Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

কলকাতার পাঁচতারা হোটেলের ডিস্কোয় তরুণীকে হেনস্থার অভিযোগ, গ্রেফতার যুবক

কলকাতার জে ডব্লিউ ম্যারিয়ট হোটেলের ডিস্কোয় ২০ বছর বয়সি এক তরুণীকে পথ আটকে শারীরিক হেনস্থা ও অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। তরুণীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে বেনিয়াপুকুর থেকে ২৪ বছর বয়সি এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনায় তাঁর সঙ্গীদের ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কলকাতার পাঁচতারা হোটেলের ডিস্কোয় তরুণীকে হেনস্থার অভিযোগ, বেনিয়াপুকুর থেকে গ্রেফতার যুবক

কলকাতার একটি পাঁচতারা হোটেলের ডিস্কোয় ২০ বছর বয়সি এক তরুণীকে পথ আটকে শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। তরুণীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে ২৪ বছর বয়সি এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তকে রবিবার সকালে বেনিয়াপুকুর এলাকা থেকে ধরা হয়। ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যদের কোনও ভূমিকা ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

অভিযোগের ঘটনাস্থল কলকাতার জে ডব্লিউ ম্যারিয়ট হোটেলের ডিস্কো। পুলিশ সূত্রে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, গভীর রাতে বন্ধুদের সঙ্গে সেখানে গিয়েছিলেন ওই তরুণী। অভিযোগ, ডিস্কোর ভিতরে এক যুবক ও তাঁর সঙ্গীরা তরুণীর পথ আটকান। এর পর ওই যুবক তাঁকে শারীরিক ভাবে হেনস্থা করেন এবং তাঁর উদ্দেশে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন। তরুণীর অভিযোগ পাওয়ার পর প্রগতি ময়দান থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর আগেই অভিযুক্ত সেখান থেকে চলে গিয়েছিলেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পরে তরুণী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর রুজু হয়। অভিযুক্তকে শনাক্ত করার পর তাঁর খোঁজে অভিযান চালান তদন্তকারীরা। রবিবার সকালে বেনিয়াপুকুর থানা এলাকায় তাঁর বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

বন্ধুদের সঙ্গে ডিস্কোয় গিয়েছিলেন তরুণী

পুলিশ সূত্রে প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, ওই তরুণী বন্ধুদের সঙ্গে হোটেলের ডিস্কোয় গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁদের সঙ্গে অভিযুক্ত যুবক ও তাঁর সঙ্গীদের দেখা হয়। তরুণীর অভিযোগ, তাঁকে এগোতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। তার পর শারীরিক হেনস্থা এবং অশালীন ভাষা ব্যবহারের ঘটনা ঘটে। সংবাদ প্রকাশের সময় এটি তরুণীর দায়ের করা অভিযোগ—আদালতে প্রমাণিত ঘটনা নয়—সেই পার্থক্য রাখা জরুরি।

অভিযোগের প্রকৃতি বুঝতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ডিস্কোয় ওই সময়ে কারা ছিলেন, ঘটনার শুরু কীভাবে হয়েছিল এবং অভিযুক্তের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা কী ছিল, তা তদন্তে খতিয়ে দেখার বিষয়। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্তের সঙ্গীদের ভূমিকা পরীক্ষা করছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

ঘটনাটি একটি পরিচিত পাঁচতারা হোটেলের ডিস্কোয় ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠলেও তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আচরণ। কোনও প্রতিষ্ঠানের নাম ঘটনাস্থল চিহ্নিত করতে সাহায্য করে; কিন্তু অভিযোগের তদন্তে দায় কার, তা প্রমাণ ও আইনগত প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে। হোটেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা বা প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনও সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক হবে না।

লিখিত অভিযোগের পর পুলিশের পদক্ষেপ

খবর পেয়ে প্রগতি ময়দান থানা থেকে একটি পুলিশ দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে অভিযুক্তকে পাওয়া যায়নি। পরে তরুণী লিখিত অভিযোগ জানানোর পর পুলিশ এফআইআর রুজু করে। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয় এবং তাঁর খোঁজ শুরু হয়। এই ঘটনাক্রম দেখায়, ঘটনাস্থলে তাঁকে ধরতে না পারলেও লিখিত অভিযোগের পর তদন্ত এগিয়েছে। 

তদন্তকারীরা বেনিয়াপুকুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রবিবার সকালে ২৪ বছর বয়সি অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেন। আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে তাঁর নাম মহম্মদ রাফে আজ়িম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রেফতারের অর্থ হল, অভিযোগের তদন্তে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা এবং আইনগত দায় বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

অভিযোগের তদন্তে তরুণীর বক্তব্যের পাশাপাশি অন্য প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও প্রাসঙ্গিক হতে পারে। ঘটনাস্থলে কোনও নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ থাকলে তা পরীক্ষা করা হবে কি না, সেটিও তদন্তকারীদের সিদ্ধান্তের বিষয়। কোন প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে বা কী পরীক্ষা হয়েছে, সে সম্পর্কে পুলিশের নিশ্চিত বক্তব্য ছাড়া বিস্তারিত দাবি করা উচিত নয়।

