প্রাইভেট হাসপাতাল-সংযুক্ত ব্লাড সেন্টারগুলির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অভিযোগের জেরে এবার রক্তের জোগান বাড়াতে উদ্যোগ। সাধারণ রক্তের গ্রুপের রোগীদের চাহিদা মেটাতে বেসরকারি ব্লাড সেন্টারগুলিকেও রক্তদান শিবির করার নির্দেশ।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত ব্লাড সেন্টারগুলির ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে রোগীর জরুরি সময়ে প্রয়োজনীয় রক্ত পাওয়া নিয়ে একাধিক ক্ষেত্রে সমস্যার অভিযোগ সামনে এসেছে। সাধারণ রক্তের গ্রুপের রক্তের প্রয়োজন হলেও অনেক সময় রোগীর পরিবারের সদস্যদের বাইরে থেকে রক্তের ব্যবস্থা করতে হয়। ফলে চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর পরিজনদেরও শুরু করতে হয় রক্তের খোঁজে ছুটোছুটি। জরুরি পরিস্থিতিতে এই সমস্যা আরও বড় আকার নেয়। এবার সেই পরিস্থিতি বদলাতেই সক্রিয় হল রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর।
বুধবার একটি নির্দেশিকা জারি করে বেসরকারি হাসপাতালগুলির সঙ্গে যুক্ত ব্লাড সেন্টারগুলির উদ্দেশে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, হাসপাতালের নিজস্ব ব্লাড সেন্টার বা ব্লাড ব্যাংক থেকে সাধারণ রক্তের গ্রুপের রক্ত পেতে যাতে রোগীদের কোনও ধরনের অসুবিধার মুখে পড়তে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। বিরল রক্তের গ্রুপের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আলাদা হলেও সাধারণ রক্তের গ্রুপের রক্তের জোগান স্বাভাবিক রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শুধু রক্ত সংরক্ষণ করলেই হবে না, পর্যাপ্ত রক্তের মজুত বজায় রাখতে নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির আয়োজনের উপরও জোর দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশিকায়। অর্থাৎ, হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত কোনও ব্লাড সেন্টার শুধুমাত্র প্রয়োজনের সময় রক্ত সংগ্রহ বা সংরক্ষণের উপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না। নিয়মিতভাবে রক্তদান শিবির আয়োজন করে রক্তের জোগান বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রতিদিনই বহু রোগী চিকিৎসাধীন থাকেন। অস্ত্রোপচার, দুর্ঘটনা, প্রসবকালীন জটিলতা, বিভিন্ন ধরনের রক্তাল্পতা এবং অন্যান্য জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে রক্তের প্রয়োজন হতে পারে। ফলে হাসপাতালে পর্যাপ্ত রক্তের মজুত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জরুরি অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় রক্ত সময়মতো না পাওয়া গেলে রোগীর পরিবারকে চরম সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর আত্মীয়স্বজনকে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে রক্তের ব্যবস্থা করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে হাসপাতালের নিজস্ব ব্লাড সেন্টারগুলির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশের মূল লক্ষ্যগুলির মধ্যে অন্যতম হল হাসপাতালের নিজস্ব ব্লাড সেন্টারগুলিতে রক্তের পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করা। সাধারণ রক্তের গ্রুপগুলির চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় সেগুলির পর্যাপ্ত মজুত রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনও রোগীর জরুরি সময়ে হাসপাতালের ব্লাড সেন্টারে প্রয়োজনীয় রক্ত না পাওয়া গেলে চিকিৎসা পরিষেবার পাশাপাশি রোগীর পরিবারের উপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। সেই চাপ কমাতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
রক্তের গ্রুপের ক্ষেত্রে সাধারণত A পজিটিভ, B পজিটিভ, O পজিটিভ, AB পজিটিভের মতো গ্রুপের চাহিদা বেশি থাকে। আবার A নেগেটিভ, B নেগেটিভ, O নেগেটিভ কিংবা AB নেগেটিভের মতো তুলনামূলক বিরল রক্তের গ্রুপের ক্ষেত্রে প্রয়োজনের সময়ে রক্ত সংগ্রহ করা অনেক বেশি কঠিন হতে পারে। স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশেও বিরল রক্তের গ্রুপের বিষয়টি আলাদা করে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে সাধারণ রক্তের গ্রুপের রক্তের ক্ষেত্রে যাতে কোনও ঘাটতি তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করাই নির্দেশিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
