‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ ছবিতে সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের চরিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন টোটা রায়চৌধুরী। জানালেন চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার নেপথ্যের নানা কথা।
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁর লেখা গল্প-উপন্যাসের চরিত্র আজও বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেই শরৎচন্দ্রকেই এবার পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন অভিনেতা টোটা রায়চৌধুরী। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ ছবিতে শরৎচন্দ্রের চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। সাহিত্যিকের মতো ঐতিহাসিক এবং জটিল একটি চরিত্রকে পর্দায় তুলে ধরা যে সহজ কাজ নয়, তা স্বীকার করেছেন অভিনেতা নিজেও।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিজীবন, চিন্তাভাবনা, মতাদর্শ এবং সাহিত্যিক সত্তাকে ঘিরে বাঙালির আগ্রহ দীর্ঘদিনের। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো শরৎচন্দ্রকে নিয়ে বিপুল পরিমাণ অডিও-ভিজ্যুয়াল তথ্য বা রেকর্ডিং নেই। ফলে তাঁকে পর্দায় বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে অভিনেতার সামনে ছিল আলাদা ধরনের চ্যালেঞ্জ। টোটা রায়চৌধুরীর কথায়, এই চরিত্রের প্রস্তুতিতে তাঁকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় এবং মেকআপ আর্টিস্ট সোমনাথ কুণ্ডু।
কোনও ঐতিহাসিক বা সাহিত্যিক চরিত্রে অভিনয় করতে গেলে অভিনেতার সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়—কীভাবে সেই মানুষটিকে বোঝা যাবে? শরৎচন্দ্রের ক্ষেত্রে সমস্যাটি আরও বড়, কারণ তাঁর নিজের কণ্ঠস্বর বা চলাফেরার পর্যাপ্ত ভিডিও রেকর্ডিং নেই।
টোটা রায়চৌধুরী জানিয়েছেন, শরৎচন্দ্রের কোনও ভিডিও বা অডিও রেকর্ডিং তাঁর হাতে ছিল না। ফলে চরিত্রটির বাহ্যিক উপস্থিতি থেকে শুরু করে মানসিক জগত—সবটাই তাঁকে নানা তথ্য ও সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে বুঝে নিতে হয়েছে।
তাঁর কথায়, রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে যতটা চর্চা হয়েছে, তার তুলনায় শরৎচন্দ্রকে নিয়ে সেই মাত্রায় চর্চা হয়নি। তাই শরৎচন্দ্রের চরিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিচালক এবং মেকআপ শিল্পীর সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বিশেষ করে শরৎচন্দ্রের চেহারা, বয়স, পোশাক, ব্যক্তিত্ব এবং সময়কালকে পর্দায় বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে সোমনাথ কুণ্ডুর মেকআপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। অন্যদিকে চরিত্রটির মানসিক ও রাজনৈতিক-সামাজিক অবস্থান বুঝতে পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনাও ছিল অভিনেতার প্রস্তুতির অন্যতম অংশ।
শুধু তথ্য বা জীবনী পড়েই শরৎচন্দ্রকে বোঝার চেষ্টা করেননি টোটা। তিনি ফিরে গিয়েছেন সাহিত্যিকের নিজের লেখায়। বিশেষ করে ‘পথের দাবী’ এবং ‘শ্রীকান্ত’ খুঁটিয়ে পড়েছেন অভিনেতা।
টোটা মনে করেন, শরৎচন্দ্রকে বোঝার জন্য তাঁর লেখা সাহিত্যই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিশেষ করে ‘শ্রীকান্ত’-এর মধ্যে সাহিত্যিকের ব্যক্তিসত্তার নানা দিক খুঁজে পাওয়া যায় বলে তাঁর বিশ্বাস।
