Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বিশ্বকাপ থেকে ছাঁটাই হয়ে প্রথম প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশ বোর্ডের, না খেলতে পারার দায় ইউনূস সরকারের উপরেই চাপাল বিসিবি

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বক্তব্য, ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত তাদের নয়, সরকারের। তারা নাকি খেলতেই চেয়েছিল। তবে আইসিসির সিদ্ধান্ত বিসিবি মেনে নিচ্ছে। নতুন করে কোনও আবেদন করা হবে না।বিশ্বকাপ থেকে ছাঁটাই হওয়ার পর প্রথম প্রতিক্রিয়া জানাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তাদের বক্তব্য, ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত তাদের নয়, সরকারের। বরং তারা নাকি খেলতেই চেয়েছিল। বিসিবি এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে, আইসিসির সিদ্ধান্ত তারা মেনে নিচ্ছে। নতুন করে আর কোনও আবেদন করা হবে না।

অনেকেই মনে করছেন, নিজেদের দায়মুক্ত করে এবং সরকারের উপর দায় চাপিয়ে বিসিবি নিজেদের কিছুটা নিরাপদ জায়গায় রাখার চেষ্টা করছে। এটি মোটামুটি পরিষ্কার, বিশ্বকাপে না খেলার জন্য বাংলাদেশকে কড়া শাস্তি দেবে আইসিসি। অনুদান বন্ধ থেকে শুরু করে নির্বাসন সবই হতে পারে। কিন্তু বিসিবি যদি প্রতিষ্ঠা করতে পারে, ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের, তা হলে শাস্তির হাত থেকে বাঁচার অন্তত একটা রাস্তা খোলা থাকবে।

বিসিবির পরিচালক আমজাদ হোসেন ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার তাদের জানিয়েছিল যে, তাদের পক্ষে ভারতে খেলা নিরাপদ নয়।

হোসেন বলেন, “আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল যে, ভারতে বিশ্বকাপ খেলা আমাদের দলের জন্য নিরাপদ হবে না। আমরা আমাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করার অনুরোধ করেছিলাম, কিন্তু আইসিসি তাতে রাজি হয়নি। এই বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই। এটা নিরাপত্তার কারণে সরকারের নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত।”

হোসেন জানান, সরকারের নিজস্ব মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং বিসিবি আইসিসি-র সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা বেশ কয়েকটা বৈঠক করেছি যেখানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সরকার নিজস্ব মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকে সিদ্ধান্ত নেয় যে, পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারবে না এবং সরকার আমাদের তা জানিয়ে দেয়। আমরা আইসিসি-র সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।”

হোসেনের বক্তব্য, বিসিবি-র পক্ষ থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার প্রবল ইচ্ছা থাকলেও তাদের সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা সব সময় বলেছি যে আমরা খেলতে চাই। কিন্তু সিদ্ধান্তটা সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে। যেকোনও সফরের ক্ষেত্রে আমাদের সরকারের কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র (ক্লিয়ারেন্স) নিতে হয়। আমি এটাকে ব্যর্থতা বলব না। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, কিন্তু সরকার তার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সরকার যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমাদের তা মানতেই হবে।”

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন শুধুমাত্র ক্রীড়াক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ক্রমশ জড়িয়ে পড়েছে রাজনীতি, কূটনীতি, নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রশাসনের জটিল সমীকরণের সঙ্গে। বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সম্ভাবনা যেমন বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে, তেমনই বিসিবি ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।

অনেকেরই মত, বিসিবি নিজেদের দায় কিছুটা লঘু করতে এবং সম্ভাব্য আইসিসি শাস্তি থেকে বাঁচার পথ খুঁজতেই মূলত সরকারের ঘাড়ে দায় চাপানোর কৌশল নিয়েছে। কারণ, আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী কোনও পূর্ণ সদস্য দেশ যদি কোনও বড় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণে ইচ্ছাকৃতভাবে বিরত থাকে, তবে তার পরিণতি হতে পারে অত্যন্ত কঠোর। অনুদান বা তহবিল বন্ধ হওয়া থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সাময়িক নির্বাসন—সবকিছুই এই শাস্তির আওতায় পড়ে। সেই প্রেক্ষিতেই বিসিবি যদি প্রমাণ করতে পারে যে, ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তটি তাদের নিজস্ব নয়, বরং সরকারের বাধ্যতামূলক নির্দেশ, তা হলে আইসিসির কাছে অন্তত যুক্তি পেশ করার একটি সুযোগ তাদের সামনে থাকবে।

এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন বিসিবির পরিচালক আমজাদ হোসেন। ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত মূলত নিরাপত্তাজনিত এবং তা সরকারের তরফ থেকেই জানানো হয়েছে। হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারের পক্ষ থেকে আগেই বিসিবিকে জানানো হয়েছিল যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতে খেলা বাংলাদেশ দলের জন্য নিরাপদ হবে না। এই কারণেই বিসিবি বিকল্প ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু আইসিসি সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি।

