরি করুন
টবগুলি সারি করে সাজান
এতে ছোট জায়গাতেও দারুণ সুন্দর ফুলের বাগান তৈরি করা সম্ভব।
গ্রীষ্মের শুরুতেই যদি চারা লাগানো যায়, তবে খুব দ্রুত ফুল ফোটে।
জিনিয়া, সালভিয়া, পিওনি এবং নয়নতারা—এই চার ধরনের গাছ আগে থেকে লাগালে গরমের সময় বাগান রঙে ভরে উঠবে।
গ্রীষ্মের বাগানকে রঙিন ও প্রাণবন্ত করে তুলতে ফুলের গাছের সঠিক নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই বাগান সাজানোর সময় এমন গাছ খোঁজেন, যেগুলি একদিকে যেমন দেখতে সুন্দর, তেমনই পরিচর্যাও খুব কঠিন নয়। এই দিক থেকে Zinnia একটি আদর্শ ফুলের গাছ। উজ্জ্বল রঙ, দ্রুত বৃদ্ধি এবং দীর্ঘ সময় ধরে ফুল ফোটানোর ক্ষমতার জন্য জিনিয়া গ্রীষ্মের বাগানে বিশেষ জনপ্রিয়। লাল, সাদা, গোলাপি, কমলা, হলুদ কিংবা বেগুনি—নানান রঙের জিনিয়া ফুটলে বাগান যেন মুহূর্তে প্রাণ ফিরে পায়।
তবে শুধু একটি ফুলের গাছ থাকলেই বাগান সম্পূর্ণ হয় না। বাগানের আসল সৌন্দর্য ফুটে ওঠে যখন বিভিন্ন ধরনের ফুল একসঙ্গে ফুটে থাকে। সেই কারণে জিনিয়ার সঙ্গে যদি আরও কয়েকটি মানানসই ফুলের গাছ লাগানো যায়, তবে বাগানের রূপ অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। এই ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য Salvia, Peony এবং Catharanthus roseus বা নয়নতারা।
জিনিয়ার পাশে সালভিয়া গাছ লাগালে বাগানে রঙের একটি দারুণ বৈচিত্র তৈরি হয়। সালভিয়ার লাল, নীল বা বেগুনি ফুল জিনিয়ার উজ্জ্বল রঙের সঙ্গে মিলে এমন এক সৌন্দর্য তৈরি করে, যা দূর থেকেও চোখে পড়ে। তাছাড়া এই গাছ প্রজাপতি ও মৌমাছিকে আকৃষ্ট করে, ফলে বাগানের পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে পিওনি ফুল তার বড় আকার এবং থোকা থোকা পাপড়ির জন্য আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে। জিনিয়ার তুলনায় পিওনির ফুল অনেক বেশি বড় এবং ঘন হওয়ায় এই দুই ধরনের ফুল একসঙ্গে থাকলে বাগানে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সৌন্দর্য দেখা যায়। পিওনি গাছ খুব বেশি যত্ন চায় না, তবে পর্যাপ্ত সূর্যালোক এবং ভাল জলনিকাশির ব্যবস্থা থাকলে এই গাছ খুব দ্রুত বেড়ে ওঠে।
নয়নতারা আবার গ্রীষ্মের বাগানের জন্য সবচেয়ে সহজ ও নির্ভরযোগ্য ফুলের গাছগুলির একটি। খুব কম পরিচর্যায়ও এই গাছ সারা মৌসুম ধরে ফুল দেয়। জিনিয়া, সালভিয়া ও পিওনির পাশে নয়নতারা লাগালে বাগান আরও ঘন এবং রঙিন দেখায়। ছোট ছোট ফুল হলেও সংখ্যায় বেশি হওয়ায় বাগান সবসময় ফুলে ভরা মনে হয়।
এই চার ধরনের ফুল একসঙ্গে ফুটলে বাগানে তৈরি হয় এক অসাধারণ রঙের সমাহার। লাল, সাদা, গোলাপি, বেগুনি কিংবা নীল—বিভিন্ন রঙের পাপড়ি মিলে বাগানের প্রতিটি কোণ যেন একেকটি ছোট রঙিন ক্যানভাসে পরিণত হয়। শুধু রঙই নয়, ফুলের আকার ও গঠনের পার্থক্যও বাগানে একটি বিশেষ নান্দনিকতা এনে দেয়।
সবচেয়ে বড় কথা, এই গাছগুলির পরিচর্যা খুব জটিল নয়। পর্যাপ্ত সূর্যালোক, মাঝেমধ্যে জল দেওয়া এবং মাটিতে ভাল জলনিকাশির ব্যবস্থা থাকলেই এই ফুলের গাছগুলি ভালভাবে বেড়ে ওঠে। মাঝে মাঝে জৈব সার দিলে ফুল আরও বেশি ফোটে এবং গাছ সুস্থ থাকে।
তাই গ্রীষ্মের আগেই যদি বাগানে এই গাছগুলির চারা বসানো যায়, তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তার ফল দেখা যাবে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই গাছগুলি বড় হয়ে ফুল দিতে শুরু করবে। তখন আপনার বাগান হয়ে উঠবে রঙিন ফুলে ভরা এক সুন্দর স্বর্গের মতো—যেখানে প্রতিদিনই নতুন ফুল ফুটবে, প্রজাপতি উড়বে আর প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ মিলবে। ??