একজন অভিনেতার কাছে কোনও সাহিত্যিক চরিত্রে অভিনয় করার ক্ষেত্রে এই প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শুধু বাহ্যিক সাদৃশ্য তৈরি করলেই চরিত্র জীবন্ত হয়ে ওঠে না। চরিত্রটির ভাবনা, দ্বন্দ্ব, বিশ্বাস, সম্পর্ক এবং সময়ের সঙ্গে তার অবস্থানও বুঝতে হয়।
শরৎচন্দ্রের ক্ষেত্রে সেই কাজ আরও কঠিন, কারণ তিনি শুধু জনপ্রিয় সাহিত্যিক নন; তাঁর লেখার মধ্যে সমাজ, নারী, প্রেম, রাজনীতি, স্বাধীনতা, নৈতিকতা এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার মতো নানা বিষয় বারবার উঠে এসেছে।
শরৎচন্দ্রের ব্যক্তিত্বের কোন দিকটি নিজের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মেলে—এই প্রশ্নের উত্তরে টোটা রায়চৌধুরী বেছে নিয়েছেন তাঁর ‘প্রতিবাদী সত্তা’কে।
অভিনেতার কথায়, প্রতিবাদের কোনও বয়স হয় না। এই বক্তব্যের মধ্যেই যেন তাঁর নিজের শিল্পীসত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ফুটে ওঠে।
শরৎচন্দ্রের সাহিত্যেও সমাজের প্রচলিত নিয়ম, বৈষম্য এবং মানুষের উপর চাপিয়ে দেওয়া নানা সামাজিক কাঠামোর বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলার প্রবণতা দেখা যায়। তাঁর নারী চরিত্রগুলির মধ্যেও আত্মমর্যাদা ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা বারবার প্রকাশ পেয়েছে।
ফলে শরৎচন্দ্রকে শুধু একজন রোম্যান্টিক সাহিত্যিক হিসেবে দেখলে তাঁর সৃষ্টির বড় একটি অংশ বাদ পড়ে যায়। তাঁর লেখায় সামাজিক বাস্তবতা এবং প্রতিবাদী মনোভাবও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
টোটা সেই প্রতিবাদী সত্তার সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পেয়েছেন। তবে তাঁর বক্তব্যে একই সঙ্গে শিল্পী এবং সামাজিক কর্মীর ভূমিকার পার্থক্যও স্পষ্ট।
বাংলা ইন্ডাস্ট্রির সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং অভিনেতাদের সামাজিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের মুখে টোটা রায়চৌধুরীর বক্তব্য বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “আমি আর্টিস্ট। অ্যাক্টিভিস্ট নই।”
এই বক্তব্যের মাধ্যমে নিজের পেশাগত অবস্থানকে আলাদা করে দেখিয়েছেন অভিনেতা। তাঁর মতে, একজন অভিনেতার প্রধান কাজ অভিনয় করা। দর্শক দিনের শেষে অভিনেতাদের অভিনয় দেখতেই আসেন।
তবে এর অর্থ এই নয় যে শিল্পীদের কোনও সামাজিক দায়িত্ব নেই। টোটার মতে, অভিনেতাদের আরও দায়িত্ব নিতে হবে। অর্থাৎ একজন শিল্পী হিসেবে নিজের কাজকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সমাজ ও সময়ের প্রতিও সচেতন থাকা প্রয়োজন।
এই দুই অবস্থানের মধ্যে ভারসাম্য রাখার বিষয়টিই তাঁর বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ ছবিটি শুধু একজন সাহিত্যিকের জীবনী বা তাঁর সাহিত্য নিয়ে তৈরি কোনও সাধারণ ছবি নয়। শরৎচন্দ্রের জীবনের একটি নির্দিষ্ট সময়, তাঁর চিন্তার পরিবর্তন এবং মতাদর্শগত দ্বন্দ্বকে সামনে আনার চেষ্টা রয়েছে ছবিতে।
টোটা রায়চৌধুরীর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘পথের দাবী’ লেখার আগে এবং পরে শরৎচন্দ্রের মানসিকতায় পরিবর্তন এসেছিল। তাঁর জীবনযাপনেও এসেছিল নতুন বাঁক। সেই পরিবর্তন এবং মতাদর্শের সংঘাত ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