ব্লাড সেন্টারগুলিতে রক্তের জোগান বজায় রাখার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হল স্বেচ্ছায় রক্তদান। সরকারি এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে নিয়মিত রক্তদান শিবির আয়োজন করা হলেও বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত বহু ব্লাড সেন্টারের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সংখ্যায় এমন শিবির আয়োজন না করার অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও রক্তদান শিবির হলেও তার সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে হাসপাতালের নিজস্ব ব্লাড সেন্টারের রক্তের মজুতের উপর তার প্রভাব পড়তে পারে।
স্বাস্থ্য দপ্তর এবার সেই জায়গাতেই জোর দিতে চাইছে। নির্দেশিকায় নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির আয়োজনের বিষয়টি স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে। এর ফলে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত ব্লাড সেন্টারগুলিকেও রক্ত সংগ্রহের জন্য আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। নিয়মিত রক্তদান শিবিরের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের কাছ থেকে রক্ত সংগ্রহ করা সম্ভব হলে হাসপাতালের ব্লাড সেন্টারগুলিতে রক্তের মজুত বাড়ানো যেতে পারে।
রক্তদান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। কারণ স্বেচ্ছায় রক্তদান ব্যবস্থা শক্তিশালী হলে রক্তের জোগান আরও স্থিতিশীল রাখা সম্ভব। রক্তদান একটি সামাজিক দায়িত্ব হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে প্রচার করা হয়ে থাকে। কিন্তু শুধুমাত্র সরকারি হাসপাতাল বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলির উপর নির্ভর না করে বেসরকারি হাসপাতালের ব্লাড সেন্টারগুলিকেও এই প্রক্রিয়ায় আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার লক্ষ্যেই স্বাস্থ্য দপ্তরের এই নির্দেশ বলে মনে করা হচ্ছে।
রোগীর পরিজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কোনও রোগীর জন্য হঠাৎ রক্তের প্রয়োজন হলে অনেক সময় তাদের প্রথমেই রক্তদাতার সন্ধান করতে বলা হয়। বিশেষ করে অপারেশনের আগে বা জরুরি চিকিৎসার সময় এই পরিস্থিতি তৈরি হলে পরিবারের সদস্যদের উপর মানসিক চাপ বেড়ে যায়। একদিকে রোগীর চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ, অন্যদিকে রক্তের ব্যবস্থা করার দুশ্চিন্তা—দুই পরিস্থিতি একসঙ্গে সামলাতে হয় পরিবারকে। হাসপাতালের নিজস্ব ব্লাড সেন্টারে প্রয়োজনীয় রক্ত থাকলে এই সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
তবে রক্তের পর্যাপ্ত মজুত রাখার ক্ষেত্রে নিয়মিত রক্তদান শিবির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রক্ত দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করা যায় না। ফলে নির্দিষ্ট সময় অন্তর নতুন রক্ত সংগ্রহ করতে হয় এবং পুরনো রক্তের পরিবর্তে নিয়মিত নতুন মজুত তৈরি করতে হয়। সেই কারণে সারা বছর ধরে রক্ত সংগ্রহের একটি ধারাবাহিক ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশে নিয়মিত রক্তদান শিবিরের উপর গুরুত্ব দেওয়ার পিছনে এই প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও হাসপাতালের ব্লাড সেন্টার থাকলে সেটি শুধু রক্ত সংরক্ষণের জায়গা নয়, বরং হাসপাতালের রোগীদের জরুরি রক্তের প্রয়োজন মেটানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো। তাই সেই কেন্দ্রের রক্তের মজুত, সংগ্রহ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যকর থাকা জরুরি। কোনও নির্দিষ্ট রক্তের গ্রুপের চাহিদা বেড়ে গেলে সেই অনুযায়ী রক্ত সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়াও প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য দপ্তরের নতুন নির্দেশের ফলে বেসরকারি হাসপাতালের ব্লাড সেন্টারগুলির কার্যক্রম আরও নিয়মিত এবং পরিকল্পিত হতে পারে। রক্তদান শিবির আয়োজনের ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা গেলে রক্ত সংগ্রহের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব। পাশাপাশি নিয়মিত রক্তদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
