Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল শহরের হোটেল, প্রাণ গেল ৯ জনের

তারাপীঠের পর এবার কলকাতার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। আগুনে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের, আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল শহরের হোটেল, প্রাণ গেল ৯ জনের
দুর্ঘটনা

তারাপীঠের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের স্মৃতি এখনও টাটকা। তার মধ্যেই এবার কলকাতার বুকে ঘটে গেল আরও এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড। শহরের ব্যস্ত মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি চারতলা ভবনে গভীর রাতে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৯ জনের। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। মৃতদের মধ্যে পুরুষ, মহিলা এবং একটি শিশুও রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার গভীর রাতে, আনুমানিক রাত ২টো নাগাদ। মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই চারতলা ভবনটিতে একাধিক হোটেল রয়েছে। রাতের সেই সময় অধিকাংশ আবাসিকই ঘুমিয়ে ছিলেন। আচমকা আগুন ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই প্রথমে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে উঠতে পারেননি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভবনের বিভিন্ন অংশে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ভিতরে থাকা বহু মানুষের বাইরে বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, আগুন লাগার পর অল্প সময়ের মধ্যেই ভবনের ভিতরে ঘন ধোঁয়া তৈরি হয়। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন হোটেলের আবাসিক ও কর্মীরা। বাইরে থাকা মানুষজনও দ্রুত পুলিশ ও দমকলকে খবর দেন। খবর পেয়েই একাধিক দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং উদ্ধারকাজ শুরু করে। পুলিশও এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

আগুনের ভয়াবহতার পাশাপাশি উদ্ধারকারীদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় ধোঁয়া। আগুনে পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট এবং দমবন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। হোটেলের বিভিন্ন ঘরে থাকা কয়েকজন আবাসিক তখনও ভিতরে আটকে ছিলেন। দমকলকর্মীরা বিশেষ সরঞ্জাম নিয়ে ভবনের ভিতরে ঢুকে তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন।

উদ্ধার অভিযান চলাকালীন একে একে বেশ কয়েকজনকে অচেতন অবস্থায় ভবনের ভিতর থেকে বের করে আনা হয়। তাঁদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, ৯ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। আরও কয়েকজন আহত ব্যক্তির চিকিৎসা চলছে বলে জানা গিয়েছে।

মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, মৃত ৯ জনের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ২ জন মহিলা এবং একটি শিশু রয়েছে। এই পরিসংখ্যান সামনে আসার পর ঘটনার মর্মান্তিকতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। এক পরিবারের একাধিক সদস্যের মৃত্যু হয়েছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।

সূত্রের খবর, মৃতদের মধ্যে একজন হোটেল কর্মীও রয়েছেন। তাঁর নাম সন্দীপ পাসোয়ান বলে জানা গিয়েছে। তিনি ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। তবে মৃত অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় সরকারি ভাবে সম্পূর্ণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসন সতর্কতা বজায় রাখছে।

ওই ভবনে থাকা হোটেলগুলির অনেক আবাসিক বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসেছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। কলকাতায় দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে বহু মানুষ চিকিৎসার জন্য আসেন। বিশেষ করে মধ্য কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় চিকিৎসার কাজে আসা বিদেশি নাগরিকদের থাকার জন্য একাধিক হোটেল এবং গেস্ট হাউস রয়েছে। ফলে এই ঘটনায় কোনও বিদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে কি না, তা জানার জন্য প্রশাসনিক স্তরেও পরিচয় যাচাইয়ের কাজ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মৃতদের মধ্যে কারা বাংলাদেশি নাগরিক এবং কারা ভারতীয়, সেই বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। সংশ্লিষ্ট পরিচয়পত্র, হোটেলের রেজিস্টার, পাসপোর্ট সংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখে মৃত ও আহতদের পরিচয় শনাক্ত করা হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।

আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও পরিষ্কার নয়। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট, রান্নাঘর, কোনও বৈদ্যুতিক যন্ত্র অথবা অন্য কোনও উৎস থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ। ফরেনসিক পরীক্ষা এবং দমকল বিভাগের তদন্ত শেষ হওয়ার পরই প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।

এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে সংশ্লিষ্ট ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও। চারতলা ভবনটিতে একাধিক হোটেল চলছিল। ফলে সেখানে পর্যাপ্ত ফায়ার এক্সটিংগুইশার, স্মোক ডিটেক্টর, ফায়ার অ্যালার্ম, জরুরি বহির্গমন পথ এবং প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

রাতে হোটেলের অতিথিরা ঘুমিয়ে থাকার সময় অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটলে স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ম ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক পর্যায়েই যদি সতর্কবার্তা পাওয়া যায়, তাহলে আবাসিকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। এই ক্ষেত্রে এমন কোনও ব্যবস্থা কার্যকর ছিল কি না, তা তদন্তে উঠে আসতে পারে।

একইসঙ্গে ভবনের সিঁড়ি এবং বেরিয়ে আসার পথ পর্যাপ্ত ছিল কি না, সেই বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর ধোঁয়ায় প্রধান সিঁড়ি বা করিডর ঢেকে গেলে বিকল্প বহির্গমন পথের প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে হোটেল, হাসপাতাল, শপিং মল বা বহু মানুষের ব্যবহার করা ভবনের ক্ষেত্রে একাধিক নিরাপদ পথ থাকা জরুরি।

আগুনের সময় হতাহতের একটি বড় কারণ প্রায়ই হয় বিষাক্ত ধোঁয়া। আগুনে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক, আসবাব, সিন্থেটিক কাপড় বা বৈদ্যুতিক সামগ্রী পুড়লে কার্বন মনোক্সাইড-সহ নানা বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হতে পারে। ঘুমন্ত অবস্থায় সেই ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মানুষ অচেতন হয়ে পড়তে পারেন। ফলে আগুন থেকে দূরে থেকেও ধোঁয়ার কারণে প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়।

মির্জা গালিব স্ট্রিট কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত এবং জনবহুল এলাকা। আশেপাশে অসংখ্য হোটেল, দোকান, রেস্তোরাঁ এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাই গভীর রাতে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেকেই ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন এবং রাস্তায় ভিড় জমে যায়।

দমকলের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি যাতে আগুন আশপাশের অন্য কোনও ভবন বা প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকেও নজর দেন। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে একটি ভবন থেকে অন্য ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাধারণ মানুষের ভিড় নিয়ন্ত্রণ করে এবং উদ্ধারকারীদের কাজের জন্য জায়গা তৈরি করে। পাশাপাশি হোটেলের রেজিস্টার, অতিথিদের তালিকা এবং ভবনের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের কাজও শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। কেউ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন কি না, সেই বিষয়েও তদন্ত চলছে।

news image
আরও খবর

আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা কতটা গুরুতর, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। হাসপাতাল সূত্রে আপডেট পাওয়া গেলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তবে সরকারি ভাবে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত অনুমানের ভিত্তিতে কোনও সংখ্যা প্রকাশ করা উচিত নয়।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সামনে আসার পর কলকাতার হোটেলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে। শহরের বহু পুরনো ভবনে হোটেল বা গেস্ট হাউস চলছে। এই ধরনের ভবনে আধুনিক অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থাপন করা অনেক সময় কঠিন হলেও মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও ধরনের আপস গ্রহণযোগ্য নয়।

নিয়ম অনুযায়ী বাণিজ্যিক ভবনে নির্দিষ্ট অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ফায়ার অডিট এবং নিরাপত্তা সরঞ্জাম কার্যকর অবস্থায় রাখা উচিত। কোনও যন্ত্র শুধু বসানো থাকলেই যথেষ্ট নয়; নির্দিষ্ট সময় অন্তর তা পরীক্ষা এবং রক্ষণাবেক্ষণ করাও প্রয়োজন।

হোটেলের কর্মীদের অগ্নিনিরাপত্তা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আগুন লাগলে প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কর্মীরা যদি জানেন কীভাবে দ্রুত অ্যালার্ম বাজাতে হবে, কীভাবে ছোট আগুন প্রাথমিক পর্যায়ে নেভাতে হবে এবং কীভাবে অতিথিদের নিরাপদে বাইরে বের করে আনতে হবে, তাহলে অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।