শরৎচন্দ্রের মতো একজন জনপ্রিয় সাহিত্যিকের ক্ষেত্রে এই দিকটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ একজন লেখকের সাহিত্যকর্মকে তাঁর ব্যক্তিজীবন ও সময়ের রাজনৈতিক-সামাজিক বাস্তবতা থেকে পুরোপুরি আলাদা করা যায় না।
‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ সেই জায়গাটিকেই সামনে নিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শরৎচন্দ্রের তৈরি অসংখ্য চরিত্রের মধ্যে অভিনেতার পছন্দের চরিত্র কোনটি? এই প্রশ্নের উত্তরে টোটা রায়চৌধুরী জানিয়েছেন, সুযোগ পেলে তিনি সব্যসাচী মল্লিকের চরিত্রে অভিনয় করতে চান।
‘পথের দাবী’-র সব্যসাচী মল্লিক শরৎচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় চরিত্র। বিপ্লবী, বুদ্ধিদীপ্ত এবং রহস্যময় এই চরিত্রটি বাংলা সাহিত্যে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।
টোটা মজা করে জানিয়েছেন, সুযোগ এলে তিনি চরিত্রটি ‘লুফে নেবেন’। তাঁর এই উত্তর থেকেই বোঝা যায়, শরৎচন্দ্রের সাহিত্য এবং তাঁর চরিত্রগুলির প্রতি অভিনেতার আগ্রহ কতটা গভীর।
অভিনেতাকে যদি সত্যিই শরৎচন্দ্রের সাক্ষাৎকার নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হত, তাহলে প্রথম প্রশ্ন কী করতেন?
টোটা রায়চৌধুরীর উত্তরটিও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি জানতে চাইতেন—বিপুল জনপ্রিয়তা পাওয়ার পরও কীভাবে শরৎচন্দ্র তাঁর লেখকসত্তার সততা বজায় রেখেছিলেন?
এই প্রশ্নের মধ্যে একজন শিল্পীর নিজের কাজের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টিও উঠে আসে। জনপ্রিয়তা অনেক সময় শিল্পীর সৃষ্টিশীল স্বাধীনতাকে প্রভাবিত করতে পারে। পাঠক বা দর্শকের প্রত্যাশা, বাজারের চাহিদা এবং জনপ্রিয়তার চাপের মধ্যেও নিজের শিল্পীসত্তাকে কতটা অক্ষুণ্ণ রাখা যায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
শরৎচন্দ্র সেই জায়গায় কীভাবে নিজেকে ধরে রেখেছিলেন—এই প্রশ্নের উত্তর জানার আগ্রহ টোটার রয়েছে।
টোটা রায়চৌধুরীর অভিনয়জীবনের সঙ্গে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু এমন সময়ও এসেছে, যখন অভিমানে কলকাতা ছেড়ে চলে যেতে চেয়েছিলেন তিনি।
অভিনেতা জানিয়েছেন, সেই অভিমান এখন অনেকটাই কমেছে। তাঁর জীবনে ঋতুপর্ণ ঘোষের অবদানও তিনি বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন।
‘চোখের বালি’ তাঁকে নতুন পরিচিতি দিয়েছিল। সেই পরিচিতির জোরেই তিনি হিন্দি ইন্ডাস্ট্রিতে পরপর কাজের সুযোগ পাচ্ছিলেন। ফলে একটা সময় বাংলা ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে চলে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন তিনি।
কিন্তু ২০১৯ সালের নভেম্বরে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের একটি ফোন তাঁর সেই সিদ্ধান্ত বদলে দেয়।
সৃজিতের ফোন না এলে হয়তো তিনি বাংলা ইন্ডাস্ট্রি ছেড়েই চলে যেতেন বলে জানিয়েছেন টোটা। তাঁর মতে, বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন করে প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
টোটা রায়চৌধুরীর অভিনয়জীবনে ‘চোখের বালি’ একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ঋতুপর্ণ ঘোষের পরিচালনায় তৈরি সেই ছবির মাধ্যমে তিনি দর্শকের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
