Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিকের সিলেবাসে বড় বদল! এবার পড়ানো হবে AI, নতুন পাঠ্যক্রম আনছে NCERT

শিক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ NCERT-র। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের নতুন সিলেবাসে যুক্ত হতে চলেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), যাতে স্কুলজীবন থেকেই আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হতে পারে শিক্ষার্থীরা।

মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিকের সিলেবাসে বড় পরিবর্তন! নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ানো হবে AI, নতুন উদ্যোগ NCERT-র

ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবার স্কুলের পাঠ্যক্রমেও বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং বা NCERT-র নতুন পাঠ্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence বা AI) অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথা সামনে এসেছে।

নতুন উদ্যোগ অনুযায়ী, নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের AI এবং Computational Thinking বা গণনামূলক চিন্তাভাবনার প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারই শিখবে না, বরং আধুনিক প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে এবং বাস্তব জীবনে তার প্রভাব কতটা, সেই বিষয়েও ধারণা তৈরি করতে পারবে।

বর্তমানে শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা, কৃষি, যোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে AI-এর ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই ভবিষ্যতের কর্মজীবনের জন্য পড়ুয়াদের প্রস্তুত করতে স্কুলস্তর থেকেই এই প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

NCERT-র নতুন সিলেবাসে কী পরিবর্তন আসতে চলেছে?

NCERT-র পাঠ্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত করার উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো পড়ুয়াদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বৃদ্ধি করা।

প্রস্তাবিত পাঠ্যক্রমে নবম, দশম, একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের AI সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানতে পারবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কী, এটি কীভাবে কাজ করে এবং দৈনন্দিন জীবনে কোথায় কোথায় ব্যবহার করা হয়।

পাশাপাশি AI-নির্ভর বিভিন্ন ডিজিটাল টুলের ব্যবহার সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হবে। তবে শুধু প্রযুক্তির সুবিধা নয়, এর সীমাবদ্ধতা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়েও শিক্ষার্থীদের সচেতন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে পড়ুয়াদের মধ্যে প্রযুক্তি সম্পর্কে কৌতূহল, যুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনা এবং নতুন কিছু শেখার আগ্রহ বাড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা AI-তে কী কী শিখবে?

নতুন পাঠ্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার একেবারে প্রাথমিক বিষয়গুলি সহজভাবে বোঝানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রথমেই পড়ুয়াদের জানানো হবে Artificial Intelligence বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলতে কী বোঝায়।

এরপর বিভিন্ন উদাহরণের মাধ্যমে বোঝানো হবে, কীভাবে কম্পিউটার বা সফটওয়্যার তথ্য বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে পারে।

শিক্ষার্থীরা AI-এর সাহায্যে তথ্য অনুসন্ধান, ভাষা অনুবাদ, ছবি শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন ডিজিটাল পরিষেবার কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারবে।

বর্তমানে স্মার্টফোনের ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট, অনলাইন সার্চ ইঞ্জিন, ডিজিটাল ম্যাপ এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক অ্যাপ্লিকেশনে AI প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে।

এই ধরনের পরিচিত উদাহরণ ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের কাছে বিষয়টি সহজ ও আকর্ষণীয় করে তোলার চেষ্টা করা হবে।

পাশাপাশি AI ব্যবহার করার সময় তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা বজায় রাখার গুরুত্বও বোঝানো হতে পারে।

শুধু বই পড়া নয়, হাতেকলমে AI শেখার সুযোগ

নতুন শিক্ষাব্যবস্থায় মুখস্থবিদ্যার পরিবর্তে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

AI শিক্ষার ক্ষেত্রেও সেই পদ্ধতি অনুসরণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পড়ুয়ারা যাতে শুধু বই পড়ে বিষয়টি না শেখে, বরং বাস্তব উদাহরণ এবং বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রযুক্তির ব্যবহার বুঝতে পারে, সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।

সহজ শিক্ষামূলক অনুশীলনের মাধ্যমে তারা জানতে পারবে, কীভাবে একটি AI-নির্ভর ব্যবস্থা নির্দিষ্ট তথ্য ব্যবহার করে ফলাফল তৈরি করে।

উদাহরণ হিসেবে কোনও সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান খুঁজে বের করা, তথ্যকে বিভিন্ন ভাগে সাজানো কিংবা কোনও ডিজিটাল টুলের দেওয়া উত্তর যাচাই করার মতো কাজ ব্যবহার করা যেতে পারে।

এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি স্বাধীনভাবে চিন্তা করার দক্ষতাও তৈরি হতে পারে।

Computational Thinking কী? কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি NCERT-র নতুন পাঠ্যক্রমে Computational Thinking বা গণনামূলক চিন্তাভাবনাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Computational Thinking হলো এমন একটি পদ্ধতি, যার মাধ্যমে কোনও জটিল সমস্যাকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে যুক্তিসংগতভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়।

এই পদ্ধতিতে প্রথমে সমস্যাটি ভালোভাবে বোঝা হয়। এরপর সেটিকে কয়েকটি সহজ ধাপে ভাগ করা হয় এবং প্রতিটি ধাপের সম্ভাব্য সমাধান খুঁজে বের করা হয়।