এছাড়া অতিথিদেরও হোটেলে ওঠার পর জরুরি বহির্গমন পথের অবস্থান সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থাকা উচিত। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানুষ এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু গভীর রাতে ধোঁয়ায় দৃশ্যমানতা কমে গেলে আগে থেকে বেরোনোর পথ জানা থাকলে তা জীবনরক্ষাকারী হয়ে উঠতে পারে।

তারাপীঠে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরপরই কলকাতায় এই ঘটনা সামনে আসায় রাজ্যের বিভিন্ন হোটেল এবং বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসন আরও কঠোর পদক্ষেপ করবে কি না, সেদিকে নজর রয়েছে। বিশেষ অভিযান চালিয়ে হোটেলগুলির ফায়ার লাইসেন্স, অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা এবং জরুরি বহির্গমন পথ পরীক্ষা করার দাবি উঠতে পারে।

এই ঘটনার ক্ষেত্রে ভবনটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল কি না, হোটেলগুলি নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত ছাড়পত্র বৈধ ছিল কি না—তদন্তে এসব প্রশ্নের উত্তরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

কোনও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে দায় কার, সেটিও নির্ধারণ করা প্রয়োজন। ভবন মালিক, হোটেল কর্তৃপক্ষ কিংবা অন্য কোনও দায়িত্বপ্রাপ্ত পক্ষ নিয়ম না মানলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দায়ী করা ঠিক হবে না।

ঘটনাস্থল থেকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার পর ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করা হতে পারে। আগুন কোথা থেকে শুরু হয়েছিল এবং কীভাবে এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল, তা বোঝার ক্ষেত্রে পোড়া সামগ্রী, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং অন্যান্য প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

একইসঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ থাকলে তা খতিয়ে দেখা হতে পারে। আগুন লাগার আগে কোনও অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছিল কি না, প্রথম কোথায় ধোঁয়া বা আগুন দেখা যায় এবং উদ্ধার শুরু হতে কত সময় লেগেছিল—এসব তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

এই ভয়াবহ ঘটনায় নিহতদের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। চিকিৎসার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে শহরে এসে এমন মর্মান্তিক পরিণতির মুখোমুখি হওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

যদি মৃতদের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিক থাকেন, তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক কর্তৃপক্ষের সহযোগিতাও প্রয়োজন হতে পারে। পরিচয় নিশ্চিতকরণ, মৃতদেহ দেশে পাঠানো এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের মতো বিষয়গুলিতে প্রশাসনিক সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এই অগ্নিকাণ্ড আবারও মনে করিয়ে দিল, অগ্নিনিরাপত্তাকে কখনও শুধুমাত্র নিয়মরক্ষার বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়। একটি কার্যকর ফায়ার অ্যালার্ম, পরিষ্কার জরুরি পথ, প্রশিক্ষিত কর্মী এবং নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা—এই কয়েকটি ব্যবস্থা অনেক সময় বড় দুর্ঘটনায় প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।

মির্জা গালিব স্ট্রিটের এই ঘটনার তদন্তে এখন একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে প্রশাসন। আগুনের সূত্রপাত কোথায় হয়েছিল? ভবনটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি? অতিথিদের বের হওয়ার জন্য যথেষ্ট পথ ছিল কি? অগ্নিকাণ্ডের সময় জরুরি অ্যালার্ম বেজেছিল কি? হোটেলগুলির প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল কি? আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পিছনে কোনও গাফিলতি ছিল কি?

এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর তদন্ত শেষ হওয়ার পরই পরিষ্কার হবে। আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল নিহতদের সঠিক পরিচয় নির্ধারণ, আহতদের চিকিৎসা এবং ভবনের প্রত্যেক আবাসিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

এক রাতের ভয়াবহ আগুনে ৯টি প্রাণ চলে যাওয়ার ঘটনা কলকাতার জন্য গভীর শোকের। একইসঙ্গে এটি শহরের হোটেল, গেস্ট হাউস এবং বাণিজ্যিক ভবনগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে পর্যালোচনা করার একটি গুরুতর সতর্কবার্তা। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য তদন্তের পাশাপাশি প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নিয়মের কঠোর প্রয়োগ।

Preview image