Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

রবিবার ভারত-পাক ম্যাচে করমর্দন হবে? পাকিস্তান অধিনায়ক সলমন আঘা বললেন, ‘সূর্যরা ঠিক করুক ওরা কী করবে’

এশিয়া কাপে তিনটি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত-পাকিস্তান। কোনও ম্যাচেই দুই দলের অধিনায়ক হাত মেলাননি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও কি একই জিনিস দেখা যাবে? কী বললেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন আলি আঘা?পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি-হামলা এবং অপারেশন সিঁদুরের পর গত বছর এশিয়া কাপে তিনটি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত। কোনও ম্যাচেই দুই দলের অধিনায়ক হাত মেলাননি, যা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও কি একই জিনিস দেখা যাবে? সিদ্ধান্তের ভার ভারতীয় দলের উপরেই ছেড়ে দিলেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন আলি আঘা। দু’দেশের ক্রিকেট যাতে সঠিক মানসিকতা নিয়ে খেলা হয়, সেই অনুরোধ করেছেন তিনি।

শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে সলমনকে এই প্রশ্ন করা হতেই তিনি বলেন, “দেখাই যাক কাল কী হয়। তবে ম্যাচটা যেন সঠিক মেজাজে খেলা হয়। আমার ব্যক্তিগত মতামতের কোনও অর্থ নেই। অতীতে যে ভাবে ক্রিকেট খেলা হয়েছে, সে ভাবেই ক্রিকেট খেলা উচিত। এটা (করমর্দন) নিয়ে ওরা সিদ্ধান্ত নিক।”

ভারত-পাক ম্যাচের আগে চর্চা হচ্ছে স্পিনার উসমান তারিককে নিয়ে। তাঁর বোলিং অ্যাকশনের যেমন প্রশংসা হচ্ছে, তেমনই সমালোচনাও হচ্ছে। সলমন অবশ্য সে সব নিয়ে মাথা ঘামাতে চান না। তিনি বললেন, “আমাদের কাছে সব ক্রিকেটারই সমান। আপনারাই তো উসমানকে এত বিখ্যাত করে তুলেছেন। খুব ভাল বল করছে ও। নিঃসন্দেহে আমাদের সেরা অস্ত্র। দু’বার আইসিসি ওকে বল করার ছাড়পত্র দিয়েছে। জানি না তার পরেও কেন ওর বোলিং নিয়ে এত কথা হচ্ছে। উসমান অবশ্য এই আলোচনাকে মোটেই পাত্তা দিচ্ছে না। ও ক্রিকেট খেলা শুরু করার পর থেকেই বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আলোচনা হয়। সেটা সামলানোর ক্ষমতা উসমানের রয়েছে।”

কলম্বোর পিচে শুধু স্পিনারেরা নন, পেসারেরাও ভূমিকা নিতে পারেন বলে মনে করেন সলমন। বলেছেন, “স্পিনারেরা এই পিচে শাসন করে ঠিকই। তবে জোরে বোলারদেরও ভূমিকা রয়েছে। ওদের হিসাবে না রাখার কারণ নেই। শাহিনের ভূমিকা রয়েছে। আমাদের হাতে অনেক স্পিনার রয়েছে ঠিকই। কিন্তু পেসারদেরও যে কোনও সময় দরকার হতে পারে।”

আগের ম্যাচে অর্ধশতরান করলেও পাকিস্তানের বড় কাঁটা বাবর আজ়মের ফর্ম। বিশেষ করে তিনি যে ভাবে মন্থর গতিতে ব্যাট করেন, তা চাপে ফেলে দিতে পারে পাকিস্তানকে। যদিও চিন্তিত নন সলমন। বলেছেন, “বাবরকে নিয়ে চিন্তা নেই আমাদের। রান তো করছে। আশা করি কালকেও রান পাবে এবং দলকে সাহায্য করতে পারবে। আমরা এত ঘন ঘন ব্যাটিং পজিশন বদলাতে চাই না।”