অভিযুক্তের সঙ্গীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন

তরুণীর অভিযোগে অভিযুক্তের সঙ্গে কয়েক জনের উপস্থিতির কথা উঠে এসেছে। কিন্তু উপস্থিত থাকা এবং অভিযোগের ঘটনায় অংশ নেওয়া এক বিষয় নয়। সেই কারণে প্রত্যেকের ভূমিকা আলাদা ভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। পুলিশ এই দিকটি খতিয়ে দেখছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তদন্তের আগে অন্য কাউকে অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে শিরোনাম বা সমাজমাধ্যমের পোস্ট করা দায়িত্বশীল হবে না।

news image
আরও খবর

ঘটনার সময় তরুণীর সঙ্গে থাকা বন্ধুদের বক্তব্যও ঘটনাক্রম বুঝতে সাহায্য করতে পারে। কখন তাঁর পথ আটকানো হয়, কী ধরনের আচরণ করা হয় এবং তার পর কী ঘটে—এসব প্রশ্নের উত্তর মিলিয়ে দেখেই একটি নির্ভরযোগ্য বিবরণ তৈরি করা সম্ভব। আপাতত প্রকাশ্যে যা জানা গিয়েছে, তার ভিত্তিতে বলা যায়, তরুণী লিখিত অভিযোগ করেছেন, পুলিশ মামলা রুজু করেছে এবং একজনকে গ্রেফতার করেছে।

অভিযোগের তদন্ত এখনও চলছে

একজনকে গ্রেফতার করার পরও তদন্তের কাজ শেষ হয়ে যায় না। অভিযোগের বিবরণ যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া এবং পাওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখার পর পুলিশ পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে। এই মামলায় অন্য কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না অথবা তদন্তে নতুন কোনও তথ্য উঠে আসবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এ ধরনের ঘটনায় ভাষার ব্যবহারেও সতর্কতা প্রয়োজন। তরুণী জানিয়েছেন, তাঁকে হেনস্থা করা হয়েছে—এটি তাঁর অভিযোগ। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে—এটি নিশ্চিত পদক্ষেপ। কিন্তু আদালতের সিদ্ধান্তের আগে অভিযুক্তকে অপরাধী বলে ঘোষণা করা যায় না। একই সঙ্গে অভিযোগকারীর বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনও অস্বীকার করা যায় না। দুটি বিষয়ই সঠিক ভাবে তুলে ধরা সংবাদ পরিবেশনের অংশ।

তরুণীর পরিচয় প্রকাশ না করাও গুরুত্বপূর্ণ। কোনও ঘটনার বিষয়ে জনস্বার্থে খবর প্রকাশ করা যায়, কিন্তু অভিযোগকারীর ব্যক্তিগত তথ্য জানার প্রয়োজন সাধারণ পাঠকের নেই। তিনি কোথায় থাকেন, কার সঙ্গে গিয়েছিলেন বা তাঁর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে অপ্রাসঙ্গিক তথ্য ছড়ালে তদন্তের চেয়ে তাঁর হয়রানিই বাড়তে পারে।

অ্যাক্রোপলিস মলের ঘটনার পর ফের অভিযোগ

এই ঘটনার প্রতিবেদনে কলকাতার অ্যাক্রোপলিস মলে এক মহিলাকে হেনস্থার সাম্প্রতিক অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় ছ’জনকে গ্রেফতার করেছিল কসবা থানার পুলিশ। দুটি ঘটনা আলাদা এবং পৃথক ভাবে তদন্তের বিষয়। একটির তথ্য দিয়ে অন্যটির অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করা যায় না। তবে পরপর এমন অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় বিনোদনকেন্দ্রে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

হোটেল, মল বা ডিস্কোর মতো জায়গায় বহু মানুষ একসঙ্গে উপস্থিত থাকেন। সেখানে কোনও ব্যক্তি হেনস্থার অভিযোগ করলে দ্রুত সহায়তা পাওয়া, ঘটনাটি নথিবদ্ধ হওয়া এবং অভিযোগ জানাতে পারা জরুরি। এই ঘটনার ক্ষেত্রে তরুণী লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন এবং পুলিশ তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে অভিযোগের প্রত্যেকটি দিক যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই এখন মূল বিষয়।

সামাজিক আলোচনাতেও অভিযোগকারীকে দোষারোপ করা থেকে বিরত থাকা দরকার। তিনি গভীর রাতে কেন বাইরে ছিলেন বা কোথায় গিয়েছিলেন, তা তাঁর বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ যাচাইয়ের বিকল্প নয়। তদন্তের প্রশ্ন হল, তাঁর সঙ্গে অভিযোগ অনুযায়ী কী ঘটেছিল এবং তার পক্ষে কী প্রমাণ পাওয়া যায়।

পরবর্তী তদন্তে নজর

এখন পুলিশের তদন্তে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া বাকি। তরুণীর লিখিত অভিযোগের ঘটনাক্রমের সঙ্গে অন্য সাক্ষ্য মেলে কি না, অভিযুক্তের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের কোনও ভূমিকা ছিল কি না এবং তদন্তে আর কোনও প্রাসঙ্গিক তথ্য পাওয়া যায় কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। নতুন তথ্য এলে তা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

আপাতত নিশ্চিতভাবে যা বলা যায়, তা হল: কলকাতার একটি পাঁচতারা হোটেলের ডিস্কোয় হেনস্থার অভিযোগ করেছেন এক তরুণী; তাঁর লিখিত অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে; এবং বেনিয়াপুকুর থেকে ২৪ বছর বয়সি এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগের সম্পূর্ণ সত্যতা ও অন্যদের সম্ভাব্য ভূমিকা তদন্তসাপেক্ষ।

সম্পাদকীয় নোট: প্রকাশিত প্রতিবেদনে যতটুকু তথ্য নিশ্চিত হয়েছে, এই লেখা ততটুকুর ভিত্তিতে প্রস্তুত। ৪,০০০ শব্দ পূরণ করতে ঘটনার অজানা অংশ, কল্পিত প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য বা তদন্তের ফল যোগ করা হয়নি।

Preview image