পরবর্তী সময়ে বাংলা ও হিন্দি—দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই কাজ করেছেন তিনি। তবে দীর্ঘ অভিনয়জীবনের নানা ওঠাপড়ার মধ্যেও বাংলা ছবির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনও পুরোপুরি ছিন্ন হয়নি।
এবার সেই বাংলা সাহিত্যজগতেরই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। ফলে তাঁর কেরিয়ারে ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ যে বিশেষ একটি অধ্যায়, তা বলাই যায়।
বাংলা ইন্ডাস্ট্রির পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে টোটা রায়চৌধুরী অভিনেতাদের দায়িত্বের কথাও বলেছেন।
তাঁর মতে, অভিনেতাদের আরও দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ দর্শক তাঁদের অভিনয় দেখতে আসেন। একজন অভিনেতার মূল পরিচয় তাঁর কাজ এবং অভিনয়।
এই বক্তব্যের মধ্যে শিল্পীসত্তার প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে নিজের পেশার প্রতি এক ধরনের স্পষ্ট অবস্থান।
বর্তমান সময়ে অভিনেতাদের সামাজিক উপস্থিতি আগের তুলনায় অনেক বেশি। সামাজিক মাধ্যম, সাক্ষাৎকার এবং বিভিন্ন জনপরিসরের আলোচনায় তাঁদের বক্তব্য সহজেই মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। ফলে অভিনেতাদের সামাজিক দায়িত্ব নিয়েও আলোচনা বাড়ছে।
টোটা সেই প্রসঙ্গেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন—তিনি মূলত একজন শিল্পী। তাঁর কাজ অভিনয় করা। তবে শিল্পী হিসেবে দায়িত্বশীল থাকার প্রয়োজনীয়তাও তিনি অস্বীকার করছেন না।
একজন কিংবদন্তি সাহিত্যিকের চরিত্রে অভিনয় করা যেকোনও অভিনেতার কাছেই বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে যখন সেই মানুষটির পর্যাপ্ত ভিডিও বা অডিও রেকর্ডিং নেই। তখন চরিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে কল্পনা, গবেষণা, সাহিত্যকর্ম এবং পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গির উপর নির্ভর করতে হয়।
টোটা রায়চৌধুরীর প্রস্তুতিতে ‘শ্রীকান্ত’ এবং ‘পথের দাবী’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় এবং মেকআপ আর্টিস্ট সোমনাথ কুণ্ডুর সহযোগিতাও তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত একজন অভিনেতার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা পর্দাতেই। দর্শক শরৎচন্দ্র হিসেবে টোটাকে কতটা গ্রহণ করেন, সেই উত্তর মিলবে ছবি মুক্তির পর।
‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ তাই শুধু একটি সাহিত্যিক চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ নয়, টোটা রায়চৌধুরীর দীর্ঘ অভিনয়জীবনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। শরৎচন্দ্রের প্রতিবাদী সত্তা, তাঁর সাহিত্যিক সততা, মতাদর্শের দ্বন্দ্ব এবং জীবনের পরিবর্তনের বিভিন্ন অধ্যায়কে অভিনেতা কতটা বিশ্বাসযোগ্যভাবে পর্দায় তুলে ধরতে পারেন, সেটিই এখন দেখার।
আর টোটার নিজের কথাতেই, এই চরিত্রের মধ্যে তিনি খুঁজে পেয়েছেন এমন এক মানুষকে, যার প্রতিবাদী সত্তার সঙ্গে তাঁর নিজেরও কিছুটা মিল রয়েছে। সেই মিল এবং শিল্পীসত্তার স্বাধীনতাই হয়তো ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’-এ তাঁর অভিনয়কে আরও আলাদা করে তুলবে।