রবিবারের ম্যাচে ভারতের অভিষেক শর্মা খেলবেন কি না তা এখনও নিশ্চিত নয়। সলমন চাইছেন যাতে অভিষেক খেলুন। তিনি বলেছেন, “আমি চাই যাতে অভিষেক আমাদের বিরুদ্ধে খেলতে পারে। আশা করি ও দ্রুত সুস্থ হচ্ছে। আসলে আমরা সেরা ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে ভাল খেলতে চাই।”

আইসিসি বিশ্বকাপে মাত্র এক বারই ভারতের বিরুদ্ধে জিতেছে পাকিস্তান। সেটা ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। পরিসংখ্যান মাথায় রাখতে চাইছেন না সলমন। বলেছেন, “জানি আমাদের রেকর্ড খুব একটা ভাল নয়। কিন্তু রবিবার একটা নতুন দিন, নতুন ম্যাচ। জিততে গেলে আমাদের ভাল ক্রিকেট খেলতে হবে। ইতিহাস বদলানো সম্ভব নয়। সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়া যায়।”

ভারত–পাকিস্তান মহারণের আগে চোট চিন্তা, অভিষেক শর্মাকে খেলাতে চান সলমন — পরিসংখ্যান নয়, ফোকাস নতুন দিনের লড়াইয়ে

ক্রিকেট বিশ্বে ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ মানেই আবেগ, উত্তেজনা, ইতিহাস এবং কোটি সমর্থকের প্রত্যাশার বিস্ফোরণ। বিশ্বকাপের মঞ্চে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই যেন কেবল একটি ম্যাচ নয়—বরং উপমহাদেশীয় ক্রিকেট সংস্কৃতির এক বিশাল প্রতীক। রবিবারের বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচ ঘিরে তাই উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। তারই মাঝে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ভারতের তরুণ ওপেনার অভিষেক শর্মার খেলার সম্ভাবনা।

ভারতের শিবির এখনও নিশ্চিত করে জানায়নি যে রবিবারের ম্যাচে অভিষেক খেলবেন কি না। চোট বা ফিটনেসজনিত কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। আর এই অনিশ্চয়তার মাঝেই পাকিস্তান শিবির থেকে এল কৌতূহলোদ্দীপক মন্তব্য।


প্রতিপক্ষকে পূর্ণশক্তিতে চাই পাকিস্তান

পাকিস্তানের ক্রিকেটার সলমন (দলীয় মুখপাত্র/অলরাউন্ডার হিসেবে ধরা যায়) স্পষ্ট জানিয়েছেন—তিনি চান অভিষেক শর্মা যেন খেলেন।

তার বক্তব্য:

“আমি চাই যাতে অভিষেক আমাদের বিরুদ্ধে খেলতে পারে। আশা করি ও দ্রুত সুস্থ হচ্ছে। আসলে আমরা সেরা ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে ভাল খেলতে চাই।”

এই মন্তব্য কূটনৈতিক হলেও ক্রীড়াসুলভ মনোভাবের পরিচয় বহন করে। বড় দলকে হারানোর গৌরব তখনই পূর্ণতা পায়, যখন প্রতিপক্ষ পূর্ণ শক্তিতে থাকে—এটাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অলিখিত নীতি।


অভিষেক শর্মা: ভারতের নতুন আক্রমণাত্মক অস্ত্র

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের টি-টোয়েন্টি সেটআপে অভিষেক শর্মা নিজেকে আক্রমণাত্মক ওপেনার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে শুরু করেছেন। তার ব্যাটিং স্টাইল—

  • পাওয়ারপ্লেতে ঝড়

  • স্পিনারদের বিরুদ্ধে আক্রমণ

  • স্ট্রাইক রোটেশন

  • লং হিটিং ক্ষমতা

ভারতের নতুন প্রজন্মের ব্যাটিং দর্শনের সঙ্গে তার স্টাইল মানানসই।

ফলে পাকিস্তান চাইবে তাকে দ্রুত আউট করতে, আবার ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তারা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাও চায়।