উদাহরণ হিসেবে ধরা যেতে পারে, একজন শিক্ষার্থীকে একটি বড় প্রকল্প সম্পূর্ণ করতে হবে।

সে প্রথমে প্রকল্পটির উদ্দেশ্য নির্ধারণ করবে, তারপর প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবে এবং কাজটিকে কয়েকটি ধাপে ভাগ করে সম্পূর্ণ করার পরিকল্পনা তৈরি করবে।

এই ধরনের চিন্তাভাবনা শুধু কম্পিউটার শিক্ষার ক্ষেত্রেই নয়, গণিত, বিজ্ঞান এবং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানেও কার্যকর হতে পারে।

তৃতীয় শ্রেণি থেকেই AI শিক্ষায় গুরুত্ব CBSE-র

ভারতের স্কুলশিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নতুন নয়।

এর আগেও সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন বা CBSE প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের AI সম্পর্কে পরিচিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

তৃতীয় শ্রেণি থেকে বয়সোপযোগী AI-সংক্রান্ত ধারণা ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

এর মূল লক্ষ্য হলো ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন করে তোলা।

অল্প বয়সে প্রযুক্তির প্রাথমিক ধারণা তৈরি হলে উচ্চশ্রেণিতে আরও জটিল বিষয় বুঝতে সুবিধা হতে পারে।

NCERT-র নতুন পাঠ্যক্রমের উদ্যোগও স্কুলশিক্ষায় প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে CBSE-র শিক্ষাক্রম এবং NCERT-র পাঠ্যক্রম উন্নয়নের ভূমিকা এক নয়। NCERT মূলত শিক্ষাক্রম ও শিক্ষাসামগ্রী তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কম্পিউটার না থাকলেও AI শেখার সুযোগ

ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের স্কুলগুলির পরিকাঠামো একরকম নয়।

বিশেষ করে গ্রামীণ এবং প্রত্যন্ত এলাকার বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত কম্পিউটার, ইন্টারনেট সংযোগ কিংবা আধুনিক ডিজিটাল সরঞ্জামের অভাব রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা চালু করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, NCERT-র নতুন AI শিক্ষামডিউল তৈরির সময় এই বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

যেসব স্কুলে পর্যাপ্ত ডিজিটাল সরঞ্জাম নেই, সেখানকার পড়ুয়ারাও যাতে AI সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা অর্জন করতে পারে, সেই লক্ষ্য রাখা হচ্ছে।

উদাহরণ, আলোচনা, সমস্যা সমাধানের অনুশীলন এবং প্রযুক্তির কার্যপদ্ধতি বোঝানোর মাধ্যমে কম্পিউটার ছাড়াও কিছু মৌলিক বিষয় শেখানো সম্ভব।

তবে বাস্তবে এই শিক্ষাব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, উপযুক্ত শিক্ষাসামগ্রী এবং স্কুলগুলির পরিকাঠামোর উপর।

AI-এর সুবিধার পাশাপাশি শেখানো হবে ঝুঁকিও

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের দৈনন্দিন কাজকে সহজ করে তুললেও এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

AI ব্যবহার করে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করা, বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা এবং শিক্ষামূলক বিষয় ব্যাখ্যা করা সম্ভব।

news image
আরও খবর

কিন্তু AI সব সময় নির্ভুল তথ্য দেয় না।

অনেক ক্ষেত্রে AI ভুল তথ্য তৈরি করতে পারে কিংবা কোনও প্রশ্নের অসম্পূর্ণ উত্তর দিতে পারে।

তাই শিক্ষার্থীদের শেখানো জরুরি যে AI-এর দেওয়া প্রতিটি উত্তর অন্ধভাবে বিশ্বাস করা উচিত নয়।

বিশেষ করে পড়াশোনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য বই, শিক্ষক এবং অন্যান্য প্রামাণ্য উৎসের সাহায্যে তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়া ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা, অনলাইন নিরাপত্তা, ভুয়ো ছবি ও ভিডিও এবং প্রযুক্তির অপব্যবহারের মতো বিষয়েও সচেতনতা প্রয়োজন।

নতুন পাঠ্যক্রমে AI-এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক নিয়ে আলোচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর মাধ্যমে পড়ুয়ারা প্রযুক্তিকে দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করার গুরুত্ব বুঝতে পারবে।

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর সঙ্গে সম্পর্ক

ভারতের জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ বা National Education Policy 2020-তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনা, সৃজনশীলতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করার কথাও বলা হয়েছে।

NCERT-র নতুন AI এবং Computational Thinking-সংক্রান্ত পাঠ্যক্রম সেই বৃহত্তর শিক্ষাগত লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

জাতীয় শিক্ষানীতিতে শিক্ষাকে আরও বাস্তবমুখী, দক্ষতাভিত্তিক এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের উপযোগী করে তোলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়া নয়, বাস্তব জীবনে অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগ করার ক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ।

এই লক্ষ্য পূরণে প্রযুক্তিগত শিক্ষা সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে AI শিক্ষার গুরুত্ব

বর্তমান সময়ে বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে AI-এর ব্যবহার বাড়ছে।

তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্য পরিষেবা, ব্যাঙ্কিং, কৃষি, পরিবহণ, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং গ্রাহক পরিষেবার মতো ক্ষেত্রগুলিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে।

ফলে ভবিষ্যতের কর্মজীবনে প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থাকা অনেক ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

স্কুলজীবন থেকে AI সম্পর্কে শিক্ষা পেলে পড়ুয়ারা পরবর্তী সময়ে কম্পিউটার সায়েন্স, ডেটা অ্যানালিসিস, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এবং অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর বিষয় নিয়ে পড়াশোনায় আগ্রহী হতে পারে।

তবে AI শেখা মানেই ভবিষ্যতে চাকরি নিশ্চিত হওয়া নয়।

প্রযুক্তিগত জ্ঞানের পাশাপাশি যোগাযোগের দক্ষতা, সৃজনশীলতা, যুক্তিবোধ এবং বাস্তব সমস্যা সমাধানের ক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

AI শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত প্রযুক্তিকে বুঝে এবং দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করতে শেখা।

শিক্ষক ও স্কুলগুলির সামনে কী চ্যালেঞ্জ?

নতুন কোনও বিষয় পাঠ্যক্রমে যুক্ত হলে শিক্ষকদের প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

AI-এর মতো দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি পড়ানোর জন্য শিক্ষকদেরও বিষয়টি সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা থাকা প্রয়োজন।

তাই শিক্ষক প্রশিক্ষণ, উপযুক্ত পাঠ্যবই এবং সহজ শিক্ষামূলক উপকরণ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

একই সঙ্গে শহর ও গ্রামের স্কুলগুলির মধ্যে প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোর পার্থক্য কমানোও জরুরি।

যেসব স্কুলে পর্যাপ্ত কম্পিউটার বা ইন্টারনেট নেই, সেখানে বিকল্প শিক্ষাপদ্ধতি কতটা কার্যকর হবে, তা বাস্তবায়নের সময় বোঝা যাবে।

পড়ুয়াদের বয়স এবং পূর্বজ্ঞান অনুযায়ী বিষয়বস্তু সাজানোও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীর শেখার ক্ষমতা ও প্রয়োজন এক নয়। ফলে শ্রেণিভিত্তিক উপযুক্ত পাঠ পরিকল্পনা তৈরি করা দরকার।

পশ্চিমবঙ্গের পড়ুয়াদের উপর কী প্রভাব পড়বে?

NCERT-র পাঠ্যক্রমে AI যুক্ত করার খবর সামনে আসার পর পশ্চিমবঙ্গের পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হতে পারে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার।

NCERT-র পাঠ্যক্রমে কোনও বিষয় অন্তর্ভুক্ত হওয়া মানেই পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ বা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের অধীন সমস্ত স্কুলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে যাবে, এমন নয়।

রাজ্য বোর্ডের নিজস্ব পাঠ্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত রয়েছে।

তাই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বোর্ডের স্কুলগুলিতে AI শিক্ষা কবে এবং কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হবে, তা জানতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখতে হবে।

অন্যদিকে NCERT-ভিত্তিক শিক্ষাসামগ্রী অনুসরণকারী স্কুলগুলির ক্ষেত্রে নতুন পাঠ্যক্রমের বিস্তারিত নির্দেশিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

কবে থেকে চালু হবে নতুন AI সিলেবাস?

নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে AI এবং Computational Thinking অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগের কথা জানা গেলেও, ঠিক কোন শিক্ষাবর্ষ থেকে সব সংশ্লিষ্ট শ্রেণিতে নতুন পাঠ্যক্রম কার্যকর হবে, তা নিশ্চিত করতে আনুষ্ঠানিক সময়সূচি দেখা প্রয়োজন।

এছাড়া AI আলাদা বিষয় হিসেবে পড়ানো হবে, নাকি বিদ্যমান বিষয়গুলির সঙ্গে যুক্ত করা হবে, সেই বিষয়েও বিস্তারিত নির্দেশিকা গুরুত্বপূর্ণ।

পরীক্ষার পদ্ধতি, নম্বর বিভাজন এবং ব্যবহারিক শিক্ষার কাঠামো সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত নথি থেকেই জানা যাবে।

তাই পড়ুয়া ও অভিভাবকদের গুজবের পরিবর্তে সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার উপর নির্ভর করা উচিত।

উপসংহার

প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের যুগে স্কুলশিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।

NCERT-র নতুন পাঠ্যক্রমে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের AI এবং Computational Thinking শেখানোর পরিকল্পনা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।

এর মাধ্যমে তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রাথমিক ধারণা, বাস্তব জীবনে এর ব্যবহার এবং প্রযুক্তির সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে জানতে পারবে।

পাশাপাশি যুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এই উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে সঠিক পাঠ্যক্রম, প্রশিক্ষিত শিক্ষক, পর্যাপ্ত শিক্ষাসামগ্রী এবং সব স্তরের পড়ুয়াদের কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার উপর।

সব মিলিয়ে, NCERT-র AI শিক্ষার উদ্যোগ ভারতের স্কুলশিক্ষাকে ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার একটি প্রচেষ্টা।

Preview image