হোসেন বলেন, “আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল যে, ভারতে বিশ্বকাপ খেলা আমাদের দলের জন্য নিরাপদ হবে না। আমরা আমাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করার অনুরোধ করেছিলাম, কিন্তু আইসিসি তাতে রাজি হয়নি। এই বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই। এটা নিরাপত্তার কারণে সরকারের নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত।”

news image
আরও খবর

এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে, বিসিবি নিজেদের অবস্থানকে পুরোপুরি প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাজনিত বাধ্যবাধকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করছে। হোসেন আরও জানান, বিষয়টি কোনও একক সিদ্ধান্ত নয়; বরং সরকারের নিজস্ব মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিসিবি একাধিক বৈঠকে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং সেখানেই চূড়ান্তভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবে না।

হোসেনের কথায়, “আমরা বেশ কয়েকটা বৈঠক করেছি যেখানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সরকার নিজস্ব মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকে সিদ্ধান্ত নেয় যে, পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারবে না এবং সরকার আমাদের তা জানিয়ে দেয়। আমরা আইসিসি-র সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।”

এই বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে—বিসিবি বলছে তারা আইসিসির সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে তারা এটাও বোঝাতে চাইছে যে, আইসিসির কাছে তাদের হাত কার্যত বাঁধা ছিল। কারণ, যেকোনও বিদেশ সফরের ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ দলের জন্য সরকারের কাছ থেকে ‘অনাপত্তিপত্র’ বা ক্লিয়ারেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। সরকার যদি সেই ক্লিয়ারেন্স না দেয়, তবে বোর্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক সফরে দল পাঠানো আইনত সম্ভব নয়।

হোসেন এই প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা সব সময় বলেছি যে আমরা খেলতে চাই। কিন্তু সিদ্ধান্তটা সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে। যেকোনও সফরের ক্ষেত্রে আমাদের সরকারের কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র নিতে হয়। আমি এটাকে ব্যর্থতা বলব না। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, কিন্তু সরকার তার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সরকার যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমাদের তা মানতেই হবে।”

এই বক্তব্য বিসিবির অবস্থানকে অনেকটাই পরিষ্কার করে। বোর্ড দেখাতে চাইছে যে, তারা ক্রিকেটীয় স্বার্থে বিশ্বকাপে অংশ নিতে আগ্রহী ছিল, কিন্তু সরকারের সিদ্ধান্তের কাছে তারা বাধ্য। তবে সমালোচকদের মতে, এই যুক্তির মধ্যেও কিছু ফাঁকফোকর রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—বিসিবি কি সত্যিই আইসিসির সঙ্গে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আলোচনায় ছিল? তারা কি কূটনৈতিক স্তরে ভারতের সঙ্গে নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে কোনও সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেছিল? নাকি শুরু থেকেই পরিস্থিতিকে অনিবার্য ধরে নিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছে?

আরও একটি বড় প্রশ্ন হল, আইসিসি এই যুক্তিকে কতটা গ্রহণ করবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা সাধারণত বোর্ডগুলির স্বায়ত্তশাসনকে গুরুত্ব দেয়। কিন্তু একই সঙ্গে তারা এটাও দেখে যে, কোনও সিদ্ধান্ত সত্যিই সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের ফল কি না। যদি আইসিসি মনে করে যে, বিসিবি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করেনি বা সরকারের সিদ্ধান্তকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে, তবে শাস্তির আশঙ্কা থেকেই যাবে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এই পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে না খেললে শুধুমাত্র আর্থিক ক্ষতিই নয়, খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনুপ্রেরণার উপরও বড় প্রভাব পড়বে। স্পনসরশিপ, সম্প্রচার স্বত্ব এবং আন্তর্জাতিক সূচিতে বাংলাদেশের অবস্থান—সবকিছুই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

একই সঙ্গে এটি ভারতের সঙ্গেও বাংলাদেশের ক্রীড়া ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে। ক্রিকেট বরাবরই দুই দেশের মধ্যে একটি বড় সেতু হিসেবে কাজ করেছে। সেই সেতু যদি নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে দুর্বল হয়, তবে তার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বিসিবি এখন এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে সরকারের সিদ্ধান্ত মানা তাদের সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ম ও প্রত্যাশা পূরণ করাও তাদের কর্তব্য। আমজাদ হোসেনের বক্তব্যে বোর্ড নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত আইসিসি কী অবস্থান নেয়, সেটাই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পথচলা। এই মুহূর্তে একটাই বিষয় নিশ্চিত—এই সিদ্ধান্তের রেশ বহুদিন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে।

Preview image