ভারত–পাকিস্তান: বিশ্বকাপ ইতিহাস

আইসিসি বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারত বরাবরই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রভাবশালী।

সলমন নিজেই স্বীকার করেছেন—

“জানি আমাদের রেকর্ড খুব একটা ভাল নয়।”

পরিসংখ্যান বলছে:

  • ওয়ানডে বিশ্বকাপ → ভারতের আধিপত্য

  • টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ → ভারত এগিয়ে

  • পাকিস্তানের একমাত্র জয় → ২০২১ টি-২০ বিশ্বকাপ

দুবাইয়ে সেই ম্যাচে পাকিস্তান ১০ উইকেটে জয় পায়—যা ঐতিহাসিক।


২০২১ জয়: মানসিক বাঁধন ভাঙা

দীর্ঘদিন বিশ্বকাপে ভারতের কাছে হারতে হারতে পাকিস্তানের উপর মানসিক চাপ তৈরি হয়েছিল। ২০২১-এর জয় সেই মানসিক বাধা ভেঙে দেয়।

সেই ম্যাচে—

  • বাবর–রিজওয়ানের জুটি

  • ভারতের ব্যাটিং ব্যর্থতা

  • পাকিস্তানের শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিং

—ম্যাচের রূপ নির্ধারণ করে।


ইতিহাস বনাম বর্তমান

সলমন বলেন:

“রবিবার একটা নতুন দিন, নতুন ম্যাচ। জিততে গেলে আমাদের ভাল ক্রিকেট খেলতে হবে।”

এই বক্তব্য আধুনিক ক্রিকেট মানসিকতার প্রতিফলন। কারণ—

  • বর্তমান ফর্ম গুরুত্বপূর্ণ

  • পিচ কন্ডিশন বদলায়

  • দল বদলায়

  • স্ট্র্যাটেজি বদলায়

ইতিহাস প্রেরণা দিতে পারে, কিন্তু ম্যাচ জেতায় না।


ভারতের শক্তি

রবিবারের ম্যাচে ভারতের সম্ভাব্য শক্তির জায়গা:

ব্যাটিং

  • টপ অর্ডার ফায়ারপাওয়ার

  • মিডল অর্ডার স্টেবিলিটি

  • ফিনিশার রোল

বোলিং

  • পেস আক্রমণ

  • ডেথ ওভার স্পেশালিস্ট

  • স্পিন ভ্যারিয়েশন

ফিল্ডিং


পাকিস্তানের শক্তি

পাকিস্তান ঐতিহ্যগতভাবে শক্তিশালী—

পেস বোলিং

  • নতুন বলে সুইং

  • ডেথ ওভারে ইয়র্কার

টপ অর্ডার

  • স্থির শুরু

  • ইনিংস বিল্ডিং

স্পিন সাপোর্ট

  • মিডল ওভার কন্ট্রোল


ম্যাচের কৌশলগত দিক

ভারতের জন্য

  • পাওয়ারপ্লে ম্যাক্সিমাইজ

  • বাবর/রিজওয়ান দ্রুত আউট

  • মিডল ওভারে স্পিন ট্র্যাপ

পাকিস্তানের জন্য

  • ভারতের টপ অর্ডার ভাঙা

  • রান রেট চেপে ধরা

  • শেষ ৫ ওভারে আক্রমণ


মনস্তাত্ত্বিক চাপ

ভারত–পাক ম্যাচে চাপ আলাদা স্তরের।

  • দর্শক প্রত্যাশা

  • মিডিয়া নজর

  • রাজনৈতিক আবহ

  • সোশ্যাল মিডিয়া

যে দল চাপ সামলাতে পারবে, তারাই এগিয়ে।


অভিষেক খেললে প্রভাব

যদি অভিষেক খেলেন—

  • পাওয়ারপ্লে স্কোর বাড়বে

  • বোলারদের লেংথ বদলাতে হবে

  • স্পিন আগেভাগে আনতে হতে পারে

না খেললে—

  • ভারত রক্ষণাত্মক শুরু করতে পারে

  • মিডল অর্ডারের উপর চাপ বাড়বে


ড্রেসিং রুম মাইন্ডসেট

সলমনের মন্তব্য থেকে বোঝা যায়—

  • পাকিস্তান ভয় পাচ্ছে না

  • প্রতিদ্বন্দ্বিতা উপভোগ করতে চায়

  • সেরা দলের বিরুদ্ধে জিততে চায়

এটি আত্মবিশ্বাসের লক্ষণ।


ফ্যান আবেগ

দুই দেশের সমর্থকদের কাছে এই ম্যাচ—

  • সম্মানের লড়াই

  • আবেগের বিস্ফোরণ

  • সামাজিক উৎসব

জয়–পরাজয় ছাড়াও ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত স্মরণীয় হয়ে থাকে।


সম্প্রচার ও গ্লোবাল ভিউয়ারশিপ

ভারত–পাক ম্যাচ বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বেশি দেখা ইভেন্টগুলির একটি।

  • কোটি কোটি লাইভ দর্শক

  • রেকর্ড বিজ্ঞাপন রাজস্ব

  • ডিজিটাল স্ট্রিমিং বুম


উপসংহার

রবিবারের ম্যাচ শুধু পরিসংখ্যানের লড়াই নয়—এটি বর্তমান ফর্ম, মানসিক দৃঢ়তা, কৌশল ও সাহসের পরীক্ষা। অভিষেক শর্মা খেলবেন কি না—তা ম্যাচের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু ফল নির্ধারণ করবে সামগ্রিক দলীয় পারফরম্যান্স।

সলমনের কথাতেই সারাংশ—

“ইতিহাস বদলানো সম্ভব নয়। সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়া যায়।”

নতুন দিন, নতুন ম্যাচ—আর সেই মঞ্চে আবার শুরু হবে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট মহারণ।

পিচ ও কন্ডিশন: ম্যাচের অদৃশ্য নির্ধারক

ভারত–পাকিস্তান ম্যাচে খেলোয়াড়দের ফর্ম যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ পিচ ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি। রবিবারের ম্যাচে উইকেট কেমন আচরণ করবে, তা দুই দলের কৌশলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যদি পিচ ব্যাটিং সহায়ক হয়, তবে হাই-স্কোরিং ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সে ক্ষেত্রে পাওয়ারপ্লে ও ডেথ ওভার—দুই পর্যায়ই ম্যাচ নির্ধারণ করবে।

অন্যদিকে, যদি উইকেটে বাউন্স বা সুইং থাকে, তবে পাকিস্তানের পেস আক্রমণ ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। ভারতের ব্যাটারদের তখন টেকনিক্যাল শুদ্ধতা দেখাতে হবে। স্পিন সহায়ক পিচ হলে আবার ভারতের স্পিন বিভাগ ম্যাচ ঘোরাতে পারে।


টস ফ্যাক্টর: আগে ব্যাট না চেজ?

আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে টস অনেক সময় ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়। বিশেষ করে ডিউ ফ্যাক্টর থাকলে দ্বিতীয় ইনিংসে বল করা কঠিন হয়ে পড়ে।

সম্ভাব্য কৌশল:

  • ডিউ থাকলে → আগে বোলিং

  • ড্রাই উইকেট হলে → আগে ব্যাটিং

ভারত সাধারণত রান তাড়া করতে স্বচ্ছন্দ, অন্যদিকে পাকিস্তান বোর্ডে রান তুলতে পছন্দ করে—ফলে টস জেতা অধিনায়ক কৌশলগত সুবিধা পেতে পারেন।

Preview image