এই নির্দেশিকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সাধারণ রক্তের গ্রুপের রক্তের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা। কারণ কোনও নির্দিষ্ট রোগীর বিরল রক্তের গ্রুপ হলে সেই রক্ত সংগ্রহের জন্য বিশেষ উদ্যোগের প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু সাধারণ রক্তের গ্রুপের ক্ষেত্রে যদি হাসপাতালের নিজস্ব ব্লাড সেন্টারেই রক্ত পাওয়া না যায়, তাহলে তা রোগী এবং তাঁর পরিবারের জন্য আরও সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। স্বাস্থ্য দপ্তর মূলত এই পরিস্থিতি এড়াতেই বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে সতর্ক করেছে।
রক্তের জোগান এবং চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা হাসপাতালগুলির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কোনও সময়ে চাহিদা বেড়ে গেলে রক্তের মজুত দ্রুত কমে যেতে পারে। দুর্ঘটনা, বড় অস্ত্রোপচার বা অন্যান্য জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে একই সময়ে একাধিক রোগীর রক্তের প্রয়োজন হলে চাপ আরও বাড়ে। তাই আগে থেকেই পর্যাপ্ত মজুত তৈরি করে রাখা এবং নিয়মিত রক্ত সংগ্রহ করা প্রয়োজন।
এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি হাসপাতালের ব্লাড সেন্টারগুলিতে রক্তের জোগান আরও শক্তিশালী হতে পারে। তবে শুধু নির্দেশিকা জারি করলেই হবে না, তা বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, নিয়মিত রক্তদান শিবির হচ্ছে কি না এবং রোগীরা প্রয়োজনের সময় রক্ত পাচ্ছেন কি না—সেই বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
রক্তদানের ক্ষেত্রে মানুষের ভয় এবং ভুল ধারণা দূর করাও জরুরি। অনেক মানুষ এখনও রক্তদান নিয়ে নানা ধরনের সংশয়ে থাকেন। অথচ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করতে পারলে রক্তের জোগান বাড়ানো সম্ভব। বেসরকারি হাসপাতালের ব্লাড সেন্টারগুলি যদি নিয়মিতভাবে রক্তদান শিবির আয়োজন করে এবং রক্তদাতাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে তার সুফল রোগীরাই পাবেন।
এক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। যাঁরা নিয়মিত রক্তদান করতে সক্ষম, তাঁদের আরও বেশি সংখ্যায় রক্তদানে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। কোনও একজনের রক্তদান জরুরি সময়ে একজন রোগীর জীবন রক্ষায় সহায়ক হতে পারে। তাই রক্তদানকে শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি হিসেবে না দেখে নিয়মিত সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের বুধবারের নির্দেশিকার পর এখন নজর থাকবে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত ব্লাড সেন্টারগুলির উপর। তারা কতটা নিয়মিতভাবে রক্তদান শিবির আয়োজন করে, সাধারণ রক্তের গ্রুপগুলির পর্যাপ্ত মজুত রাখতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয় এবং জরুরি সময়ে রোগীদের রক্তের চাহিদা কতটা দ্রুত মেটাতে পারে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সব মিলিয়ে, বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত ব্লাড সেন্টারগুলিকে আরও সক্রিয় করার লক্ষ্যেই স্বাস্থ্য দপ্তরের এই নির্দেশ। সাধারণ রক্তের গ্রুপের রক্তের জন্য রোগীর পরিবারকে যাতে অযথা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে না হয় এবং হাসপাতালের নিজস্ব ব্লাড সেন্টার থেকেই প্রয়োজনীয় রক্তের ব্যবস্থা করা যায়, সেই ব্যবস্থাই শক্তিশালী করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির আয়োজনের মাধ্যমে রক্তের জোগান বাড়ানোর বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
রক্তের প্রয়োজন কখন তৈরি হবে তা আগে থেকে বলা যায় না। তাই জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর রক্ত খোঁজার বদলে সারা বছর ধরে পর্যাপ্ত রক্ত সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য দপ্তরের নতুন নির্দেশ সেই ব্যবস্থাকেই আরও কার্যকর করার দিকে একটি পদক্ষেপ। এখন এই নির্দেশ কতটা বাস্তবে কার্যকর হয় এবং এর ফলে বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসাধীন রোগীরা কতটা সহজে প্রয়োজনীয় রক্ত পান, সেটাই দেখার।